নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঠমোল্লা
  • সাতাল
  • সৈকত সমুদ্র
  • মৃত কালপুরুষ

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

নাম সমাচার


আমার নাম? আমার নাম আপাতত নাই বললাম। নামে কী আসে যায়? নামে কী মানুষ চেনায় না ব্যবহারে?
সে যাই হোক, হুমায়ুন আহমেদ স্যার বলে গেছেন, পৃথিবীতে মানুষের নিকট সবচে মধুরতম শব্দ নাকি তার নাম। হতে পারে, কথা প্রায় সত্য। প্রায় সত্য বলার কারণ হলো মধুরতম মনে হওয়ার কারণটা হলো অভ্যস্ততা। নিজের নাম শুনতে শুনতে ভালো লাগা একটা জমা হয়েই যায়। যেমন কোন পেশায় নতুন প্রবেশ করলে বা নতুন কোন জায়গায় গেলে প্রথম প্রথম ভালো না লাগলেও একটা সময় ভালোলাগা জন্মাতে থাকে, সেটা আসে অভ্যস্ততা থেকে। সে হিসেবে কারও নাম পঁচা, প্যাচা, যদু হলেও সে একটা সময় নিজের নামকে পছন্দই করতে শুরু করে। যেমন কুৎসিত মানুষ ও নিজের কিছু একটা সুন্দর বলে মনে করে, হোক সে তার নাক/কান/চোখ, কিছু একটা।
এই অভ্যস্ততা বা ভালোবাসতে শেখা মানবজাতির টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। কুৎসিত চেহারার মানুষ বা বিকলাঙ্গ(যদিও বলা উচিত ডিফারেন্টলি এ্যাডভান্টেজড) মানুষ নিজেকে ভালো না বেসে হীনমন্যতায় ভুগলে তার আত্মহনন ভিন্ন পথ থাকে না।

সে যাই হোক, আলোচনার প্রসঙ্গ সেটা না। মানুষ ভালোবাসুক নিজেকে। নিজেকেই সবচে ভালোবাসুক, সেটাই কাম্য।

আমার নাম একটু হিন্দুয়ানী। যদিও জন্ম এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। আমার তিন ভাই বোন এর মাঝে আমার নামটাই আমার মা'র রাখা, এবং সত্যিই আমার নামটা ইউনিক। এখন পর্যন্ত আমি ব্যাতীত আর দুইজনকে মাত্র এই নামের মানুষ দেখেছি। যদিও নামের ইউনিকনেস নিয়ে গর্ব করার কোন কারণ আমি দেখি না। জন্মের পর একটা নাম্বার দিয়ে আইডেন্টিফাই করার নিয়ম থাকলে হয়ত আমার নাম হত সেভেন্টি হান্ড্রেড থাউজেন্ড ফাইভ হান্ড্রেড এইট্টি থ্রি, সেটা নিয়েও কী আমি গর্ব করতাম!
আমার হিন্দুয়ানী নামের জন্য অনেকেই, বন্ধু থেকে অপরিচিত, আমাকে 'দাদা' বলে সম্বোধন করেন। আমার ব্যাপারটা কখনো মাথায় আসেনি যে হিন্দুয়ানী নাম বলে আমাকে দাদা বলে ডাকার প্রাধান্য।

ব্যাপারটা ক্লিয়ার হলাম জেলে গিয়ে। ৫৭ ধারায় ৫৩ দিন অন্তর্বাসে থাকার সময় ও খেয়াল করেছিলাম যে অপরিচিত অনেকেই কথা শুরুর পর বা ডাকার ক্ষেত্রে ----দা ব্যবহার করেন। দাদা শুনতে আমার ভালোই লাগে, খারাপ লাগবে কেন?
একদিন জেলের এক কয়েদী আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করছেন! কেন? তিনি আমাকে "হিন্দু" বলে ভেবেছিলেন বলে!

খুব একটা ধাক্কা লাগলো। আমার সবার সাথে একটা ভালো সম্পর্ক রেখে চলার রীতি। প্যাসিফিস্ট একটা লাইফ লিড করি আমি। জেলেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। আসামী হলেও সবাই মানুষ, সবার ভেতরেই একটা ভালো মানুষ বাস করে, মেনে নিয়েই সবার সাথে মিশেছি। কার ও অনুমান আমি মুসলমান বা হিন্দু থেকে তার প্রতি আমার আচরণের কোন সামান্য পরিমাণ পার্থক্য করি নি। হঠাৎ করে অন্যের নিকট ধর্ম পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় কী আমি মানুষটাই চেঞ্জড হয়ে গেলাম? না হলে তিনি আমাকে দুঃখিত জানাতে আসবেন কেন?

আমি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদী, মুসলিম, শিখ ইত্যাদি যে রীতি অনুযায়ী ই বেড়ে উঠি না কেন, আমি তো আমিই। হঠাৎ করে রীতি চেঞ্জ করলেই কী সেই আমিটাও চেঞ্জ হয়ে যায়?

খুব ভাবিয়েছে ব্যাপারটা। পরে ভেবে ভেবে আরেকটা ব্যাপার বের করেছি। হতে পারে যে তিনি আমাকে হিন্দু বলে মনে করায়, মুসলমান হওয়ার পরও, তিনি হয়ত ভাবতে পারেন যে আমার ব্যাপারটা খারাপ লেগেছে বা আমি রাগী, দুখী, ব্যাথিত হয়েছি। তাই নিজের মিস্কন্সেপশন থেকে আমাকে হিন্দু বলে ভাবার জন্য ক্ষমা চাইতে এসেছেন। এমনটা হতেই পারে। আমার ও মনে পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এক ছোটভাই, তার ও নাম হিন্দুয়ানী হওয়ায় আমি মনে মনে তাকে হিন্দু বলেই ভাবতাম। একদিন আড্ডার সময় ব্যাপারটা খোলাসা হয়ে গেলে আমি ও তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম হিন্দু বলে ভাবায় সে কষ্ট পেয়েছিলো কী না!

এখন, এই নাম, অবস্থান, জন্ম ইত্যাদি ইত্যাদি ভিত্তিক ধর্মীয় ভাগাভাগি, একজন সম্পর্কে অন্য রীতির অনুসারী বলে ভাবলেই সে ব্যাথিত হতে পারে, এমন বিধ্বংসী অনুভূতি আমাদের কে শেখাচ্ছে? সামান্য পিপড়ার ক্ষেত্রে কালো পিপড়া মুসলমান তাই কামড়ায় না, লাল পিপড়া হিন্দু তাই কামড়ায়, এমন অবৈজ্ঞানিক কথা, এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক জথা ছোটবেলা থেকেই কারা শেখাচ্ছে? পিতা-মাতা? তাদের ও তো কেউ এসব শিখিয়েছে! পরম্পরায় চলে আসছে ব্যাপারটা। এই মাস্টারপ্ল্যানের শুরু কোথায়? শেষই বা কোথায়?

এমন সাম্প্রদায়িক বিভাজন কী ইসলামেই বিদ্যমান? না অন্য ধর্মে ও আছে? ভাবতে পারি না। মাথা ঘোরায়। তাহলে,

All religions are just metastasizing mind worms meant to divide us so it's easier to rule us by the charlatans that want to run us. All we are to them are paying fanboys of their poorly written sci-fi franchise.

এটাই সত্য না?

ব্যক্তিগত কোন সমস্যা না থাকা সত্যেও, এমন কী ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকলেও, আরও পরিষ্কার করে বললে, ব্যক্তিগত ভাবে সুসম্পর্ক থাকার পরও শুধুমাত্র ধর্ম বিরোধি মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে একজনের উপর চড়াও হওয়া, সামাজিক সৌজন্যতার মাথা খেয়ে, এই ব্যাপারটা কী শুধু মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান? নাকি বিষয়টা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রতীয়মান? কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনার বিভিন্নজনকে হুমকি-ধামকি দেওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়, কিন্তু মেরে ফেলার সংবাদ পাওয়া যায় না। ইসলাম ধর্ম ভিত্তিক যতগুলো উগ্রবাদী সংগঠন বা জঙ্গি সংগঠন আছে ধরণীতে, বাদবাকি সব ধর্ম মিলেও হয়ত সে সংখ্যার সমান হতে পারবে না। সুতরাং প্রশ্নটা থেকেই যায়, ইসলাম ধর্মভিত্তিক উগ্রবাদিতার পেছনে কী শুধুই পশ্চিমা কন্সপিরেসি বিদ্যমান, নাকি সমস্যার মূল আরও ভেতরে প্রোথিত। পশ্চিমা কন্সপিরেসি থিওরি দেশভিত্তিক উগ্রবাদিতা ব্যাখ্যা করতে পারলেও(যদিও আমার মনোপূত না, সে সম্পর্কে পরে কোন একদিন লিখবো), ব্যক্তিগত আক্রোশের কোন ব্যাখ্যা কিন্তু দিতে পারে না। নাস্তিকদের বা ভিন্নমতের মানুষদের কতল করা বা সামাজিক সৌজন্যতা পরিহার করত: অস্ত্র তুলে নেওয়ার পেছনের কারণ গবেষণার বিষয়, অপরকে দোষারোপ করা ত্যাগ করে।

চিন্তা, চিন্তা, চিন্তা! চিন্তা করতে শিখুন, অন্ধ অনুকরণ ত্যাগ করে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সূর্যসন্তান
সূর্যসন্তান এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 18 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, নভেম্বর 5, 2017 - 2:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর