নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র
  • অর্বাচীন স্বজন

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

অবিকল মানুষের মতো একটা গন্ডার জাতি পাকিস্তান।


মানুষ এবং অনন্য কয়েক প্রজাতির প্রাণী সৃষ্টির পর সৃষ্টিকর্তা 'গন্ডার' সৃষ্টির দিকে মনোনিবেশ করলেন। এবং তিনি অসংখ্য 'গন্ডার' সৃষ্টি করলেন। এদের মধ্য থেকে একদল গন্ডার সৃষ্টিকর্তাকে জিজ্ঞেস করলো -আমাদের নাম কি? সৃষ্টিকর্তা বললেন- তোমরা 'গন্ডার'।
সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো পুর্বে সৃষ্ট কিছু সুদর্শন এবং বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ। ওই গন্ডার গুলো সৃষ্টিকর্তাকে জিজ্ঞেস করলো- এদের নাম কি?
সৃষ্টিকর্তা জবাব দিলেন- এরা 'মানুষ' সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। এবার ওই গন্ডারের দল বিদ্রোহ করে বসলো। বললো- আমরা গন্ডার হয়ে পৃথিবীতে যাবো না, আমাদের মানুষ বানিয়ে দিতে হবে।
সৃষ্টিকর্তা বললেন- মানুষের জন্য বরাদ্ধকৃত বুদ্ধি আপাতত শেষ।
তখন বিদ্রোহী গন্ডারেরা বললো- বুদ্ধি দিতে হবে না, আমাদের শুধু মানুষের আবয়ব দিয়ে দিন।
সৃষ্টিকর্তা বললেন- ঠিক আছে, তবে তাই হোক!
তারপর থেকে মানুষের চেহারার ওই 'গন্ডার' গুলোকে সৃষ্টিকর্তা পাকিস্থান নামক রাষ্ট্রে পাঠাতে শুরু করলেন।

গন্ডারকে আঘাত করলে নাকি তিন দিন পর মালুম হয়, সুরসুরি দিলে হেসে উঠে সাত দিন পর। ৭১ এ বাঙালির কাছে নপুংশক হয়ে ৪৫ বছরেও পাকিস্তানিদের অনুমান হয়নি যে, তারা একটা ধ্বজভঙ্গ জাতি! যদি হতো তাহলে তারা বাঙালির কাছে ক্ষমা চাইতো।

সেই গন্ডারের দেশ পাকিস্তানের হাইকমিশন তার ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও শেয়ার করেছে। সেই ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চাননি, তিনি স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলেন। এতে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি। চট্টগ্রাম থেকে মেজর জিয়াউর রহমান রেডিওতে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের পেছনে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহযোগী তাজউদ্দীন আহমেদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নন, জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক!’ বাংলাদেশে বসেই এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন। পাকিস্তান অ্যাফেয়ার্স নামে একটি ফেসবুক পেজে একটি ভিডিওতে এই অপপ্রচারসহ আরও কিছু ভিভ্রান্তিকর বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাভাবিক হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম নয় মাসের হয়েছিলো, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীকার আন্দোলন হয়েছিলো দীর্ঘ ২৩ বছর! ১৯৪৮ এ ভারত-পাকিস্তান আলাদা হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই শুরু হয়েছিলো বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম। ৪৮ থেকে ৭১ পর্যন্ত শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের বহু সংগ্রাম, বিদ্রোহ, দাবী এবং সে সব বিদ্রোহের জন্য অনেক জেল-জুলুম হয়েছে। ৭১ এর ২৬ই মার্চের আগ পর্যন্ত বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসের কোথাও কি জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা আছে? একটা উদাহরন দেয়া যাক- ধরি, সরকার ঘোষণা করলো আজ থেকে দেশের সব ক'টি মাধ্যমিক স্কুল জাতীয় করণ করা হলো। সরকারের এই ঘোষণা সংবাদ পাঠক সলিমুল্যাহ টিভি নিউজে পাঠ করে শুনালো। এখন সকল মাধ্যমিক স্কুলকে জাতীয় করণের ঘোষক কি সলুমুল্যাহ??? এই সহজ হিসেবটি বুঝতে বিএনপি'র কষ্ট হতে পারে, কিন্তু একটা রাষ্ট্র যখন এরকম নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে তখন সেটি সভ্য রাষ্ট্র যে নয় সেটা নি:স্বন্দেহে বলা যায়।

১৯৭১ সালে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর এ দেশীয় দোসরেরা যেসব যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছিল, তার বিচার শুরুর পর গত আট বছরে নানাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হলেও পাকিস্তান তাতে বিরত হয়নি। এ কারণে গত দুই বছরে আরও কয়েকবার পাকিস্তানের হাই কমিশনারকে ডেকে বাংলাদেশ সতর্ক করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বার বার প্রতিবাদ জানানোর পরও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ও দেশটির বিভিন্ন সংস্থার অপপ্রচার বন্ধ হয়নি।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে এরকম ধৃষ্টতা যে পাকিস্তানের অসভ্যতা বর্বরতার প্রমাণ এখনো বহন করে সেটিই আবার প্রমাণিত হল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের নিরস্ত্র জনসাধারণের কাছে পরাজিত হয়েছিল। এখন বাংলাদেশের একটি প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী আছে। এখন আমরা পাকিস্তানকে মোটেও প্রতিপক্ষই মনে করি না। কারণ, তারা তো আমাদের অপ্রশিক্ষিত সাধারণ জনগণের কাছেই হেরেছে। তাদের সঙ্গে আবার কিসের প্রতিযোগিতা? অন্তত যুদ্ধে তো নয়'ই। কারণ, তারা ১৯৭১ সালে হেরেছে। এখন তো অর্থনীতি, সমাজনীতি, কুটনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ, স্যানিটেশন সব কিছুতেই পাকিস্তান আমাদের কাছে হেরে বসে আছে। ৪৫ বছরে বাংলাদেশ কতটা অগ্রসর হয়েছে সেটি হয়তো পাকিস্তান জানে না। অসভ্য বর্বর ইতরদের সেটা জানার কথাও নয়।

পাকিস্তানের সঙ্গে বাঙালি মাত্র ২৪ বছর একসঙ্গে থেকেই বুঝতে পেরেছিল, তাদের সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, ধর্মীয় গোড়ামি, অসভ্য পর্যায়ের। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে সারা বিশ্বে এখন প্রমাণিত যে, পাকিস্তান একটি অসভ্য জাতি। আর বাঙালি সেই অসভ্য জাতি থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বের বুকে আপন গৌরব ও ঐতিহ্য নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে আজ সারা বিশ্বে স্বীকৃত। আজ যদি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাইতো, তাহলে বোঝা যেত পাকিস্তান সভ্য হতে শুরু করেছে। কিন্তু তারা যে অসভ্য এবং এখনো ১৯৭১ সালের পরাজয়ের গ্লানী ভুলতে পারেনি, সেই হতাশা, সেই পরাজয়, আর আক্রোশ থেকে তারা এত দিন পরও আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 23 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর