নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

কুরআন অনলি কুইক রেফারেন্স:(৬) কুরআনে অস্পষ্টতা ও তার প্রতিকার!


সাম্প্রতিক পৃথিবীতে এমন একদল তথাকথিত মোডারেট (ইসলামে কোন কোমল, মোডারেট, উগ্রবাদী, পলিটিকাল বা শান্তিপূর্ণ জাতীয় শ্রেণী বিভাগ নেই; ইসলাম একটিই আর তা হলো মুহাম্মদের ইসলাম) ইসলাম বিশ্বাসী আছেন, যারা সম্পূর্ণ সিরাত ও হাদিস গ্রন্থকেই অগ্রহণযোগ্য বলে দাবী করেন। তারা হলেন, 'কুরআন অনলি' ইসলাম বিশ্বাসী। তারা দাবী করেন যে একমাত্র 'কুরান' ছাড়া আর কোন ইসলামী ইতিহাসই বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিশেষ করে সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের যে তথ্যগুলো স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মহানুভব, নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক, শান্তিপ্রিয় ভাবমূর্তি-কে ক্ষুণ্ণ করে তার সম্পূর্ণ বিপরীত ইতিহাস উপস্থাপন করে সেগুলো তো নয়ই! যে তথ্যগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয় যে শতাব্দীর পর শতাব্দী যাবত ইসলাম বিশ্বাসী শাসক-যাজক চক্র তাদের সম্মিলিত মিথ্যা ও প্রতারণামূলক প্রচারণা ও প্রচেষ্টায় সাধারণ সরল প্রাণ মুসলমানদের অন্তরে নবী মুহাম্মদের চরিত্র সম্পর্কে যে এক মহানুভব, নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক, শান্তিপ্রিয় ভাবমূর্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন, প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী চরিত্রের এক সফল মানুষ।

যে তথ্যগুলোর পর্যালোচনায় সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয় যে, নবী মুহাম্মদ ছিলেন মানব ইতিহাসের সেই সফল মহাপুরুষ যিনি ছিলেন এক গণহত্যার নায়ক, যিনি নিজে ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত থেকে তার অনুসারীদের মারফত একটি গোত্রের যৌনাঙ্গে চুল গজিয়েছে এমন সকল নিরস্ত্র প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্যদের (৬০০-৮০০জন) বন্দী অবস্থায় বাজারের পাশে পূর্ব থেকে খুঁড়ে রাখা গর্ত পাশে দলে দলে ধরে নিয়ে এসে একটা একটা করে গলা কেটে খুন করে লাশগুলো গর্তে নিক্ষেপ করেছিলেন, তাদের সমস্ত সম্পত্তি লুণ্ঠন ও স্ত্রী-কন্যা-মা-বোন ও যৌনাঙ্গে চুল না গজানো পুত্র-সন্তানদের ভাগাভাগি করে নিয়ে দাস ও যৌনদাসীরূপে রুপান্তরিত করেছিলেন, অতঃপর তাদের অনেককে নাজাত অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে করেছিলেন বিক্রয় ও সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থে অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য কিনেছিলেন অস্ত্র ও ঘোড়া; সেই মর্মান্তিক ইতিহাসের সামান্যতম খবর বিশ্বের অতি অল্প সংখ্যক সাধারণ মুসলমানই (তথাকথিত মোডারেট) অবগত! যে তথ্যগুলোর পর্যালোচনায় নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, নবী মুহাম্মদ ছিলেন মানব ইতিহাসের সেই সফল একনায়ক যিনি তাকে নবী হিসাবে অস্বীকারকারী ও তার মতবাদের সামান্যতম সমালোচনা-কারী অসংখ্য সাধারণ মানুষদের খুন, জখম, সম্পত্তি-লুণ্ঠন, তাদের ও তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের জোড়-পূর্বক ধরে নিয়ে এসে দাস ও দাসী-করণ ও বিক্রির সাথে সরাসরি জড়িত; যার সামান্যতম খবর বিশ্বের সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলমানদের অধিকাংশেরই অজানা! যে তথ্যগুলোর পর্যালোচনায় সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয় যে নবী মুহাম্মদ ছিলেন মানব ইতিহাসের সেই সফল মহানায়ক যিনি বিভিন্ন অজুহাতে তাকে অবিশ্বাসী কয়েকটি গোত্রের সমস্ত মানুষদের জোরপূর্বক তাদের শত শত বছরের আবাসভূমি থেকে প্রায় এক বস্ত্রে বিতাড়িত করে তাদের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি লুণ্ঠন ও ইত্যাদি অসংখ্য মানবতা-বিরোধী অমানুষিক নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত; যার সামান্যতম খবর বিশ্বের সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলমানদের অধিকাংশই কক্ষনোই শুনেন নাই! গত ১৪০০ বছর যাবত ইসলাম বিশ্বাসী শাসক-যাজক চক্রের পরিচালিত সম্মিলিত মিথ্যা ও প্রতারণামূলক প্রচারণা এতটাই সফল যে তারা আদি উৎসে মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণিত মুহাম্মদের চরিত্রের এ সকল অসংখ্য নেতিবাচক চরিত্রগুলো 'অত্যন্ত সফলভাবে' সাধারণ মুসলমানদের কাছে গোপন করে তাদের হৃদয়ে প্রকৃত ইতিহাসের সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী ভাবমূর্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। ইসলামের প্রোপাগান্ডা মেশিন যে কতটা শক্তিশালী তার সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো ইসলাম বিশ্বাসী শাসক-যাজক চক্রের এই অভূতপূর্ব সফলতা!

আদি উৎসে বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণিত সিরাত (মুহাম্মদের জীবনী) ও হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত মুহাম্মদের চরিত্রের এই অসংখ্য নেতিবাচক তথ্যগুলো বিষয়ে সাধারণ মুসলমানরা একেবারেই অজ্ঞ (Uninformed)। এই অজ্ঞতার কারণে তাদের অন্তরে শিশুকাল থেকে নবী মুহাম্মদের চরিত্রের যে মিথ্যা চিত্রটি অঙ্কিত হয়ে থাকে, তার বিপরীতে যখন তারা সেই চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী চিত্রের সন্ধান আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের লিখিত ইতিহাস কিংবা ইন্টারনেটের সৌজন্যে জানতে পারেন, তখন তারা সেই বাস্তবতাকে কোনভাবেই গ্রহণ করতে পারেন না। শিশুকালের অনুশাসন, মতদীক্ষাদান (indoctrination) ও বিশ্বাসী মন কদাচিৎ যুক্তি তথ্য-প্রমাণের কাছে মাথা নত করে! যুক্তি তথ্য-প্রমাণের বিপরীতে জন্মসূত্রে প্রাপ্ত বিশ্বাস-কে টিকিয়ে রাখার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় বিশ্বাসীরা খোঁজে নতুন যুক্তি ও প্রতিযুক্তি, তা সে যতই হাস্যকর হউক না কেন। 'কুরআন অনলি মুসলমান' হলো সেই সমস্ত মুসলমান যারা তাদের বিশ্বাস-কে টিকিয়ে রাখার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার সম্বল হিসাবে সম্পূর্ণ সিরাত ও হাদিস গ্রন্থকেই মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য বলে দাবী করে থাকেন। তাদের যুক্তি এই যে, যেহেতু এই গ্রন্থগুলো মুহাম্মদের মৃত্যু পরবর্তী একশত-দুইশত বছরেরও অধিক পরে মানুষের মৌখিক বর্ণনার ভিত্তিতে রচিত, তাই তা অ-নির্ভরযোগ্য। তাদেরকে যখন প্রশ্ন করা হয়: কুরান কেন বিকৃত নয়? সিরাত-হাদিসের মত এ গ্রন্থটিও তো মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৯ বছর পরে সংকলিত ও লিখিত?" তখন তারা দাবী করেন যে, কুরানের সংরক্ষক স্বয়ং আল্লাহ যা আল্লাহ কুরআনে অঙ্গীকার করেছেনে, তাই তা বিকৃত হবার কোনই সম্ভাবনা নেই:

১৫:৯ (সুরা হিজর) - "আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।"

৭৫:১৬-১৭ (সূরা আল-ক্বেয়ামাহ) - "তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার জন্যে আপনি দ্রুত ওহী আবৃত্তি করবেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমারই দায়িত্ব।"

অর্থাৎ, কুরআনের শুদ্ধতার বিষয়ে কোনরূপ প্রশ্ন উত্থাপন করা ইসলামের একান্ত প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। 'কুরআন অনলি' মুসলমানরা তা কোনভাবেই গ্রহণ করতে পারেন না। সে কারণেই, তথাকথিত মোডারেট ইসলাম বিশ্বাসীদের সর্বশেষ এই দলটি তাদের বিশ্বাস-কে টিকিয়ে রাখার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে কুরআন নামের এই শেষ সম্বল-টি কম্বলবৎ আঁকড়ে ধরে আছেন! কিন্তু প্রশ্ন হলো, "সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের সাহায্য ছাড়া কুরআনের মর্মার্থ উদ্ধার কী আদৌ সম্ভব?" কিছু উদাহরণ:

আল্লাহর রেফারেন্সে মুহাম্মদের বানী: [1] [2]

১১:৫ (সূরা হুদ) - "জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে।"

>>> মুহাম্মদ কাদের উদ্দেশ্যে ও কী কারণে এই বানীগুলো বর্ষণ করেছিলেন শুধুমাত্র 'কুরআন' পড়ে মুহাম্মদের এই বানীর মর্মার্থ উদ্ধার কী আদৌ সম্ভব? এখানে কারা সেই লোক যারা তাদের "নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় ও কেন তারা কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে বলে বোঝানো হয়েছে তা শুধুমাত্র কুরআন পড়ে কোনভাবেই জানার সুযোগ নেই। কিন্তু হাদিসে এর ব্যাখ্যা দেয়া আছে।

৮০:১-৪ (সূরা আবাসা)- "তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কারণ, তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল। আপনি কি জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হত, অথবা উপদেশ গ্রহণ করতো এবং উপদেশ তার উপকার হত।"

>>> কাকে উদ্দেশ্য করে মুহাম্মদ এই বানীগুলো বর্ষণ করেছিলেন তা মুহাম্মদের এই বানীটি পড়ে কী আদৌ বোঝা সম্ভব? 'কে ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন ও কার কাছে এক অন্ধ আগমন করেছিল' - এই আয়াতগুলোর মধ্যে এমন কী কোন ইঙ্গিত আছে যার মাধ্যমে তা আদৌ জানা যেতে পারে?

৫৯:১৩ (সূরা আল-হাশর)- "নিশ্চয় তোমরা তাদের অন্তরে আল্লাহ তা’আলা অপেক্ষা অধিকতর ভয়াবহ। এটা এ কারণে যে, তারা এক নির্বোধ সম্প্রদায়।"

>>> মুহাম্মদ এখানে "তাদের অন্তরে" বলতে কাদের-কে বোঝাতে চাচ্ছেন? কারা সেই লোক যারা মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের ত্রাস ('আল্লাহর চেয়েও অধিক ভয়াবহ') হিসাবে জানতেন? শুধুমাত্র 'কুরআন' পড়ে মুহাম্মদের এই বানীর মর্মার্থ উদ্ধার অসম্ভব।

৩৩:২৬-২৭ (সূরা আল-আহযাব)- "কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফেরদের পৃষ্টপোষকতা করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। ফলে তোমরা একদলকে হত্যা করছ এবং একদলকে বন্দী করছ। তিনি তোমাদেরকে তাদের ভূমির, ঘর-বাড়ীর, ধন-সম্পদের এবং এমন এক ভূ-খন্ডের মালিক করে দিয়েছেন, যেখানে তোমরা অভিযান করনি।"

>>> কিতাবীদের (ইহুদি বা খ্রিস্টান) মধ্যে কারা সেই লোক যারা কাফেরদের পৃষ্টপোষকতা করেছিল বলে মুহাম্মদ দাবী করছেন? শুধুমাত্র মুহাম্মদের এই বানী দুটি পড়ে তা কী আদৌ উদ্ধার করা সম্ভব? কারা সেই হতভাগ্য যাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করা হয়েছিল? কারা সেই লোক যাদের-কে মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা ('তোমরা') হত্যা করেছিলেন? কারা সেই হতভাগ্য যাদের 'ভূমি, ঘর-বাড়ী, ধন-সম্পদ ও ভূ-খন্ডে' মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা লুণ্ঠন ('খুন করার পর তাদের সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া') করেছিলেন?

'শুধুমাত্র কুরআন' পড়ে এসকল অসংখ্য মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব কখনোই জানা সম্ভব নয়। এই আয়াতগুলোর আগে কিংবা পরে এমন কোন তথ্য নেই যার মাধ্যমে মুহাম্মদের এই 'অস্পষ্ট' বানীগুলোর মর্মার্থ উদ্ধার সম্ভব! কিন্তু আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের লিখিত ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থের সহায়তায় উপরে উল্লেখিত প্রতিটি ঘটনাগুলোর মর্মার্থ উদ্ধার একান্তই সম্ভব। ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থেই বর্ণিত আছে আল্লাহর নামে মুহাম্মদের এই বানীগুলো বর্ষণের কারণ সমূহ (শানে নজুল), যা জানা থাকলে মুহাম্মদের এই বানীগুলোর মর্মার্থ উদ্ধারে মোটেও বেগ পেতে হয় না। কুরআন এককভাবে কোন পূর্নাঙ্গ গ্রন্থ নয়। কুরআনকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে মুহাম্মদের জীবন ও তার কর্মকাণ্ডের ইতিহাস খুবই ভালভাবে জানা একান্ত আবশ্যক।

মুহাম্মদ তার আল্লাহর নামে সুদীর্ঘ ২৩ বছর (৬১০-৬৩২ সাল) যাবত যে বানীগুলো প্রচার করেছিলেন, নাজিলের সময়ের ক্রমিক মান অনুসারে অনুসারীদের প্রতি তার সর্বশেষ নির্দেশযুক্ত সুরা হলো সুরা তওবা, নাজিলের সময় ক্রমানুসারে যার অবস্থান ১১৩ নম্বর (বর্তমান কুরআনে ৯ নম্বর সুরা)। কুরআনের সর্বশেষ সুরা হলো সুরা নছর, বর্তমান কুরানের ১১০ নম্বর, যাতে কোনো নির্দেশ নেই। মুহাম্মদ তার জীবনের এই সর্বশেষ নির্দেশ-যুক্ত সুরার প্রথম বাক্যেই ঘোষণা দিয়েছেন:

৯:১ (সুরা তওবা) - “সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।"

>>> এই সুরার প্রথম বাক্যেই মুহাম্মদ মুশরিকদের (কুরাইশ) সাথে তার "চুক্তিবদ্ধ হওয়ার" প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন ও অতঃপর সেই চুক্তি যে তিনি নিজেই ভঙ্গ করেছিলেন, তা তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন ('সম্পর্কচ্ছেদ করা হল রসূলের পক্ষ থেকে')। অতঃপর তিনি এই বাক্যের পরের কিছু বাক্যে অত্যন্ত অস্পষ্টভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন যে 'তিনি নন', মুশরিকরাই প্রথম চুক্তিভঙ্গ করেছিলেন; তাই তিনি তাদের বিরুদ্ধে এক নির্দিষ্ট সময়ের আল্টিমেটাম জারী করে ঘোষণা করেছেন সেই বিখ্যাত বানী (The verse of Sword), "৯:৫- “অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও।” কুরআনে মুহাম্মদের এই বানীগুলো এতই অস্পষ্ট যে তার জীবনের এই সর্বশেষ নির্দেশ-যুক্ত সুরাটি পড়ে কোন ভাবেই জানা সম্ভব নয়, "কী ছিল সেই চুক্তি? কী ছিল তার শর্ত? কারা সেই চুক্তি প্রথম ভঙ্গ করেছিলেন?" - ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কোন স্বচ্ছ ধারণা। কিন্তু আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের লিখিত ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থে এই চুক্তিটির বিশদ বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। তাদের সেই বর্ণনা ও কুরআনে বর্ণিত মুহাম্মদেরই বিভিন্ন ঘোষণার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে আমারা জানতে পারি যে এই চুক্তিটি ছিল মুহাম্মদ ও কুরাইশদের মধ্যে দশ বছর মেয়াদি এক শান্তি চুক্তি; ইসলামের ইতিহাসে যা 'হুদাইবিয়া সন্ধি' নামে বিখ্যাত।

ইসলামের ইতিহাসে হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দশ বছরের এই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরবর্তী দুই বছরে কমপক্ষে পাঁচবার মুহাম্মদ নিজে (মুশরিকরা নয়) কীভাবে এই চুক্তিটির প্রত্যেকটি শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন, মুহাম্মদেরই নিজস্ব জবানবন্দি (কুরআন) ও তার মৃত্যু পরবর্তী ২৯০ বছরের কম সময়ের মধ্যে লিখিত বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের রচিত মুহাম্মদের পুর্নাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ (সিরাত) ও হাদিস গ্রন্থের তথ্য-উপাত্তের আলোকে আমি তা আমার 'ইসলামের অজানা অধ্যায় (চতুর্থ খণ্ড)' বইটিতে সবিস্তারে (Extensive detail) আলোচনা করেছি। উৎসাহী পাঠকরা এর প্রতিটি রেফারেন্স চেক করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পারেন। [4]

গত পর্বের (পর্ব-৫) আলোচনায় আমরা জেনেছি, আল্লাহর রেফারেন্সে মুহাম্মদ দাবী করেছেন যে কুরআনের সমস্ত আয়াত দুই ভাগে বিভক্ত, “সুস্পষ্ট, যা কুরআনের আসল অংশ; বাঁকিগুলো অস্পষ্ট, যার ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।" তার এই দাবী সম্পূর্ণরূপেই মিথ্যা ও বানোয়াট! কারণ, কুরআনে বর্ণিত মুহাম্মদের 'হিং-টিং-ছট (আলিফ-লাম-মীম) জাতীয় উদ্ভট শব্দগুলো ছাড়া তার অন্যান্য যে অসংখ্য 'অস্পষ্ট' বানীগুলো বিদ্যমান, সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের সহায়তায় তার মর্মার্থ উদ্ধার অবশ্যই সম্ভব।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[2] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/
[3] নাজিলের সময় ক্রমানুসারে কুরানের সুরার নাম:
https://aikapommi.wordpress.com/viestit/quran-in-chronological-order/

[4] ইসলামের অজানা অধ্যায় (চতুর্থ খণ্ড):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOUVBOUnlRUXkxX0E/view

Comments

পার্থিব এর ছবি
 

নবী মুহাম্মদ ছিলেন মানব ইতিহাসের সেই সফল মহাপুরুষ যিনি ছিলেন এক গণহত্যার নায়ক, যিনি নিজে ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত থেকে তার অনুসারীদের মারফত একটি গোত্রের যৌনাঙ্গে চুল গজিয়েছে এমন সকল নিরস্ত্র প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্যদের (৬০০-৮০০জন) বন্দী অবস্থায় বাজারের পাশে পূর্ব থেকে খুঁড়ে রাখা গর্ত পাশে দলে দলে ধরে নিয়ে এসে একটা একটা করে গলা কেটে খুন করে লাশগুলো গর্তে নিক্ষেপ করেছিলেন,

কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এই গনহত্যার নয়কের ধর্মটাই এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধণশীল। প্রিতিদিনই বিপুল পরিমান মানুষ ইসলাম গ্রহন করছে। তাই মুহাম্মদ সা এর মত একজন গণহত্যার নায়ক, ডাকাত আর খুনী হতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের।

Islam fastest growing religion in US

Islam fastest growing religion-ENN 2017-09-15

Faith Change: Islam rapidly grows as Christianity declines in UK

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

My dear Mr. পার্থিব,

আপনার মন্তব্যটি এই লেখাটির জন্য অপ্রাসঙ্গিক, এই কারণে যে লেখাটি মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের সংঘটিত "ত্রাস, হামলা, খুন, অপরের ভূমি-ঘর-বাড়ী-ধন-সম্পদ লুণ্ঠন' - ইত্যাদি সন্ত্রাসী-কর্মকাণ্ড সম্পর্কে। মুহাম্মদের বস "আল্লাহ" স্বয়ং সাক্ষ্য দিচ্ছে যে মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা ছিলেন সন্ত্রাসী (৫৯:১৩-সূরা আল-হাশর), তারা কীভাবে সেই কর্মকাণ্ডগুলো সঙ্ঘটিত করেছিলেন তার বর্ণনাও আল্লাহই দিয়েছেন (৩৩:২৬-২-সূরা আল-আহযাব)। সে ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করে, আপনি জানান দিলেন, "মুহাম্মদের মত গণহত্যার নায়ক, ডাকাত আর খুনী হতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের।" আপনি একা নন, আপনার মত এরূপ কোটি কোটি মুসলমান আছেন (অবশ্যই সব মুসলমানরা নন - Conservative estimate 15% of all Muslims who support Violence in their cause, in one study ) যারা আপনার মতই গর্বিত! তা না হলে তো এই লেখাগুলোর কোন প্রয়োজনই ছিল না। সে কারণেই তিন বছর আগে আমি আমার এক লেখায় লিখেছিলাম,

"যে সমস্ত ইসলাম অনুসারী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা শতাব্দীর পর শতাব্দী "ঐশী বানীর অজুহাতে" মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের বানু নাদির গোত্রের সমস্ত লোক কে তাঁদের শত শত বছরের পৈতৃক আবাস-স্থল থেকে প্রায় এক-বস্ত্রে বিতাড়িত করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুণ্ঠন ও বানু কুরাইজা গোত্রের সকল সুস্থ-সবল-সুঠাম প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কে গলা কেটে খুন ও অন্যদের দাস-দাসীতে রূপান্তরিত করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুণ্ঠন করার সপক্ষে নির্লজ্জ গলাবাজি করে চলেছেন তাদের ও তাদের পরিবার কে ও যদি অন্য কোন তথাকথিত কামেল-পীর-ফকির-গুরু-বাবাজী ও তার চেলা-চামুন্ডেরা "একই রূপ অজুহাতে একইভাবে বিতাড়িত/খুন ও দাস-দাসীতে রূপান্তর করে ভাগাভাগি” করে নেন তাহলেই বোধ করি তারা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীর সন্ত্রাসী কর্ম-কাণ্ডের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারবেন।"

http://www.dhormockery.net/2014/10/blog-post_50.html

আপনার মন্তব্য থেকে জানা গেল, 'সংখ্যায় বেশী হলেই সেটা ভাল!' দুঃখিত, আমি আপনার সাথে মোটেও একমত নই! আমি জানি এপ্রিল ২০১৫ Pew research center study কী বলেছে। জ্ঞান, গরিমা, শিক্ষা, সম্পদ ইত্যাদি-তে নয়; "বেশী বেশী বাচ্চা পয়দা করিয়া মুসলমানরা ২০৫০ সাল নাগাদ খ্রিস্টানদের সংখ্যার প্রায় সমান হইয়া যাইবে।" বেশী বেশী বাচ্চা পয়দা করিয়া ---গর্বই বটে!

http://www.pewresearch.org/fact-tank/2017/04/06/why-muslims-are-the-worl...
http://www.pewforum.org/2015/04/02/religious-projections-2010-2050/

গোলাপ মাহমুদ

 
শুভ্র পল্লব এর ছবি
 

"বেশী বেশী বাচ্চা পয়দা করিয়া মুসলমানরা ২০৫০ সাল নাগাদ খ্রিস্টানদের সংখ্যার প্রায় সমান হইয়া যাইবে।" বেশী বেশী বাচ্চা পয়দা করিয়া ---গর্বই বটে! হা হা একেবারে ক্লিন বোল্ড

 
পার্থিব এর ছবি
 

@ গোলাপ

"ত্রাস, হামলা, খুন, অপরের ভূমি-ঘর-বাড়ী-ধন-সম্পদ লুণ্ঠন' - ইত্যাদি সন্ত্রাসী-কর্মকাণ্ড সম্পর্কে। মুহাম্মদের বস "আল্লাহ" স্বয়ং সাক্ষ্য দিচ্ছে যে মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা ছিলেন সন্ত্রাসী

ব্যাপারটা দৃষ্টিভংগির । যাহা একজনের কাছে সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ তাহাই অন্যের কাছে সন্ত্রাস, খুন আর লুন্ঠন। ৭১ সালে এদেশের মুক্তি বাহিনী ছিল পাকিস্তানীদের কাছে সন্ত্রাসী আর বিচ্ছিন্নতাবাদী। আর শেখ মুজিব ছিলেন সন্ত্রাসের মহানায়ক। কিন্তু আমাদের কাছে মুক্তি-বাহিনী হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আর মহানায়ক। যাদের কারনে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

ঠিক একই কথা মোহাম্মদ (সা)এর ব্যাপারেও। তিনি আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্যে লড়েছিলেন। তিনি বহুঈশ্বরবাদ আর নাস্তিকতার বদলে এক আল্লাহর এবাদত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর এর জন্য তাকে তখনকার প্যাগান, নাস্তিকদের বিরূদ্ধে লড়াই, যুদ্ধ করতে হয়েছিল। বিশ্বাসঘাতকদের (বনু কুরায়জা) চরম শাস্তি দিতে হয়েছিল। বিশ্বাসী মুসলমানদের কাছে তাই তিনি একজন রাসূল এবং নবী।

কিন্তু আপনাদের কাছে তিনি সিন্ত্রাসী। তখনকার প্যাগান, নাস্তিকদের কাছেও তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। ১৪০০ বছর আগের নাস্তিক-প্যাগানদের সাথে আপনাদের খুব বেশী পার্থক্য নাই যে।

 
পার্থিব এর ছবি
 

জ্ঞান, গরিমা, শিক্ষা, সম্পদ ইত্যাদি-তে নয়; "বেশী বেশী বাচ্চা পয়দা করিয়া মুসলমানরা ২০৫০ সাল নাগাদ খ্রিস্টানদের সংখ্যার প্রায় সমান হইয়া যাইবে।" বেশী বেশী বাচ্চা পয়দা করিয়া ---গর্বই বটে!

আমি কিন্তু সংখ্যার কথা কোথাও বলি নাই। যে লিংক দিয়েছিলাম সেগুলো না দেখেই মন্তব্য করে বসলেন, পিঊ রিসার্চ টেনে আনলেন। মুসলমানরা যদি বেশী বেশী বাচ্চা পয়দা করে তাতে দোষের কিছুই নাই। নিজের বউয়ের সাথে সংসার করে যার যতটা খুশী ততটা বাচ্চা নিবে , তাতে কার কি বলার আছে? তাছাড়া আপনাদের মত তো মুসলমানরা বান্ধবী, বেশ্যার সাথে থাকতে (যার কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট নাই!) এখনও তো অভ্যস্ত হয় নাই। নিজের বান্ধবীর পেটের এক বাচ্চার চাইতে নিজের বউয়ের পেটের চার বাচ্চা অনেক গৌরবের।

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

@ Mr. পার্থিব,

আপনার উদাহরণ-টি পারফেক্ট, "৭১ সালে এদেশের মুক্তি বাহিনী ছিল পাকিস্তানীদের কাছে সন্ত্রাসী আর বিচ্ছিন্নতাবাদী। আর শেখ মুজিব ছিলেন সন্ত্রাসের মহানায়ক।" আমারা নিশ্চিতরূপে জানি, একই বিষয়ে এই দু'জন দাবীদরের সম্পুর্ণ বিপরীতধর্মী দাবী কখনোই সত্য হতে পারে না। কার দাবী সত্য তা নির্ধারিত হবে প্রাপ্তিসাধ্য উপযুক্ত তথ্য-উপাত্তের (Evidence) ভিত্তিতে পক্ষপাতিত্বহীন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সাহায্যে। একইভাবে মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের দাবী সঠিক, না কি তার বিরুদ্ধবাদীদের দাবী সঠিক - তা নির্ধারিত হবে ইসলামের ইতিহাসের "তিন দলিল": মুহাম্মদের কুরআন ও আদি উৎসের সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। সেই তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই আলোচনা, সমালোচনা ও সিদ্ধান্ত। উৎসাহী পাঠকরা সেই রেফারেন্সগুলো অতি স হজেই চেক করে বিষয়ের সত্যতা জেনে নিতে পারেন।

আপনি দাবী করছেন " --বিশ্বাসঘাতকদের (বনুকুরায়জা) চরম শাস্তি দিতে হয়েছিল।" কুরআন ও আদি উৎসের প্রাপ্তিসাধ্য উপযুক্ত তথ্য-উপাত্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে এর সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী চিত্র বিদ্যমান, যা আমি আমার 'ইসলামের অজানা অধ্যায়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ডে সবিস্তারে (extensive detail) আলোচনা করেছি। উৎসাহী পাঠকরা এর প্রতিটি রেফারেন্স চেক করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পারেন।

ইসলামের অজানা অধ্যায় (তৃতীয় খণ্ড):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOT3l5NmpOR3VwWEE/view

ইসলামের অজানা অধ্যায় (দ্বিতীয় খণ্ড)
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOX01sZ0Q1cGJsSzg/view

কোনরূপ ব্যক্তি-আক্রমণ বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা না করে আপনিও আপনার দাবীর সপক্ষে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ হাজির করুন। পাঠকরা সেই তথ্য-প্রমাণগুলো যাচাই করে ঘটনার সত্যতা জানতে পারবেন। আপনি শতভাগ নিশ্চিত থাকতে পারেন, সে কাজটি করার জন্য কোন কাফের-নাস্তিক-প্যাগান, আপনাকে চাপাতি আক্রমণ/খুন করতে আসবে না। যা 'সহি' মুহাম্মদ অনুসারীরা তাদের ইমানি দায়িত্বে করে থাকেন।

গোলাপ মাহমুদ

 
পার্থিব এর ছবি
 

আমারা নিশ্চিতরূপে জানি, একই বিষয়ে এই দু'জন দাবীদরের সম্পুর্ণ বিপরীতধর্মী দাবী কখনোই সত্য হতে পারে না।

হ্যা ঠিক তাই।কিন্ত্য সমস্যা হচ্ছে কার দাবী সঠিক কার দাবী ভুল সেটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নেবে? কিম্বা একজন তার দাবীই সঠিক হিসেবে দাবী করলেও সেটা অন্যরা মানবে কেন? আপনার কাছে বনু কুরায়জার ঘটনা প্রচন্ড রকম অমানবিক মনে হলেও মুহাম্মদ সা এর ততকালিন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে খন্দকের যুদ্ধকালীন সময়ে বনু কুরায়জার চুক্তি ভঙ্গের ব্যাপারটা অত সাধারন আর সহজ ব্যাপার ছিল না। যুদ্ধকালীন সময় আর শান্তির সময় সম্পুর্ন ভিন্ন পরিস্থিতি বিরাজ করে। তাছাড়া মুহাম্মদ সা কে পুরা মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার কথাও ভাবতে হচ্ছিল।

স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও আমরা কিন্তু ৪০ বছর আগের সময়ের বিশ্বাসঘাতকার জন্যে একদল মানুষকে ফাসীতে ঝুলিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে উল্লাস করছি , মিষ্টি মুখ করছি। এটাকি বর্বতা? অমানবিক?

আপনি ইন্টার্নেট ঘাটলে বনু কুরায়জার ঘটনা সহ ইসলামের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক লিখা পাবেন। মুক্তমনা পড়লে একরকম, সদালাপ পড়লে আরেক রকম। একই ঘটনা ,একই এতিহাস , কিন্তু ভিন্ন ব্যাক্ষ্যা । যে বিশ্বাস করে মুহাম্মদ সা আল্লার রাসূল তার কাছে সব কাজই সঠিক আর সহী। আর যে মুহাম্মদ সা কে নবী হিসেবে স্বীকারই করে না তার কাছে সবই ভুল।

কার দাবী সত্য তা নির্ধারিত হবে প্রাপ্তিসাধ্য উপযুক্ত তথ্য-উপাত্তের (Evidence) ভিত্তিতে পক্ষপাতিত্বহীন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সাহায্যে।

পৃথিবীতে কারও দৃষ্টিভঙ্গিই পক্ষপাতিত্বহীন নয় ভায়া। তাই ইতিহাসের কোন ঘটনা নিয়েি মানুষ একমত নয়।
তাছাড়া একজন খুনী, গনহত্যার নায়ক, ডাকাতের প্রচারিত ধর্ম আর বানী কোন যুগের মানুষেরই মেনে নেবার কথা নয়। মানুষ কোন কালেই এতট মূক আর বধির ছিল না যে কোন খুনী , গনহত্যার নায়কের আর ডাকাতের প্রচারিত ধর্ম আর জীবন ব্যবস্থাকে গ্রহন করবে। এমনটা হলে আরবের লোকেরাই মুহাম্মদ সা কে প্রত্যাখ্যান করত। কিন্তু তেমনটা হয় নাই। ইসলাম মুহাম্মদ সা এর সময় শুধু নয় বরং তাঁর মৃত্যুর পরই আফ্রিকা থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে।

আপনার কাছে একটা প্রশ্ন থাকবে আপনি কি এমন একজন ডাকাত, গনহত্যার নায়ক আর খুনীর প্রচারিত মতবাদ দেখাতে পারবেন যার মতবাদ আর ধর্ম হাজার হাজার বছর ধরে টিকে আছে?

 
পার্থিব এর ছবি
 

গত ১৪০০ বছর যাবত ইসলাম বিশ্বাসী শাসক-যাজক চক্রের পরিচালিত সম্মিলিত মিথ্যা ও প্রতারণামূলক প্রচারণা এতটাই সফল যে তারা আদি উৎসে মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণিত মুহাম্মদের চরিত্রের এ সকল অসংখ্য নেতিবাচক চরিত্রগুলো 'অত্যন্ত সফলভাবে' সাধারণ মুসলমানদের কাছে গোপন করে তাদের হৃদয়ে প্রকৃত ইতিহাসের সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী ভাবমূর্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।

কিন্তু মুহাম্মদ সা তো তার জীবনদ্দশায় আরব জনগোষ্টির দৃষ্টির আড়ালে ছিলেন না । তারা কেন খুনী, ডাকাত আর গনহত্যার নায়কের ধর্ম মেনে নিল? তাদেরকে কে ধোকা দিয়েছিল? খুনী, ডাকাতের ধর্ম কেন আফ্রিকা থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করল ডাকাতের মৃত্যুর অল্পদিনের মধ্যেই? এরা সবাই অন্ধ, বধীর ?

ছবিতে ইসলামের বিস্তৃতি-

একটা ভিডিও-

https://www.youtube.com/watch?v=_DeBzL9TJBs

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

@ Mr. পার্থিব,
গত ক'দিনে আপনার ও আমার আলাপের সংক্ষিপ্তসার:

আপনার প্রথম মন্তব্য:

"কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এই গণহত্যার নয়কের ধর্মটাই এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধণশীল। প্রিতিদিনই বিপুল পরিমান মানুষ ইসলাম গ্রহন করছে। তাই মুহাম্মদ সা এর মত একজন গণহত্যার নায়ক, ডাকাত আর খুনী হতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের।"

জবাবে আমি লিখলাম,
“আপনি একা নন, আপনার মত এরূপ কোটি কোটি মুসলমান আছেন--- তা না হলে তো এই লেখাগুলোর কোন প্রয়োজনই ছিল না।“ ---আপনার মন্তব্য থেকে জানা গেল, 'সংখ্যায় বেশী হলেই সেটা ভাল!' দুঃখিত, আমি আপনার সাথে মোটেও একমত নই! আমি জানি এপ্রিল ২০১৫ Pew research center study কী বলেছে। জ্ঞান, গরিমা, শিক্ষা, সম্পদ ইত্যাদি-তে নয়; "বেশী বেশী বাচ্চা পয়দা করিয়া মুসলমানরা ২০৫০ সাল নাগাদ খ্রিস্টানদের সংখ্যার প্রায় সমান হইয়া যাইবে।"

তার জবাবে আপনার দ্বিতীয় মন্তব্য:

আপনি জানালেন, যে আপনি কোন সংখ্যার কথা কোথাও বলেন নাই!

সাথে বোনাস 'ব্যক্তি আক্রমণ':

"নিজের বউয়ের সাথে সংসার করে যার যতটা খুশী ততটা বাচ্চা নিবে , তাতে কার কি বলার আছে? তাছাড়া আপনাদের মত তো মুসলমানরা বান্ধবী, বেশ্যার সাথে থাকতে (যার কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট নাই!) এখনও তো অভ্যস্ত হয় নাই। নিজের বান্ধবীর পেটের এক বাচ্চার চাইতে নিজের বউয়ের পেটের চার বাচ্চা অনেক গৌরবের।"

>> জানলাম, আপনার দৃষ্টিতে 'fastest growing' কোন সংখ্যা নয়! একই সাথে, আল্লাহর সাক্ষ্য (৫৯:১৩ ও ৩৩:২৬-২৭) মুহাম্মদের সন্ত্রাস জায়েজ করলেন এই বলে,

"ব্যাপারটা দৃষ্টিভঙ্গির! -- যাহা একজনের কাছে সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ তাহাই অন্যের কাছে সন্ত্রাস, খুন আর লুন্ঠন। ---এদেশের মুক্তি বাহিনী ছিল পাকিস্তানীদের কাছে সন্ত্রাসী আর বিচ্ছিন্নতাবাদী। আর শেখ মুজিব ছিলেন সন্ত্রাসের মহানায়ক।------ঠিক একই কথা মোহাম্মদ (সা) এর ব্যাপারেও। তিনি আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্যে লড়েছিলেন। ---আর এর জন্য তাকে তখনকার প্যাগান, নাস্তিকদের বিরূদ্ধে লড়াই, যুদ্ধ করতে হয়েছিল। বিশ্বাসঘাতকদের (বনু কুরায়জা) চরম শাস্তি দিতে হয়েছিল। বিশ্বাসী মুসলমানদের কাছে তাই তিনি একজন রাসূল এবং নবী।"

>>> 'ব্যাপারটা দৃষ্টিভঙ্গির' আর এই উদাহরণের মাধ্যমে আপনি "মুহাম্মদের গণহত্যা'র পক্ষে সাফাই গাইলেন! সাথে বোনাস 'ব্যক্তি আক্রমণ':
"কিন্তু আপনাদের কাছে তিনি সিন্ত্রাসী। --১৪০০ বছর আগের নাস্তিক-প্যাগানদের সাথে আপনাদের খুব বেশী পার্থক্য নাই যে।"

জবাবে যখন লিখলাম,
"সত্যতার যাচাই হয় প্রাপ্তিসাধ্য উপযুক্ত তথ্য-উপাত্তের (Evidence) ভিত্তিতে, পক্ষপাতিত্ব-হীন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সাহায্যে। আপনি দাবী করছেন " --বিশ্বাসঘাতকদের (বনুকুরায়জা) চরম শাস্তি দিতে হয়েছিল।" কুরআন ও আদি উৎসের প্রাপ্তিসাধ্য উপযুক্ত তথ্য-উপাত্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে এর সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী চিত্র বিদ্যমান, যা আমি আমার বইতে সবিস্তারে আলোচনা করেছি। আপনাকে আহ্বান করলাম, "কোনরূপ ব্যক্তি-আক্রমণ বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা না করে আপনিও আপনার দাবীর সপক্ষে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ হাজির করুন। পাঠকরা সেই তথ্য-প্রমাণগুলো যাচাই করে ঘটনার সত্যতা জানতে পারবেন।"

জবাবে আপনার এই তৃতীয় মন্তব্য, যার প্রায় সমস্তটাই "সংখ্যা"

"ইসলাম মুহাম্মদ সা এর সময় শুধু নয় বরং তাঁর মৃত্যুর পরই আফ্রিকা থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে।"

আর অনেকগুলো প্রশ্ন:
"--তারা কেন খুনী, ডাকাত আর গনহত্যার নায়কের ধর্ম মেনে নিল? তাদেরকে কে ধোকা দিয়েছিল? ---- খুনী,ডাকাতের ধর্ম কেন আফ্রিকা থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করল ডাকাতের মৃত্যুর অল্পদিনের মধ্যেই? ---গনহত্যার নায়ক আর খুনীর প্রচারিত মতবাদ আর ধর্ম হাজার হাজার বছর ধরে কেন টিকে আছে?--"

>>> আপনার এই সবগুলো প্রশ্নের জবাব মুহাম্মদ নিজেই দিয়ে গেছেন। আর তা হলো, "সন্ত্রাস (terror)!"

সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই ৫২, নম্বর ২২০:
"Narated By Abu Huraira: Allah's Apostle said, "I have been sent with the shortest expressions bearing the widest meanings, and I have been made victorious with terror (cast in the hearts of the enemy), --

http://www.hadithcollection.com/sahihbukhari/85/3671-sahih-bukhari-volum...

আমার মনে হয় না আমাদের এই আলোচনা আর দীর্ঘায়ত করার কোন প্রয়োজন আছে। আবারও বলি, আপনার মনে যত প্রশ্ন আছে ও যা আপনি বিশ্বাস করেন, কোনরূপ ব্যক্তি-আক্রমণ বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা না করে আপনার দাবীর সপক্ষে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সহ তা লিখুন। পাঠকরাই উত্তম বিচারক। লেখাটি পড়া, মন্তব্য ও আলোচনার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

গোলাপ মাহমুদ

 
পার্থিব এর ছবি
 

বিশেষ করে সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের যে তথ্যগুলো স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মহানুভব, নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক, শান্তিপ্রিয় ভাবমূর্তি-কে ক্ষুণ্ণ করে তার সম্পূর্ণ বিপরীত ইতিহাস উপস্থাপন করে সেগুলো তো নয়ই!

আসলে সন্ত্রাস আর হত্যার মাধ্যমে দেশ দখল, রাজ্য দখল চলে কিন্তু ধর্ম প্রতিষ্ঠা নয়। সব যুগেই মানুষ সন্ত্রাসী আর নিপীড়ককে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু মুহাম্মদ সা ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যাকে বিগত ১৪০০ বছর যাবত মানুষ মেনে আসছে। কিন্তু এই ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার সময় লগ্নে মুহাম্মদ সা কে মুশরেক আর প্যাগানদের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছিল, অনেকগুলো যুদ্ধ করতে হয়েছিল আর বিশ্বাসঘাতকার জন্য শাস্তি দিতে হয়েছিল। যেগুলো আপনার এবং আপনার মত যারা আছেন তাদের কাছে সন্ত্রাস। ইতিহাসের যুদ্ধ কেন্দ্রিক ঘটনাগুলোকেই আপনারা বার বার সন্ত্রাস হিসেবে প্রচার চালিয়ে আসছেন।

আপনার কাছে আপনার শেষ প্রশ্ন থাকবে আপনি দয়া করে আর দু-চারজন ব্যাক্তির নাম উল্লেখ করুন যারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে তাদের ধর্ম বা আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। খেয়াল রাখবেন দেশ দখল ,রাজ্য দখল আর ধর্ম প্রতিষ্ঠা কিন্তু সম্পুর্ন ভিন্ন বিষয়।

 
 

পার্থিব,
<<এই ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার সময় লগ্নে মুহাম্মদ সা কে মুশরেক আর প্যাগানদের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছিল, অনেকগুলো যুদ্ধ করতে হয়েছিল আর বিশ্বাসঘাতকার জন্য শাস্তি দিতে হয়েছিল।>>
ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য আবার যুদ্ধ করতে হয় বা অবিশ্বাসীদের(!) শাস্তি দিতে হয় এমনটাতো শুনি নাই। কৈ যীশু খ্রীষ্ট্ররে তো যুদ্ধ করা লাগে নাই, তারপরেও তার ধর্ম এখন বিশ্বের এক নম্বর ধর্ম। তারপরে গৌতম বুদ্ধেরও তো যুদ্ধ করা লাগে নাই। আবার তাদের ধর্ম প্রচারের জন্য মুহাম্মদের মত এত গন্ডা গন্ডা নারীও লাগে নাই। যীশু তো বিয়েই করে নাই। আসলে ধর্ম প্রচারকরা এমনই হয়। তাদের ধর্ম প্রচারের জন্য যুদ্ধও লাগে না, গন্ডায় গন্ডায় নারীও লাগে না। মুহাম্মদের মত নারীবাজী, তলোয়ারবাজী করে সন্ত্রাস হয়, ধর্ম প্রচার হয় না।

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

আবারও ব্যক্তি-আক্রমণ! আপনি আপনার শেষ প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে জানতে চাইছেন। আমার উত্তর, "আমার জানামতে পৃথিবীর ইতিহাসে মুহাম্মদই (ও তার অনুসারীরা) হলো একমাত্র সফলকাম ব্যক্তি যারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে তাদের ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অন্য কোন ব্যক্তি বা গুষ্ঠি মুহাম্মদের মত "সন্ত্রাস+ধর্ম" এর ককটেল তৈরি না করতে পেরে, কিংবা করেও তারা সেই মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নাই।" এতে কী প্রমাণ হলো? এই স্বীকারোক্তি-টি কী মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের যাবতীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের 'বৈধতা' দিতে পারে?

মুহাম্মদ নিজেই ঘোষণা করেছেন যে "তিনি সন্ত্রাসের মাধ্যমে সফলকাম হয়েছেন (সহি বুখারী: ৪:৫২:২২০)!" তার এই দাবীর সপক্ষে কুরআনে শত শত আয়াত আছে; আপনি তা অবলীলায় অস্বীকার করে প্রকারান্তরে "মুহাম্মদ ও তার আল্লাহকেই মিথ্যা প্রমাণ করছেন।" আজিব!

মি: পার্থিব, গত ৩৫ বছরের বেশী সময় যাবত বিভিন্ন উৎস থেকে 'ইসলাম' সম্বন্ধে আমি যতটুকু জেনেছি, তার ভিত্তিতে আপনাকে ও আপনার মত সমমনা তথাকথিত মোডারেটদের একশত ভাগ (১০০%) নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, পৃথিবীর কোথাও 'ইসলামী হুকুমত' প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আপনারাই হবেন এই মতবাদের '"সর্ব-প্রথম বলি (victim)!" কুরআন-সিরাত-হাদিসের কোন চিপায় কী লেখা আছে তা মৌলবাদীরা আপনাদের চোখের ভিতরে আঙ্গুল ও শলাকা দিয়ে দেখিয়ে দেবেন। Ignorance has no excuse! পৃথিবীর যে কোন মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশে অমুসলিম-কাফেররা, তা সেটা 'ইসলামী হুকুমত' হউক বা না হউক, সর্বাবস্থায়ই ভিকটিম। তাই ঐ 'স্বর্গ-রাজ্যে' আপনারাই হবেন তাদের সর্ব-প্রথম শিকার। ১০০ % গ্যারান্টি!

আপনি কী বলতে চাইছেন, আর আমি কী বোঝাতে চাইছি তা মুক্ত-চিন্তার পাঠকরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। এই লেখাটা "কুরআনে অস্পষ্টতা" বিষয়ে, প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করুন।

গোলাপ মাহমুদ

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 ঘন্টা 53 min ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর