নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

ধর্মান্ধতা কোন ধর্ম নয়, বিশ্বব্যাপী বিপন্ন মানবতার প্রধান কারণ


প্রাচীন মহা-ভারতে ধর্মের নামে নরবলির প্রথা প্রচলিত ছিলো। ভারত-বর্ষের হাজার বছরের আগের ইতিহাসে চোখ বুলালে জানতে পারা যায়, নরবলির প্রথা কেবল সনাতন ধর্মেই ছিলো না, ইসলাম ধর্মের নামে নানান ভন্ড পীর-মোর্শেদ, কথিত দরবেশ-আউলিয়াও এই নরবলিতে প্রোরোচিত করতো। আজো উপমহাদেশের নানান জায়গায় নরবলির মতো এই জঘন্য প্রথার বিচ্চিন্ন ঘটনা শুনতে পাওয়া যায়! ধর্মের নামে নরবলির প্রথা নানান দেশে, নানান উপায়ে এখনো চলছে, তবে ভিন্ন ভিন্ন পদ্দতিতে। একজন সৃষ্টিকর্তার বিপরীতে সৃষ্টির বহুবিধ চাওয়া আর তাকেই সংযত রূপ দেবার জন্য যাগ-যজ্ঞ, নিয়ম-সংযম আর প্রার্থনার প্রক্রিয়া। অথ্যাৎ, অস্তিত্বের বহু ঊর্ধ্বে উঠে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের প্রচেষ্ঠা। নিজের চাওয়া পাওয়ার জন্য সেই যে বিশাল নিয়ম-আচার বা কর্মের প্রথা তৈরি হয়েছিল- সেটাই ধর্ম। কিন্তু, মানুষের চাহিদা আর ইপ্সিত বস্তুর যেমন শ্রেনীভেদ আছে, তেমনি সেই বৈচিত্রপূর্ণ আকাঙ্খার জন্যই ভোগৌলিক সীমানা কিংবা জীবনধারা ভেদে তৈরী হয়েছে নানান ধর্মীয় মতবাদ। প্রতিমুহূর্তে সেই আচার অনুষ্ঠান পরিবর্তন হয়েছে, আবার সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন ধর্মের, নতুন নতুন মতের। আমাদের যা নেই; তাই আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে চাই। ভয়, বিপদ, বাধা কাটিয়ে ওঠার জন্য ঈশ্বরই আমাদের আশ্রয় হয়ে ওঠে। আর প্রতিটি ধর্মেই এই নিয়ম খুদিত আছে যে,- অভীষ্ট লাভের জন্য স্রষ্টাকে তুষ্ট করতে হলে কিছু ত্যাগ স্বীকার, কিছু ব্রত, নিয়ম, সংযমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কি ইসলাম! কি বৌদ্ধ কিংবা বৈদিক সনাতন ধর্মের সৃষ্টি হয়েছে প্রধানত এই ভাবনা থেকেই।

প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের কাছে তার ধর্মই জগতের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। একজন মুসলমান হিসেবে আমি দেখেছি, একজন সনাতনীর লালিত ধর্মীয় সংস্কার আমাদের সম্প্রদায়ের কাছে কতটা হাস্যকর, কতটা মানবসৃষ্ট মনে করতে। অথচ সেই সনাতনী পরম ভক্তির সাথে আমৃত্যু সেই ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে। আমার কাছে মনে হয়, আমার ইবাদতে তুষ্ট হয়ে আমার আল্লাহ যদি আমাকে কিছু দিয়ে থাকে, তবে সনাতনীদের ঠাকুর ঘরের নিরেট পাথরের দেবতাও তাদের খালি হাতে ফেরায় না। যদি ফিরিয়ে দিত তবে সনাতন যুগ থেকে চলে আসা ভক্তের বিশ্বাস অটুট থাকতো না। একজন বৌদ্ধের অবিচল ভক্তি, একজন খৃস্টানের গীর্জায় নির্মোহ উপাসনা তার ধর্মীয় মতবাদের সত্যতা প্রমাণ করে। একজন মুসলমানের চোখে যেই দোষে সনাতনী, খৃস্টান, বৌদ্ধ কিংবা অন্য কোন ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুসারী দোষি, ঠিক অন্যদের চোখে একজন মুসলিনও অনুরুপ দোষে দুষ্ট। কারণ ধর্মটা কেবল মাত্র একটা অদেখা বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে। পৃথিবীর কোন ধর্মের অনুসারীর উপসনার স্রষ্টা তার কানে কানে এসে বলে যায়নি "তোমার রাস্তায় সর্বোৎকৃষ্ট"। কিন্তু তবুও নিজ ধর্মের জন্য প্রতি দিন আমরা জেহাদি ভুমিকীয় অবতীর্ণ হয়ে সাম্প্রদায়িক বিভেদের দূর্ভোদ্য দেয়াল তৈরী করে চলেছি।

আমাদের দেশে সাধারন, মাদ্রাসা ও কারিগরী প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকের এই তিনটি স্তরেই সরাসরি এই সাম্প্রদায়িকতার শিক্ষার পথ সুগম রয়েছে। মানসিক চিন্তার বিকাশ ও উদারতা চর্চার পথগুলো যেখানে উম্মোচিত হওয়ার কথা সেখান থেকেই আমরা সাম্প্রদায়িকতার বীঁজ বপন করে চলছি। হোক সেটা ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খৃস্টান। বিশ্বায়নের এই যুগে সিংহভাগ দেশেই ধর্ম পাঠ্য চর্চা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগুলোতে বাধ্য বাধকতা করা হয়নি। প্রতিটি পর্যায়ে মূলত মানিবকতার স্পষ্ট শিক্ষার উপাদান যাপিত হয়েছে। আর মানবিকতার বিকাশই শিক্ষার আসল রুপায়ন হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিও প্রসারিত হয়। কিন্তু আমাদের এই উল্টো রথের খেসারত দিতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত দেশে ধর্মীয় সংঘাতগুলো মূলত কুসংস্কার, অন্ধতা কিংবা অনুকরণের ধাপে সংঘটিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় লেখাপড়া শেষ করেও আমাদের মানসিকতার বিকাশ হচ্ছে না। বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার শেকড় উপড়ানো হয়ে উঠছে না। আর এর পিছনে একটি কারণ সাম্প্রদায়িকতার চর্চা করা।

শুধু মাত্র উপমহাদেশে ধর্ম ব্যাপারটা ভীষণ রকমের পরিবর্তনশীল এবং বৈচিত্র্যর জায়গা। সত্যিকার অর্থে ধর্মের তত্ত্ব আমাদের মধ্যে অনেকেই জানে; কিন্তু ধর্মের মর্ম কতজন জানতে পেরেছে? আর সেই জন্যই আমাদের এই দেশে 'ধর্ম' এক শ্রেণীর মানুষকে বানিয়েছে 'অসহায়' এবং আরেক শ্রেণীর মানুষকে বানিয়েছে 'terrorist অথ্যাৎ জঙ্গি'। প্রতিদিনই পত্রিকার পাতা উল্টালেই আমাদের চোখে পড়ে ধর্মের নামে গুজব ছড়িয়ে তথাকথিত ধর্ম রক্ষাকারীদের নিপীড়ন আর ধ্বংস যজ্ঞ। ধর্মের নামে মুহূর্তেই তারা পুড়িয়ে ছাঁই করে দিচ্ছে অন্যের উপাসনালয় ও সাজানো ঘর। আর আমরা এর সুন্দর একটা নামকরন করেছি 'সংখ্যালঘু নির্যাতন'। অথচ প্রায় প্রতিটি ধর্মই শিক্ষা দিচ্ছে- "তোমার উপর যে অন্যায়টা অন্যে করলে তোমার খারাপ লাগে, সেই অন্যায়টা তুমি অন্য কোন মানুষের উপর করো না। যে মানুষ নিজে বেঁচে থাকতে চায়, সে যেন কখনোই অন্যের জীবন নষ্ট না করে"। ধর্মের এই মহৎ উপদেশগুলো আমরা কখনোই নিতে পারিনি, তার পরিবর্তে ধর্ম কায়েমের জন্য আমরা বেচে নিয়েছি চরম অধর্মের পথ!

বর্তমান বিশ্বব্যাপী চলমান শরণার্থী সমস্যার গোড়াতেই আছে এই ধর্মান্ধতার বিষ! রোহিঙ্গা উৎখাতে পুঁজিবাদিদের সমর্থন থাকলেও, ধর্মের দায় মোটেও কম নয়! ঘটনার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয় অন্য। বাস্তবতা হচ্ছে, এই বিপুল মানবিক সমস্যার মূলে আগাগোড়াই দুটি ধর্ম সারাসরি জড়িত। পৃথিবীতে এরূপ উদাহরণ অপ্রতুল নয়। অর্থাৎ সারাবিশ্বেই ধর্মভিত্তিক জঙ্গিবাদের অতর্কিত ও ধারাবাহিক হামলার পরেই বহু মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এর প্রায় শতভাগ হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তই দরিদ্র ও অজ্ঞ-মূর্খ মানুষ। অর্থাৎ দরিদ্ররাই ধর্ম এবং পুঁজিবাদ দুটোরই প্রধান টার্গেট। কারণ এর দু’য়েকটা বর্বরতার বিচার হলেও সুবিচার কখনোই হয় না। তাই স্ব-ঘোষিত ধার্মিকরা স্বীকার করুক বা না করুক, জঙ্গি সৃষ্টির দায় পুরোটাই ধর্মের। এই কথা জোর দিয়ে বলতে পারি, এসব হত্যাযজ্ঞে যারা অংশ নিচ্ছে তাদের হৃদয়ে যতোটা না পুঁজিবাদ কিংবা জাতিয়তাবাদের মন্ত্র দ্বারা ঘৃণার-আগুন জ্বালানো সম্ভব হয়েছে, তারচেয়ে সহস্রগুণ বেশি সম্ভব হয়েছে শুধু ধর্মমন্ত্র বা ধর্মোম্মাদনা তথা ধর্মানুভূতি দ্বারা।

Comments

রহমান বর্ণিল এর ছবি
 

ক।

রহমান বর্ণিল

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 12 ঘন্টা 18 min ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর