নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • পৃথু স্যন্যাল
  • সুব্রত শুভ

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

কথা বলাই সমাধান


একবার এক বন্ধু আমাকে মিথ্যে বলেছিল। যেহেতু সে আমার জীবনে ঘনিষ্ঠ একজন, সেহেতু আমার ধরে ফেলতে খুব একটা কষ্ট হয় নি। আমি অবাক হচ্ছিলাম এটা ভেবে, যে মিথ্যে বলার প্রয়োজন কী ছিল! যে আমাকে সব সময় বলত, কথা বলাই সমাধান।

ছোটকাল থেকে মানুষকে পড়া ছিল আমার নেশা। তারপর মনোবিজ্ঞানের আনাচকানাচ নিয়ে বেশ ভালো রকম পড়াশোনা করেছি। দু'একবার বাদে মানুষ চিনতে ভুল হয় নি কখনোই।

মানুষের মিথ্যে ধরার জন্য মনোবিজ্ঞানী হওয়ার আসলে খুব একটা প্রয়োজন নেই। সাধারণত আমরা যখন কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হই, তখন তাদের আচার-আচরণ, চাল-চলন, স্বভাব, ব্যবহার, বাচনভঙ্গি, কর্মকাণ্ড খুব ভালো করে লক্ষ্য করি।

যখন কেউ হঠাৎ করে নিত্যদিনের স্বাভাবিক আচরণের থেকে ভিন্ন রূপ নেয় বা ধারণ করে, তখনই আমরা বুঝতে পারি হয়তো সে কোন সমস্যা বা ঝামেলায় পড়েছে!

আবার, যখন কেউ প্রাত্যহিক জীবনে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের উপরও বিরক্তিবোধ করে, তখন আমরা বুঝতে পারি তার মস্তিষ্কে অন্য কিছু ঘুরছে। এবং যখন কেউ প্রশ্নের উত্তর দিতে অনীহা প্রকাশ করে বা এড়িয়ে যায় বা উত্তেজিত হয়ে যায় বা প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করে বা উলটো প্রশ্নকর্তাকে দোষারোপ করে বা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকে তার অভিব্যক্তি বা মুখাবয়ব - তখন আমরা বুঝতে পারি যে সে কিছু গোপন করছে বা মিথ্যের আশ্রয় নিচ্ছে বা উত্তর দেওয়ার মতো সৎ-সাহস তার নেই।

অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, মানুষ যখন মিথ্যে বলে তখন মনে করে অন্যের থেকে সে চালাক। বোধ করে, তার চালাকি কেউ ধরতে পারছে না। মজার বিষয় হচ্ছে, এই চরিত্রের মানুষগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচারকের ভূমিকা পালন করে। তারা মানুষজনকে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করে, কিন্তু নিজের দিকে তাকাতে প্রয়োজনবোধ করে না। এই চরিত্রের মানুষের একটি অদ্ভুত রূপ হচ্ছে, এরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়েও অনর্গল মিথ্যে বলে যেতে পারে। এবং এভাবেই তারা নিজেদের ভুক্তভোগী, আক্রান্ত ও অসহায় প্রমাণ করতে সমর্থ হয়।

আমার বন্ধুর মধ্যে এতটুক বোধ ছিল যে মিথ্যে স্থির নয়। মিথ্যে চলমান এবং মিথ্যে মনে রাখা কষ্টকর।

কথার বলার চেয়ে বড় সমাধান পৃথিবীতে আর কিছু নেই। কিন্তু মানুষ কথা বলতে ভয় পায়। কারণ সে ছোট হতে চায় না। অপমানিত হতে চায় না। এবং এই কারণগুলি ভেবে সে একের পর এক মিথ্যে বলতেই থাকে। চলতে থাকে মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ভণ্ডামির চলচ্চিত্র। ভুল স্বীকারে কোন লজ্জা নেই, পথেরকাঁটা থেকে মুক্তি।

বিভাগ: 

Comments

Code Ex এর ছবি
 

"এই চরিত্রের মানুষের একটি অদ্ভুত রূপ হচ্ছে, এরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়েও অনর্গল মিথ্যে বলে যেতে পারে।"

এই কথার সাথে একমত হতে পারছি না।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ মিথ্যে বলে না। আসলে বলার প্রয়োজন হয় না। কারণ, মানুষ মিথ্যে অন্যের সাথে বলে। নিজের সাথে বলে না।

 
আর এইচ মিলন এর ছবি
 

ভাইয়া,
তোমার অভিব্যক্তি সুন্দর এবং সত্য। সবার আগে এটা না বললেই নয়। আমি তোমার একজন বড় ভক্ত, যখন প্রথম আন্সারুল্লা বাংলা টিম থেকে তোমার আসিফ ভাইয়ার, সানিউরের, সাম্মি হকের ছবি কাট পিচ করে আমায় পাঠানো হলো, যদি বেচে থাকতে চাও তাহলে এদের মত হইও না।সেদিনি তোমায় চিনলাম,সাথে অন্যদেরো।
যাই হোক এখানে তোমার লেখাটা পড়ে খুব ভাল লাগলো। এটা আমার পরম ভাগ্য যে, এই ব্লগে তোমাদের সান্যিদ্ধ পেয়েছি। আমার জ্ঞানের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অনন্য আজাদ
অনন্য আজাদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 9 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর 4, 2015 - 10:56অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর