নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

স্মৃতিচারণ - ৬


-জীবনানন্দ দাশের সাথে মোলাকাত-

২০০২ সাল। ভাঙ্গাড়ির দোকান ও পুরাতন বইয়ের দোকান থেকে সস্তায় গল্প, কবিতা, উপন্যাসের বই কিনে পড়তাম।
অামার ছাত্রজীবনের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর সাথে প্রতি বৃহস্পতিবার যেতাম কাকরাইল মসজিদে তাবলীগী বয়ান শুনতে। বন্ধু অামার সংস্কৃতিমনা ও সুসাহিত্যিক ছিল।
সে তখনই একটি ছোট্ট কিশোর পত্রিকার সম্পাদক ছিল; অসাধারণ সৃজনশীলতা ছিল অামার বন্ধুর!
তাবলীগী বয়ান শুরু হতো মাগরিবের নামাজের পর। তাই অামরা বয়ানের পূর্বে বিকেলে রমনাপার্কে গিয়ে প্রকৃতি দেখতাম। কপোত-কপোতীর ডলাডলিও দেখতাম। বন্ধুর ভাষ্যমতে, চটকাচটকি!
একদিন একটি পুরাতন বইয়ের ভেতরে পেলাম কবিতা - "অাবার অাসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায়।"
অামার হৃদয় অান্দোলিত হলো। পড়ে ফেলতে লাগলাম জীবনানন্দের কবিতা সমূহ। কবিতার প্রতি তৈরি হতে থাকলো অসম্ভব রকম ভালোবাসা। তখন সিনিয়র স্টুডেন্ট হিসেবে তুলনামূলক স্বাধীনতাও পেলাম। মনে হতে লাগলো, মাদ্রাসার অভ্যন্তর এবং বাহিরের পৃথিবী অালাদা। মাদ্রাসার হুজুররা অার বাহিরের পৃথিবীর মানুষেরা অালাদা।
হুজুররা সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জালিয়াতি ও টেন্ডারবাজি করেননা। অ-হুজুররা এসব করে। হুজুররা পাঁচ হাজার টাকা বেতনে ইসলামের খেদমত করে যাচ্ছেন, অথচ মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারিদের সংসার খরচ হয় কয়েক লাখ টাকা! তারা মাদ্রাসায় এসে হুজুরদেরকে ওয়াজ করতো - 'অাপনাদেরকে পালবে অাল্লায়।' 'অাপনারা বেতন দিয়ে কি করবেন? অাল্লায়-ই তো অাপনাদের জিম্মাদার।'

হুজুররা মানবেতর জীবনযাপন করেও ইসলামের খেদমত করে যাচ্ছেন, নেই কোন অভাব অভিযোগ। অার মালিবাগ মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি হরেকরকম দুর্নীতি ও প্রতারণা করে কোটি টাকা কামাই করেও তার পেট ভরছেনা, অাবার হুজুরদেরকে এসে সবর (ধৈর্য্য) ও তাওয়াক্কুলের (অাল্লাহর উপর ভরসা) ওয়াজ করে!
কিন্তু অাসলে কি বিষয়টা এত সাধারণ?
গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান রেখে সারাদিন মাদ্রাসায় থেকে ছাত্রদেরকে যে হুজুর ইসলাম শেখাচ্ছেন, ঢাকায় বাসা ভাড়া করে পরিবার রাখার মত বেতন না পেয়ে একাকী রাতে ঘুমাচ্ছেন, সভাপতি সাহেবের মত প্রতিদিন সন্তান ও নাতিনাতনির মুখ দেখা কপালে জুটছে না, এ হুজুর কি অাসলে সুখে অাছেন? সভাপতি সাহেবের সতেরো তলা গার্মেন্টের দারোয়ানের বেতনও তার মাদ্রাসার শিক্ষকের চেয়ে বেশি! কিন্তু সভাপতি সাহেবরা টাকার জোরে, ক্ষমতার জোরে, প্রতাপের জোরে হুজুরদেরকে সবর ও তাওয়াক্কুলের ওয়াজ শোনান!
ভূঁড়িওয়ালা সভাপতি সাহেবের হৃদয় স্পর্শ করতো না অর্থাভাবে তালি দেয়া জামা গায়ে দেয়া হুজুরের মুখের মলিনতা। সভাপতি সাহেবের কানে পৌঁছুতো না রাতের বেলা নিরবে হুজুরের রোনাজারির অাওয়াজ।
সভাপতি সাহেব নিজের বেলায় "কুলু ওয়াশরাবু (ইচ্ছামত পানাহার করো)" - এই অায়াতটি মানতেন, কিন্তু হুজুরদের বেলায় "ইন্নাল্লাহা মা'অাস সাবিরীন (নিশ্চয়ই অাল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে অাছেন)" - এই অায়াতটি মানতেন!

বাংলাদেশের সব মসজিদ এবং মাদ্রাসার সভাপতিরা এমনই। নিজের ইনকাম পাঁচকোটি টাকা হলেও হুজুরের বেতন হয় পাঁচ হাজার টাকা (কমবেশি অাছে।)
পাঁচ-দশ হাজার টাকা বেতন, সাথে একটু সবর ও তাওয়াক্কুলের ওয়াজ, এরসাথে অাবার যোগ হয় পান থেকে চুন খসলেই লন্কাকান্ড - হুজুর, এটা করলেন কেন? ওটা করলেন কেন?
সভাপতি সাহেবরা যেহেতু দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ হয়ে থাকেন, তাই বেহেশতে যাওয়ার শখ তাদেরও অাছে। বেহেশতের রিজার্ভেশন যাতে ক্যান্সেল না হয় সেজন্য দু'একটি ভেদবাক্যও বলতে হয় - 'হুজুর, অাপনারাই তো এজগতের শ্রেষ্ঠ মানুষ, অামরা তো উম্মী মানুষ।'
অথবা - 'হুজুর, অাপনাদের উসিলায়ই অামরা বেহেশতে যাবো' - ইত্যাদি।

মডারেট ইসলামি চিন্তাবিদও হুজুরকে সম্মান করেন, কিন্তু সব সম্মান শুধু সবর ও তাওয়াক্কুলের ওয়াজের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
মডারেট ইসলামি চিন্তাবিদ হন বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন। ইসলামিক অর্গানাইজেশন, ওয়াজ-মাহফিল, নাইটক্লাব, সিনেমাহল, পরকীয়া, মদের দোকান সবখানেই মডারেটের সদর্প বিচরণ। পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়া, প্রতিবছর হজ্ব-ওমরাহ করা, ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করা, বিধবা সুন্দরী নারীকে বিছানায় নেয়া সহ সব কাজে মডারেট এক্সপার্ট। হুজুরকে দিয়ে মিলাদ পড়িয়ে একটু বাড়তি হাদিয়া দিলেই ফতোয়াটা মডারেটের পক্ষে চলে অাসে।

কিছু হুজুর মডারেটদের মতই বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন হয়। তারা গেলমান, পরস্ত্রী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন অাল্লাহর ইচ্ছায়। মডারেটদের চেয়েও কড়া জিহাদি ফতোয়া দিতে পারলে, নাস্তিক মারার ফতোয়া দিতে পারলেই মিলে যায় হেলিকপ্টারের টিকেট, মিলে যায় ফ্ল্যাট ও গাড়ি-বাড়ি !

অভাবে দিন কাটে বায়তুল মামুর মসজিদের ইমাম সাহেবের, তিনি জুমার বয়ানে জিহাদের কথা বলেননা। অভাবে দিন কাটে ফাইজারটেক মসজিদের ইমাম সাহেবের, তিনি নাস্তিক কোপানোর কথা বলেননা।

২০০৩ সাল। উরায়নার লোকদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করার হাদিস পড়লাম। শয়তান ধোঁকা দিলো, শয়তানকে মন থেকে তাড়ালাম জোর করে।
ফেব্রুয়ারির এক বিকেল। বৃহস্পতিবার এলাম কাকরাইল মসজিদে। রমনাপার্কে ঢুকলাম, লেকেরপাড়ে একটি গাছের নিচে বসলাম। 'অাবার অাসিব ফিরে' অাবৃত্তি করলাম। অনুভব করলাম জীবনানন্দ দাশকে। যেন জীবনানন্দ সামনে এসে বসলেন, অামাকে শিখিয়ে দিলেন প্রকৃতি থেকে শক্তি অর্জন করার মন্ত্র, দিয়ে গেলেন প্রকৃতিকে অন্যভাবে অনুধাবন করার চোখ। চেতনার নতুন অাকাশ উদিত হলো হৃদয়ের ধরালোকে।
বিকেল গড়িয়ে রাত হয়ে গেল, বয়ান শোনা হলো না সেদিন!

অামি চিনেছি প্রকৃতিকে, প্রকৃতিও চেনে অামাকে। তাই ভয় পাই না বিনাশের, ভয় পাই না ধ্বসের।
ভূতের সাথে গলাগলি করতেও ভয় করিনা, বাঘের সাথে মাখামাখি করতেও দ্বিধা করিনা, হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করতেও পিছপা হবো না যদি প্রয়োজন হয়।
খাদ্যাভাবে পড়লে অর্কিড হয়ে প্রকৃতি থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারি। উত্তাল সাগরের ঢেউ মাড়িয়ে সামনে যেতে পারি, বিক্ষুব্ধ ঝন্জা ও অমাবস্যার অাঁধার মাড়িয়ে পৌঁছুতে পারি অাপন গন্তব্যে।

জীবনানন্দের শিষ্যের চিত্ত নি:শন্ক, শির অতি উচ্চ, তাই কারো কাছে চাইতে হয়না কিছু।
সাগর, পাহাড়, নদী, পাখি, চাঁদ, তারা, তরুলতা সবাই চেনে অামাকে। হিজল, তমাল, জারুল, কলমিলতারা চেনে অামাকে। এ পৃথিবীতে অামার অাশ্রয়ের অভাব নেই।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মুফতি মাসুদ
মুফতি মাসুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: সোমবার, আগস্ট 14, 2017 - 6:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর