নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

জাতিগত মুক্তি আন্দোলনে সমাজতন্ত্র সোভিয়তের ভূমিকা


অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বিশ্বের বুকে প্রথম জাতিগত মুক্তির সমস্যাকে সমাধান করেছিলো। জাতি সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখা কমরেড স্ট্যালিনের মৃত্যুর পরে ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সামাজিক সাম্রাজ্যবাদে এবং চীনে মাওয়ের মৃত্যুর পরই (১৯৭৬ সাল) পুঁজিবাদের পথগামীরা ক্ষমতা দখল করে সমাজতান্ত্রিক চীনকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এই সব দেশেই পুনরায় জাতিগত নিপীড়ন শুরু হয়েছে এবং সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙ্গে খন্ড খন্ড হয়ে গেছে।

বিশ্বের দেশে দেশে আজো জাতিগত নিপীড়ন ও তার বিরুদ্ধে নিপীড়িত জাতিসত্তার জনগণের মুক্তির সংগ্রাম চলছে। ইউরোপ থেকে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা থেকে এশিয়া সর্বত্রই এটা দৃশ্যমান। কোথাও একই রাষ্ট্রের অধীনে বৃহৎ জাতি কর্তৃক ক্ষুদ্র জাতি সত্তা নিপীড়িত হচ্ছে, আবার কোথাও এক দেশের শাসক জাতি কর্তৃক অন্য দেশের জাতিগোষ্ঠী নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। যার এক প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জাতিসত্তার বিরুদ্ধে সেদেশের সেনাবাহিনীর জাতিগত উচ্ছেদ অভিযান ও গণহত্যা। নয়া উপনিবেশিক বিশ্ব ব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবাদের এই গোষ্ঠী বা ওই গোষ্ঠী, অথবা সকলের সম্মিলিত সমর্থন ও অবহেলায় এসব জাতিগত নিপীড়ন চলতে পারছে।

চীন-রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জাতিগত সমস্যার সমাধান হয়েছিল। কারণ বলশেভিক পার্টি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টি জাতিগত মুক্তির প্রশ্নে সঠিক অবস্থান নিয়েছিলো। লেনিন-মাও স্পষ্টভাবেই ঘোষণা করেছিলেন সকল নিপীড়িত জাতির বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক চীন থেকে “দুনিয়ার মজদুর এক হও”- শ্রমিক শ্রেণির এই রণনৈতিক স্লোগানকে সম্প্রসারণ করে স্লোগান তোলা হয়েছিল- “সারা দুনিয়ার সর্বহারা এবং নিপীড়িত জাতি ও জনগণ এক হও”। লেনিন সর্বদাই শিক্ষা দিয়েছিলেন যে, জাতিগত অত্যাচারের বিরুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণিকে লড়তে হবে। নিপীড়ক জাতির শ্রমিক শ্রেণিকে নিপীড়িত জাতির বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারকে সুস্পষ্টভাবে সমর্থন করতে হবে। কর্মসূচির মধ্যে এই দাবী অন্তর্ভুক্ত না করার অর্থ হলো সর্বহারার আন্তর্জাতিকতাবাদী মতাদর্শ পরিত্যাগ করা ও জাতিগত অত্যাচারের সহায়তা করা।

বিপ্লবপূর্ব রাশিয়া ছিলো বহু জাতির দেশ। ক্ষমতাসীন রুশ জারতন্ত্র কর্র্তৃক অন্যান্য জাতির উপর নিপীড়ন ছিল সীমাহীন। যাদের অর্থনেতিক অবস্থান এক ছিল না। রাশিয়ায় সব সময় জাতিগত সংঘাত লেগে থাকতো। অবিকশিত জাতিসমূহ তখনো পর্যন্ত সামন্তীয় কাঠামোতেই ছিল। তাই আইনীভাবে জাতিগত সমতা এখানে ছিল ফাঁকা বুলি। বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রাশিয়ায় সকল জাতিগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার দেয়া হয় স্বেচ্ছামূলক প্রকৃত ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ থেকে।

সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জাতিগত সৌহার্দ তৈরি হয়। প্রত্যেক জাতি অন্যান্য জাাতিকে সম্মানের চোখে দেখতে শুরু করে। অক্টোবর বিপ্লবের মধ্য দিয়েই দুনিয়ার নিপীড়িত জাতি যারা মুক্তির জন্য লড়ছিলো তারা তাদের অকৃত্রিম বন্ধু সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নকে পাশে পেলো। সেই জন্য বিপ্লবী সরকার জার কর্তৃক দখলীকৃত সমস্ত এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। সমস্ত অঞ্চলের জাতীয় বিকাশের পদক্ষেপ নেয়া হয়।

সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব কালেও কমরেড স্ট্যালিনকে ট্রটস্কি-বুখারিনপন্থীদের বিরুদ্ধে অন্যান্য বিষয়ের সাথে সাথে জাতিগত সমস্যা নিয়েও সংগ্রাম করতে হয়েছিল। তারা ইউক্রেন, বিয়েলোরুশিয়া ও সামুদ্রিক অঞ্চল যথাক্রমে জার্মান, পোল ও জাপানীদের হাতে তুলে দেয়ার চক্রান্ত করেছিল। রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব নানা রঙের জাতীয়তাবাদীদের পরাজিত করে সোভিয়েত ইউনিয়নের বহু জাতির মহান মৈত্রীর পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এবং সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রসমূহের যুক্তরাষ্ট্র গঠন করে। তাই আইনীভাবে জাতিগত সমতা এখানে ফাঁকা বুলি ছিল না। একইভাবে চীনা সমাজাতান্ত্রিক বিপ্লব তিব্বত, উইঘুরসহ চীনের সংখ্যালঘু নিপীড়িত জাতিসত্তাগুলোর মুক্তি দিয়েছিল।

অক্টোবর বিপ্লব জাতিগত প্রশ্নে কতগুলো সুস্পষ্ট উত্তর দিয়ে দেয়। সেগুলোকে ব্যক্ত করা যায় নিম্নোক্তভাবে-

১। জাতিগত মুক্তি ঘটতে পারে কেবলমাত্র কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে সর্বহারা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। যা এখন মালেমা-বাদী ছাড়া হতে পারে না।

২। উগ্র জাতীয়তাবাদকে সংগ্রাম না করে প্রকৃত জাতিগত মুক্তি আন্দোলনকে সমর্থন করা যায় না।

৩। সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদকে বিরোধিতা না করে প্রকৃত জাতীয় মুক্তির পক্ষে দাঁড়ানো যায় না।

৪। জাতীয় স্বাধীনতার মানে শুধু  ভূ-খন্ড-গত পৃথক রাষ্ট্র গঠন নয়; রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, সংস্কৃতিগত স্বাধীনতা।

৪। প্রতিটি নিপীড়িত জাতির মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে দাঁড়ানো একটি আন্তর্জাতিকতাবাদী দায়িত্ব।

৫। প্রত্যেকটি জাতির তার নিজস্ব বিকাশের জন্য “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার” রয়েছে। আর প্রকৃত আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের অর্থ বিচ্ছিন্নতার অধিকার ব্যতীত আর কিছু হতে পারে না।

সুতরাং জাতিগত মুক্তির প্রশ্নে আমাদের অবশ্যই মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ এবং অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিতে হবে।      

উদ্ধৃতি

“ আমরা যদি একদিকে হাজার ঢঙে ঘোষণা ও পুনরাবৃত্তি করতে থাকি যে, সমস্ত জাতীয় অত্যাচারের আমরা ‘বিরোধী’, আর অন্যদিকে যদি নিপীড়কদের বিরুদ্ধে এক নিপীড়িত জাতির কোন কোন শ্রেণির অতি গতিশীল ও আলোকপ্রাপ্ত অংশের বীরত্বপূর্ণ বিদ্রোহকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দেই, তাহলে আমরা কাউটস্কিপন্থীদের মতো সেই একই নির্বোধ স্তরে নেমে যাব।” – লেনিন

জাতীয় সমস্যায় সমালোচনামূলক মন্তব্য, জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার।

“কমিউনিস্টদের সক্রিয়ভাবে সকল সংখ্যলঘু জাতিসত্তাসমূহের জনগণকে….সংগ্রামে সাহায্য করতে হবে।….তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি ও বিকাশের জন্য সাহায্য করতে হবে।…তারা যাতে নিজস্ব সৈন্যবাহিনী গড়ে তুলতে পারে সে ব্যাপারেও তাদেরকে সাহায্য করতে হবে। তাদের কথা ও লিখিত ভাষা, তাদের আচার-আচরণ ও রীতি-নীতি এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে।”      

– মাওসেতুঙ

 

সূত্রঃ আন্দোলন পত্রিকা, অক্টোবর ’১৭ সংখ্যা

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাকন মজুমদার
কাকন মজুমদার এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 20 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ফেব্রুয়ারী 1, 2016 - 1:36অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর