নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঠমোল্লা
  • সাতাল
  • সৈকত সমুদ্র
  • মৃত কালপুরুষ

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং নৈতিকতাঃ অন্তরঙ্গতা নাকি যৌন হয়রানি!


বিশ্ববিদ্যালয়কে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সকল প্রকার মুক্তিবুদ্ধি এবং মুক্তচিন্তা চর্চার জায়গা এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। কিন্তু এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে অধিষ্ঠিত সম্মানিত শিক্ষকরা যখন যৌন হয়রানির মত অসুস্থ এবং বিকৃত মানসিকতাপূর্ণ কাজগুলো করেন তখন সন্দীহান হতে হয় আমরা কি আদৌ বিশ্ববিদ্যালয় নামক কোন সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে আছি কিনা যেখানে নৈতিকতা আর মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা হয়! যৌন হয়রানির মতো আদিম এবং বিকৃত মানসিকতাপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার কোন শখ আমার নেই কিন্তু কিছু কথা না বলেও শান্তি পাচ্ছি না। যৌন হয়রানি বললে পুরুষ- নারী উভয়ের প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরতে হয়। কিন্তু এইখানে ‘যৌন হয়রানি’ বলতে শুধুমাত্র স্ত্রীলিঙ্গের প্রেক্ষাপটটাকে তুলে ধরতে চাচ্ছি। অনেকের হয়তো ভ্রু কুঁচকাতে পারে যে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতেও এইরকম হয়! আপনি একটু খেয়াল করলেই এইরকম অহরহ নোংরা ঘটনার সাক্ষী হবেন! আর অনেক ঘটনা তো মস্তিষ্কের ভেতরেই চাপা পড়ে যায় দুঃস্বপ্নের মতো!

আপনার কি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই এই নোংরা মানসিকতা পোষণ করে? তাদের জন্য একটু বলি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও মানুষ, মহাপুরুষ না। তাদের ভেতরও মানবিক এবং জৈবিক প্রবৃত্তিগুলোকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। কিন্তু তাই বলে অসুস্থ এবং বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ তো সাধারণ প্রবৃত্তিগুলোর মধ্যে পড়ে না। সেক্ষেত্রে প্রবৃত্তিগুলো কি মানবিক নাকি পাশবিক সেই প্রশ্নের অবতারণা ঘটে। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সবারই আকর্ষণ থাকে কিন্তু তাই বলে সেই প্রবৃত্তিগুলো বিকারে পৌঁছানো কতটুকু শোভনীয় এবং প্রাসঙ্গিক? একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাথে একজন শিক্ষার্থীর মধুর সম্পর্ক থাকাটাই স্বাভাবিক। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কটা যতই অন্তরঙ্গ হয় জ্ঞান আদান-প্রদানের ব্যাপারটা মনে হয় ততই সহজ, সুন্দর ও সাবলিল হয়। কিন্তু সেই অন্তরঙ্গতা ব্যাপারটা কি লিঙ্গ বিশেষে পার্থক্য হওয়া উচিত? স্ত্রী লিঙ্গের প্রতি আলাদা এবং বাড়তি অন্তরঙ্গতা কি কাম্য? এটা কি নৈতিক? আচ্ছা ধরলাম এটাও স্বাভাবিক জৈবিক প্রবৃত্তির দরুণ হচ্ছে। তাতে সেই শিক্ষকদের কোন দোষ নেই! কিন্তু চলুন কিছু চিত্রকল্প কল্পনা করি তারপর আপনারাই নির্ণয় করুন ব্যাপারগুলো কি স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক!

১। ধরুন ‘ক’ একজন প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ইংরেজি বিভাগে পড়ছেন। দেখতে শুনতে ভালো। তার কোন এক কোর্স টিচার ক্লাস শেষে বলছেন তার সাথে নিজের কক্ষে দেখা করতে ক্লাস আওয়ারের পর। ‘ক’ শিক্ষকের কথামতোই স্বাভাবিকভাবে শিক্ষকের কক্ষে দেখা করতে গেল। শিক্ষক নিজ কক্ষের দরজা লাগিয়ে দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অবস্থান করল! এইরকম অন্তরঙ্গতা কি স্বাভাবিক? কী এমন বিশেষ ক্লাস যে ব্যক্তিগত কক্ষের দরজা লাগিয়ে নিতে হয়? সেটার জন্য কি বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে উপরিপাওনা দেয়?

২। ধরুন ‘গ’ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পড়ছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগে। একদিন দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র এক শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখে ‘গ’ ঐ শিক্ষকের চেয়ারে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছাত্রটি প্রবেশাধিকার চাইলে ‘গ’ শিক্ষকের হয়ে না বলে দিলেন!

৩। ধরুন ‘ঘ’ বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্রী। তার বিভাগের একজন শিক্ষক নিয়মিত ফেইসবুকে ক্ষুদে বার্তা পাঠায়। বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে। কোন কোন সময় আপত্তিকর প্রশ্নও করে বসে থাকে। কিন্তু ‘ঘ’ শিক্ষক বলে কোনভাবেই এড়াতে পারে না।

৪।
ধরুন ‘চ’ পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক। উনি তার ছাত্রীদের নিয়মিত ফোন করে খোঁজ-খবর নেন, খোশ গল্প করেন। বাহ কি অভিভাবকসুলভ আচরণ!

৫। ধরুন ‘ছ’ লোক প্রশাসন বিভাগের একজন শিক্ষক। উনি ক্লাসের সুন্দরী মেয়েদের কে নিয়ে টংগুলোতে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটাতে পছন্দ করেন। তাই শুধু নয়, পরীক্ষার খাতায় ভালো মার্কস দিয়ে সাহায্য করেন!

৬। ধরুন আরেকজন শিক্ষক ‘ত’ এর কাজ হচ্ছে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বসে বিভিন্ন বিভাগের মেয়েদের সাথে খোশ গল্প করা। উনাকে প্রায়শই সন্ধ্যার পর মেয়েদের পেছন পেছন অল্প দূরত্ব রেখে হেঁটে যান। ব্যাপারটা এমন যে উনি যে মেয়েটার সাথেই হাঁটছেন সে কেউ না বুঝে!

৭। ধরুন গণিত বিভাগের একজন শিক্ষক গণিত বুঝানোর সুযোগে ছাত্রীদের হাত স্পর্শ করছেন কিন্তু চক্ষু লজ্জার জন্যই হোক বা ভয়ের কারণেই হোক ছাত্রীরা কিছুই বলে না। নিরবতার এই সুযোগে প্রতিনিয়তই এই কাজগুলো করে চলছেন উনি।

৮। ধরুন আরেকজন পৌঢ় শিক্ষক যিনি তার বার্ধক্য আর আন্তরিকতার সুযোগে মেয়েদের গায়ে, কাঁধে হাত রেখে কথা বলছেন খুবই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে যেন কিছুই বুঝেন না উনি।

৯। ধরুন আরেকজন শিক্ষক ‘ম’ কে প্রায়শই দেখা যায় উনার ছাত্রী ‘ন’ কে খুব সকাল সকাল ছাত্রী হলে পৌঁছে দিচ্ছেন! প্রশ্ন আসতেই পারে রাতের বেলা উনারা কোথায় ছিলেন?

১০। ধরুন একজন শিক্ষার্থী(মেয়ে) তার শিক্ষক ‘প’ এর কাছে পোস্টার বিক্রি করতে গিয়েছেন। তার শিক্ষক তাকে বলছে ‘তুমি গিয়ে আমার বাসার দেয়ালে লাগিয়ে এসো!’ এইটা কি স্বাভাবিক অন্তরঙ্গতা?

এই হচ্ছে কতিপয় শিক্ষকের অন্তরঙ্গতার নমুনা। অন্তরঙ্গতার সুযোগে তারা বিভিন্নভাবে মেয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে যাচ্ছেন। ক্লাস আওয়ারের পর একা নিজের কক্ষে ডাকা, অত্যধিক গুরুত্বসহকারে ব্যক্তিবিশেষের সাথে অন্তরঙ্গতা, আন্তরিকতার অজুহাতে গায়ে হাত দেয়া, লিঙ্গবিশেষে রাতের বেলা ফোন করে খোশ গল্প করা, ফেইসবুকে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো, অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা, অশালীন ক্ষুদে বার্তা পাঠানো, মেয়েদের পেছনে অযথা ঘুরঘুর করা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অন্তরঙ্গ সম্পর্কের কোন ধরন হতে পারে না। এইগুলো অসুস্থ এবং বিকৃত মানসিকতার ইঙ্গিত ছাড়া আর কিছুই না। নিজের পাশবিক প্রবৃত্তিগুলো যদি সংযত না রাখতে পারে তাহলে সে কতটুকু শিক্ষক হয়ে উঠতে পারবেন সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে!
যে মেয়েগুলো এই হয়রানির শিকার হন তাদের অনেকেই ভয়ে কিছু বলেন না। কতিপয় ঘটনাই ঘটনাস্থল থেকে আমাদের কানে আসে! কেউ চক্ষুলজ্জায়, কেউবা শিক্ষকের হাতে থাকা মার্কসের ভয়ে আবার কেউবা সাহসের অভাবে এই অসুস্থ এবং বিকৃত মানসিকতার বিপক্ষে দাঁড়ায় না। সেই হিসেব করতে গেলে আমাদেরও কিছু দায় আছে। উপযুক্ত শিক্ষাটুকু দিতে পারলে কিংবা অন্ততপক্ষে এই নোংরা মানসিকতার বিপক্ষে কথা বললেই সেই মুখোশধারী শিক্ষকগুলো সাহস পেত না। যারা এই নোংরা ব্যাপারটির শিকার হচ্ছেন তাদেরকে কতগুলো ভাগে ভাগ করা যায়ঃ

১। যারা চক্ষুলজ্জার কারণে কিছুই বলেন না
২। যারা শিক্ষকের হাতে থাকা মার্কসের ভয়ে সহ্য করেন
৩। যারা ব্যাপারটিকে মেয়েদের জন্য স্বাভাবিক বলে উড়িয়ে দেন
৪। যারা ব্যাপারটিকে হাত করে স্বার্থ সিদ্ধির পায়তারা করেন
৫। যারা নির্বাক সবকিছু সহ্য করেন

নিজের সম্মানটুকু রক্ষা করতে হলে আগে নিজেকেই আওয়াজ তুলতে হবে। এই নোংরামিগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। চক্ষুলজ্জার বরাত দিয়ে আপনি এই নোংরামিগুলোকে প্রশ্রয় দিবেন সেটা কতটুকু যৌক্তিক? সেটা কি আপনাকে সমাধান এনে দিবে? আর যারা ভাবছেন এইটা মেয়েদের জন্য স্বাভাবিক তারা কি এখনো আদিম যুগে বাস করছেন? যারা এইটাকে হাত করে স্বার্থ সিদ্ধির পাঁয়তারা করছেন আপনাদের কি বিবেক বলতে কিছু নেই? আপনাদের কি একটুও খারাপ অনুভূতি হয় না? আর যারা নির্বাক সবকিছু সহ্য করছেন আপনাদের কি কোন করণীয় নেই? মানুষ হিসেবে বাঁচার অধিকারটুকু দাবী করতে অসুবিধে কোথায়? আপনাদের কি নিজের উপর আস্থা নেই? একবার গর্জে উঠুন তারপরে দেখুন কি হয়!
আর যে শিক্ষকরা এহেন কাজে লিপ্ত তাদের জন্য ঘৃণা ছাড়া কিছু নেই। আপনারা কি বিকৃত মনস্ক নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন? অনেকেই আবার প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই নোংরামিগুলো করতে সাহস পান। কোন একটা সিস্টেম যখন দূষিত হয়ে যায় তখন জবাবদিহি করার কেউ থাকে না! অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই নোংরামিগুলোর জন্য এইটাও একটা কারণ। অন্ততপক্ষে মুক্তবুদ্ধি আর মুক্তচিন্তার বরাত দিয়ে নিজেদের ডিফেন্ড করতে আসবেন না। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার্থী হিসেবে ভাবুন, যৌনদাসী নয়। কথায় আছে, ‘চোরের দশদিন মালিকের একদিন’। আজকে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে কালকে যে পার পেয়ে যাবেন এমনটা ভাবা সমীচীন হবে না। সুতরাং সাধু সাবধান!
সকল শিক্ষকদের প্রতি বিনীতভাবে বলছি বিশ্ববিদ্যালয় যতটা আপনাদের ততটা আমাদেরও। আপনাদের প্রতি আমাদের কখনোই শ্রদ্ধার কমতি হয় না। কিন্তু আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা আপনাদের সম্মানের জায়গাটুকু নষ্ট করবেন না। আর কতিপয় নৈতিকতা বিবর্জিত এবং বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন শিক্ষকদের জন্য আপনাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠুক সেটা আমরা কখনো চাই না। এইরকম বিকৃত মানসিকতাগুলো উপড়ে ফেলতে আপনাদের কি করণীয় সেটা বলা কি সমীচীন হবে? দেখে দেখে এড়িয়ে যাবার স্বভাবটুকু বর্জন করুন।

[বি.দ্র.: শিরোনামটির জন্য আবারো ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এইখানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলতে কতিপয় কিছু নৈতিকতা বিবর্জিত এবং বিকৃত রুচির অধিকারী শিক্ষকদের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তাই বলে আমি আপনি কেউ এই দায় এড়িয়ে যেতে পারিনা। আমরা যদি সুযোগ না দিতাম তাহলে এই মুখোশধারী শিক্ষকগুলো সাহস পেত না এমন নোংরামি করার। চরিত্রগুলো কাল্পনিক কিন্তু চিত্রকল্পগুলো বাস্তব।]

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

উন্মাদ কবি
উন্মাদ কবি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 4 দিন ago
Joined: সোমবার, ফেব্রুয়ারী 27, 2017 - 3:46অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর