নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র
  • অর্বাচীন স্বজন

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

পথ আজ হঠাৎ এ কি পাগলামি করলে!


পথ আজ হঠাৎ এ কি পাগলামি করলে!

সেদিন রাঙামাটি থেকে ফিরছিলাম। টিকিটের নম্বর মিলিয়ে বাসের সিটে বসতে যাবো, দেখলাম সহযাত্রী ষোড়শী তরুনী। অত্যান্ত সুশ্রী। আমার সিটটা জানালার পাশেই ছিল। তরুনী উঠে জায়গা করে দিলে বসে পরলাম।

গত সপ্তাহ খানেক ধরে মারাত্মক স্বর্দিতে ভুগতেছি। গাড়ি ছাড়ার সাথে সাথে জানালা দিয়ে পাহাড়ি বাতাস ঢুকে হিমালয়ের বরফ গলার মত আমার নাক দিয়ে পানি ঝরতে শুরু করলো। ব্যাগটা খুলে টিস্যু প্যাকেট খুজতে লাগলাম, কিন্তু পেলাম না। মাথা তুলে দেখলাম সহযাত্রী টিস্যুর একটা প্যকেট বাড়িয়ে রেখেছে। ভদ্রতা সহকারে আমি একটা টিস্যু নিলাম। বলল "আপনার তো ভালোই স্বর্দি লেগেছে, পুরোটাই রেখে দিন"। পথ যাত্রায় একজন সহযাত্রীর এমন অযাচিত যত্নে চিত্ত একেবারে পুলকিত হয়ে উঠলো।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা, উচু-নিচু পথ ধরে গাড়ি দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। সু-উচ্চ পাহাড়ের চুড়ায় চুড়ায় মেঘ রৌদ্দুর খেলা। সবুজ অরন্যে অসংখ্য প্রজাতির পাখ-পাখালির হাট বসেছে যেন আজ। তাদের পক্ষ তাড়না আর বিচিত্র চিৎকারে মুখর বনানী। হেমন্তের আকাশে শীতের রিক্ততার আভাস। প্রকৃতির এ যেন বিপূল আয়োজনের অজস্র সমাহার। আমি হেডফোনটা কানে লাগালাম।
তরুনি বলল- কি শুনছেন?
বললাম- শেষের কবিতা।
- আমিও কি শুনতে পারি?
আমি হেডফোনের একটা অংশ বাড়িয়ে দিলাম।

আবৃত্তি হচ্ছিল,,,

পথ আজ হঠাৎ এ কি পাগলামি করলে?
দুজন কে দুই জায়গা থেকে ছিড়ে এনে
আজ থেকে হঠাৎ এক রাস্তায়
চালান করে দিলে।
মনের ভেতরটা বলছে
আমাদের শুরু হলো যুগল চলন।
আমরা চলার স্রোতে গাঁথবো
ক্ষনে ক্ষনে কুড়িয়ে পাওয়া
উজ্জল নিমিশগুলির মালা,
আমাদের দেনা পাওনা সবই হবে হঠাৎ।
কোথায় আছ নিবারন চক্রবর্তী
বানী দাও, বানী দাও।
পথ বেঁধে দিলো বন্ধন হারা গ্রন্থী,
আমরা দুজন চলতি হারার পন্থী।
রঙিন নিমেশ ধুলার দুলাল,
পরানে ছড়াই আবির গুলাল,
ওড়না উড়াই বর্ষার মেঘে
দিগর্ননার নিত্ত,
হঠাৎ আলোর ঝলকানি লেগে
ঝলমল করে চিত্ত।

আমি হেডফোনের অন্য অংশটার দিকে তাকালাম। সপ্তমীর চাঁদের মত ঠোটের কোনে বাঁকা এক চিলতে হাসি, শরতের মেঘদলের মত সুভ্র মুখে হালকা লাজের আবির, আর ডাগর জোড়া চোখে ক্ষানিকটা সংকোচময় দ্বিধা।

আমি জানি আমার জীবনে লাবন্যের জায়গাটি আর কেউ কখনো নিতে পারবে না, কিন্তু শেষের কবিতার কেথকী তো আমার আজকের এই অচেনা সহযাত্রীর মত এতটা সংযত ছিলো না।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 23 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর