নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

মেয়েদের জামা কাটা পার্টি আবার শোচ্চার।



বাসে আবারও মেয়েদের জামা, কাপড় ব্লেড দিয়ে কেটে দেবার ধুম দেখা যাচ্ছে ইদানীং। অবাক হবার কিছু নাই এটা আমাদের দেশের কিছু প্রত্যাশিত ঘটনার একটি। যারা মেয়েদের পোষাক এভাবে ব্লেড দিয়ে কেটে দিচ্ছে তাদের ভাষ্য হচ্ছে মেয়েরা জিন্স পরে, সালোয়ার কামিজ পরে শাড়ি পরে তাতে আমাদের অসুবিধা হয় মানুষের ঈমান নষ্ট হয়। ঈমান কি জিনিষ সেটা জিজ্ঞাসা করলে তারা আর উত্তর দিতে পারে না। এই জাতীয় ঘটনা দেখে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন দেখলাম আচ্ছা ভাইয়া জামা কাপড় কেটে দিয়ে কি করে তারা। আসলে এর সঠিক ব্যাখ্যা কি হবে আমি ঠিক বলতে পারছি না তবে তাদের যে উদ্দেশ্য মেয়েদের জামা কেটে তাদের শরীর দেখবে এমন কিছু না এটা নিশ্চিত। কারন মেয়েরা এখন সাধারন পোষাক পরে রাস্তায় বের হচ্ছে এতে তাদের এই আচরনের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। এখন যদি তারা ইউরোপ আমেরিকার মতো ছোট ছোট স্কার্ট পরে রাস্তায় বের হয় তাহলে তাদের দেখে তো এদের খুশি হবার কথা তাই না। কিন্তু ব্যাপারটা মনে হয় তানা। কারন তারা চাচ্ছে মেয়েরা বিভিন্ন ভাবে অপমানিত হোক তারা বাইরে চলাচল করতে ভয়পাক এমন কিছু তারা করতে চাইছে যাতে তারা মেয়েদের আতঙ্কিত করে তুলতে পারে। আর একবার তা করতে পারলে তারা মেয়েদের স্বাভাবিক চলাফেরার উপরে আবারও ইসলামিক আইন মোতাবেক শাসন শুরু করতে পারবে।

আসলে যারা এসব করছে তারা কারা একটু ভেবে দেখেছি কি আমরা ? আপনাদের মনে আছে ? আমাদের দেশের বহুল পরিচিত ও মোস্ট পপুলার ব্যাতিত্ব জেএমবি কমান্ডার বাংলা ভায়ের কথা। জিনি খুব সুকৌশলে ১২ থেকে ২১ বছরের ছেলেদের মস্তিষ্ক এত সুন্দর করে ওয়াশ করে দিতে পারতো যাতে করে তারা নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিতে একটুও ভাবতো না। যারা নিজেদের শরীরে বোমা দেধে আল্লাহু আকবার বলে লাফিয়ে পড়তেও কাপে না। সেই বাংলা ভাই কিন্তু সব শেষে ধরা পড়েছিলো বোরাকা পরা অবস্থায় একজন রিক্সাওয়ালার কাছে। তারপর পুলিশ তার সন্ধান পায়। আসলে মেয়েদের বোরকার নামে তারা নিজেদের অপকর্ম অবাধে আবার চালিয়ে যেতে চায় এমন ধারনা করা কি আবার ভুল হবে ? বোরকা আসলে আরব্য একটি পোশাক ছিলো অনেক আগে। প্রাকৃতিক কারনে সেখানকার আবহাওয়ার উপরে নির্ভর করে এই জাতীয় পোশাকের চল শুরু হয়েছিলো সেখানে।

পোশাক নিয়ে যত মুমিন আর ইসলামিক গবেষক নারীদের নামে ইসলামিক ফতোয়া দিয়েছেন তার আসলে এই ধর্মটিতে কোন যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা নেই থাকলে থাকতে পারে পর্দা করার কিছু নিয়ম। কিন্তু তার মানে এই না যে বোরকা নামক বস্তা পরতে হবে আবার চোখ দেখা গেলে চলবে না, শুধু তাই না হাতে হাত মোজা পরতে হবে, পায়েও তাই অর্থাৎ কমপ্লিট কাভার। অনেক সময় হিজাব আর সিদুর দেখে তারা দল আলাদা করে থাকে সেটাও একটা কারন। এই ভাবে কিন্তু আফগানিস্তানের মসজিদ গুলা থেকে একসময় আমরা অবাধে মাদক পাচার হতে দেখেছি তালেবানদের রমরমা সময়ে। মাদক, অস্ত্র, ও অবাধ নারী ও পুরুষ চলাচলের একটি সহজ মাধ্যম হতে পারে এই বোরকা নামক অসাধারন পোষাকটি। যারা আসলে এই জাতীয় আলোচনা দেখে মন্তব্য করে থাকেন শেয়াল আর মুরগী টাইপের তারা আসলে সব থেকে বেশি খারাপ। মানে বর্তমান সময়ের মডারেট মুসলমান ভায়েরা। যারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে ঢাকতে আজ এই পরিস্থিতি গুলো আবার তৈরি করছে এই সভ্য সমাজে।

গতপরশু নিউজ মিডিয়া গুলা প্রকাশ করেছে এক সাহসী তরুনীর কথা। সে মিরপুর ১০ নাম্বার থেকে বাসে ঊঠার পরে খেয়াল করলো তার পেছনের সিটে বসা তার নানার বয়সী এক মুরুব্বী ভদ্র চেহারার লোক তার সালোয়ার কামিজের একটি অংশ ধরে টানছে। এতে সে একটু সচেতন হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে দেখলো সেই লোক হাতে কিছু একটা নিয়ে তার পায়জামা কেটে দিয়েছে। সে বোঝে উঠার আগেই অই লোক দৌড় লাগাতে গিয়েছিলো এর মধ্যেই সেই তরুনী তার কলার চেপে ধরে ও চিৎকার করে। এতে প্রথমে সবাই না বুঝতে পেরে জিজ্ঞাসা করে আসলে কি ঘটনা কারন লোকটির চেহারায় তখন আতঙ্ক। পরে যখন সবাই বুঝতে পারলো এই লোক মেয়েদেরকে অপমান আর অপদস্ত করার জন্য তাদের পোষাক কেটে দেওয়া পার্টির একজন তখন তারা তাকে ধরে কলাবাগান থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলো। ঘটনাটা শুনতে সাধারন হলেও আসলে কিন্তু মোটেও তা নয়। এই কাজ যারা করছে তাদের আমি সরাসরি ইসলামি সন্ত্রাসী বলি। এরা নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য নিয়ে বড় ধরনের কোন উদ্দোগে এই কাজ করছে। যদি সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে তদন্ত করে তাহলে দেখতে পারবে এই ধরনের ৯৫% কাজই সংঠিত হচ্ছে সেসব কারনে। যথা সময়ে সাহস দেখিয়ে এই তরূনী যা করেছে তাতে অবশ্যয় সে সকলের বাহবা পাবার যোগ্য। আর তাই আবারও তসলিমা নাসিরিনের কথা মনে পড়ে তার প্রতি সম্মানে নত হতে হয় আরেকবার। দরকার শুধু একটু সাহসের আর কিছুই না।

---------- মৃত কালপুরূষ
০৮/১১/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Offline
Last seen: 21 ঘন্টা 22 min ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর