নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

তুলনামূলক পোস্ট


১.
'ল্যারি ডেভিড' এর 'কার্ব ইয়োর এনথিউজিয়াজম' এই টিভি সিরিজটার ৭ম সিজন ৬ষ্ঠ এপিসোডে(বেয়ার মিড্রিফ) দেখা যায় তাঁর সেক্রেটারির সাথে একটা ভুল বোঝাবুঝির সূত্র ধরে সেক্রেটারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অব্যহতি নেয়। বিষয়টা নিয়ে ল্যারি ডেভিড(নাম ভূমিকায় অভিনীত) এর একটু খারাপ লাগায় তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য সেক্রেটারির বাসায় যান। বলে রাখা প্রয়োজন যে এই এপিসোডে মেডিকেশন এর ফলে ল্যারি ডেভিড এর প্রস্রাবের বেগ অমানুষিক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে দেখা যায়। অনেকটা বাথরুমের জেট ফ্লাশের মত বেগ আর কী! যাই হোক, সেক্রেটারির বাসায় যাওয়ার পর ল্যারির বাথরমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। প্রস্রাবের বেগ অস্বাভাবিক থাকায় তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে এবং বাথরুমে রাখা 'যীশুর' ছবির চোখের নিচে গিয়ে এক ফোটা স্থান পায়!
সেক্রেটারির পরিবার ধার্মিক প্রকৃতির। ল্যারি চলে যাওয়ার পর 'যীশুর চোখে পানি' এই বিষয়টা তাদের নজরে আসে। যীশুর ছবিটা প্রকৃতই এতটাই উঁচুতে ছিলো যে সেখানে পানি পৌছানোর কোন প্রশ্নই আসে না। ধার্মিক সেক্রেটারি ব্যাপারটাকে অলৌকিক ধরে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে পার্থিব বিষয়াদি ত্যাগ করে সে ছবিটা নিয়ে বিশ্বভ্রমনে বের হবে বিশ্ববাসীকে অলৌকিক ব্যাপারটা দেখানোর জন্য!(লেখাকে নাটক বানানো যায় কিন্তু নাটককে লেখায় রুপ দেওয়া একটু কষ্টই, দেখে নিলে ভালো বুঝতে পারবেন।)
২.
এটা 'স্যাটায়ার'। ল্যারি ডেভিড জন্মসূত্রে ইহুদী। নাম ভূমিকায় অভিনয় করায় এখানেও তিনি ইহুদী। ইহুদী এক ব্যক্তি 'যীশুর' চোখে প্রস্রাব লাগালো, বিষয়টা খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে প্রচারিতও হলো, সেটা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য হয়েছে বলে আমার মনে পড়ে না। কারণ? প্রকৃত শিক্ষিত জাতি এতটুকু জ্ঞান রাখে যে স্যাটায়ারটা কোন ধর্ম বা কোন ব্যক্তি বিশেষকে অপমান করার জন্য নয়, বরং অন্ধ বিশ্বাসীকে সচেতন করার জন্য।
এখন বিষয়টা একটু অন্যরকম ভাবে ভেবে দেখুন তো। একই প্লট এবং একই উদ্দেশ্য নিয়ে শুধুমাত্র 'যীশুর' স্থানে মহানবীকে বসালে আপনি কী করতেন? এই প্রশ্ন পড়ার পর আপনার মন যদি এই বলেও সান্তনা নেয় যে মহানবীর কোন ছবি নাই, তাই এমনটা হতে পারে না, তাহলে আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আপনার বিশ্বাস প্রকৃত জায়গায় নেই। ধর্মটাকে বিশ্বাস না করে আপনি ব্যক্তি বিশেষকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন যা হয়ত মহানবীর উদ্দেশ্য ছিলো। আর যদি আপনার মন এই বলে সান্তনা নেয় যে, ওদের ধর্ম বানোয়াট, তাই এরকম হওয়ায় ওদের গায়ে লাগে নি, তাহলে মানতে হবে প্রকৃতই আপনি অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে বাস করছেন। আপনার অবচেতন মন জানে যে বিষয়টা ধাপ্পাবাজি, কিন্তু বিশ্বাসটা এতটাই অন্ধভাবে বসেছে আপনার মনে যে ব্যতিক্রম কিছু আপনি ভাবতেই পারছেন না।(সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ইসলাম নিয়ে লিখছি, ভারতে জন্ম নিলে হিন্দু ধর্ম নিয়েই লিখতাম। বলে রাখলাম, অনেকে আবার 'মালাউনের এজেন্ট' বলে সান্তনা নিতে পারেন, তাই।)
৩.
মহানবীকে নিয়ে বা ইসলাম ধর্মের কোন প্রেক্ষাপট নিয়ে কোন সিনেমা/ডকুমেন্টারি তৈরি হচ্ছে শোনা মাত্রই সেটা বাংলাদেশে মুক্তি পাওয়া থেকে বিরত রাখা বা ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়ার 'পেটিশন' শুরু করার কারণটা কী? আপনার অবচেতন মন জানে যে বিষয়টার গোড়ায় গলদ আছে, তাই সেটা ছড়িয়ে পড়লে আপনার বিশ্বাস দুর্বল হয়ে যাবে? নাকি ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করছে যারা, প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে আপনাকে আর ব্যবহার করা যাবে না, এই সত্য বুঝতে পেরে আপনাকে সেগুলো দেখা থেকে বিরত রাখছেন? ভেবে দেখবেন কি? ইসলাম যদি এতই শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে তবে স্যাটায়ার গ্রহণ করতে সমস্যা কোথায়? আর শিক্ষিত/চিন্তাশক্তির অধিকারী হওয়ায় আপনারও তো উচিত সব কিছু জেনে, বুঝে তারপর মানা/বিশ্বাস করা। একপাক্ষিক একটা বিষয় জেনে রাখলে সেখানে ভুলও তো থাকতে পারে।
৪.
ইহুদী নির্মাতা/খ্রিস্টান নির্মাতাদের দেখি 'মোজেস'/'জিসাস' কিংবা ধর্মকে নিয়ে বিদ্রুপ করতে পিছপা হননা। দর্শককুলও ধর্মানুভূতিতে আঘাত বলে তাদের প্রত্যাখ্যান করেন না। প্রসঙ্গত উল্লেখ করি, এক বড় ভাইয়ের প্রস্তাবে এক কোম্পানিতে সিভি ড্রপ করেছিলাম(আনুষ্ঠানিকতা আর কী, বড় ভাইই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা), সিভিতে রেলিজিয়ন হিসেবে উল্লেখ করা ছিলো 'স্কেপ্টিক'। বড়ভাই পরবর্তীতে আমাকে জানালেন যে তার সুপারভাইজার নাস্তিক একজনকে চাকুরি দেওয়ার পক্ষপাতী না(অন্য কিছুও হতে পারে, হয়ত আমি যোগ্য ছিলাম না)। উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে রেলিজিয়ন এখনও চাকুরি/সিনেমা/নাটক/প্রামাণ্যচিত্র সবকিছুতে প্রভাব ফেলে। আমার দেশটাকেও যে কবে দেখতে পাবো মুসলমানদের কোন রীতি নিয়ে স্যাটায়ার করবে, সরকার সেখানে হস্তক্ষেপ করবে না, ধর্ম ব্যবসায়ীরা নির্মাতাকে কোপানোর হুমকি দিবে না, দর্শকও ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগার দোহাই দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিবে না।

Comments

সাহাবউদ্দিন মাহমুদ এর ছবি
 

সান্তনা পাওয়ার জন্য মুসলিমরা অনেক কিছুই করে। তাদের মনের অজান্তেই তারা প্রতিনিয়ত মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে। অন্য কোন ধর্মের মানুষের মুখে আমি কখনও বলতে শুনিনি যে তাদের ধর্মই একমাত্র সঠিক ও সত্য ধর্ম। এটা মুসলমানরাই প্রতিনিয়ত বলে যাচ্ছে। যেন তাদের জন্মই হয়েছে সত্যের উপর দিয়ে। খুবই যুক্তিসঙ্গত একটা লেখা ধন্যবাদ।

Shahabuddin

 
সূর্যসন্তান এর ছবি
 

শুধু নিজেরা করে এমন না, অপরকে বাধ্য করে! পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হয় শ্রেষ্ঠ ধর্ম কোনটি, শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোনটি!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সূর্যসন্তান
সূর্যসন্তান এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 15 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, নভেম্বর 5, 2017 - 2:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর