নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

বিপ্লব ও সংহতি নয়, ইতিহাসের এক নির্লজ্জ অধ্যায়!


৭ই নভেম্বর কোন 'বিপ্লব ও সংহতি'র দিন নয়, ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাক-অনুচররা যে মিশন শুরু করেছিলো, তার ফিনিশিং টাচ! বাংলাদেশের ইতিহাসে বেইমানি আর ক্ষমতার জন্য নৃসংশ হত্যাকান্ডের এক নির্লজ্জ অধ্যায়! অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে ইতিহাসের এমন নৃসংশ হত্যাযোজ্ঞ আর মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সৈনিক, দেশের পরীক্ষিত সূর্য্য সন্তানদের হত্যার এই মিশনকে বিএনপি প্রতিবছর উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করে! ইতিহাসের প্রতিটি পরতে পরতে এত সাক্ষ্য, প্রবীণ প্রত্যাক্ষদর্শী এত মানুষ এখন জীবিত অথচ ইতিহাসের তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ আরো অসংখ্যা স্বদেশী হত্যার এই দিনটিতে একটা রাজনৈতিক দলের কি নির্মম রসিকতা!

সেদিন মেজর জলিল কয়েকজন উত্তেজিত সৈনিক নিয়ে অফিসার মেসের ভিতর প্রবেশ করে, সাথে একজন বিপ্লবী হাবিলদারও ছিল। সে চিৎকার দিয়ে জেনারেল খালেদকে বলল- "আমরা তোমার বিচার চাই"! খালেদ শান্তকণ্ঠে জবাব দিলেন, "ঠিক আছে, তোমরা আমার বিচার করো। আমাকে কমান্ডিং অফিসারের কাছে নিয়ে চলো"। স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বাগিয়ে হাবিলদার চিৎকার করে বললো- "আমরা এখানেই তোমার বিচার করবো।" খালেদ ধীর স্থির কন্ঠে বললেন, "ঠিক আছে, তোমরা আমার বিচার করো"। খালেদ দু'হাত দিয়ে তার মুখ ঢাকলেন। তারপর একটি ব্রাস ফায়ার। মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার জেনারেল খালেদ মোশারফ, যার ললাটে ছিল বীরযোদ্ধার জয়টিকা, মাথায় ছিল মুক্তিযুদ্ধের বীর উত্তমের শিরোপা আর মাথার বাম পাশে ছিলো পাকিস্তানী গোলন্দাজ বাহিনীর কামানের গোলার গভীর ক্ষতচিহ্ন। কামরার ভেতরেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণত্যাগ করলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী, মুক্তিযুদ্ধে ৮নং সেক্টরের সাবসেক্টর কমান্ডার, বীর বিক্রম কর্নেল নাজমুল হুদা। কর্নেল হায়দার ছুটে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু সৈনিকদের হাতে বারান্দায় ধরা পড়েন। উত্তেজিত সিপাহীরা কিল ঘুষি লাথি মারতে মারতে দোতলা থেকে নিচে নামিয়ে এনে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এ দিন হত্যা করা হয় আরো সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারকে।

ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার একদিন খালেদ মোশাররফ বললেন, "খালেদ তোমার সেক্টরে রেশনে অন্যান্যদের তুলনায় বেশী লাগে কেন? আই এম স্যরি এবার থেকে রেশনিং এর জন্যে ইন্ডিয়ান আর্মির কাছে তোমাকে রিপোর্ট করা লাগবে"। উনি বললেন। "স্যার, আমরা মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মনে রাখবেন বন্দুকের নল দু-দিকেই ঘোরানো যায়"। ঐ ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার আর কোন কথা না বলে চুপ করে গেলেন। কি আশ্চর্য! এরকম একজন মানুষকে তারা ভারতীয় দালাল বলে হত্যা করে! লজ্জাজনক হলেও সত্যি, ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানীরাও একসময় ভারতের দালাল বলে আখ্যায়িত হয়েছিলেন, তা ছিল পাকশক্তির অপপ্রচার, সেই একই ভাবধারায় স্বাধীনতাবিরোধীরা নেমে যায় দেশপ্রেমী মুক্তিযোদ্ধাকে কলঙ্কিত করার আপচেষ্টায়।

৭৫-এর ৭ নভেম্বরে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর ভিতর থেকে যে ঘটনা ঘটেছিল তার প্রকৃত নেপাথ্যের নায়ক ছিলো মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার লে.কর্নেল আবু তাহের। সে এ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলো এবং বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিলো, সেই সঙ্গে জিয়াকে ক্ষমতায়ও বসিয়েছিলো সিপাহী-জনতার স্বার্থরক্ষা করার শর্তে। জিয়া উর রহমানের দুটি ভিন্ন এবং বিপরীত চরিত্র ছিলো। কর্নেল তাহের জিয়ার সব কিছুই জানতো। জিয়ার জন্য যা মোটেও নিরাপদ ছিলো না, তাই জীবন বাঁচানোর প্রতিদানসরুপ জিয়া তাহেরকে উপহার দিয়েছিলো নির্মম মৃত্যু!

তথাকথিত সিপাহী বিপ্লবের নামে তিন খ্যাতনামা মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফ বীরউত্তম, কে এন হুদা বীরউত্তম এবং এটিএম হায়দার বীরবিক্রমকে হত্যা করার আগে আগে ৬ নভেম্বর ভোর রাতে গৃহবন্দী জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করতে যায় বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুকের ল্যান্সার বাহিনীর একটি দল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার অন্যতম ঘাতক ল্যান্সার মহিউদ্দিন ছিলো এই দলের নেতৃত্বে। তারা জিয়াকে মুক্ত করে নিয়ে আসে কর্নেল রশিদের দুই নম্বর অ্যাটিলারি রেজিমেন্টের দপ্তরে।

পরবর্তী সময়ে গণভোট ('হ্যাঁ' - 'না' ভোট) প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন এবং পার্লামেন্ট নির্বাচন দিয়ে জিয়াউর রহমান নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেও তার আমলে বিশটির বেশী অভ্যুত্থান হয়েছিল। এসব অভুত্থানে অসংখ্য সামরিক সদস্য নিহত হন। প্রায় প্রতি তিন মাসে একটি করে অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল জিয়ার শাসন আমলে বলেও বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

মোদ্দকথা, সাত নভেম্বর হলো স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠার বিপ্লব। ১৫ই আগস্ট জাতির জনকের হত্যা, ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা এবং আরো বহু স্বদেশী হত্যার ষড়যন্ত্রের আপাতকালিন সফল যবানিকা। যার পুরাটাই এক্সপ্লয়েট করছেন জিয়াউর রহমান। আমরাই বোধহয় পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র জাতি, যারা নিজেদের মুক্তির সংগ্রামের সিংহপুরুষদের নির্মম ভাবে হত্যা করে সেই নির্লজ্জতাপূর্ণ দিনটিকে মহাসমারোহে উৎসব হিসেবে পালন করি!

রহমান বর্ণিল।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 12 ঘন্টা 5 min ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর