নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • পৃথু স্যন্যাল
  • সুব্রত শুভ
  • গোলাম রব্বানী

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

অণুগল্প


অণুগল্প
অনুভূতির মাইক্রোস্কোপ

শীতল শালবনের মতো

মনে হচ্ছে অনেকদিন পর মাতাল হাওয়ার ঝাপটা আচড়ে পড়ল গায়ে। এখনো আড়মোড়া ভাঙে নি ঈপ্সিতা। তাও আজ তার মন ভালো। গতকয়েকদিন ধরে শুধু পূর্বতন প্রেমিকের স্মৃতি খুঁজে ফিরে বেড়িয়েছে চারপাশে। এইতো গত রাতেও অনেকক্ষণ কান্না করেছে। নিছক বিরহের জন্য নয়, অনুশোচনা হচ্ছিল। ছেলেটা বেশ ভালোয় ছিলো, এভাবে ফাঁদে ফেলা ঠিক হয়নি। এখন ছেলেটা সব নিঃশেষ করে জেলখানায় হয়তো সিগারেট ফুঁকছে। অথচ জেলে যাওয়ার আগেও কিনা ঈপ্সিতার উপর কোনো রাগ ছিলো না, বলেছিলো, "তোমাকে সব উজাড় করে দিয়েছি। ফিরে এসে কিন্তু তোমার সঙ্গে শীতের রাতে শালবনে যাব। পাতাঝরা পথের বুনো লাল মাটিকে সিঁদুর ভেবে নিও। সিঁথিতে পরিয়ে দিব ..."
ঈপ্সিতা কফি মগটা হাতে নিলো। এবার নতুন একজনকে ধরতে হবে। আবেগ, অনুভূতি, কি যেন বলো এই প্রেম-ট্রেম, এসব ঈপ্সিতার জন্যে আসে নি! সে কবে ক্লাস এইটে থাকতে কলেজপড়ুয়া প্রতিবেশী সুদর্শন কোকিলটা সব লুটে নিয়ে গেছে। থাক ও কথা, নতুন ক্লায়েন্ট ধরতে হবে যে...

অপেক্ষা
সবাই বাড়ি যাচ্ছে। বাড়ি ফেরার মৌসুম বলে কথা। স্টেশনে অপেক্ষা করছি, ট্রেন আসলেই উঠে পড়ব। পাশে একটি ছেলে বসলো। বললাম, তুমিও কি বাড়ি যাচ্ছ? বাড়ি কোথায়?
ছেলেটি ভাবলেশহীনভাবে তাকালো, "বাড়ি? আমার বাড়ি? জানি না কোথায়, বলতে পারবেন কোন ট্রেনে উঠতে হবে?"
আমার কাছে উত্তর ছিলো না, ধীরে ধীরে বললাম, "ঠিক আছে।"
ছেলেটি নিজে থেকেই বলে যেতে লাগল, "সবাই কি বাড়ি ফেরার জন্যে স্টেশন আসে? সবারই কি গন্তব্য থাকে কোথাও?"
আমি বললাম, "কারোও জন্যে অপেক্ষা করছ?"
ছেলেটি ফিরে যেতে যেতে বললো, "যাকে আমি কোনোদিন দেখি নি, যাকে চিনি না তার প্রতীক্ষায় বসে থাকা কি অপেক্ষা বলে? বাবা আসবেন একদিন এই পথ ধরে। একদিন সত্যিই আসবেন। আমাকে চিনে নেবেন..."

খুন
মেরে লাশটা দড়িতে ঝুলিয়ে দিলাম । এরপর খুব স্বাভাবিকভাবে এক কাপ চা খেতে লাগলাম। চা পান করব না খাব এধরণের ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাতে ইচ্ছে করছে । শালা, ৫০% শেয়ার চেয়েছিলো, আমি তাকে গুণে গুণে পঞ্চাশবার বেল্ট দিয়ে মেরেছি। এরপর পশ্চাৎ দেশে পঞ্চাশবার এই লৌহ দণ্ড প্রবেশ করিয়েছি। ছেলেটি প্রথমে চিৎকার করেছিলো, বলেছিলো-ওর বড় ভাই আমাকে দেখে নেবে।
দেখে নেওয়াটা সে আর দেখে যেতে পারল না। আমি শেষবার ওর গলা যখন টিপে ধরছিলাম সে তখনও অবাক হওয়া ছাড়তে পারে নি, আমি তাকে খুন করে ফেলছি। আমরা না একসাথে ব্যবসা করেছি। রাতভর নারী নিয়ে আলাপ করেছি। সেবার দুজন মিলে এক মেয়েকে, থাক, ব্যবসার বিষয় আশয়ের মতো গোপন জিনিস গোপনে রাখা ভালো।
আমি চা পান করতে করতে এতো সময় কিভাবে গড়িয়ে গেলো। বাইরে আজান দিচ্ছে। সকালের আলো ফুটছে। হায় হায় আমি একি করে ফেলেছি।? আমি পারলাম এভাবে আমার এতোদিনের বন্ধুকে খুন করে ফেলতে? এখন আমি কি করব? বাইরে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়েছে । কালকে রাতেই তো, এই বন্ধুর বাড়িতে লেট নাইট চিলিংকরছি চেক ইন দিয়েছি। এখন কি হবে আমার?

বাস্তুচ্যুত
শৈশব আর কৈশোরের গন্ধ লেগে রয়েছে পালস্তেরা খসে বৃদ্ধ হয়ে থাকা সিঁড়িটার গায়ে। আমি সিঁড়ি ভাঙিয়ে উপরে উঠছি ধীরে ধীরে। শামুকও হয়তো স্মৃতি ভেঙে ভেঙে চলে তাই তার জীবনে নাগরিক শশব্যস্ততা নেই। আমি চাইলে যৌবনের নীল রঙে ভেসে বেড়াতে পারতাম গণজোয়ারে। আস্তে আস্তে আমি চূড়ান্ত ধাপে এসে বসলাম। এই জায়গায় আর কখনো আসবো না। কখনো একলা বিষন্ন দুপুর কাটাবো না এই ছাদে। কাউকে ছাদে উঠে দেখাব না, ওই যে দূরে লাল বিল্ডিংটা। ওটা আমার স্কুল। ওই বিশাল মাঠটা আমার মাঠ। সেই ধূলিময় মাঠের স্পর্শ আমি পাই না। দেয়ালটা দেখা যাচ্ছে? কতদিন ঢিঙিয়ে পালাইনি ক্লাস।
আর অপর পাশে সারি সারি জাহাজের সারি। দূর থেকে মাস্তুল দেখা যায়। চোখে চোখ রাখা হবে না আর কোনো নাবিকের দূরবীনে।
জীবনের প্রতি মায়া আছে! অধিকার ছেড়ে দেওয়ার মায়াও আছে তারও চেয়ে বেশি। অথচ গুহাবাসী মানুষ বাসা বেঁধেছে এক অসহ্য মোহাবেশে!
আমার বাসাটা শিফট করব অচিরেই। যেভাবে নাফ নদী পার হয়ে ভেসে এসেছে মংডু থেকে বিতাড়িত নারী পুরুষ শিশুদের শবদেহ। যেভাবে বুলেট, আগুন পেরিয়ে বাস্তুচ্যুত জনতার স্রোত মিশে যায় জীবন স্রোতে। জীবন ভাসিয়ে নিয়ে যায়, স্মৃতিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে থাকে স্বভূমিতে ...

আলসেমি
সকালে ঘুম থেকেই উঠে দেখি, হাতের উপর একটা রঙিন প্রজাপতি। জানলা দিয়ে আলো এসে পড়ছে আমার শরীরে। আমি দ্বিধান্বিত, প্রজাপতিটা তাড়িয়ে দেব নাকি যতক্ষণ সে উড়ে না যায় আড়মোড়া না ভেঙে তাকিয়ে থাকব।
"পেপার! পেপার।"
"এই তরকারি। তরকারি। লাগবে?"
এই যে শুরু হয়ে গেছে রোজকার চেচামেচি।
পানির টেপের আওয়াজ, অফিসে যাওয়ার ব্যস্ততা, বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়ার তাড়াহুড়ো শুরু হয়ে গেছে। এই পুরানো গলিতে আধুনিক রুটিনওয়ার্কের চর্চা থেমে নেই। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে রাত। আবার সকাল। বৈচিত্র্যহীন শশব্যস্ত জীবন।
আজ যা খুশি তাই করব। এই পুরো পৃথিবী মিথ্যে। আজ আমি যতখুশি আলসেমি করব। যত খুশি সময় পার করব প্রজাপতির ডানার রঙিন ক্যানভাসে। এই রঙের কারুশিল্পীও বোধহয় জানেন না, শুয়োপোকাটা আজ কত রঙ বদলে নিয়েছে।
আজোও বুকের ব্যাথাটা বড্ডো বেড়ে গেছে। ডাক্তার বেশিক্ষণ না ঘুমোতে বারণ করেছে। দুটো পেসমেকার লাগানো শরীর কবেই ঔষধের দাসত্ব বরণ করে নিয়েছে। পঁচিশটা বছর সংসারের ঘানি টেনে গেছি। নয়টা-পাঁচটার জৌলুসহীন জীবন শেষে বাজারের ব্যাগ নিয়ে ছুটেছি আলু,বেগুন, পটল, তেল, ছোট মাছের বাজারে। নিজের জন্য সময় পেলাম কোথায়? পাজি ডাক্তারটাও বলে কিনা ধমনীতে চর্বি জমেছে।
দৌঁড়াতে বের না হলেও চলবে, কিন্তু ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্টটা মিস হয়ে গেলে আলসেমি করার বায়নাও তো করতে পারবো না।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সৌমেন গুহ
সৌমেন গুহ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 months 2 weeks ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জুন 23, 2016 - 6:26অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর