নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

৪৭, ৭১, ও আমি দ্বিতীয় পর্ব



রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পাথমিক আলচনা শেষে ১৬ মে কেবিনেট মিশন তাদের প্রস্তাব পেশ করলো।ক্যাবিনেট মিশনের করা প্রধান প্রস্তাব গুলো হল,,

১ মুসলিম লীগের প্রধান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহে করা ভারত ভেঙ্গে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে হিন্দুস্থান ও মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে পাকিস্তন নামক পৃথক দুটি রাষ্ট্র তৈরির প্রস্তার বাতিল করলেন,,
২, ভারতের বিদ্যমান প্রদেশগুলোকে তিনটি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত করা,
ক, সিন্ধু ও পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান উত্তর-পশ্চিম ফ্রন্টিয়ার প্রদেশের সমন্বেয়ে একটি অঞ্চল গঠন যেখানে মুসলিমরা সংখ্যা গরিষ্ঠ।
খ, বম্বে, মাদরাজ, ও মধ্য প্রদেশের সমন্নয়ে একটি অঞ্চন গঠন যেখানে হিন্দুরা সংখ্যা গরিষ্ঠ ।
গ,, বাংলা ও আসামকে নিয়ে একটি অঞ্চল গঠন যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ।
৩, সাংবিধানিক পরিষদ প্রাদেশিক পরিষদে ‍নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংখ্যার অনুপাতে নির্নয় করা হবে।

৪, বিভক্ত তিনটি অঞ্চল নিজ নিজ সংবিধান তৈরি করতে পারবে,
৫, প্রাদেশিক পরিষদের সমন্নয়ে কেন্দ্রীয় পবিষদ গঠন করা হবে, যা প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, মুদ্রাব্যাবস্থা, , এবং পররাষ্ট সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে নিয়ন্ত্রন করবে।
6 প্রাদেশিক পরিষদ গুলো স্বায়ত্তশাসিত হবে, ( পতিরক্ষা, যোগাযোগ, মুদ্রাব্যাবস্থা এবং পররাষ্ট ) ছাড়া যাবতিয় বাকি ক্ষমতা প্রাদেশিক পরিষদের হাতে থাকবে,
৭, ইংরেজদের অধিনে যেসব রাজা শাসিত রাজ্য আছে তারা এই তিনটি প্রাদেশিক পরিষদগুলোতে বা ইংরেজদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবার জন্য স্বাধীন থাকবে।
৮/ সাংবিধানিক পরিষদ, খন্ডকালিন তত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে কাজ করবে,,
৯/ পাঁচবছর পড়ে তিনটি গ্রুপে যে কোন প্রদেশ তার গ্রুপের থেকে পৃথক হতে পারবে,
১০// দশ বছর পরে প্রাদেশিক পরিষদ কেন্দ্রীয় পরিষদ থেকে বের হয়ে যেতে পারবে।


মুসলিম লীগের প্রধান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ক্যাবিনেট মিশনের করা প্রাদেশিক পরিষদের প্রস্তাব বাধ্যতামূলক করবার দাবি জানালেন
কংগ্রেস প্রধান জওহরলাল নেহেরু ক্যাবিনেট মিশনের করা প্রাদেশিক পরিষদের প্রস্তাব বাধ্যতামূলক করবার ঘোর বিরোধিতা করলেন।
ক্যাবিনেট মিশন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহে প্রাদেশিক পরিষদের প্রস্তাব বাধ্যতামূলক করবার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন,,
ক্যাবিনেট মিশন আল ইন্ডিয়ান মুসলিম লীগ ও ভারতীয় কংগ্রেসকে এই ক্ষমতা হস্তান্তরের উপায় নিয়ে সমঝোতায় আনতে ব্যর্থ হল,,
এই ব্যর্থতার অন্যতম কারন হচ্ছে প্রাদেশিক পরিষদ ব্যাধ্যতামূলক না করা, আল ইন্ডিয়ান মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস দুটি দলের জন্যেই এটা একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় ছিল,
কারন যদি প্রাদেশিক পরিষদ বাধ্যতামূলক করা হতো তাহলে ভারতে তিনটি স্বায়ত্তশাসিত প্রাদেশ থাকতো এবং কেন্দ্রের হাতে সামান্য ক্ষমতা থাকতো এটা বাধ্যতামূলক হলে, আল ইন্ডিয়ান মুসলিম লীগের পক্ষে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ গুলোতে জয়ি হয়ে তাদের মতো করে সংবিধানের সুযোগ থাকতো যা প্রায় স্বাধীন রাষ্ট্রের মতোই তা ছাড়া প্রস্তাব অনুযায়ি ১০ বছর পরে কেন্দে থেকে বেরিয়ে যাবার একটি সম্বাবনা ছিল,,
আবার যদি প্রাদেশিক পরিষদ বাধ্যতামূলক করা হতো তাহলে কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সামান্য ক্ষমতা থাকার জন্য কংরগ্রেসের পক্ষে পুরো ভারতকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব ছিল না, তা ছাড়া ভবিষৎতে এই প্রাদেশিক আন্চলগুলো পৃথক হবান যথেষ্ট সম্ভবনা থেকেই যাচ্ছে।
জুলাই ১৯৪৬, আল ইন্ডিয়ান মুসলিম লীগের প্রধান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষনা দিলেন ”either a divided India or a destroyed India” ( হয় আমরা একটি বিভক্ত ভারত পাবো নয়তো একটি ধ্বংশপ্রাপ্ত ভারত পাবো ) এবং তিনি ১৬ আগাষ্টকে “Direct Action Day” ( সরাসরি সংগ্রাম দিবস ) ঘোষনা দিলেন।
যখন সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করা হয় যে সরাসরি সংগ্রাম কি ধরনের হবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহে উত্তর দিলেন যাও ও কংগ্রেসকে প্রশ্ন করো তাদের পরিকল্পনা কি,,
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহে বললেন,, মুসলিম লীগের ইতিহাসে আমরা কখনো নিয়মতন্ত্রের বাইরে কিছু করিনি তবে এখন আমদের এমন একটি অবস্থানে আসতে বাধ্য করা হয়েছে যে আজ থেকে আমরা সংবিধানিক পন্থাকে বিদায় জানাচ্ছি।
খুব সম্ভাবত মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ ভিত হয়েছিলেন যে যদ আল ইন্ডিয়ান মুসলিম লীগ বড় কিছু করতে বার্থ হয় তাহলে ইংরেজ প্রসাসন ও ভারতীয় কংগ্রেস, মিলে নিজেদের মনমতো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিবে কারন ক্যাবিনেট মিশন মুহাম্মদ আলি জিন্নাহের করা প্রায় সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল।
ক্যাবিনেট ‍মিশনের সাথে আলচনা চলাকালিন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ব্রিটিশ সরকার ও কংগ্রেস প্রত্যকের হাতে একটি করে পিস্তল আছে,, একজনের হাতে, ক্ষমতা ও বন্দুক, অন্যজনের হাতে আছে বড় সংগ্রাম ও সহযোগিতামূলক আজারন,, আজ আমাদের হাতেও পিস্তল আছে এবং আমরা এটা ব্যাবহার করবার মতো অবস্থানে আছি।
বাংলার প্রধানমন্ত্রী, হোসেন সোহ্‌রাওয়ার্দী দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষনার জন্য গর্ভনর ফেডরিক বরসের কাছে আবেদন করেছেন।
বাংলার কংগ্রেস নেতা এই বিষয়টির বিরোধিতা করলেন।
গর্ভনর ফেডরিক বরস হোসেন সোহ্‌রাওয়ার্দী দাবি মেনে ১৬ই অগাষ্টে বাংলায় সরকারি ছুটি ঘোষনা করলেন। বাংলার কংগ্রেস নেতারা তাদের কর্মিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখবার আহব্বান জানিয়েছেন।

কলকাতা,, ১৬ই অগাষ্ট ১৯৪৬, শুক্রু বার।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহের ডাকে,, মুসলিমলিগ ঘোষিত ডায়রেক্ট একশন ডে নামের হরতাল চলছে।
জৃমার নামাজের পরেই গড়ের মাঠে মুসলিমলিগ আয়জিত সমবেশে মানুষের সমাগম শুরু হয় দুপুর ২টা নাগাদ এটি হজার, হাজার নয়তো লক্ষ মানুষের সমাগমে পরিনত হয়। এদের দাবি একটাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য পকিস্তান নামক পৃর্থক রাষ্ট্রের গঠন।
দিনটি মুসলিমলীগের জন্য ইংরেজদের ও কংরেসকে মুসলিমলীগের শক্তি প্রর্দশনীর দারুন সুযোগ।
দিনটিকে সফল করতে মুসলিমলীগ ব্যাপক প্রস্তুস্তি নিয়েছে।

বাতাসে চরম উত্তেজনা বিদ্ধমান, সমাবেশে আগত অনেকের হাতেই লোহার রড ও লাঠিসোটা বিদ্যমান। সকাল থেকেই মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্য বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হবার খবর পাওয়া যাচ্ছে,, আজকের জনসভায় প্রধান বক্তাদের মধ্য খাজা নাজিমুদ্দিন ও বংলার প্রধান মন্ত্রী হোসেন সোহরাওয়ার্দীর অন্যতম,, নাজিউদ্দিন খাজা তার বকতব্য দাবি করলেন যে সকাল ১১ টা নাগাদ আহত ব্যাক্তিদের সবাই মুসলিম এবং মুসলিমরা শুধু আত্বরক্ষার করবার চেষ্টা করছে। অথচ সকাল ১০ টর পূর্বেই লালবাজার পুলিশ সদরদপ্তরে জোর করে দোকান বন্ধ করা ও কিছু এলাকায় সংঘর্ষ হবার খবর ছিলা।
সোহরাওয়ার্দীর বকতব্য পরিস্থিতি আরো উতপ্ত করলো, এতটা উত্তাপ ধরে রাখার মতো প্রস্তুতি বা প্রয়োজনিয়তা ইংরেজ প্রসাসনের কাছে ছিল না। সমাবেশ শেষে উত্তপ্ত মুসলিম লীগ সমর্থকদের একটি অংশ দ্বারা শহরে থাকা হিন্দু স্থাপনা, দোকানপাট, আক্রান্ত হল এবং অল্প সময়ের মধ্যই এটা খুনো খুনিতে রুপ নিল।

গোলক বি মজুমদার যিনি তখন ছাত্র ছিলেন তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা এভাবে বর্ননা করেছেন,,
আমি ভাবছিলাম যে একটু হাঁটতে বেরুবো, এবং হঠাৎ দেথলাম যে কতগুলো মুসলিম নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর “আল্লাহ সবচেয়ে মহান” বলে এদিকে এগিয়ে আসছে। তারপর আমি দেখলাম যে আমার একজন প্রতিবেশি যিনি বাইরে কি ঘটছে দেখতে রেরিয়েছিলেন তার মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে রক্ত বেরুচ্ছে। তখন আমি ভাবলাম যে এখন বাইরে বেরোনো মারাত্বক হবে, তারপর এই দলটি দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করলো এবং বলতে লাগলো যে কোন হিন্দুকে রেহাই দেয়া হবে না। আমাদের অঘাদ বিশ্বাস ছিল ইংরেজ প্রশাসনের প্রতি আমিদের অঘাদ বিশ্বাস ছিল ইংরেজ শান্তি বজায় এতদিন তার যা আমাদের দিয়ে এসেছিল তবে তিন দিনে রাস্তায় কোথাও তাদের কোন দেখা পাওয়া যায়নি অবস্থাটি এমন ছিল যে কেউ যে কাউকে হত্যা করতে পারে।


সংকর ঘোষ যিনি তখন একটি স্থানিয় সংবাদপত্রে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি তার অভিজ্ঞত এভাবে বর্ননা করেছেন।
কতগুলো মানুষ যাদের হতে লোহার রড়ের ছিল তার একটি অলঙ্কারের দোকানকে ঘিরে রেখেছিল।
দোকানে একজন বৃদ্ধ কর্মচারি ছিল যে ঐ মানুষগুলোর ভয়ে অর্ধেক মৃতই ছিল, সে তার হাতজোর করে বেরিয়ে আসলো, কিন্ত এই রাগি দলটির সেই বৃদ্ধটির কথা শুনবার মতো সময় ছিল না, ১৪ বা ১৫ জল ছেলে বৃদ্ধটির পা ধরে টাটানি করতে লাগলো, এবং বৃদ্ধটি পড়ে গেল, এবং কোন একজন তার মাথায় লোহার রড় দিয়ে আঘাৎ করলো, আমার মনে হয় সেই একটি আঘাৎতেই লোকটি মারা গিয়েছিল।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মাইকেল অপু মন্ডল
মাইকেল অপু মন্ডল এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 1 দিন ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 2, 2017 - 4:17অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর