নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

‘ধর্মের প্রভাবে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির অবদমন,



মতবিরোধ তত্ত্বের প্রবক্তা জন উইলিয়াম ড্রেপার ও অ্যান্ড্রু ডিকসন, যুক্তি দেখিয়েছেন যে, যখন কোন বিশেষ ধর্ম জীবনের উদ্দেশ্য, নৈতিকতা, জীবনের উৎপত্তি ও বিজ্ঞানের মত জাগতিক মৌলিক বিষয়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর দিতে শুরু করে, তখন সেটি একদিকে যেমন উক্ত ধারণাগুলোর অধিকতর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকে নিরুৎসাহিত করে তেমনি আবার অন্যদিকে কৌতুহলকে অবদমন করে ও স্বীয় বিশ্বাসীদের বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করে। যার ফলশ্রূতিতে, সামাজিক, নৈতিক ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়। উদাহরণ হিসেবে তারা, গ্যালিলিওর প্রতি হওয়া অবিচার ও জিওর্দানো ব্রুনোর মৃত্যুদন্ডের ঘটনা উল্লেখ করেন।

সমগ্র উনবিংশ শতক জুড়েই মতবিরোধ তত্ত্ব বিকাশ লাভ করে। এই মডেল অনুসারে, বিজ্ঞান ও ধর্মের মাঝে যেকোন ধরনের মিথষ্ক্রিয়া একসময় অনিবার্যভাবেই প্রকাশ্য শত্রুতার দিকে ধাবিত হবে, যেখানে ধর্মকেই সাধারণত নতুন বৈজ্ঞানিক ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যাবে।উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীব্যাপী ঐতিহাসিক মতবিরোধ মডেলটিই ছিল বিজ্ঞানের ইতিহাসের অধ্যাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিগমন। কিন্তু বর্তমানকালের পন্ডিতরা প্রায় সম্পূর্ণরূপেই এই মডেলের আদি রূপকে পরিত্যাগ করেছেন।

এতদসত্ত্বেও, জনসাধারণের মাঝে মতবিরোধ তত্ত্ব এখনও অত্যন্ত জনপ্রিয়,এবং সাম্প্রতিককালে “The God Delusion” এর মত বইয়ের সফলতার কারণে আরও বেশি প্রচারণা পেয়েছে।

জন হেডলি ব্রুক এবং রোনাল্ডের মতো বিজ্ঞানের ইতিহাসবেত্তারা ‘ধর্ম বনাম বিজ্ঞানের’ ধারণাকে একধরনের অতিসরলীকরণ মনে করেন, এবং বিষয়টিকে বরং একটু সূক্ষ দৃষ্টিতে দেখতেই বেশি পছন্দ করেন।এই ইতিহাসবেত্তারা, উদাহরণ হিসেবে গ্যালিলিওর ঘটনা,স্কোপস বিচার প্রভৃতি ঘটনার উদ্ধৃতি দেন এবং দাবি করেন যে, এগুলো শুধুই বিজ্ঞান আর ধর্মের মধ্যে নিছক বিরোধিতা ছিল না; ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিষয়ও এসব ঘটনার ক্রমবিকাশের সাথে গভীরভাবে জড়িত ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে মতবিরোধের বিষয়গুলোর মধ্যে উদাহরণ হিসেবে সৃষ্টি-বিবর্তন বিতর্ক,জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক,ভ্রূণীয় স্টেম কোষ গবেষণার বিরোধিতা,অথবা টিকাদান, অসাড়করণ ও রক্তদান প্রভৃতি বিষয়ে ধর্মের বিরোধিতার কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

ধর্মের দ্বারা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে অবদমনের বিরুদ্ধে যুক্তি:

ধর্ম আর বিজ্ঞানের মধ্যে যে এক প্রকার আনুমানিক সংঘর্ষ আছে তার বিরুদ্ধেও পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়। যেমন সি .এস.লুইজ, একজন খ্রিষ্টান পরামর্শ দেন সকল ধর্মই বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত, এজন্য একে বিজ্ঞান দ্বারা সত্যি বা মিথ্যা প্রমাণ করা যায় না।তারপরেও কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস আছে,যার সাথে বিজ্ঞানের কোনো কিছুরই মিল নেই, যেমন: নব্য সৃজনবাদিতা।

যারা ধর্মের সমালোচনা করে তারা মতবিরোধ তত্ত্বের সাথে সহমত। উদাহরণস্বরুপ স্টিভেন জে গুল্ড সি এস লুইজের সাথে সহমত প্রকাশ করেন এবং বলেন ধর্ম ও বিজ্ঞান হচ্ছে দুটি পৃথক স্বতন্ত্র বলয় (Non-overlapping magisteria (NOMA))।বিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স বলেন ধর্মানুসারীরা স্বতন্ত্র বলয়ের দৃষ্টিভঙ্গীকে বিশ্বাস করেন না।

যাইহোক আমেরিকার জনগণের মাঝে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যদিও বিজ্ঞানের মুলনীতির সাথে দ্বন্দ আছে বা বিজ্ঞানীরা ধার্মিকদের কাছে তাদের তত্বের বিরুদ্ধে পাল্টা যুক্তি হাজির করে তবুও ধর্মীয় দলগুলো বিজ্ঞান বা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অনুসন্ধানের এই পদ্ধতির সাথে তাদের ধর্মীয় মতবাদের কোনো দ্বন্দ্ব দেখেন না।এমনকি একজন কট্টরপন্থী ধার্মিকও বিজ্ঞানের প্রতি গভীর আস্থা রাখেন। ১৯৮১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দফায় দফায় জরিপ হওয়ার পর দেখা যায়, একটা দেশ যদি গভীরভাবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের প্রতি আসক্ত থাকে তারপরেও সে দেশের বিজ্ঞানের প্রতি একটা শক্ত বিশ্বাস থাকে। পক্ষান্তরে কোনো দেশ যদি সেকুলার হয় তাহলে সে দেশ অনেকবেশি সন্দেহপ্রবণ হয় বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির খারাপ প্রভাবের ব্যাপারে।যদিও যুক্তরাষ্ট্র উচ্চমাত্রার ধর্মীয় দেশ তবুও অন্যান্য শিল্প বাণিজ্যে উন্নয়নশীল দেশ যেমন ইউরোপ,রাশিয়া এবং জাপানের তুলনায় আমেরিকার জনগণ বিজ্ঞানের প্রতি বেশি অনুগ্রহ প্রকাশ করে।একটা গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ছাত্রদের ওপর হয়েছিল। প্রশ্ন ছিল ধর্ম এবং বিজ্ঞানের সম্পর্ক নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গী কেমন। ধর্ম-বিজ্ঞান একে অপরের বিরোধী,সহযোগী নাকি উভয়েই স্বাধীন; এমনটাই জানতে চাওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ ছাত্র যারা সামাজিক বা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেনি, তারা ধর্ম এবং বিজ্ঞানের মধ্যে বিরোধ দেখেন না।

দুর্নীতিবাজ বা নৈতিকতাভ্রষ্ট নেতা:

হিচেন্স উল্লেখ করেন কিছু নেতা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। উদাহরণস্বরুপ ভারতীয় আধ্যাত্মিক গুরু ভগবান শ্রী রজনীশ যিনি ৯০টা রোলস রয়েস গাড়ির মালিক ছিলেন, ধর্মীয় গুরু ডেভিড কুরেশ, জোসেফ স্মিথ যার ছিল ২৭ জন পত্নী এবং ব্রাইয়াম ইয়ং যিনি প্রায় ৫৭ জন নারীকে বিবাহ করেন।

আধিপত্যবাদ:

আধিপত্যবাদী ধর্মতত্ত্ব ও খ্রিষ্টীয় পুনর্গঠনবাদ
আধিপত্যবাদ শব্দটি দিয়ে প্রায়শই মূলত খ্রিষ্টান মৌলবাদীদের ভিতরে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন হয়। সমালোচকরা এই আধিপত্যবাদকে দেখেন অন্যায়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে খ্রিষ্টান ধর্মকে চাপিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে। ’৮০ এর দশকের শেষের দিকে, ফ্রানসিস এ শেফ্যার ও সি এভারেট কুফ প্রকাশিত ‘Whatever Happened to the Human Race?’ শীর্ষক বই, চলচ্চিত্র এবং ধারাবাহিক বক্তৃতার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই আন্দোলনটির উত্থান ঘটে।জেরি ফালহ্যাল,টিম লাব্বাইক,জন ডাবলিন হুয়াইট প্রমুখ রক্ষণশীল রাজনীতিবিদের দ্বারা চেস্শেফারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল, এবং যদিও তারা আধিপত্যবাদ থেকে ভিন্নতর ধর্মতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ধারণার প্রতিনিধিত্ব করতেন, তবুও আধিপত্যবাদীরা বিশ্বাস করেন যে, ‘পাপ-পংকিলতায় ভরা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া’ তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব। এ উদ্দেশ্য সাধনে তারা, হয় সরকারী দপ্তরের দায়িত্বে মৌলবাদী কর্মকর্তাদের বসাবেন, নয়ত ধর্মনিরপেক্ষ পরিমন্ডলে খ্রিষ্ট ধর্মীয় আইন প্রবর্তন করবেন।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হিউম্যানিস্ট বা...
হিউম্যানিস্ট বাই নেচার এর ছবি
Offline
Last seen: 22 ঘন্টা 22 min ago
Joined: বুধবার, এপ্রিল 5, 2017 - 4:57পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর