নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঠমোল্লা
  • সাতাল
  • সৈকত সমুদ্র
  • মৃত কালপুরুষ

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

৭ই নভেম্বর কেন ওদের কাছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস


৭ই নভেম্বর কেন ওদের কাছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
সাইয়িদ রফিকুল হক

১৯৭১ সালে আমাদের মহান ও পবিত্র মুক্তিযুদ্ধে পৃথিবীর সর্বকালের-সর্বকুখ্যাত পাকিস্তানী-বেজন্মাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বদলীয়-সর্বস্তরের স্বাধীনতাবিরোধী-বেজন্মারাও পরাজিত হয়েছিলো। কিন্তু তারা এই পরাজয়ের গ্লানি কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলো না। তারা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের পরদিন থেকেই আবার আমাদের ঘায়েল করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে একের-পর-এক নানারকম শয়তানী, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ওরা আবার পাকিস্তান বানানোর ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। আর এইসময় বাংলাদেশের সর্বস্তরের রাজাকারদের এই অপকর্মে নেতৃত্ব দিতে থাকে শয়তানের জারজরাষ্ট্র পাকিস্তান। আর সবসময় মনে রাখবেন: আমাদের বাংলাদেশরাষ্ট্রের এখনও সবচেয়ে বড় শত্রু শয়তানের এই পাকিস্তান।
এখানে, আমাদের আরও-একটি কথা সবসময় মনে রাখতে হবে: পাকিস্তানীরা ১৯৭১ সালে, আমাদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিলো। কিন্তু পরাজিত হলেও ওরা এর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একেবারে হন্যে হয়ে উঠেছিলো। আর তাই, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পরদিন থেকে ওরা আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে। আর ওরা এই শয়তানীর জন্য একটা সুযোগ খুঁজছিলো। এইসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সদ্যোস্বাধীন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু-সরকারকে উৎখাতের অ্যাসাইনমেন্ট হাতে নেয়। আর পাকিস্তানীরা, ওদের পিতৃতুল্য ও চিরমিত্র আমেরিকার সঙ্গে এই ষড়যন্ত্রে হাত মিলায়। আমাদের সদ্যোস্বাধীন-বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনাকে চিরতরে ধ্বংস করার জন্য ১৯৭৫ সালে, তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, বঙ্গবন্ধু-সরকারকে উৎখাত করার জন্য তাঁকে হত্যার পরিকল্পনাগ্রহণ করে। আর এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি শয়তানের জারজরাষ্ট্র পাকিস্তান। ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট একপ্রকার বিনাবাধায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের হাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দেয়। আর এসবকিছুর নেপথ্যে ছিল সেদিনের একটা ক্ষমতালোভী, ঘাপটিমেরে থাকা সুযোগসন্ধানী ও উচ্চাভিলাষী মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা সরাসরি একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে চলে আসে। এইসময় খুনীচক্রের অন্যতম প্রধান খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্বল্পসময়ের জন্য একটা নামমাত্র সরকার গঠিত হয়। আর এর নেতৃত্ব থাকে আমেরিকা-পাকিস্তানের হাতে। এইসময় তারা, তাদের মনমতো, পাকিস্তানী ভাবধারায়, পাকিস্তানী চিন্তাচেতনায় চিরবিশ্বাসী ও পাকিস্তানীদের মতোই একটা যোগ্যলোক খুঁজছিলো। আর তখনই ওরা পেয়ে যায় বাংলার এজিদ তথা বাংলার চিরবিশ্বাসঘাতক জিয়াউর রহমানকে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা বিরাট সাফল্যলাভ করে। আর এতে তারা উল্লসিত ও উজ্জীবিত হয়ে চিরস্থায়ীভাবে বাংলাদেশরাষ্ট্রে, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একটা পাকিস্তানীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে। ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বাংলাদেশের নেতৃত্বের শেষ-আশ্রয়স্থল ‘চার জাতীয় নেতা’কে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করার পর ষড়যন্ত্রকারীরা বিরাট সফলতালাভ করলো। তাদের সামনে আর কোনো বাধা থাকলো না। তারা বিনাবাধায় তাদের চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে ছুটতে লাগলো। কিন্তু যাঁরা এই দেশে ১৯৭১ সালে, বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশস্বাধীন করেছিলেন—হঠাৎ তাঁরাই আবার দেশরক্ষার প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধুর খুনীচক্রসহ পাকিস্তানীদের চিরদালাল মেজর জেনারেল জিয়াগংদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন। যাঁরা নিজেদের জীবনবাজি রেখে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন—তাঁরা এই জাতির সূর্যসন্তান। তাঁরা এই মাটির পবিত্র সন্তান। তাঁদের মনে দয়ামায়া ছিল খুব বেশি। আর তাইতো সেদিন দেশের প্রয়োজনে তাঁরা আবারও সফলতালাভ করতে গিয়েও পারেননি—শুধু তাঁদের অতিরিক্ত দয়ামায়ার কারণে। তাঁরা, কুচক্রী-জিয়াগংদের হত্যা করতে একটু বিলম্ব করেছিলেন। আর তাঁরা জিয়ার মতো একটা ঠাণ্ডামাথার খুনীকে তাঁরা সেদিন বন্দি-অবস্থায় রেখে বিরাট ভুল করেছিলেন। আর এই সুযোগে বাংলার এজিদ জিয়াউর রহমান, সেদিন কর্নেল তাহেরের সহায়তায় এই বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েই মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সহায়তায় সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে থাকে। আর সে তার পথের কাঁটা হিসাবে আমাদের সেনাবাহিনীর মধ্যে থাকা বাংলার সর্বস্তরের বীর-মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার নির্দেশ দিতে থাকে। পাকিস্তানের দালালচক্রের অন্যতম প্রধান খুনী জিয়ার নির্দেশেই ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শুরু হয় দেশপ্রেমিক আর্মি-অফিসারসহ সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা। এইসময় বাংলাদেশী পাকিস্তানী-দালালদের হাতে শহীদ হন একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর-মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ বীরউত্তম, কর্নেল নাজমুল হুদা বীরউত্তম ও কর্নেল এটিএম হায়দার বীরবিক্রমসহ আরও অনেকে। শুধু ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর একটা খুনীজিয়ার নির্দেশে শত-শত আর্মি-অফিসার ও জওয়ানকে হত্যা করা হয়েছে। আর এই হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছিলো ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর থেকে। সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হলো—পাকিস্তানের দালালরা ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের এইদিন কুপরিকল্পিতভাবে আমাদের বীর-মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যায়ভাবে হত্যা করে আবার তাঁদের ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা করেছে। আসলে, হত্যাকারীরা ছিল পাকিস্তানের দালাল। এরা নিজেদের কৃতকর্ম ও অপরাধসমূহ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উল্টা আমাদের দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় দালাল বলার ধৃষ্টতা ও দুঃসাহস দেখিয়েছে!
এই পাপিষ্ঠ জিয়াউর রহমানই তার জীবনরক্ষাকারী পঙ্গু-মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহের বীরউত্তমকে ১৯৭৬ সালের ২১-এ জুলাই এক প্রহসনমূলক বিচারের নামে হত্যা করে। মূলত মানুষখুনই ছিল জিয়ার প্রকৃত ধর্ম।
আমাদের এই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অনেক আগে থেকেই আক্রোশ ছিল মুক্তিযুদ্ধে পরাজিতগোষ্ঠীর। এরা সুযোগ খুঁজছিলো—কীভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিবে। আর সেই সুযোগ তারা গ্রহণ করেছে ১৯৭৫ সালে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একটি জঘন্য ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসাবে পালন করে থাকে আমাদের স্বাধীনতাবিরোধীদের মূলহোতা বিএনপি-জামায়াত-শিবির ও তাদের অপআদর্শে বিশ্বাসী সমমনা দলগুলো। আসুন, এবার দেখি তারা কেন এই দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসাবে পালন করে থাকে।

প্রথমত; তাদের দৃষ্টিতে এটি আসলেই বিপ্লব ও সংহতি দিবস। তার কারণ, এইদিন তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশটাকে আবার পাকিস্তান বানানোর কাজ শুরু করে দেয়।
দ্বিতীয়ত; এখানে, বিপ্লব বলতে ‘প্রতিবিপ্লব’ বা ‘প্রতিবিপ্লবীদের’ বিপ্লব বুঝতে হবে। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর যারা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাদখল করেছিলো—তারা ছিল প্রতিবিপ্লবী—তারা ছিল আমাদের দেশের সর্বস্তরের মুক্তিযুদ্ধবিরোধীচক্র। আর বিপ্লব তো করেছিলাম আমরা—১৯৭১ সালে। এরা ১৯৭১ সালে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজাকারি করেছিলো, আর তারা রাজাকারির মাধ্যমে প্রতিবিপ্লব করতে গিয়ে সেদিন পরাজিত হয়। কিন্তু এবার সফল হওয়ায় তারা এর নাম দেয় বিপ্লব। সেই থেকে আমাদের দেশের সর্বস্তরের রাজাকারচক্র ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের মুক্তিযোদ্ধাহত্যাকে বিপ্লব বলে থাকে। আর ‘সংহতি’ শব্দটির অর্থ হলো—মিলন, একীভূত ও একীভবন। তার মানে—এরা ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর প্রতিবিপ্লবের-হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করে পাকিস্তানের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলো। তাই, তারা সেদিন থেকে এর নাম দেয় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’।
তৃতীয়ত; এইদিন ওরা একাত্তরের পরাজিতগোষ্ঠী হওয়ার পরও বাংলার বিপ্লবী-মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রতিবিপ্লব করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করার শক্তি অর্জন করে। তাই, এটি ওদের কাছেই আর ওদের জন্যই ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’।

আমাদের চিরদিন যা মনে রাখতে হবে:
১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশে কোনোপ্রকার ‘বিপ্লব’ বা ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’ সংঘটিত হয়নি। এইদিন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পরাজিতগোষ্ঠী তথা পাকিস্তানের সর্বস্তরের দালালচক্র আমাদের দেশপ্রেমিক-মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করেছিলো। আর এরা ছিল আমাদের স্বাধীনতার একমাত্র ও প্রধান শত্রু—রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের সমন্বয়ে সর্বদলীয় পাকিস্তানী-দালালগোষ্ঠী। আর এরা ছিল একদলীয় ও একজাতীয়। সেদিন, কোনো দেশপ্রেমিক-জনতা কিংবা সিপাহী—রাজাকার-কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাহত্যাকে সমর্থন করেনি কিংবা তারা এতে অংশগ্রহণও করেনি। বরং সেদিন, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য বাংলাদেশবিরোধী কিছুসংখ্যক আর্মি-অফিসার ও সিপাই দেশের সর্বস্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটি’র সদস্যদের সহযোগিতায় প্রতিবিপ্লব সংঘটিত করে। আর তারাই সেদিন পাকিস্তানের ইন্ধনে আমাদের দেশপ্রেমিক-মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে রাস্তায় নেমে আনন্দমিছিল করেছিলো। প্রকৃতপক্ষে, এটি আমাদের দেশপ্রেমিক-মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করার দিবস।

যাদের মধ্যে সামান্যতম মনুষ্যত্ব ও মানবতা আছে—তারা কখনও ৭ই নভেম্বরের মতো একটি কলংকিত দিবসকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসাবে পালন করতে পারে না। বাংলার কোনো মানবসন্তান যেন রাজাকারদের প্রকৃত উত্তরসূরী বিএনপি-জামায়াতের দেখানো দেশদ্রোহিতার পথে কখনও না-হাঁটে—আজ সেই প্রার্থনাই করি।

সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
০৭/১১/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 1 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর