নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

ঠাকুর ঘরের দেবতা কখনো মসজিদে ঢুকে আল্লাহর সাথে বিবাদে জড়ায় না।


অগ্রাহায়নের শেষ ভাগে এসে আমাদের গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে তখন উৎসবের আমেজ লেগে যেত। একদিকে সদ্য সমাপ্ত বর্ষা বিদায়ী হেমন্ত প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, অন্যদিকে আগমনি শীতের প্রকৃতি জোড়া রিক্ততা আভাস, সব মিলিয়ে এক অপ্রার্থিব সৌন্দর্যের অবতারনা। গাছে গাছে সবুজের সম্মোহনী চেহারা, পত্রপল্লবে নবজীবনের উচ্ছাস। দিগন্তজোড়া পাকা ফসলের বিচানো জমিন, নিন্মে অপরুপ বাংলার চিরায়িত সোনালী মাঠ, ঊর্ধে ডানা মেলা বলাকায় শিল্পিত নীল আকাশ। ভোরের দোয়েলের ডাক, সাথে ময়না, শ্যমা, চড়ুই, শালিক সহ আরো হাজার প্রজাতির পক্ষির ডানা ঝাপটানোর কলতানে মুখর বনানী। ধর্মের প্রাচির ডিঙিয়ে মানুষে মানুষে সৌহার্দ্যের সম্পর্ক এসব দেখেই কেটেছে আমাদের কৈশর বেলার দিন গুলো।

গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলো অসাম্প্রদায়িকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সাম্য, ঐক্য এসব জটিল শব্দগুল বুঝতো না, কিন্তু শব্দের বিষয় বস্তু গুলো ছিল গ্রামের মানুষের সহজাত। এমন মুসলমান খুব কমই পাওয়া যেত যে বলতে পরবে সে হিন্দুদের রাস উৎসবে যায়নি, অথবা এমন হিন্দুও ছিল না যে মুসলমানদের ঈদ উৎসবে সেমাই মিষ্টান্ন খাইনি। ধর্মের ব্যপারটা আমাদের গ্রামের মসজিদে-মন্দিরের অভ্যান্তরে ছিল। বাইরে সবাই ভাই, বন্ধু, পরিজন। আত্মার আত্মিয়। একের কাজে অন্যের ছিল স্বাবলিল অংশগ্রহন, বিপদে ছিল স্বতস্পুত সহযোগিতা। ধর্ম, বর্ণ, উচু, নিচুর ব্যবধান সেখানে কখনোই পার্থক্যের দেয়াল তৈরী করতে পারতো না। আমাদের গোটা গ্রামটি ছিল একটা পরিবারের মত। সেখানে কেউ ভাই, কেউ বন্ধু, কেউ পিতৃতুল্য, কেউবা মায়ের সমান। চৌদ্দ পুরুষ ধরে সেখানেই সবার বসতি, তাই অনাত্মিয় হবার কোন সম্ভাবনা নেই কিন্তু এখন সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই। এখন সময় পাল্টে গেছে। অতিতের সহজ সরল ভ্রাতৃপ্রতিম মানুষ গুলোও হারিয়ে গেছে মহা কালের অমোঘ নিয়মে। আমাদের কৈশর বেলার সেই সোনা ঝরা দিন গুলোর জন্য কষ্ট হয়। ভালো আর খারাপের এই যুগ সন্ধিক্ষনেই আমরা পৃথিবীতে এসেছি। আমরাই বোধহয় সেই প্রজন্ম যারা ধর্মীয় 'সম্প্রীতি' আর নিষ্ঠুর 'সাম্প্রদায়িকতা' এই দুটি যুগেরই প্রত্যাক্ষ সাক্ষি। ভাবতে খুব অবাক লাগে শান্ত স্রোতস্বিনীর মতো নিরবে পাশাপাশি বয়ে চলা নানান ধর্মের মানুষ গুলোর অন্তরে এ কোন বিষক্রিয়া শুরু হয়েছে যে, আমরা এতটা অসহিঞ্চু হয়ে গেলাম? কোন আগুনে ভষ্ম করেছে আমাদের ভ্রাতৃত্বপূর্ন মানসিকতাটাকে? কোন ধর্মই তো ভ্রাতৃহন্তারক হবার শিক্ষা দেয় না! তাহলে ধর্মের নামে আমাদের সমাজের এ কোন বিভাজনের দেয়াল?

আবহমান কাল থেকে আমাদের গ্রামে মুসলিম-হিন্দু সম্প্রদায় তাদের স্ব-স্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাতন্ত্র সংস্কৃতি নিয়ে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। গ্রামের সাদা সিধে মানুষ গুলো জানতোই না নিজেদের অজান্তে কত বড় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির প্রতিষ্ঠা করে চলেছিলো! এখানে কেউ সংখ্যা গুরু, কেউ সংখ্যা লঘু ছিলো না। কোন ধর্ম, জাতি, সম্প্রদায়কে গ্রামের মানুষ সংখ্যা তত্ত দিয়ে বিচার করতো না। এজন্য প্রাচিন কাল থেকে অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শে বিশ্বাস করে আমরা আবদ্ধ হয়ে ছিলাম পরস্পরিক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে।

ঈদ, স্বারদীয় দূর্গোৎসব এই সমস্ত ধর্মীয় উৎসব এখানে পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ন সহযোগিতার মাধ্যমে পালন করা হতো। সনাতনিদের পুজোর ঘরের ঠাকুর আমাদের গ্রামে কখনোই মসজিদে ঢুকে আল্লাহর সাথে বিবাদে জড়াইনি। আযানের সম্মানার্থে এখানে হিন্দুদের ভক্তি আরাধনার ঢোল, শাঁখ, উলু ধ্বনি বন্ধ হয়ে যেতো। নামাযের সময় এখানে থেমে যেতে দেখেছি ভজন কীর্তন। দুটি ধর্মের বৈচিত্রপূর্ন এই সব আনন্দ কোলাহলে আমাদের গ্রামটিকে মুখর হয়ে থাকতে দেখেছি গোটা বছর। এটা ছিলো আমাদের ধর্ম-সংস্কৃতির এক অপৃর্ব ঐতিহ্য। ভ্রাতৃত্তবোধের স্রোতে ধর্মের দেয়াল ডিঙিয়ে এ উৎসব গুলো হয়ে উঠতো আমাদের প্রাণের উৎসব।

অথচ সময়ের পরিক্রমায় আমূল বদলে গেছে সমাজের দৃশ্যপট। আমাদের সেই মানবিক সমাজে এখন মানুষকে মাপা হয় ধর্মের বাটখারায়। মানবতা কে টাট্টু ঘোড়া বানিয়ে তার পিঠে সাওয়ার হয়েছে নিষ্ঠুর সাম্প্রদায়িকতা।

Comments

রহমান বর্ণিল এর ছবি
 

রহমান বর্ণিল।

রহমান বর্ণিল

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 12 ঘন্টা 18 min ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর