নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

জীবনানন্দ দাশের প্রিয় পঙক্তিরা



প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। কার্তিকে নবান্নের দেশে, ধানসিঁড়ি নদীর দেশে কবির জন্ম। কবি ভালোবেসেছিলেন এদেশের মাঠ-প্রান্তর, নদী, গাছপালা, ফুল-ফল, পশু-পাখি-পতঙ্গ- সবকিছুকে। প্রকৃতির প্রতি এতো প্রেম, এতো দরদ আমি খুব কম কবির কবিতায় পেয়েছি।

জীবনানন্দকে যতো পড়ি, ততো মুগ্ধ হই। জীবনানন্দের জীবন আনন্দের ছিলো না, অথচ তাঁর কবিতা আজও আমাদের মনকে আনন্দ দেয়। এই আনন্দ আমাদের চারপাশের সমস্ত সৃষ্টি ও সৌন্দর্যকে ভালোবাসার প্রেরণা দেয়। এই ভালোবাসার আনন্দ জাগাতে পারে যে কবি, সে কি কখনো মরে যেতে পারে হৃদয় থেকে?

জীবনানন্দের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কয়েকটি কবিতা থেকে প্রিয় কিছু পঙক্তি লিখে রাখলাম। সব লিখতে পারিনি বলে আক্ষেপ রইলো যদিও।

অনেক অপরিমেয় যুগ কেটে গেল;
মানুষকে স্থির—স্থিরতর হতে দেবে না সময়;
সে কিছু চেয়েছে বলে এত রক্তনদী। — (কবিতা: শ্যামলী)

একটি পয়সা আমি পেয়ে গেছি মাঠকোটা ঘুরে,
একটি পয়সা আমি পেয়ে গেছি পাথুরিয়াঘাটা,
একটি পয়সা যদি পাওয়া যায় আরো—
তা হলে ঢেঁকির চাল হবে কলে ছাঁটা। — (কবিতা: ভিখিরি)

পৃথিবীর রাজপথে—রকপথে—অন্ধকার অববাহিকায়
এখনও মানুষ তবু খোঁড়া ঠ্যাঙে তৈমুরের মতো বার হয়। — (কবিতা: আবহমান)

সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে—এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;
সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;
এ বাতাস কী পরম সূর্যকরোজ্জ্বল; —
প্রায় তত দূর ভালো মানব-সমাজ
আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে
গড়ে দেব, আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে। — (কবিতা: সুচেতনা)

ঘাসের ভিতর ঘাস হয়ে জন্মাই কোনো এক নিবিড় ঘাস-মাতার
শরীরের সুস্বাদ অন্ধকার থেকে নেমে। — (কবিতা: ঘাস)

অন্ধকার রাতে অশ্বত্থের চূড়ায় প্রেমিক চিলপুরুষের শিশির-ভেজা চোখের মতো
ঝলমল করছিল সমস্ত নক্ষত্রেরা—(কবিতা: হাওয়ার রাত)

আকাশের বিরামহীন বিস্তীর্ণ ডানার ভিতর
পৃথিবী কীটের মতো মুছে গিয়েছে কাল!—(কবিতা: ঘাস)

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল; —(কবিতা: বনলতা সেন)

হয়তো ধানের ছড়ার পাশে
কার্তিকের মাসে—
তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে—তখন হলুদ নদী
নরম নরম শর কাশ হোগলায়— মাঠের ভিতরে।—(কবিতা: কুড়ি বছর পরে)

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার—
তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার-আমার! —(কবিতা: কুড়ি বছর পর)

সোনালি সোনালি চিল—শিশির শিকার করে নিয়ে গেছে তারে—
কুড়ি বছরের পরে সেই কুয়াশায় পাই যদি তোমারে।— (কবিতা: কুড়ি বছর পরে)

আমার হৃদয় পৃথিবী ছিঁড়ে উড়ে গেল,
নীল হাওয়ার সমুদ্রে স্ফীত মাতাল বেলুনের মতো গেল উড়ে,
একটা দূর নক্ষত্রের মাস্তুলকে তারায় তারায় উড়িয়ে নিয়ে চলল
একটা দুরন্ত শকুনের মতো। — (কবিতা: হাওয়ার রাত)

তোমার পাখনায় আমার পালক, আমার পাখায় তোমার রক্তের স্পন্দন—
নীল আকাশে খইক্ষেতের সোনালি ফুলের মতো অজস্র তারা,
শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড়ে
সোনার ডিমের মতো
ফাল্গুনের চাঁদ। — (কবিতা: আমি যদি হতাম)

কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে! — (কবিতা: হায় চিল)

পেঁচার ধূসর পাখা উড়ে যায় নক্ষত্রের পানে—
জলা মাঠ ছেড়ে দিয়ে চাঁদের আহ্বানে — (কবিতা: বুনো হাঁস)

এ পৃথিবী একবার পায় তারে, পায় নাকো আর। — (কবিতা: শঙ্খমালা)

আবার আকাশে অন্ধকার ঘন হয়ে উঠছে:
আলোর রহস্যময়ী সহোদরার মতো এই অন্ধকার। — (কবিতা: নগ্ন নির্জন হাত)

হাজার হাজার বছর আগে এক রাতে তেমনি—
তেমনি একটি তারা আকাশে জ্বলছে এখনও। — (কবিতা: শিকার)

জানো না কি চাঁদ,
নীল কস্তুরী আভার চাঁদ,
জানো না কি নিশীথ,
আমি অনেক দিন—
অনেক-অনেক দিন
অন্ধকারের সারাৎসারে অনন্ত মৃত্যুর মতো মিশে থেকে
হঠাৎ ভোরের আলোর মূর্খ উচ্ছ্বাসে নিজেকে পৃথিবীর জীব বলে
বুঝতে পেরেছি আবার; — (কবিতা: অন্ধকার)

একবার যখন দেহ থেকে বার হয়ে যাব
আবার কি ফিরে আসব না আমি পৃথিবীতে?
আবার যেন ফিরে আসি
কোনো এক শীতের রাতে
একটা হিম কমলালেবুর করুণ মাংস নিয়ে
কোনো এক পরিচিত মুমূর্ষুর বিছানার কিনারে। — (কবিতা: কমলালেবু)

স্থবিরতা, কবে তুমি আসিবে বল তো। — (কবিতা: স্বপ্নের ধ্বনিরা)

একজন সামান্য মানুষকে দেখা যেত রোজ
ছিপ হাতে চেয়ে আছে; ভোরের পুকুরে
চাপেলি পায়রাচাঁদা মৌরালা আছে;
উজ্জ্বল মাছের চেয়ে খানিকটা দূরে
আমার হৃদয় থেকে সেই মানুষের ব্যবধান;
মনে হয়েছিল এক হেমন্তের সকালবেলায়;
এমন হেমন্ত ঢের আমাদের গোল পৃথিবীতে
কেটে গেছে; তবুও আবার কেটে যায়। — (কবিতা: সামান্য মানুষ)

সে অনেক লোক লক্ষ্য অসম্ভবভাবে মরে গেছে।
ঢের আলোড়িত লোক বেঁচে আছে তবু।
আরও স্মরণীয় উপলব্ধি জন্মাতেছে।
যা হবে তা আজকের নরনারীদের নিয়ে হবে।
যা হল তা কালকের মৃতদের নিয়ে হয়ে গেছে।–(কবিতা: পৃথিবীর রৌদ্রে)

ইতিহাসের ব্যাপক অবসাদের সময় এখন, তবু, নরনারীর ভিড়
নব নবীন প্রাক্‌সাধনার; –নিজের মনের সচল পৃথিবীকে
ক্রেমলিনে লণ্ডনে দেখে তবুও তারা আরও নতুন অমল পৃথিবীর।–(কবিতা: প্রয়াণপটভূমি)

অধিকা গভীরভাবে মানবজীবন ভালো হলে
অধিক নিবিড়তরভাবে প্রকৃতিকে অনুভব করা যায়।–(কবিতা: সূর্য রাত্রি নক্ষত্র)

যে সমাজ নেই তবু রয়ে গেছে, সেখানে কায়েমী
মরুকে নদীর মতো মনে ভেবে অনুপম সাঁকো
আজীবন গড়ে তবু আমাদের প্রাণে
প্রীতি নেই—প্রেম আসে নাকো।–(কবিতা: জয়জয়ন্তীর সূর্য)

কাজ ক’রে ভুল হলে, রক্ত হলে মানুষের অপরাধ ম্যামথের নয়
কত শত রূপান্তর ভেঙ্গে জয়জয়ন্তীর সূর্য পেতে হলে।–(কবিতা: জয়জয়ন্তীর সূর্য)

একটি বিরাট যুদ্ধ শেষ হয়ে নিভে গেছে প্রায়।
আমাদের আধো-চেনা কোনো-এক পুরোনো পৃথিবী
নেই আর। আমাদের মনে চোখে প্রচারিত নতুন পৃথিবী
আসে নি তো।–(কবিতা: উত্তরসামরিকী)

যদিও আজ রাষ্ট্র সমাজ অতীত অনাগতের কাছে তমসুকে বাঁধা,
প্রাণাকাশে বচনাতীত রাত্রি আসে তবুও তোমার গভীর এরিয়েলে।–(কবিতা: গভীর এরিয়েলে)

আমাদের প্রবীণেরা আমাদের আচ্ছন্নতা দিয়ে গেছে?
আমাদের মনীষীরা আমাদের অর্ধসত্য বলে গেছে
অর্ধমিথ্যার? জীবন তবুও অবিস্মরণীয় সততাকে
চায়; তবু ভয়—হয়তো বা চাওয়ার দীনতা ছাড়া আর কিছু নেই।–(কবিতা: ইতিহাসযান)

ঢের ছবি দেখা হল—ঢের দিন কেটে গেল—ঢের অভিজ্ঞতা
জীবনে জড়িত হয়ে গেল, তবু, নক্ষত্রের রাতের মতন
সফলতা মানুষের দূরবীনে রয়ে গেছে, —জ্যোতির্গ্রন্থে;
জীবনের জন্যে আজও নেই।–(কবিতা: ইতিহাসযান)

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফাহিমা কানিজ লাভা
ফাহিমা কানিজ লাভা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 9 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 16, 2014 - 2:55অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর