নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র
  • অর্বাচীন স্বজন

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

বাংলার দধিচি মুনিরা হারিয়ে যায়!! স্মৃতির পাতা থেকে।।


স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের গ্রামের কয়েকজন নিবেদিত প্রাণ অথচ অখ্যাত কবিরাজের কথা আজও খুব মনে পড়ে। তাদের মধ্যে একজন মনিন্দ্র কবিরাজ - যিনি আমাদের পরিবারের চিকিৎসক ছিলেন। বয়েস তখন খুবই ছোট, জ্বরে ভুগছি কয়েকদিন ধরে। মাটির হাঁড়ি ফুঁটো করে তার মধ্যে সলতে দিয়ে জলের ধারা দিয়ে চলছেন রাতদিন ধরে আমার মা । মনিন্দ্র কবিরাজ মশাইকে খবর দেয়া হলে তিনি আসলেন কাঁদে বড় একটা কাপড়ের পোটলা ঝুঁলিয়ে। সে পোটলায় কতরকম কৌটা এবং কৌটায় নানা ধরনের ও নানা স্বাদ ও গন্ধের বড়ি। নানা রংয়ের কিছু কিছু পাউডারও ছিলো। গন্ধ থেকে স্পষ্ঠ বুঝা যায় ওসব পাউডার গাছ গাছালি গুড়োর সাথে কিছু মশলা মেশানো । পারিবারিক পরিচয় ছিলো বলে দাদু সম্মোধন করতাম কবিরাজ মশাইকে। তিনি এসে হাত দিয়ে আমার শরীরের তাপমাত্রা দেখলেন, একই সাথে চোখের পাতা ও জিহ্বা। শেষে কতগুলো বড়ি দিয়ে গেলে, সাথে পাউডারের প্যাকেট ও খাবার নিয়ম। মাকে বলতে শুনেছি আমার নাকি কালা জ্বর হয়েছিল। ভাত খেতে বারণ করেছিল। সুতরাং আটার শুকনো রুটি, সাগু, কলা ছিল পথ্য হিসাবে। শেষে কয়েকদিন পর সুস্হ হলাম। সেই মনিন্দ্র কবিরাজ শুধু আমাকে কিংবা আমার বাড়ীর মানুষদের চিকিৎসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন তার বাড়ীর চারদিকে তিন/চার মাইল ব্যাসার্ধের গণমানুষের নিয়মিত চিকিৎসক। পায়ে হেঁটে নিরন্তন দিয়ে গেছেন চিকিৎসা। শয্যাশায়ী রোগীর চিকিৎসার পায়ে হেঁটে গেছেন মাইলের পর মাইল দূরত্বে। যদিও সেময়ের রাস্তাঘাট আজকের দিনের মতো এত মসৃন ছিল না।

যে মানুষটি তিন/চারমাইল ব্যাসার্ধ্যের মধ্যে নিজ বিদ্যা দিয়ে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল মানুষের চিকিৎসা সেবায় জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো দিয়ে গেছেন, সেই মনিন্দ্র কবিরাজের বাড়ীটি ’৭১ সালে প্রতিবেশী রাজাকারদের সহায়তা পাকি মিলিটারীরা আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। ভাগ্যক্রমে তিনি যুদ্ধের শুরুতে সপরিবারে ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়ে প্রানে বেঁচে যায়। যে সব রাজাকাররা সহোৎসাহে মনিন্দ্র কবিরাজ বাড়ীতে আগুন দিতে পাক হানাদারদের সাহায্য করেছিল, তাদের অনেকেরই জম্মের সময়কালে কিংবা তাদের পরিবারে কোন না কোন সন্তানের জম্মের সময় প্রসবকালে প্রসূতি মায়ের প্রসব যন্ত্রণা কমানোর জন্য মনিন্দ্র কবিরাজ আতুর ঘরের পাশের কক্ষে নবজাতককে সুস্হ রাখা ও মায়ের যন্ত্রনা কমানো ঔষুধ নিয়ে অপেক্ষা করেছিলেন। অকৃতজ্ঞ সেই নবজাতকরাই গায়ে গতরে বড় হয়ে একদিন হিন্দু বিদ্বেষী, সাম্প্রদায়িক ও রাজাকার হবে এবং পেয়ারে পাকিস্তান রক্ষায় জীবনদাতার বাড়ীতেই আগুন দিবে মনিন্দ্র কবিরাজ ঘূর্ণাক্ষরেও চিন্তা করেনি।

একাত্তরে যুদ্ধের পররবর্তী সময়ে মনিন্দ্র কবিরাজ ত্রিপুরা থেকে বাড়ীতে ফেরেন, তারপর স্বাধীন বাংলাদেশের হতাশা গ্রস্হ হয়ে পুনরায় দেশান্তরি হন স্বপরিবারে এবং ত্রিপুরা কিংবা পশ্চিমবঙ্গে কোন এক জায়গায় তিনি বংশধরদের জন্য নতুন ঠিকানায় রেখে গেছেন। সেই থেকে মনিন্দ্র কবিরাজ ও তার কবিরাজ বাড়ীর নাম শুধু অজানা ইতিহাস হয়ে রইল। চলবে… (চিত্রগুপ্ত)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

চিত্রগুপ্ত
চিত্রগুপ্ত এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, মে 2, 2017 - 1:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর