নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র
  • অর্বাচীন স্বজন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

৪৭, ৭১, ও আমি প্রর্থম পর্ব,


ভারত ১৯৪৬,,
দীর্ঘ ১৯০ বছর ধরে শাসন, শোষণ, পরিচালনা, পরিচর্যা করবার পর বৃটিশ সরকার (ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি + ইংরেজ সকার ) তাদের ভারতীয় ভূখন্ডে থাকা রাজত্ব ত্যাগ করবে,,
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পড়বর্তি পরিস্তিস্থিতে বৃটিশ সরকার ভারতীয় ভূখন্ডে থাকা তাদের রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে ইচ্ছুক নয়।
এবং এটা যতটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেটা করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ।

যে ভূখন্ডে সাম্রাজ্যে ধরে রাখবার জন্য ভয়ঙ্কর হিংস্র ইংরেজদের দেখা মিলেছে,,
সেটি ত্যাগ করতে তারা এখন খুবিই ব্যস্ত।
তবে বিষয়টি অত সহজ নয়, কারন ভারত হল অনেক ভাষা, ধর্ম, জাতিসত্তার, এক যৌগ মিথস্ক্রিয়া, যে মিথস্ক্রিয়া অতিতে অনেক গলিত পোড়া মাংশপিন্ডের সাক্ষ্য হয়েছে।
ভারতে থাকা ৪০ কোটি জনোগোষ্ঠি বহু ভাষা, বহু ধর্ম, বহু জাতিতে বিভক্ত তবে একটি বিষয় বহুদিন ধরে তাদের এক সাথে বেধে রেখেছে,, সেটা হচ্ছে, ইংরেজ শ্বাসন।
এই বাধন খুলে যাবার নিশ্চয়তা বাতাসে ভয়, অবিশ্বাস, সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
ইতিহাস শাক্ষি ভয়, অবিশ্বাস, সন্দেহ হল রাজনৈতিক ফায়দা তোলার আদর্শ পরিবেশ।
ডিম্ববতি কৈ মাছ যেমন বৃষ্টির নুতন জল পেলে পাড়ে উঠে আসে,
তেমনি এমন, সন্দেহ, ভয়, অবিশ্বাসের পরিবেশে ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ফায়দা তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই আবহাওয়ায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রধান মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার ধর্মের ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করে, পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান নামের দুটি পৃর্থক রাষ্ট্র গঠনের পুরোনো প্রস্তাব আবার পুনুরুউত্থাপন করলেন এবং তার এই প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের কাছে জনপ্রিয়তা পেল,, এবং এই জনপ্রিয়তা পাবার কারন খুব সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়।
প্রর্থমত, মুসলিমরা হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ গনতন্ত্রে বাস করতে ভিত ছিল, কারন হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ গনতন্ত্রে ভারতীয় মুসলিমদের ( মুসলিমলীগ ) পক্ষে সরকার গঠন করা অসম্ভব। কারন সংখ্যগরিষ্ঠ হিন্দু কখনো মুরলিম সরকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেবে না।
দ্বিতীয়ত,, ইংরেজদের চলে যাবার পরে ভারতীয় সরকার যা নিশ্চত ভাবেই হিন্দুদের দ্বারা গঠিত হবে, সে সরকার ভারতীয় মুসলমানদের উপড় তাদের সদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে।
সুতরাং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র গঠন করবার দাবি করাটা মুসলিমদের পক্ষ থেকে একদম স্বাভাবিক বিষয়, যদিও তাতে একটি বড় সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠি প্রধানত ভারতের দুটি অঞ্চলে বাস করে, উত্তর পশ্চিম অঞ্চলে ও পূর্ব অঞ্চলে যা একে অপরের সাথে হাজার কিলেমিটার দূরত্বে আবস্থিত, যবদের ভাষা, বা সাংস্কিৃতিক মিল নেই। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল লিয়ে একটি পৃর্থক রাষ্ট্র গঠন করতে হলে হাজার কিলোমিটার দূরে দুটি পৃর্থক ভূখন্ড নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। ( এই সমস্যাটিই ১৯৭১ সলে নুতন করে লক্ষ লক্ষ গলিত পোড়া লাশের জন্ম দিবে )
ভরতের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল ভারতীয় কংগ্রেস পার্টি এই প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করেছে।
কংগ্রেস নেতা ও ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদ্বয় জওহরলাল নেহেরু ও বল্লভভাই পটেল দুজনের কেউই, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহের এই প্রস্তাবে খুশি ছিলেন না,, এবং ভারতীয় হিন্দুরাও এই প্রস্তাবের ব্যাপারে আগ্রহী ছিল না। হিন্দুদের কাছে ভারতকে ভেঙ্গে মুসলিমেদের জন্য পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির প্রস্তাব সমর্থন না পাবার কারাটাও খুব সহজে বাখ্যা করা যায়।

প্রর্থমত,, সংগরিষ্ঠরা কখনো নিজেদেরকে সংখ্যালঘুর জন্য হুমকি মনে করেনা তাই ইংরেজ সাশনের আবসানের পরে মুসমানরা হিন্দুদের কাছ থেকে আক্রমনের শিকার হতে পারে এই বিষয়টি সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের মেনে নেবার কোন কারন নেই।
দ্বিতীয়ত,, ভারত ভেঙ্গে যদি মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান নামক পৃর্থক রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয় তাহলে পাকিস্তানের অংশে যে সমস্ত হিন্দুদের বাসস্থান তাদের কি হবে ?

স্বভাবিত ভাবেই ইংরেজ সরকারের কাছেও মুসলমানদের জন্য পৃর্থক রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে মুসলিম লীগের প্রধান মুহাম্মদ আলী জিন্নাহের প্রস্তাব কোন সুখের বিষয় নয়, কারন ভারতকে ভাগ কবাব বড়তি দায়িত্ব নেবার কোন কারন ইংরেজ সরকাররে কাছে নেই। আর কাজটা ততটা সহজ নয় কারন ভারতকে ভাগ করা মানে শুধু দুটি রাষ্ট্রের সীমারেখা নির্ধারণের মধ্য সীমাবদ্ধ নয়,, এর অর্থ হল, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাগ, অর্থের ভাগ, সিভিল সার্ভিসের ভাগ, শিল্প নিদর্শনের ভাগ, এমনকি লাইব্রেরির বই প্রর্যন্ত ভাগ করবার দায়িত্ব যা কোন মতেই ইংরেজ সরকার নিতে ইচ্ছুক নয়। আর ইংরেজদের প্রধান লক্ষ যখন যত দ্রত সম্ভব ভারত ত্যাগ তখন এটা আরো চাপের বিষয়।

১৯ই ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ ব্রিটিশ সরকার পার্লামেন্টে ঘোষনা করলো যে তারা তিনজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমন্বয়ে তৈরি একটি প্রতিনিধি দল ভারতে পাঠাবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ছে, যদের দায়িত্ব হবে ভারতের রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের সাথে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে আলচনা করা।

১৩ই মার্চ ১৯৪৬ ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি হাউজ অভ কমেন্সে দেয়া তার বক্তব্যেতে বললেন,, ক্যাবিনেট প্রতিনিধি দল ভালকিছু করবার আশাবাদ নিয়ে ভারতে যাবে, এবং তাদের আন্তরিকতা দিয়ে সর্বচ্চ চেষ্টা করবে যাতে ভারতীয়রা যত দ্রুত সম্ভব তাদের পরিপূর্ন স্বাধীনতা পায়,, এটা ভারতীয়রা নির্নয় করবে যে কোন ধরনের সরকার বর্তমান সরকারের স্থান নিবে, তবে তিনি আশা করেন যে তারা ( ভারত ) ব্রিটিশ কমনওয়েলথ এর অংশ হবে । বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা ভারতীয় সংখ্যালঘুদের নিয়েও চিন্তিত, আমরা আশা করি ক্যাবিনেট মিশন কোন ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের কাজ করতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে আমরা সংখ্যালঘুদের সংখ্যাগরিষ্ঠদের উন্নতিতে বাধাসৃষ্টি করতে দিতে পারি না।

মার্চ ২৩, ১৯৪৬,, ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট এটলির উদ্দোগে তৈরি একটি প্রতিনিধি দল ( Cabinet Mission to India ) ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলচনা ভারতের করাচীতে ও ২৪ই মার্চ দিল্লিতে পৈৗছলো। এই প্রতিনিধি দলে আছেন, লর্ড পেঠিক-লরেন্স, ভারত সচিব, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রপস, বাণিজ্য বোর্ডের সভাপতি এবং , এ, ভি, আলেকজান্ডার অ্যাডমিরালটির প্রথম লর্ড।


তাদের দায়িত্ব হল কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ইংরেজদের কাছ থেকে ভারতীয়দের হাতে ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর করা সম্ভব তার উপায় খোজা।
এটি করতে হলে তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে ভারতের প্রধান দুটি রাজনেতিক দল ভারতীয় কংগ্রেস, ও সর্ব ভারতীয় মুসলিমলীগের মধ্য একটি ঐক্য পৈৗছানো।
দিল্লি তে পৈৗছাবার পর, তিন সদশ্য বিশিষ্ট ক্যাবিনেট মিশন একটি বৈঠক পূর্ব সংবাদ সম্মিলনের আয়জন করলো,, লর্ড পেঠিক-লরেন্স, তাদের আলচলা চলাকালীন সময় তারা কি কি নিয়ম অনুসরন করবেন তার বিষয়ে সাংবাদিকদের ধারনা দিলেন। তারা বললেন যে তারা কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আসেননি,, না কাগজে না মাথায় ।

দিল্লিতে তারা তাদের প্রর্থম কাজ হিসেবে ভারতে নিযুক্ত ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল সাথে বৈঠক করলেন,, লর্ড ওয়াভেল হলেন এই ক্যাবিনেট মিশনের চথুর্থ সদস্য, যদিও তিনি এই আলচনার প্রতিটি পদক্ষপে অংশ নিবেন না। নিজেদেরকে বর্তমান ভরতীয় রাজনৈতিক পরিবেশের সাথে পরিচিত করতে,, তারা প্রাদেশিক গভর্নরদের সাথেও আলচনা করলেন।
ক্যাবিনেট মিশন ভারতের গুত্বপূর্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আলচনা করবার জন্য আমন্ত্রন জানালেন।
দিল্লিতে ক্যাবিনেট মিশন ভারতীয় রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিদের সাথে আলচনা শুরু করলো। এদের মধ্য আছেন কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহেরু, বল্লভভাই পটেল, অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রধান মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ এই দুটি দলের উপড়েই আলচনার সফলতা ব্যর্থতা নির্ভর করছে। আরো স্পষ্ট করে বললে এদের উপড়ে এই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রকৃয়া রক্তপাতহীন ভাবে হবে কিনা সেটা নির্ভর করছে। ক্যবিনেট মিশনের সদস্যরা প্রাদেশিক সরকার ও বিরোধী দলের সাথেও অলচনা করলেন। তা ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিত্বের সাথেও আলচনা করা হল. এপ্রিলের ৩ তারিখ কংগ্রেস সভাপতি আব্দুল কালাম আজাদ, কংগ্রেসের পক্ষে প্রস্তাব পেশ করলেন।

ক্যাবিনেট মিশন দ্রুতই বুঝতে পারলেন যে আলচনা সফল হবার বিষয়টি সহজ হবে না।
ক্যাবিনেট মিশন সদস্য এ, ভি, আলেকজান্ডার ১৬ই এপ্রিল তার ডায়রিতে, অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রধান মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্পর্কে লিখেছিলেন।
উত্তর দেবার বিষয়ে কাউকে এতটা ঘুরাঘুরি করতে আগে কখনো দেখিনি,, আমি এটা বুঝেছি যে, কোটি কোটি মানুষের জীবন মরনের প্রশ্ন নিয়ে তিনি একধরনের খেলা করছেন যার উদ্দেশ্য হল, আলচনায় জয়ী হওয়া। তাঁর কৌশল হল প্রর্থমে বাড়িয়ে কোন দাবি পেশ করা তারপর এমন আচারন করা যে তার পক্ষে কিছুতেই এই দাবির কোথায়ও কোন ধরনের ছাড় দেবার কোন উপায় নেই, এরপর তিনি শুধু অপেক্ষা করেন, অন্য পক্ষ তার প্রস্তাবের কি উত্তর দেয়, সেই উত্তস পেলে তারপর সেটা ফিরিয়ে পুরুরায় উত্তর পাবার জন্য অপেক্ষা করা।


ক্যাবিনেট মিশন তাদের প্রার্থমিক প্রস্তাবনা বিবেচনা করবার জন্য ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে সময় দেবার উদ্দেশ্য ১৭ই এপ্রিল থেকে ২৩শে এপ্রিল প্রর্যন্ত কাশ্মীরে অবকাশ যাপন করতে দিল্লি প্রস্থান করেন।
কাশ্মীর থেকে ফিরে এসে ক্যাবিনেট মিশন পুনুরায় আলচনা শুরু করলো কিন্তু ক্যাবিনেট মিশন মুসলিমলীগ ও কংগ্রেসকে কোন নির্দিষ্ট প্রস্তাবনায় রাজি করতে ব্যর্থ হল।
তারপরে ক্যাবিনেট মিশন তাদের প্রস্তাবনা পুনুরবিবেচনা করবার পর আবার ভারতীয় রাজনৈতিক দল ও নেতাদের আলচনার জন্য আমন্ত্রন জানান।
দিল্লির প্রার্থমিক আলচনা একরকম ব্যার্থ হবার পরে ক্যাবিনেট মিশনের আমন্ত্রনে ৫ই মে ১৯৪৬তে সিমলায় পুনুরায় আলচনা শুরু হল। এই আলচনায় কংগ্রেসের চার সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল অংশগ্রহন করে, প্রতিনিধি দলে ছিলেন, কংগ্রেস সভাপতি, মাউলানা আবদুল কালাম আজাদ, জওহরলাল নেহেরু, বল্লভভাই পটেল,
এটা একটি লক্ষনিয় বিষয় যে চার সদস্যবিশিষ্ট কংগ্রেস প্রতিনিধি দলে দুজনেই মুসলিম, এর একটি প্রধান কারন ছিল ক্যাবিনেট মিশনের সামনে এটা প্রমান করা যে আল ইন্ডিয়া মুসলিমলীগ বা মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ কোন মতেই ভারতে বসবাসকারী সব মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করে না।
মুসলিম লিগের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রধান মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, আব্দুর রব নিস্তার, লিয়াকত আলি খাঁ, নবাব মুহাম্মদ লিয়াকত খাঁ।

আলচনা চলাকালীন অন্যতম লক্ষণীয় বিষয় যে, অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রধান মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কংগ্রেস সভাপতি, মাউলানা আবদুল কালাম আজাদের সাথে সৌজন্যমূলক করোমরদন করতে অস্বিকার করেন। এর একটি কারন হতে পারে যে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কংগ্রেসকে হিন্দুদের দল হিসেবে মনে করতেন তাই মওলানা আবদুল কালাম আজাদকে কংগ্রেস প্রতিনিধি হিসেবে মানতে অস্বিকার করেন।
বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয় এই বিষয়ে যখন ক্যাবিনেট মিশন মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস আলচনা করবার প্রস্তাব দেয় এর জবাবে, মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ বলেন যে তিনি কংগ্রেসের যেকোন হিন্দু নেতার সাথে আলচনার জন্য প্রস্তুত আছেন, অর্থাৎ স্পষ্ট করে বলা যে তিনি, কংগ্রেস সভাপতি, মাউলানা আবদুল কালাম আজাদের সাথে আলচনা করতে ইচ্ছুক নন।
বৈঠকের এক প্রর্যায়ে কংগ্রেস ও মুসলিমলীগ উভয়ে তাদের প্রস্তাবনা ক্যাবিনেট মিশনে উত্থাপন করলো।
কংগ্রেস সভাপতি মউলানা আবদুল কালাম আজাদ কংগ্রেসের প্রস্তাবনা ক্যাবিনেট মিশনের কাছে পেশ করলো। যদিও তখন মউলানা আবদুল কালাম আজাদ ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি, তারপরেও তার ক্ষমতা ছিল সমিাবদ্ধ মূলত কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে জওহরলাল নেহেরু, বল্লভভাই পটেল, এই দুই রাজনিতীবিদের উপরে।


ক্যাবিনেট মিশনের সদস্যরা, শিখ প্রতিনিধিদ মাস্টার তারা সিং, জ্ঞানী কাতার সিং, ও হারনাম সিং এদের সাথে কথা বললেন শিখ প্রতিনিধি দল তাদের প্রস্তাবনা পেশ করলো, আরেক শিখ নেতা বল্লব সিং পৃর্থক প্রস্তাবনা পেশ করলো. তারা সবাই শিখদের জন্য পৃর্থক রাষ্ট্র গঠনের দাবি করলেন বিশেষ করে যদি ভারতকে বিভক্ত করা হয়। শিখ নেতারা দাবি করলেন যে তারা ভারত বা পাকিস্তান কারো অধিনেই নিরাপদ বোধ করবেন না, তবে তারা সবাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির বিপক্ষে ছিলেন। শিখ নেতাদের এমন সিদ্ধান্ত সহজেই বোঝা সম্ভব, কারন শিখ সম্প্রদায় নিজেদের জন্য একটি পৃর্থক রাষ্ট দাবি করায় ভারত ভাগের বিষয়টি আরো জটিল করবে, যা ইংরেজ সরকারকে ভারত ভাগের সিদ্ধান্ত নিতে আরো সমস্যায় ফেলবে।
আবার যদি এই দবির ফলে যদি শিখ সম্প্রদায়ের জন্য পৃর্থক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হয় তাহেলে শিখ সম্প্রদায়কে মুলমান বা হিন্দু পরিচালিত সরকারের অধিনে থাকতে হবে না। একটি বিষয়ে একদম নিশ্চিত ভাবই বলা যায় শিক স্প্রদায় মুসমাদের শাষণে থাকতে রাজি ছিল ন।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রধান মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, তার পুরোনো প্রস্তাব অর্থৎ ভারত ভেঙ্গে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল গুলোকে নিয়ে হিন্দুস্থান নামের দুটি পৃর্থক রাষ্ট গঠনের প্রস্তাব পুনুরায় উপস্থাপন করলেন।
কংগ্রেস সদস্যরা কোন অবস্থাতেই ভারতকে বিভক্ত করতে রাজি ছিলেন না।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পার্থমিক আলচনা শেষে ১৬ মে কেবিনেট মিশন তাদের প্রস্তাব পেশ করলো।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মাইকেল অপু মন্ডল
মাইকেল অপু মন্ডল এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 2, 2017 - 4:17অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর