নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

চলচ্চিত্র: Manjhi-The Mountain Man


সম্প্রতি বলিউডের একটা সিনেমা দেখলাম ‘Manjhi-The Mountain Man’। ভারতের বিহারে দশরথ মাঝি নামে এক দরিদ্র দিনমজুরের জীবনকাহিনী চলচ্চিত্র আকারে উপস্থাপন করেছেন পরিচালক কেতান মেহতা। এমন মানবিকতাপূর্ণ, ভালোবাসাময় ও উদ্দীপনামূলক কাহিনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি।

দশরথ মাঝি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি ও তার স্ত্রী চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাধিকা আপ্তে। দু’জনেরই অভিনয়ই দুর্দান্ত হয়েছে।

সিনেমার কাহিনী শুরু হয় ১৯৬০ সালে। দশরথ মাঝির বাড়ি বিহারের গয়া জেলার গেহলোর গ্রাম। ওই গ্রামে আধুনিক সভ্যতার কোনো সুফলই পায়নি সাধারণ মানুষ। জাত-পাত, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ, অমানবিক আইন-কানুন ও শাস্তি, লুটপাট, খুন-ধর্ষণের মতো ব্যাপারগুলো গ্রামের জমিদার ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মোড়লেরা টিকিয়ে রেখেছে। গ্রামে নেই কোনো হাসপাতাল, স্কুল। রাজনৈতিক নেতারা ভোটের কারণে নানা প্রতিশ্রুতি তো দেয়, কিন্তু গ্রামের উন্নয়নে কিছুই করে না। শহরে যেতে হলে পাহাড় ডিঙ্গিয়ে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হয় মানুষকে, একটা সড়ক অবধি নেই। আর এই পাহাড় নিয়েই সিনেমার কাহিনী।

দশরথ মাঝি, হতদরিদ্র পরিবারে যার জন্ম। সমাজে সে নিচু জাতের, ইঁদুর খায়। দশরথ ভালোবেসে বিয়ে করে পাশের গ্রামের মেয়ে ফাগুনিয়াকে। দিনমজুরের কাজ করে সাধারণ দরিদ্র মানুষের জীবনযাপন করে তারা। দ্বিতীয় সন্তান পেটে থাকা অবস্থায় স্বামীর জন্য খাবার আনতে গিয়ে পাহাড় থেকে পা পিছলে আহত হয় ফাগুনিয়া। হাসপাতাল অনেক দূরে, নেই কোনো যানবাহন বা সহজ রাস্তা। কাঁধে করে পাহাড় পেরিয়ে নিয়ে যেতে যেতে অনেক দেরি হয়ে যায়, মারা যায় দশরথের প্রিয়তমা স্ত্রী। তবে বেঁচে যায় পেটে থাকা বাচ্চাটা। স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে দশরথ ওই পাহাড়কেই দোষী সাব্যস্ত করে। একটা হাঁতুড়ি আর শাবল নিয়ে সে প্রতিদিন ওই পাহাড়কে ভাঙ্গতে থাকে। লোকজন ভাবে, দশরথ পাগল হয়ে গেছে। কিন্তু দশরথ তাতে থামে না।

২২ বছর ধরে (১৯৬০-১৯৮৩)সে ওই পাহাড়কে ভাঙ্গতে থাকে অনেক প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে। আর একদন সত্যিই সে গ্রামের মানুষের জন্য পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়ে ফেলে। বেঁচে থাকা অবস্থায় স্ত্রীকে খেলনা তাজমহল দিয়েছিলো দশরথ। কিন্তু মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার স্মারক হিসেবে, ওই গ্রামের মানুষদের দুর্দশার কথা ভেবে সে পাহাড় ভেঙ্গে রাস্তা বানিয়ে দেয়। স্ত্রী ফাগুনিয়ার মতো আর কারও ভালোবাসার মানুষ যেন অকালে মারা না যায়, এই ছিলো দশরথের ইচ্ছা। গ্রামের মানুষ প্রথমে তাকে পাগল ভাবলেও দশরথের অক্লান্ত প্ররিশ্রম, নিষ্ঠা ও মহানুভবতার পরিচয় পেয়ে তাকে বাবা বলে ডাকতে থাকে। দশরথ মাঝির নামেই ওই রাস্তার নামকরণ করা হয়, যা এখনো বিহারে আছে। দশরথ মাঝি ২০০৭ সালে মারা যান।

সিনেমার কিছু বিষয় আমার অন্যরকম ভালো লেগেছে। লেখাপড়া না জানা একটা সাধারণ মানুষ দশরথ, অথচ কী অসাধারণ তার চিন্তা-ভাবনা, কী দুর্দান্ত তার ভালোবাসা, মানবিকতা। এমনকি বিদ্রোহে জ্বলতে থাকা, সততা-সংকল্পে পাহাড়ের মতোই অটল দশরথ চরিত্রটা মনে দাগ কাটার মতোই।
দশরথ মানুষকে বলে, “ভগবানের ভরসায় বসে থেকো না, কে জানে সে আমাদের ভরসায় বসে থাকে কিনা?” এমন দার্শনিক উক্তিতে অবাক না হয়ে পারিনি। সে মানুষকে নিজের ভাগ্য নিজে গড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয় সবসময়।

সিনেমায় সাংবাদিক চরিত্রটি যখন দশরথকে নিজের পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা বলে, তখন দশরথ একটা কথাই বলে- “পাহাড় ভাঙ্গার চেয়েও মুশকিল কাজ কী?” এই একটা কথাই বদলে দেয় সাংবাদিকের জীবন। সে সত্যিই নিজের পত্রিকা বের করে, যেখানে সরকারের বা উঁচু শ্রেণির লোকজনদের ন্যায়-অন্যায় নিয়ে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে পারে সে।

পুরো সিনেমায় শ্রেণি বৈষম্য তুলে আনায় পরিচালকের মুন্সিয়ানা ষোলোআনা। রাজনীতির কালো দিক, শোষণ-নিপীড়ন- সবকিছুর চিত্রই উঠে এসেছে সিনেমায়। উঠে এসেছে তৎকালীন রাজনীতির কিছু চিত্র। ব্রিটিশদের হাত থেকে কয়েক বছর আগে স্বাধীন হওয়া ভারতে তখন ইন্দিরা গান্ধি প্রধানমন্ত্রী। ইন্দিরা সরকারের ‘গরিবি হটাও’ স্লোগানের অসাড়তাটাও একেবারে চোখে-আঙ্গুল দিয়ে দেখানো হয়েছে সিনেমায়।

সব মিলিয়ে সিনেমাটা আমার অসাধারণ লেগেছে। সিনেমাটা মুক্তি পেয়েছিলো ২০১৫ সালে। আপনারাও দেখে ফেলতে পারেন সিনেমাটা।
লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=_WKPHcJ84_8

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফাহিমা কানিজ লাভা
ফাহিমা কানিজ লাভা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 9 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 16, 2014 - 2:55অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর