নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

ইতিহাসের প্রথম নারীবাদী কি একজন পুরুষ? এও কি সত্য?


১.
আমাদের নারীবাদী চত্বরে এখন প্রধান বিতর্কের বিষয় হচ্ছে – “সকল পুরুষ এক নয়” কিম্বা “সকল পুরুষই সম্ভাব্য ধর্ষক” এ জাতীয় প্রসঙ্গে। সকল পুরুষ আসলে কি এক? সকল মানুষ কি এক? হ্যাঁ এক, কারণ সকলেরই কান আছে দুটো করে, এভাবে নিশ্চয়ই বলা যায়। কিন্তু চিন্তায়, চেতনায়, কাজে, মানুষের প্রতি আচরনে, সামাজিক ভুমিকায়, রাজনীতিতে, দায়িত্ববোধে সকল পুরুষ কি এক? সকল মানুষ কি এক? সকল নারী কি এক? আমার জানা নেই এই উত্তর। আমাদের এই সময়ের নারীবাদের বহুল আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি এটি। কিন্তু আমার বোঝাপড়া বলে, এই ধরনের প্রসঙ্গগুলো যে এক ধরনের ফ্যালাসি বা ধাঁধা, সেটা বোঝার মতো প্রাপ্তবয়স্কতা আমাদের বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের “নারীবাদ” অর্জন করেনি এখনও, যদি করতো তাহলে হয়তো আমরা এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতাম, কিম্বা এই ধরনের ফ্যালাসি কে বর্জন করে পরবর্তী প্রশ্নের দিকে এগুতে পারতাম। এটা দুঃখজনক, কিন্তু এটাই বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে নিয়েই দুনিয়াকে এগিয়ে চলতে হয়। দুনিয়ার সবচাইতে উন্নত, সভ্য, বড়লোক, বিজ্ঞানে এগিয়ে যাওয়া দেশে এখনও ৭১% মানুষ মনে করেন যা কিছু ঘটছে চারপাশে, সবই গড বা ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই ঘটছে। এখনও সেই দেশের টাকায় লেখা থাকে “ঈশ্বর এক, আমরা যাকে বিশ্বাস করি”। এখনও সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কে বাইবেলের উপরে হাত রেখে শপথ নিতে হয়। বিজ্ঞানের সকল অগ্রগতির পরেও এই দেশটিই ভূত পেত্নীর সিনেমা বা হরর মুভির স্বর্গরাজ্য। এখনও সেই দেশে একজন অবিশ্বাসী মানুষ রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারেন না। এটাই বাস্তবতা, এই নিয়েই আমাদেরকে বাঁচতে হয়। সুতরাং নারীবাদী দাবীদার মানুষেরা এই ধরনের স্থুল প্রসঙ্গে নিজেদের ব্যস্ত রাখবেন, এটা খুব অবাক করা কিছু নয়। এটা মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতারও অংশ বটে। আমি নারীবাদী নই, কিন্তু নারীবাদ সব সময়ই আমার আগ্রহের বিষয়। আমি নারীবাদ নিয়ে ছাত্রজীবনে কিছুদিন পড়েছি, নারীবাদী চিন্তার যে প্রধান কয়েকটি ধারা রয়েছে, আমার পক্ষপাত “সোশ্যালিস্ট ফেমিনিজম” এর প্রতি। সেই অর্থে, বাংলাদেশে আমরা নারীবাদের যে প্রধান ধারাটি দেখি, ঐক্যমতের দিক থেকে আমি সেই ধারার নারীবাদের সমর্থক নই। কিন্তু আমি সমর্থক নই মানে এর অর্থ নয় যে আমি তাঁর বিরোধিতা করি। আমি মনে করি, আমাদের দেশের পপুলার নারীবাদ আমাদের বড় অংশের নারীর কথা বলেনা। কিন্তু তাঁরা আরবান, এলিট নারীদের কথা বলছেন এটাই বা কম কিসে। সুতরাং তাঁদের সংগ্রামের প্রতি আমার সংহতি জানাই। আরবান এলিট নারীদের কথা বলাটাও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সেটাও সমাজ বদলের সংগ্রামের অংশ। নারীবাদ প্রসঙ্গে আমার নিজের অবস্থানটি বলে নেয়ার মূল কারণ অন্যদের নারীবাদের বিরোধিতা করা নয়, বরং নিজের পক্ষপাতের কথাটা শুরুতেই বলে নেয়া। নারীবাদের ইতিহাসে এই পুরুষদের কথা বলার ক্ষেত্রে তাই আমার কোনও ব্যক্তিগত পক্ষপাত নেই, কেননা, এই লেখার যে কয়জন মানুষের কথা লিখবো, তাঁদের কেউই "সোশ্যালিস্ট ফেমিনিজম" এর পক্ষের মানুষ নন। শুরু করছি - প্রথম জনকে দিয়ে।

২.
কে প্রথম আর কে দ্বিতীয় নারীবাদী, এভাবে বলার কোনও সুযোগ নেই, হয়তো দরকারও নেই। কিন্তু ইতিহাস ইতিহাসই, তাই তার হিসাব টা কেউ না কেউ করবেই একদিন। এভাবে নির্ধারণ করতে যাওয়াটা সন্দেহাতীত ভাবেই বিপদজনক। কিন্তু আমরা যদি নিকট অতীতের ইতিহাসকে একটু সতর্কতাঁর সাথে পর্যবেক্ষণ করি, তাহলে হয়তো এই প্রশ্নের খানিকটা ইশারা পাওয়া যেতে পারে। নারীবাদের ইতিহাসের বেশীর ভাগ পুস্তক কিম্বা লেখক ও ঐতিহাসিক তাঁদের আলোচনা শুরু করেন ১৭৯২ সালে ব্রিটিশ লেখক মেরী ওলস্টোনক্র্যাফট এর লেখা “ভিন্ডিকেশন ...” দিয়ে। হ্যাঁ, প্রচলিত সকল ঐতিহাসিক আলোচনা শুরু হয় মেরী ওলস্টোনক্র্যাফট কে দিয়ে।

অধ্যাপক উইলিয়াম ও’নেইল এর একখানা পুস্তক আছে যার ইংরাজী নাম “The Women Movement”। উইলিয়াম এই পুস্তকে খানিকটা সাহসের সাথেই লিখেছেন –

“নারীবাদের সকল ইতিহাসই খুব স্বাভাবিক ভাবে শুরু হয় মেরী ওলস্টোনক্র্যাফট এর লেখা পুস্তক “Vindication of the rights of woemen” দিয়ে। কিন্তু মেরী ওলস্টোনক্র্যাফট আসলে শুরু করেছিলেন কি দিয়ে? সেটা কি স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টি? রাশানদের নিয়ে একটা কৌতুক প্রচলিত আছে, দুনিয়ার সকল আবিষ্কারের পেছনেই নাকি রাশানদের অবদান আছে, তা সে সেফটি পিন থেকে শুরু করে শেভিং রেজর পর্যন্ত, কিন্তু এটা সত্যিই কৌতুক নয় যে সকল আমেরিকান ও ব্রিটিশ লেখক, নারীবাদী ঐতিহাসিক মনে করেন যে নারীবাদের শুরুটা হয়েছে মেরী ওলস্টোনক্র্যাফট এর লেখা থেকেই" । বাস্তবত, ১৭৯২ সালে মেরী ওলস্টোনক্র্যাফট এর “ভিন্ডিকেশন অফ দ্যা রাইটস অফ ওউমেন” ছিলো ইংলিশ চ্যানেল এর বিপরীত দিকে যে আন্দোলন গড়ে উঠছিলো তারই ইংরাজি প্রতিধ্বনি। ইংলিশ চ্যানেলের ওপারে যে ব্যক্তিটি এই মহান প্রস্তাবনা গুলো প্রথম তুলেছিলেন, তিনি হচ্ছে ফরাসী বিপ্লবের নেতা মারকুস ডি কন্দোসে। জী, মারকুস ডি কন্দোসেই প্রথম মানুষ যিনি ফরাসী বিপ্লবের প্রাক্কালে, ১৭৯০ সালে নারীমুক্তির মৌলিক দাবী সমূহকে বিন্যস্ত করেন। নারীর ভোটাধিকার ও জনপ্রতিনিধিত্বের অধিকার সহ নারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক সমানাধিকারের কথা। ইতিহাসের হিসাবে, কন্দোসে প্রথমে এই দাবী সমূহ তলে ধরেন, ওলস্টোনক্র্যাফট তাঁর দুবছর পরে। এর প্রতিক্রিয়াও ছিলো দুই রকমের। মেরী অলস্টোনক্র্যাফট এর লেখাটি প্রকাশিত হবার পরে তিনি পেয়েছেন সহানুভূতি ও সমর্থন আর কন্দোসের দাবীনামাটি পরিনতি পেয়েছিলো একটি রাজনৈতিক স্ক্যান্ডাল এর।

অর্থাৎ, কন্দোসের কথাগুলো, দাবী গুলো সেই সময়ের ফরাসী সমাজে একজন প্রখ্যাত পন্ডিত যিনি লিঙ্গ পরিচয়ে একজন পুরুষ, তাঁর কাছে থেকে সমাজ প্রত্যাশা করতোনা। তাই একজন পুরুষ হয়ে সেই সকল দাবী দাওয়া উত্থাপন করাটা হয়েছিলো এক ধরনের রাজনৈতিক স্ক্যান্ডাল এর মতো, মানে নিজের রাজনৈতিক গোত্রের বিরুদ্ধে যাওয়ার মতো গুরুতর পাপ। কিন্তু ইংলিশ চ্যানেল এর এপারে ইংল্যান্ডে সেই একই কথা একজন নারীর কলমে হয়ে উঠেছিলো নারীবাদী আন্দোলনের “বাইবেল”। আগ্রহ উদ্দীপক নয়? এটাই কি ইতিহাসের এক ধরনের শুচিবায়ুতা? কেবল পুরুষ হবা অপরাধেই কি উপেক্ষিত রএয়ে গেলেন কন্দোসে?

কন্দোসের নাম আমরা নারীবাদের আলোচনায় পাইনা, নারীবাদীদের আলোচনায় পাইনা। ইতিহাসে পাইনা, সম্ভবত এটাও এক দুর্ভাগ্যজনক শুচিবায়ুতা, কেননা ঘটনাচক্রে কন্দোসে ছিলেন একজন পুরুষ।

অথচ আধুনিক ইতিহাসের অনস্বীকার্য সত্য হচ্ছে, মারকুইস ডি কন্দোসেই ছিলেন এই সময়ের প্রথম নারীবাদী। নারীর প্রথম প্রকাশ্য বান্ধব, আমরা তা জানি বা না জানি।

আধুনিক কালে কন্দোসেই প্রথম আলোচনায় নিয়ে আসেন কেনো নারীর সমানাধিকার প্রশ্নটি শুধু নারীর জন্যেই নয় যেকোনো মানুষের জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ। কেনো নারীর সমানাধিকার এর প্রশ্নটি কেবল নারীর অধিকারের সাথে যুক্ত নয়, বরং এটি মানুষের অধিকারের সাথে যুক্ত। কন্দোসের এই সকল ধ্যান ধারণা দারুন ভাবে প্রতিরোধের সম্মুখিন হয়েছিলো তারই রাজনৈতিক সহকর্মী ও সহৃদদের দ্বারা। একজন পুরুষ তাঁর নিজের নারী বিষয়ক ধারণার জন্যে, মুখোমুখি হচ্ছে নিজেরই কথিত বর্গের বিপরীতে। এটা সহজ নয়, বিশেষত সতেরোশ শতকে যখন ইউরোপে খৃস্টানতন্ত্র ও বহাল রয়েছে প্রবল প্রতিক্রিয়ায়।

কন্দোসের বর্ণীল জীবনের সাথে আমরা প্রায় একই সময়ে ভারতের নারীমুক্তির, নারীর অধিকারের ইতিহাসটি যদি একটু ঘুরে দেখি, সেখানে দেখবো? আগামী পর্বে তাঁর আলোচনা করবো।

চলবে

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাম সারওয়ার
গোলাম সারওয়ার এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 20 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, মার্চ 23, 2013 - 4:42পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর