নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • এলিজা আকবর
  • পৃথ্বীরাজ চৌহান
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

রোগীর কয়েকটি প্রাইভেট প্রশ্ন (উত্তরসহ)


কিছুদিন ধরে এক রোগীর লেখা ব্লগে দেখতে পাচ্ছি...রোগীটির নাম "লজিক্যাল বাঙালি" কিছুদিন ধরে তিনি বোয়াল মাছ আর পুঁতি মাছকে একই বলতেছেন! তাই এই লেখাটি অই রুগীর জন্য এবং সে ধরণের সকল রুগীদের জন্য............

প্রশ্নঃ আপনারা তো উপজাতি। নিজেদেরকে এভাবে আদিবাসী বলছেন কেন?
উত্তরঃ প্রথমেই বলি, ‘উপজাতি’ শব্দটা যে বা যারাই প্রচলন করে থাকুক তাদের মাথায় হয়তো ছিলনা যে, যাদের উপর শব্দটি প্রযোজ্য হচ্ছে তারা সেই শব্দটাকে একমসয় কিভাবে নিবে, বিশেষত শিক্ষার বিস্তারের সাথে সাথে। এমনও হতে পারে শাসকশ্রেণী সচেতন ভাবেই কাজটি করেছে, উপজাতি বলতে ছোট, অধঃস্তন, নিম্নশ্রেণীর জাতিকে বোঝানো হয় এটা মাথায় রেখেই করেছে।
অন্যথায় ইংরেজি ট্রাইব শব্দের বাংলা কোন বিচারেই ‘উপজাতি’ হয় না। ‘উপ’ বলতেই চোখের সামনে ভাসে যারা এখনও জাতি হয়ে উঠেনি। জাতির ‘উপ’ কিভাবে হয়; আমার থেকে ভিন্ন একটি জাতিকে সংখ্যায় ছোট বলে আমি উপজাতি বলতে পারিনা। বিষয়টা যাদেরকে বলা হচ্ছে তাদের জন্য খুবই অপমানজনক এবং অসম্মানজনক, সেকারণেই যথাযথ নয়।
কথা হচ্ছে কেউ যদি না চায় আপনি তো তাকে সেই নামে ডাকতে পারেন না৷ ‘আদিবাসী’ সে তুলনায় কিছুটা সম্মানজনক। বাংলা সাহিত্যের লেখকরা শব্দটা বহু আগে থেকেই ব্যবহার করে আসছেন৷ শব্দটার দ্বারা কাদের বুঝানো হয় তাও খুব স্পষ্ট।
প্রশ্নঃ কিন্তু আদিবাসী মানে তো আদি বাসিন্দা। আপনারা তো অঞ্চলের আদি বাসিন্দা না।
উত্তরঃ দেখুন আপনি যদি ‘আদিবাস’ হিসাব করে আগান তাহলে এদেশের মুল আদিবাসী হলো কিছু ছোট সম্প্রদায় যাদের আপনারা এখনও ‘উপজাতি’ আখ্যা দিয়ে রেখেছেন ভারতীয় উপমহাদেশের পটভূমিতে দেখলে সাঁওতাল, মুণ্ডা, ওঁরাও, ইরুলা ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর মূল অস্ট্রো-এশিয়াটিক, প্রায় ৩০ হাজার বছর আগে ফিরে যেতে হবে- আর্য, নিষাদ বা দ্রাবিঢ়দের আগমনের বহু আগে থেকেই এরা এখানে ছিল।
কিন্তু আদিবাস হিসাব করে আদিবাসী শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি, অন্তত বাংলা ভাষায়। বিংশ শতকের প্রথম ভাগে সাঁওতাল বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, কোচ-মুণ্ডা বিদ্রোহ– ইত্যাদি রক্তক্ষয়ী আন্দোলনকে নিখিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রথম ‘আদিবাসী বিদ্রোহ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে; সেই সময় থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দটি সাহিত্য এবং লেখালেখিতে প্রচলিত হতে থাকে।
ভারতে তিব্বতি-বর্মী জনগোষ্ঠীর আগমন পরে হলেও তাদেরকে আদিবাসী বলে গণ্য করা হয়। এর মূল কারণ- যে সমস্ত জায়গায় তারা বসতি করেছে সেখানে ভারতের বৃহত্তর আর্য-দ্রাবিড় গোষ্ঠী আস্তানা গাড়ে নি। তাই নাগা, আপতানি ও খাসিদেরও সেখানে আদিবাসী বলে গণ্য করা হয়। … এদেশেও বহু জনগোষ্ঠি আছে ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সীমানা নির্ধারিত হবার আগে থেকেই যারা এখানে বাস করে আসছে৷
অষ্টাদশ শতকে মণিপুরিরা মণিপুর থেকে এঅঞ্চলে বসতি গেড়েছে, জঙ্গলাকীর্ণ প্রাকৃতিক ভূখন্ড বাসযোগ্য করেছে৷ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িরা এসেছে তারও আগে৷ কিছু পার্বত্য জাতির পরিচয় এখানেই সৃষ্টি ও বিকাশ হয়েছে৷ পার্বত্য অঞ্চলে ভাষাগত সংখ্যালঘু প্রান্তিক জনগোষ্ঠিরাই আদি বাসিন্দা; সেই হিসাবে বর্তমানে তারা যেখানে বাস করছে সেটাই তাদের আদি আবাসস্থল।
বিভিন্ন ব্রিটিশ ও ভারতীয় লেখকদের একাউন্ট এবং জনগণনার রিপোর্টগুলো তাই বলে। ১৯৪৭ সালে যে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের সংখ্যা ছিল শতকরা আটানব্বই ভাগ। এইসব উপাত্ত দেখেই বুঝা যায় ঐসব স্থানে সবার আগে কারা বসতি স্থাপন করেছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে অসংখ্য আইন ও দলিলপত্রে এইসব জনগোষ্টিকে চিহ্নিত করতে ‘ইন্ডিজিনাস’ এবং ‘ট্রাইবাল’ কথাটি ব্যবহৃত হয়, যা ‘আদিবাসী’ কথার সমর্থক।
প্রশ্নঃ কিন্তু জাতিসংঘ ‘ইন্ডিজিনাস’ বা আদিবাসীর যে সংজ্ঞা নিরুপণ করেছে সে অনুসারে দেখা যায় বাঙালিরাই আদিবাসী, আইএলও কনভেশনে বলা আছে উপজাতিরা আদিবাসী না ইত্যাদি। এ বিষয়ে অনেক লিংক আছে।
উত্তরঃ জাতিসংঘ ‘ইন্ডিজিনাস’ এর যে সংজ্ঞা নিরুপণ করেছে সে অনুসারে অগ্রসর হলে পাহাড়িদেরকেই আদিবাসী বলতে হবে। আইএলওর সংজ্ঞা অনুসারেই। একটা রাষ্ট্রের সংখ্যাগুরু ও মুলস্রোতের জাতি জাতি কখনও আদিবাসী হয় না। বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও এমন দাবী করা হয়না।
আইএলও’র সংজ্ঞায় আদিবাসী বলতে রাষ্ট্রসীমানায় বসবাসরত প্রান্তিক জন যারা স্মরনাতীত কাল থেকে নিজেদের সামাজিক,অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রথাগুলো ধরে রাখতে পেরেছে। বিশ্ব ব্যাংক কার্যক্রম নীতিমালায় আদিবাসী/ইনডিজিনিয়াস বলতে সার্বিক স্বতন্ত্র, বিপন্ন এবং ঝুঁকিগ্রস্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এক জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে। ..লিংক আমার কাছেও অনেক আছে।
প্রশ্নঃ আচ্ছা এই আদিবাসী পরিচয়ে জাতিসত্তাগুলোর পরিচয় আড়াল হয়ে যাচ্ছে না?
উত্তরঃ এক্সেক্টলি। উপজাতি বা আদিবাসী এইরকম ক্যাটাগরিকরনের ধারনার সাথে ব্যাক্তিগতভাবে আমি একমত নই। এরকম ক্যটাগরিকরনে অনেকেরই জাতিগত পরিচয় বিলীন হয়ে যায় কারণ প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব জাতিগত পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
শ্রেনীকরনের সাথে শোষনের একটা যোগসূত্র আছে; দুর্বলদের একটা ক্যাটাগরিতে নিয়ে ফেলতে পারলে শোষণপ্রক্রিয়া সহজ হয়। কিন্তু সরকার এবং শাসকশ্রেণী যেহেতু ঠিক করেই ফেলেছে বাঙালিভিন্ন সবাইকে একটা ক্যাটাগরিতে নিয়ে ফেলবে, তাই আমি আদিবাসী শব্দটির পক্ষে নিজের অবস্থান নিয়েছি।
প্রশ্নঃ ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি’তে সমস্যা কি?
উত্তরঃ ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি’র সাথে ‘উপজাতি’র আসলে বেসিক পার্থক্য নাই। দুইটাই ছোট বা ক্ষুদ্রতার পরিচায়ক। এটা মনস্তত্তের বিষয়। একটা মানুষকে সে যে ক্ষুদ্র সেটা তার নাম দিয়েই স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাঙালি আগে ছিল একাই একশো, মানে জাতি; আর বাকি যারা তারা ছিল সব উপজাতি।
এখন সময় সুযোগ বুঝে তারা বলছে আমরাই আদিবাসী, আর বাকীরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি। কিন্তু এখানে বাঙালির সাংষ্কৃতিক বা ভাষিক পরিচয়টা আর থাকলো না, হয়ে গেল পুরোপুরি ভূগোলকেন্দ্রিক। মনস্তত্বটা এমন – রাষ্ট্র আমাদের অতএব আমরা বড় বা বৃহৎ, তোমরা ছোট বা ক্ষুদ্র।
প্রশ্নঃ রাষ্ট্র হঠাৎ আদিবাসী পরিচয়ের বিপক্ষে দাঁড়াল কেন?
উত্তরঃ রাষ্ট্র আসলে চাচ্ছে চার দশক ধরে ছোট ছোট জাতিদের উপর চলা জবরদখল দমন নীপিড়নকে আড়াল করতে, পাহাড় এবং সমতল দু’জায়গাতেই। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক জনগোষ্ঠি যেহেতু আদিবাসী বিষয়ে সেনসিটিভ, তাই আদিবাসী বিষয়ে দেশি বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন এনজিও বা একটিভিস্টদের কন্ঠ রুদ্ধ করা গেলে আন্তর্জাতিক চাপ আটকানো যাবে।
‘আদিবাসী’ শব্দটা এই শাসকশ্রেনীই কিন্তু একসময় ব্যবহার করেছে। এখন নতুন করে এর অর্থ নিরুপন করে হিসাবনিকাশ কষা হচ্ছে তার কারণ পুরোপুরি রাজনৈতিক৷ এর সাথে বলব সংখ্যাগুরু বাঙালিদের উগ্র জাতীয়তা ও হীনমন্যতার সুযোগ নিয়েই তা করা হচ্ছে অথচ এই রাজনীতিবিদেরাই একসময় আদিবাসী দিবসে বড় বড় বাণী দিয়েছে, মিছিল করেছে৷
প্রশ্নঃ আগে বললেন ‘উপজাতি’ ‘আদিবাসী’ শব্দগুলো আপনার অপছন্দ, তাহলে ‘আদিবাসী’র পক্ষে কেন দাঁড়ালেন?
উত্তরঃ আমি আসলে ‘আদিবাসী’ শব্দটাকে একটা একটা অধিকার রক্ষার মেকানিজম হিসাবে দেখছি। এইদেশে সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোর অধিকার যে ঠিকমত রক্ষা হচ্ছে না তাতো পরিস্কার দেখাই যায়। নাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী সংখ্যা এত অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫% থেকে ৫২% কিভাবে হয়?
সমতলে ইকোপার্কের নামে বা পরিবেশ সংরক্ষনের নামে বনভূমি দখল হচ্ছে, খাসিয়া বা গারোদের ভূমি কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এইসব আধিপত্যবাদ, জবরদখলের ঘটনা, নির্যাতনের সংবাদগুলো মিডিয়া ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে বরাবরের মত অবহেলিত থেকে যায়। সংখ্যালঘু জাতিসত্তাদের অধিকার নিয়েও কেউ কিছু বলে না। মাঝে মাঝে ছোট আকারের প্রতিবাদ হলেও তা কখনও রাষ্ট্রের কানে পৌঁছায়না। ‘আদিবাসী’ নাম নিয়ে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মহলে এদের সম্বন্ধে যদি সামান্য সচেতনতাও সৃষ্টি হয়, সেটুকুই হবে পাওনা।
প্রশ্নঃ কিন্তু শিক্ষা বা চাকরিতে আপনাদের তো ৫% কোটা দেয়া হয়। তাহলে এত হাউকাউ করেন কেন?
উত্তরঃ কোটা সিস্টেম আসলে একটা ব্যালেন্স রক্ষার সিস্টেম- একটা রাষ্ট্র্রের সব শ্রেণীর মানুষদেরর মধ্যে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্যে। আয় কর্মসংস্থান স্বাস্থ্য শিক্ষা অবস্থান ও অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিদের জন্য এই কোটাসুবিধা পৃথিবীর প্রতিটি দেশই দিয়ে থাকে। প্রতিবেশি ভারতসহ সব দেশেই আছে। এর সাথে আদিবাসী হওয়া না হওয়ার কোন সম্পর্ক নাই।
ভারতে মুসলিমদের জন্য ওবিসি কোটা আছে। বৃটিশ ভারতে বাঙালি মুসলিমরা কেবল কোটা নয়, পরীক্ষা ছাড়াই চাকরি পেতে চাইত। শেরে বাংলা, স্যার সলিমুল্লাহর মতো মানুষেরা কোটা সুবিধা নিয়ে সরকারি চাকরি করেছেন। কোটা সুবিধা যে কেবল ‘উপজাতি’রাই পায় তাতো না- মুক্তিযোদ্ধা কোটা, জেলা কোটা, মহিলা কোটা, পোষ্য কোটাও আছে। আর কয়জন কোটা সুবিধা ভোগ করে তাও বিবেচ্য বিষয়।
৫% হিসাবটা পুরোপুরি শুভংকরের ফাঁকি। শতকরা আশিভাগ সরকারী চাকুরিতে আদিবাসীদের জন্য এই কোটাবন্টন মানা হয় না। সরকারি স্কুলগুলোতে প্রতিবছর যতগুলো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় তার কয়জন ‘উপজাতি কোটা’য় নিয়োগ পায়?
বাংলাদেশের ৪৪টিরও বেশী আদিবাসী জনগোষ্ঠির জন্য সরকারী মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এবং ক্যাডেট কলেজ সবগুলো মিলিয়ে সাকুল্যে মাত্র ৮০টি আসন সংরক্ষিত আছে। শতকরা হিসাবে যেটা ০.২৫% এরও কম। পাহাড়ের কিছু অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহনের ব্যবস্থাও নাই। অস্তিত্বের সংকটের চেয়ে কোটা বড় নয়। একটা জাতির মানুষ যদি নিশ্চিহ্নই হয়ে যায় তাহলে কোটাসুবিধা দিয়ে আর কি হবে?
প্রশ্নঃ পাহাড়ি বা আপনার ভাষায় ‘আদিবাসী’রা সমতলে এসে আস্তানা গাড়তে পারলে সমতলের লোকেরা কেন পার্বত্য অঞ্চলে বসতি স্থাপন করতে পারবে না?
উত্তরঃ এই প্রশ্নটা ছাগু থেকে প্রগতিশীল সবাই করে থাকেন। কেউ না বুঝে করে। কেউ উত্তর জানা থাকা সত্ত্বেও করে কুতর্কের স্বার্থে। সবার আগে পাহাড়িদের সাথে আপনার সংস্কৃতির পার্থক্যটা বুঝতে হবে। এটা বিবেকের অন্তঃস্থল থেকে অনুধাবন করার বিষয়। একটা খিয়াং মেয়ে খোলামেলা পোশাকে পানি আনতে যাচ্ছে বা একজন ম্রো নারী স্বল্পবসনে জুমক্ষেত থেকে ফিরছে এই দৃশ্যের সাথে বাঙালি পরিচিত নয়। এটা পাহাড়িদের কাছে স্বাভাবিক হলেও উভয়পক্ষের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক।
এরমধ্যে আরেকদল বের হয়েছে যারা গলায় ওড়না না থাকলে নারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়। পাহাড়ের বিশেষত্বটা অনুধাবন করা প্রয়োজন। পাহাড়ি এলাকা এবং জনগোষ্ঠীর এই বিশেষত্বটা ব্রিটিশরাও জানতো। সে কারণেই ব্রিটিশরা এই অঞ্চলকে আলাদা মর্যাদা দিয়ে শাসন করেছে।..
দ্বিতীয়ত, পুঁটিমাছের সাথে রাঘববোয়ালের তুলনা হয়না। বাঙালি অনেক বড় এবং বিকশিত জাতি। অন্যদিকে পাহাড়ের ক্ষুদ্র ক্ষ্রদ্র জাতিগুলোর খুব অল্প সংখ্যক মানুষ প্রাণপণে তাদের সংকটাপন্ন স্বকীয়তা রক্ষা করে যাচ্ছে। এজন্যই পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালিদের বসতি স্থাপন আদিবাসীদের জন্য যতটা বিপদজনক, পাহাড়িরা সমতলে আস্তানা গাড়লে বাঙালিদের জন্য তা হুমকিস্বরূপ নয়।…
তৃতীয়ত, ভুমি হচ্ছে পাহাড়ের মানুষের একমাত্র অবলম্বন। ভূমির সাথে তার বেঁচে থাকা, ভাষা, সংস্কৃতি অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িত। অধিকাংশ পাহাড়ি হতদরিদ্র সরল প্রকৃতির বলে সহজেই ভুমিদস্যুদের চালাকির কবলে পড়ে সব বিক্রি করে দেয়। এভাবেই ধীরে ধীরে সে উচ্ছেদ হতে থাকে। সাথে বিলীন হয় তার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সংস্কৃতি। তার মানে এই না যে বাঙালিরা পাহাড়ে থাকতে পারবে না। অবশ্যই পারবে কিন্তু তারও একটা সীমা আছে।
বিশ্বের নানান রাষ্ট্রে এই জাতীয় বিশেষ এথনিক গ্রুপগুলো যাতে বানের তোড়ে ভেসে না যায় তার জন্য ব্যবস্থা রাখে। তাদের এলাকায় বসতি স্থাপনের মাত্রা বেঁধে দেয়া হয়, রিজার্ভ এলাকা গঠন করা হয়। পাহাড়ে বাঙালি বসতির অনুপাত যে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলেছে তাতে পাহাড়িদের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
০৯.০৮.২০১৪
লেখক: অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

বিভাগ: 

Comments

 

ভালো লাগলো।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...
সাইয়িদ রফিকুল হক

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হেজিং
হেজিং এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 1 দিন ago
Joined: রবিবার, এপ্রিল 23, 2017 - 6:30অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর