নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

ইসলামের নামে ডাকাতি, লুটপাট ও মুক্তিপন আদায়ের উদ্দেশ্যে বনিকদেরকে অপহরন করা বৈধ


কোরান হাদিস সিরাত তাফসির যদি গভীর ভাবে পড়া হয় , তাহলে দেখা যাবে , ইসলাম সম্পর্কে যা প্রচার করা হয় , ইসলাম সম্পূর্নতই তার বিপরীত। কিন্তু প্রশ্ন হলো তাই যদি হয় , তাহলে মুসলমানরা কেন সেটা জানে না ? তার কারন মোল্লারা প্রচার করে কোরান আরবী ভাষায় পড়লে নেকী অর্জন হয়। তাই মানুষ নিজ মাতৃভাষায় কোরান পড়ে না। কোরান বাদে হাদিস সিরাত তাফসির এসব কিন্তু এই সাম্প্রতিক কালেই আরবী ভাষা থেকে ভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে , সে কারনে ইচ্ছা থাকলেও আগে কেউ ইসলামের প্রকৃত রূপটা জানতে ও বুঝতে পারে নি। সুতরাং এখন দেখা যাক , ইসলামের আসল স্বরূপটা কি।

ইসলামের নামে ডাকাতি ও লুটপাট করা যাবে:

প্রথমে আমরা নিচের আয়াতটা পড়ি----

সুরা-২: ২১৭: সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।

উক্ত আয়াতে বলা হচ্ছে যুদ্ধের কথা। কিন্তু আসলেই কি ওটা যুদ্ধ ? নাকি অন্য কিছু ? সেক্ষেত্রে আমরা উক্ত আয়াতের প্রেক্ষাপটটা একটু জানার চেষ্টা করি , কারন প্রেক্ষাপট ছাড়া কোন আয়াতের প্রকৃত অর্থ বোঝা যায় না।

প্রেক্ষাপট: মুহাম্মদ মদিনায় যাওয়ার পর , মদিনার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা দিয়ে যে বানিজ্য কাফেলা যেত , তার ওপর নিয়মিতভাবে চোরাগোপ্তা আক্রমন করার চেষ্টা করত। কিন্তু পর পর ছয়বার এরকম আক্রমন ব্যর্থ হয়ে যায়(https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_expeditions_of_Muhammad)। অত:পর মুহাম্মদ বেপরোয়া হয়ে , আটজন সাহাবি মদিনা থেকে নাখলাতে পাঠায় বানিজ্য কাফেলা আক্রমনের জন্যে। নাখলা হলো মক্কা ও তায়েফের মাঝখানে অবস্থিত। তার মানে মদিনা থেকে নাখলাতে যেতে হলে মক্কাকে পাশ কাটিয়ে তারপর যেতে হবে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে , ছয়বার ব্যর্থ হওয়ার পর কি পরিমান বেপরোয়া হয়ে গেছিল মুহাম্মদ যে মক্কাকে পাশ কাটিয়ে নাখলাতে আটজন লোক পাঠিয়েছিল। মুহাম্মদ তাদের কাছে খামের ভিতরে একটা পত্র দিয়েছিল , কিন্তু সাথে এই নির্দেশও দিয়েছিল যে কেউ যেন নাখলাতে না পৌছে উক্ত পত্র পাঠ না করে। কারন মুহাম্মদের ভয় ছিল সেই পত্রে যে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল সেটা যদি সাহাবিরা আগেই জেনে যায় তাহলে তারা আর নাখলাতে যাবে না। আর নির্দেশটা ছিল , নাখলাতে গিয়ে রাস্তার পাশে ওত পেতে বসে থাকতে হবে , যখন রাস্তা দিয়ে বানিজ্য কাফেলা যাবে , তার ওপর আক্রমন চালিয়ে তাদেরকে হত্যা করে মালামাল সব লুটপাট করে নিতে হবে। তো মদিনা থেকে মক্কা পাশ কাটিয়ে অনেকটা মক্কা বাসীদের নিয়ন্ত্রনে থাকা নাখলাতে গিয়ে এ ধরনের ডাকাতি করার চেষ্টা অনেকটা আত্মহত্যার সমতূল্য ছিল। সেই কারনেই মুহাম্মদ সাহাবিদেরকে কঠিন নির্দেশ দিয়েছিল যাতে কেউ নাখলাতে না গিয়ে খাম না খোলে।

পত্রের নির্দেশ মোতাবেক সেই আটজন সাহাবি নাখলাতে গিয়ে রাস্তার পাশে গোপনে ওত পেতে থাকে। এক সময় একটা বানিজ্য কাফেলা যখন সেখান দিয়ে যেতে থাকে , তখন সেই আটজন তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে , দুইজন বনিককে হত্যা করে , দুইজনকে বন্দী করে এবং সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে অত:পর মদিনায় মুহাম্মদের কাছে হাজির হয়।

কিন্তু মুহাম্মদ তখন তাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়। কারন তারা সেই ডাকাতিটা ঘটিয়েছিল নিষিদ্ধ মাসে। সেই সময় আরবে একটা রীতি ছিল যে কতিপয় মাসকে তারা পবিত্র বা নিষিদ্ধ মাস হিসাবে গন্য করে সেসময় কোন যুদ্ধ বিগ্রহ মারামারি করত না। কিন্তু মুহাম্মদের সাহাবিরা ঘটনাচক্রে ও ভুলক্রমে বানিজ্য কাফেলার ওপর নিষিদ্ধ মাসের একেবারে গোড়াতে আক্রমন করে ফেলেছিল, সময়ের হেরফেরে। সেই কারনে মক্কার লোকজন ও এমনকি মদিনার লোকজনও মুহাম্মদের দলের এহেন খারাপ কাজের জন্যে নানা রকম সমালোচনা করছিল। সুতরাং আপাত: মুহাম্মদ তাদের লুটপাটের মাল গ্রহন না করছিল না। আর ঠিক তখনই মুহাম্মদ কাল বিলম্ব না করে , আল্লাহর বানীর নামে উপরের সুরা বাকারা ২: ২১৭ নং আয়াত নাজিল করে , উক্ত ডাকাতিকে বৈধ বলে রায় দেয়। কিন্তু বর্ননার সময় উক্ত আয়াতে ডাকাতি শব্দটাকে যুদ্ধ হিসাবে বর্ননা করে। কিন্তু ওটা আসলে কোন যুদ্ধ নয় , স্রেফ ডাকাতি ছিল।

উক্ত বাকারা ২: ২১৭ নং আয়াত নাজিলের পর পরই মুহাম্মদ সেই ডাকাতির মালের এক পঞ্চমাংশ নিজের জন্যে গ্রহন করে বাকিটা সেই আট সাহাবিদের মধ্যে ভাগ করে দেয়। পরে বন্দি দুইজনের জন্যে মুক্তিপন আদায় করে , তাদেরকে মুক্তি দেয়।

উক্ত প্রেক্ষাপটের কাহিনী খুব সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ আছে ইবনে কাসিরের তাফসির ও ইবনে ইসহাকের সিরাতে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , ইসলামের নামে ডাকাতি ও লুটপাট বৈধ।

এখনই ইসলাম না জানা কথিত মডারেট মুসলমানরা এবং ইসলাম জানা ভন্ড কথিত মুমিনরা এসে ঝাপিয়ে পড়ে বলার চেষ্টা করবে , সেই মক্কাবাসীরা আগেই যেহেতু মুহাম্মদ ও তার দলকে মক্কা থেকে তাড়িযে দিয়েছিল , তাই মক্কাবাসীদের বানিজ্য কাফেলার ওপর আক্রমন ন্যায়সঙ্গত ছিল। তার উত্তরে বলতে হবে - আল্লাহ যদি এতই ক্ষমতাশালী হয় , তাহলে সে কেন তার ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে তার নবী ও নবীর সাহাবিদেরকে দিয়ে ডাকাতির মত একটা জঘন্য অপরাধ কেন করাবে ? ডাকাতি ছাড়া কি ইসলাম প্রতিষ্ঠার আর কোন উপায় ছিল না ? যীশু খৃষ্ট , গৌতম বুদ্ধ এরা কি ডাকাতি করে তাদের ধর্ম প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করেছিল ?

পরিশেষে, মুহাম্মদ ও তার দলবলকে মক্কাবাসীরা কিন্তু আদৌ তাড়িয়ে দেয় নি , তারা বাধ্য হয়ে সেখান থেকে চলে গেছিল আর তার কারন ছিল মুহাম্মদ নিজেই আগ বাড়িয়ে মক্কাবাসীদের সাথে সংঘর্ষ সৃস্টি করেছিল, প্রথমে কুরাইশদের ধর্মের নামে আজে বাজে কথা বলে এবং পরে মুহাম্মদ মদিনাবাসীদের সাথে ষড়যন্ত্র করে মক্কা আক্রমনের পায়তারা করছিল , আর এই জঘন্য বেইমানীর কারনে মক্কাবাসীরা মুহাম্মদকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল, তখন প্রান বাঁচাতে মুহাম্মদ এক রাতের বেলা পালিয়ে মদিনায় চলে যায়।এ কাহিনী আমার বানান না , এটা সুন্দরভাবে ইবনে ইসহাকের সিরাতেই বর্ণিত আছে। অন্য এক নিবন্ধে সেটা অন্য একদিন প্রকাশ করা হবে।

সূত্র : পৃষ্ঠা নং - ৫৯৭-৫৯৯, তাফসির ইবনে কাসির , ১ম,২য় ও ৩য় খন্ড( http://www.quraneralo.com/tafsir/)

Comments

পার্থিব এর ছবি
 

আর নির্দেশটা ছিল , নাখলাতে গিয়ে রাস্তার পাশে ওত পেতে বসে থাকতে হবে , যখন রাস্তা দিয়ে বানিজ্য কাফেলা যাবে , তার ওপর আক্রমন চালিয়ে তাদেরকে হত্যা করে মালামাল সব লুটপাট করে নিতে হবে।

সেই পুরাতন মিথ্যাচার । মুহাম্মদ সা কে মক্কার কুরায়শরা মক্কা থেকে মদীনায় বিতাড়িত করেছিল। আবার তারাই মদীনার উপর দিয়ে সিরিয়াতে যেত বানিজ্য কাফেলা নিয়ে। আধুনিক যুদ্ধের নিয়ম হচ্ছে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে প্রথমেই বানিজ্য অবরোধ আরোপ করা। মুহাম্মদ সা তাই কুরায়শ বানিজ্য কাফেলায় আক্রমন চালিয়েছিলেন। কারন মক্কার এই কুরায়শরাই ছিল ইসলাম ধর্মের প্রতিপক্ষ এবং মুহাম্মদ সা কে হত্যা আর ইসলাম ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। তাই বানিজ্য কাফেলা আক্রমন অত্যন্ত বিচক্ষণতা আর বুদ্ধির পরিচয় বহন করে।

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

তার মানে ইসলামের নামে চুরি ডাকাতি রাহাজানি অপহরন চাদাবাজি ইত্যাদি সব হালাল, অন্তত: আপনি প্রকারান্তরে সেটাই স্বীকার করলেন। ধন্যবাদ আপনাকে। কোরানের আল্লাহ এতটাই অপরাধ প্রবন যে তার কথিত নবিকে দিয়ে চুরি ডাকাতি রাহাজানি ছাড়া তার ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ছিল না। ঠিক সেই পথই বর্তমানে সিরিয়া ইরাকে আই এস অনুসরন করেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে এই আই এস ই হলো ১০০% সহিহ মুসলমান।

এবার আসুন। মুহাম্মদ নিজেই মদিনাবাসীদের সাথে ষড়যন্ত্র করে মক্কাবাসীদের ওপর আক্রমনের পায়তারা করছিল মদিনায় হিজরত করার আগেই। সেই কারনেই মক্কাবাসীরা অবশেষে মুহাম্মদের মত একটা নিকৃষ্ট বিশ্বাসঘাতককে হত্যা করতে চেয়েছিল , তখনই মুহাম্মদ রাতের বেলা চোরের মত পালিয়ে গেছিল। এই কাহিনী সুন্দরভাবে বর্নিত আছে ইবনে ইসহাকের সিরাতে।

 
পার্থিব এর ছবি
 

ধন্যবাদ আপনাকে। কোরানের আল্লাহ এতটাই অপরাধ প্রবন যে তার কথিত নবিকে দিয়ে চুরি ডাকাতি রাহাজানি ছাড়া তার ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ছিল না।

ভাগ্যিস আমাদের প্রিয় নবীজি প্যাগানদের কবল থেকে আল্লাহর ঘর কাবাকে উদ্ধার করেছিলেন। তাই তো আমরা আজকে কাবা ঘরের দিকে মুখ করে এক আল্লাহর এবাদত করতে পারছি। তা না হলে এখনও সেখানে মুর্তি পুজা আর প্যাগানদের বেলেল্লাপনা চলত। ভাবতেই গা শিউরে উঠে। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 2 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর