নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঠমোল্লা
  • সাতাল
  • সৈকত সমুদ্র
  • মৃত কালপুরুষ

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

প্রস্থান


"এই পৃথিবীর পরে কত ফুল ফোটে আর ঝরে০
সে কথা কি কোনদিন কখনো কারো মনে পড়ে।। "
না অবসরে আর কোন ফুলের কথা মস্তিস্কের নিউরনে স্মরণ রাখার দরকার পড়বে না!
দরকার পড়বে না ফুলের রঙে হৃদয়কে রঙ্গিন করবার!
ফুলদানী আর সাজবে না রং বেরঙের ফুলে!
পৃথিবীর শেষ বুনোফুলটিও আজ মধ্যরাতে বিদায় নিল নীল রঙের নাইলনের রশি তার বৃতিতে পেঁচিয়ে।
অনেক আগেইতোঁ সন্তর্পণে কোন অজানা ঠিকানায় শরণার্থী হয়েছে- গোলাপ, রজনিগ্নন্ধা, হাসনাহেনা!
অপরাজিতা পরাজিত হয়েছে কদর্য রিপুর কাছে।
সে তার শেষ নীল বিন্দু দিয়ে লড়াই করেছিল তার সম্ভ্রম রক্ষার!
নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল কাঁটা গুল্মের ঝোপের অন্তরালে।
অসুর গুলো ঝোপঝাড় তছনছ করে তাকে টেনে হিঁচড়ে ছিনিয়ে এনে তার প্রতিটি পাপড়ি ছিঁড়েছে কুচিকুচি করে!
বৃতি-উপবৃতি ভেদ করে তার গর্ভাশয় আমুল বিদ্ধ করেছে লোমশ শিস্ন!
অপরাজিতার পরাজয় দেখে সদ্য ফোঁটা শিউলি ভেবে কুল পায়না সে কী প্রস্ফুটিত হবার আগেই ফিরে যাবে গর্ভে?
তার সিদ্ধান্তহীনতার মুহূর্ত বিলম্বে মাঝবয়সী হোতকা পাণ্ডাটি শিউলির লালচে হলুদাভ বৃন্ত ধরে হ্যাঁচকা টানে তাকে মুঠোবন্দী করে!
কর্কশ আঙ্গুলের থাবায় পিসঠ হতে থাকে কোমল সফেদ সদ্যজাত শিউলি!
তার লালচে হলুদাভ বৃন্ত আরো লাল হতে থাকে
লাল হতে হতে- লাল হতে হতে সাদা শিউলি তার বর্ণ হারায়!
রক্তাক্ত পিণ্ডটি দেখে কেউ চিনতে পারবে না কোনদিন সে ছিল রাতে ফোঁটা সুবাস ছড়ানো এক লজ্জারাঙ্গা স্বপ্ন!
সকল ক্লেদ -নোংরা হতে দূরে থাকার জন্য রাতে ফুটে ভোরের আলো ফোটবার আগেই ঝরে যেত বকুল!
বকুল মনে করেছিল তার নিষ্পাপ আগমন প্রস্থান লুটেরাদের লোলূপ দৃষ্টি এরিয়ে যাবে।
কিন্তু লুটেরারাদের দৃষ্টিতো বকুলের মতো নিস্কাম নয়।
তার ভোরের রাস্তায় ছড়ানো বকুলের সৌন্দর্য দেখে তাকে লুট করার নকশা আঁকে!
নিয়মিত বকুলের গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে হায়নাগুলো।
একদিন নিশুতি রাতে রাস্তার ধারে বকুলকে একা পেয়ে তার রেনু ধরে টান মারে।
বকুলতো আতংকে অস্থির!
তার গলা জিহ্বা শুকিয়ে আসে!!
এদিক ওদিক আতি পাতি করে খোঁজে তার সঙ্গী চাঁপা আর মাধবিলতাকে।
তাদের আর কি সাধ্যি ঐ পিশাচ গুলোর সাথে লড়াই করবার?
তবুও তারা সবটুকু শক্তি দিয়ে ঝাপিয়ে পরে।
কোন লাভ হয় না।
পিশাচগুলো মাধবিলতার মুখমণ্ডলে ধারালো ক্ষুর দিয়ে পোচ মারে
চাঁপাকে ঝলসে দেয় লেলিহান শিখায়!
বকুল কোন রকমে পালিয়ে যেতে পারলেও পিশাচ গুলোর রাহু থেকে মুক্তি পায় না।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই তারা বকুলের চরিত্রে লেপে দেয় অমোচনীয় কালিমা!
বকুল ভেবে কুল পায় না সে কোথায় পালিয়ে কূল পাবে?
তুলসি হতে বটবৃক্ষ সব্বাই তাকে দায়ী করে শকুনের দৃষ্টি এড়িয়ে নিজেকে রক্ষা করতে অপারগতায়।
তারা উঠতে বসতে বকুলকে মনে করিয়ে দেয় - সে এক কুলটা!
প্রতিপদে নেতিবাচক শব্দ শুনতে শুনতে বকুল দিশেহারা হয়ে বিশ্বাস করতে শুরু করে সে ই হয়তো দোষী!
সে ই হয়তো লোভনীয় বকুলকে আচ্ছাদিত করে রাখতে পারেনি পবিত্র আচ্ছাদনে।
পরিপাটি সাজে তাকে হয়তো পিশাচগুলোর কাছে লোভনীয় মনে হয়েছে
তাই তারা ঝাপিয়ে পরে পান করতে চেয়েছিল তার মধু।
আগত্যা সকল প্রদীপ নিভে গেলে - বকুল পুস্কনির স্বচ্ছ জলের কাছে আশ্রয় খোঁজে!
পুস্কনির স্বচ্ছ জল তাকে নিরাশ করে না!
সে তার শীতল বুকে একে একে স্থান দেয়- বকুল, মাধবীলতা আর চাঁপাকে।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

শাহরিয়ার হান্নান
শাহরিয়ার হান্নান এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 16 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, আগস্ট 29, 2013 - 12:47পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর