নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • জলের গান
  • নুর নবী দুলাল
  • আকাশ সিদ্দিকী

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

আতা গাছে তোতা পাখি, যানজট প্রতিযোগিতা ও অযথা বিতর্ক কুতর্ক


"আতা গাছে তোতা পাখি, ডালিম গাছে মৌ" - ছোটবেলায় প্রিয় ছড়াগুলোর অন্যতম। আমাদের বাগানেও আতা গাছ ছিল, আতা অবশ্য আমার প্রিয় ফল না দেখে মুখে তুলতাম না। খান আতার নাম শুনছি ছোটবেলা থেকেই। তবে খান আতাকে নিয়ে এখন পক্ষে বিপক্ষে যত কাহিনী শুনছি, তার কিছুই জানতাম না। এখন ইস্যুটা মনে হয় চাপা পড়ে যাচ্ছে, এখন কিছু বলা যায়। কারও মতের বিরুদ্ধে গেলে কিছু কমে আসা আবেগ নিয়ে হামলা চালাবেন হয়ত।

তার আগে একটা প্রশ্ন, যানজট ক্রিয়েট প্রতিযোগিয়ায় জিতলো কে? হাসিনা না খালেদা? দেশে রাজনীতির অবস্থা এমন হাস্যকর হয়ে গেছে, যানজটের তীব্রতার দোহাই দিয়েও অনেকে নিজি নিজ পছন্দের নেত্রীর অধিকতর জনপ্রিয়তার দাবী করছেন। যাইহোক, আমি চাই এইদেশের সকল ভিআইপির জন্য হেলিকপ্টার সার্ভিস হোক, ছাদে ছাদে ব্যবস্থা থাকুক হেলিপ্যাডের। যানজটে আটকাইয়া থাইকা যেই টাকার তেলগ্যাস পোড়ে গাড়ির, মানুষের যে সময় অপচয় হয়, সেইটাকে টাকার অংকে কনভার্ট করলে উনাদের এই উড়াল সুবিধা দেয়ার খরচ কম মনে হবে। তথ্যমন্ত্রীকে দরকার হইলে দুইটা দেয়া হোক। আমি কিন্তু বলতে চাইতেছি না যাত্রাপথে উনার অতিরিক্ত বকবকের উনার ড্রাইভারের উন্মাদ হওয়ার দশা হইছে, কিংবা এইটাও বলতে চাইতেছি না উনার মুখ নিঃসৃত তেলেই হেলিকপ্টারগুলা চলতে পারবে বলে এই ডাবল সুবিধা। আমি উনার ভক্ত, উনাকে দুইটা দেয়ার প্রস্তাব সেই কারণেই।

এখন আসি খান আতায়। উনার কাজের কারণে আমি উনার ভক্ত। ডাইহার্ড ফ্যান না, গত ৪-৫ বছরে কিংবা ৭-৮ বছরেও উনার নাম মনে পড়ছে বলে মনে নাই। উনি কোন দলের সমর্থক, আর কি সম্ভাব্য আকাম ও কুকাম করছেন তাও জানতাম না। আরেকটা তথ্য জানতাম, সেইটা হইছে উনার পোলার নাম আগুন। এই আগুন আমার ফুপাতো ভাইয়ের ফ্রেন্ড, যে শাহবাগে বইসা ঝিমাইতো, ঘুমাইতো এবং বাদবাকি সব কাজ করতো, তেমন প্রতিভাশালী এক ফ্রেন্ডের (নাম ভুলে গেছি) একটা গানের কথা ও সুর নিজনামে চালাইয়া দিছিলো। চালাইছিলো যে এই ব্যাপারেও আমি নিঃসন্দেহ, নাইলে জাস্ট শুনে অপবাদ দিতাম না। আগুনের কন্ঠে এই গান যখন কোথাও প্রচারিত হয় নাই, তার ২-৩ বছর আগেই শিশু অবস্থায় এই গান আমি শুনছিলাম ও মুখস্ত ছিল। গানটার কথা ছিল কিছু এরকমঃ

"বৃষ্টিভেজা রাত, সোডিয়াম আলো,
একটা চায়ের দোকান, একটি কালো কুকুর,
আর একখানা বেঞ্চ, নড়বড়ে...

এমন রাতে বলো কে থাকে ঘরে?"

যাইহোক, তার মদখোর পোলারে নিয়া আমার মাথাব্যথা নাই। আমিও তো মাঝেমধ্যে ফাউ পাইলে খাই, যদিও বিড়ি ছাড়া অন্য নেশা নাই। খান আতার পোলারে তাই ভুইলা গেলাম, আতা সাহেবের কথায় আসি। উনার কর্মগুলো যে অসাধারণ এতে প্রশ্ন করবার উপায় নাই। অসম্ভব প্রতিভাশালী একজন মানুষ ছিলেন উনি।

এইবার আসি উনার কাজকর্মের কথায়, বিশেষ করে ১৯৭১ সালে। সেইসময় উনি পাকিস্তানী মিডিয়ায় কাজ করছিলেন, তাদের হয়ে গান লিখছিলেন, পাকিস্তানের পক্ষে বিবৃতি স্বাক্ষর করছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি অভিযোগ। এইখানে দুইটা ব্যাপার এইসব করার পিছনে কাজ করতে পারে। হয় উনি প্রাণভয়ে করছিলেন, অথবা উনি পাকিস্তানপন্থীই ছিলেন। কেউ কেউ বলতেছে উনি প্রাণভয়ে করছিলেন। কেউ বলতেছে উনি ছিলেন পাকিস্তানী দালাল, রাজাকার। এখন উনাকে কোন দৃষ্টিতে দেখা হবে সেইটার জন্য আমি উনি প্রাণভয়ে করছিলেন, নাকি নিজ থেকে করছিলেন তাও দেখব না। দেখব যে উনি আইনের চোখে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এমন কাজ করছিলেন কী করেন নাই।

পাকিস্তান সমর্থকদের সবাইকে রাজাকার বলে যদি সেই সময়ে তাদের মেরে ফেলার প্রচেষ্টাকে যুক্তিযুক্ত বলা হয় তাহলে সেটাও ঠিক না। কোটিখানেক মানুষ মারতে হইত তাহলে। ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরংকুশ বিজয় অর্জন করে, কিন্তু ভোটের শতকরা হিসেবে ২০-২৫% ইসলামপন্থী কিংবা প্রো-পাকিস্তানী হিসেবে যারা পরে পরিচিত হবে, তারাও পায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় এদের অনেকে পাকিস্তানীদের সক্রিয় সহযোগী হয়, কেউ কেউ কি চলছে জেনেও সেটা অখন্ড পাকিস্তানের জন্য চলছে মনে করে টু শব্দটাও করেনি। যারা কি চলছে জেনেও প্রতিবাদ করেন নাই, কথা বলেন নাই এসবের বিপক্ষে তারা ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন না, অন্যায় দেখেও অন্যায় বলেন নাই, কিন্তু তাদের আইনের চোখে অপরাধী বলা যাবে না। আইনের চোখে অপরাধ হয় সরাসরি কারো ক্ষতি করলে কিংবা ক্ষতিতে ভূমিকা রাখলে। নাহলে অবিচার, অন্যায় দেখে যারা চুপ করে ছিল, তাদেরকে দোষী ভাবলে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বপক্ষ শক্তির অনেককেই কাঠগড়ায় তুলতে হয়। পূর্ব-পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস, পুলিশ সার্ভিস সহ সরকারী নানা পদে লাখ লাখ বাঙালি ছিলেন, এদের বেশিরভাগই চাকরী চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা কি মুক্তিযুদ্ধের সময় সরকারের বেতন নেন নাই? ডিসি মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাহেব পাকিস্তানীদের বেতন নিয়ে পাকিস্তান সরকারের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করেন নাই? যাইহোক, যারা সরকারী চাকরী চালিয়ে গিয়েছিলেন, এদের অনেকে গোপনে সহায়তা করেছেন, কেউ তথ্য দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ একদম কিছুই করেন নাই; সরকারী চাকরীই করে গেছেন শুধু। বিশ্ববিদ্যালয়ে শতশত বাঙালি শিক্ষক ছিলেন, সবাই সে সময় চাকরী ছেড়ে যুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন কি? কিংবা তাদের সবাই প্রকাশ্যে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন কি? সেটা তো হয়নি, কারণ হয়ত প্রাণভয় কিংবা অন্যকিছুতে আগ্রহ না থাকা, এমন অনেককিছুই হতে পারে। কিন্তু শিক্ষকরাই তো জাতির চেতনা, উনাদেরই তো প্রথমে যুদ্ধে চলে যাবার কথা ছিল। কিন্তু সবাই কঠিন মুহূর্তে মৃত্যুভয় তুচ্ছ করতে পারে না, যারা পারেন তারা অন্যরকম মানুষ। মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন অন্যরকম মানুষ। তাদের সবাই আবার একই আদর্শের মানুষ ছিলেন, তেমনও নয়।

মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলে কিংবা এখনও যাদের বিচার চলছে, তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচার চলছে, পাকিস্তানীদের সমর্থন করবার জন্য নয়। বঙ্গবন্ধুও ৪৭ সালে পাকিস্তান আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, একদিনে কিংবা রাতারাতি তো তিনিও পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশের স্বন দেখেন নাই। পরিবর্তন কিংবা ধারণা বদলে যাওয়ার জন্য বঞ্চনা ও অবিচারের ধারাবাহিকতায় তিনিও বুঝতে পেরেছিলেন নিজেদের একটা দেশ দরকার জনতার মুক্তির জন্য। এখন ২০১৭ সাল, কিন্তু এখনও দেশে অনেকে আছেন যারা পাকিস্তানের স্বপ্নে বিভোর, ৭১ এ এদের সংখ্যা আরও বেশি ছিল যাদের পাকিস্তান নামের মোহমুক্তি ঘটে নাই। এই মোহউক্তি না ঘটবার প্রধান কারণ মূলত ধর্ম। এমন ধর্মপ্রাণদের আমি ভয় পাই, যারা ধর্মরক্ষার নামে স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেন। ৭১ এ বাংলাদেশ তাদের কাজকর্ম দেখেছে, বসনিয়া গত শতকের শেষে দেখেছে, রোহিংগারা এখন দেখছে। কিন্তু ধর্ম তো হবার কথা মানুষের মঙ্গলের জন্য, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ আরও প্রকট করবার জন্য নয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার নানাবাড়ি পুড়িয়ে দেয় নানারই এক ভাই, আমার মায়ের পরিবার ভারতে শরনার্থী হিসেবে কাটিয়েছিল ৮-৯ মাস। দেশ স্বাধীন হলে সেই লোককে আমার নানারবাড়িতেই ধরে আনা হয় মেরে ফেলবে বলে। আমার নানী নাকি বাধা দিয়ে বলছিলেন, "ওরা জানোয়ার হইছে দেইখা তোরা জানোয়ার হবি?" সেই রাজাকারের পরিবারের আজ অনেক সম্পদ, লুটপাটের সম্পদের জোরেই নাকি আমি জানি না। এই রাজাকারকে বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া ঠিক হয়নি, আবার অনেকে পাকিস্তানপন্থী হবার কারণে সরাসরি অপরাধ না করেও ভুক্তভোগী হয়েছে। স্বাধীনতার পরপর দেশে প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, এমন পরিস্থিতি হতেই পারে। অনেক যুদ্ধাপরাধী অন্য এলাকায় গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছিল, কেউ কেউ আবার দেশত্যাগ করে যায়, ৭৫ এর পরে ফিরে আসে। ৭২-৭৫ সালেও তো গ্রেফতারকৃত লাখ লাখ সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধী কিংবা কোলাবরেটরস এক্টের আওতায় গ্রফতারকৃতদের সিংহভাগকে দোষীসাব্যস্ত করা যায়নি প্রমাণের অভাবে, পরে সাধারণ ক্ষমার আওতায় এদের বেশিরভাগই মুক্তি পায়। হয়ত যারা সাক্ষী দিতে পারতেন, তাদের কাউকে সাক্ষী দেবার জন্য জীবিত রাখা হয়নি। আবার অশিক্ষিত সরলসোজা মানুষ আইন আদালতের মারপ্যাচ বোঝে না, দীর্ঘসূত্রিতার জন্য বিচারর প্রক্রিয়ায় আগ্রহ হারায়। আদালতও আবার প্রমাণ চায়, এই যে এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, এদের বিচার হচ্ছে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই। স্বাধীন দেশে অপরাধের বিচার এভাবেই হওয়া উচিত, আইনী কাঠামোর আওতায় থেকে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বিজয়ী জাতির আচরণ হওয়া উচিত পরাজিতের চেয়ে বেশি মানবিক ও উন্নতবোধের পরিচায়ক। বিশ্বের নানা দেশে যুদ্ধে যেসকল জাতি যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে, তাদের মেরে ফেলে হয়নি সবাইকে, উচিতও না। তাহলে জার্মান জাতির বা জাপানীদের অস্তিত্ব থাকবার কথা নয়। তাদের সুযোগ দেয়া হয়েছিল সংশোধনের। আজকের জার্মানী বা জাপান বিশ্বের অন্যতম মানবিক জাতি, তাদের এই পরিবর্তন হয়েছিল তাদের প্রতি উদারতা দেখাবার কারণেই। তাদের মধ্যে যারা নিরপরাধ ছিল, তাদেরও যদি সবসময় মনে করিয়ে দেয়া হতো তারা জাতি হিসেবে পাপী, তাদের পাপমুক্তি সম্ভব না, তাহলে তাদের বদলে যাবার পথটা এত সহজ হতো না। এখন যে সামরিক বাজেট বাড়লে জাপানীরাপ্রতিবাদ করে, সেটা তাদের প্রতি উন্নত আচরনের জন্যই। মানুষকে বদলানো কঠিন, কিন্তু একমাত্র মানুষের চরিত্রই আমূল বদলে দেয়া সম্ভব। সেটাই সবচেয়ে ভালো পথ। একজন খান আতার মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের এরচেয়ে অধিক খারাপ ভূমিকার কাছে তুচ্ছ গণ্য করাই যায়। তবে উনাকে নিয়ে আলোচনার প্রধান কারণ, উনি ছিলেন অসম্ভব প্রতিভাশালী, মানুষজনের কাছে জনপ্রিয়ও ছিলেন। এমনকি দেখছি মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও উনাকে নিয়ে বিভক্ত মত আছে। অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ, ছয়দফা আন্দোলনের সময় যার নামে ২-৩০ টি মামলা হয়েছিল, তিনি খান আতার পক্ষে বলছেন, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে ক্ষমা চাইতে বলছেন। কোথায় যেন আবার মাসুদ পারভেজের বক্তব্যও পড়লাম, উনি মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু সাহেবের বক্তব্যের বিপক্ষে বলেছেন। আবার পড়লাম সুফিয়া কামাল, মুনির চৌধুরীদেরও অস্ত্রের মুখে স্বাক্ষরে বাধ্য করা হয়েছিল, সেহেতু খান আতার ব্যাপারেও সন্দেহ থেকে যায়।

৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর উনার গান লিখবার এবং উল্লাসের কথা শোনা যায়। এসবকে হিসেবে নিচ্ছি না উনাকে রাজাকার বলে মানা হবে নাকি হবে না সেটা ঠিক করতে। ৭৫ সালটা এদেশের ইতিহাসের কালো অধ্যায়। মাওলানা ভাসানীও শেখ মুজিব হত্যার পর নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে পত্র দিয়েছিলেন, কর্নেল ওসমানী মোশতাক সরকারের মিলিটারি এডভাইজার হয়েছিলেন, বাকশাল মন্ত্রীসভার অর্ধেকের বেশি মোশতাক সরকারের মন্ত্রীসভায় ছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম মোশতাক সরকারের শপথ গ্রহণের সকল ব্যবস্থার তদারকি করেছিলেন, এরকম অনেক কথাই এসে যায়। সেসব কিছু না টানাই জাতির জন্য ভাল। এইদেশে এটাই সত্য যে যারা বিএনপি এবং জামাতের অন্ধভক্ত বা সমর্থক, তারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডেরও সমর্থক। তাদের সবাই জানে, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন নয়, কিন্তু এসব নিয়ে কথা বলবে না। কিন্তু এদের সবাইকে কি রাজাকার বলা যাবে? এদের বেশিরভাগেরই তো জন্ম স্বাধীনতার পরে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কাছে বিএনপি মানেই ছাগু, পাকিস্তান সমর্থক; জাতীয়তাবাদীদের কাছে আওয়ামী মানেই হাম্বা, ভারতের দালাল। এই বিভক্তি কমতে অনেক সময় দরকার। আবার আরও বাড়তেও পারবে। ইসলামপন্থীদের উত্থানই হচ্ছে, পতনের লক্ষণ দেখি না।

তবে বদল সম্ভব উদার হয়েই, আক্রমণের মাধ্যমে নয়। আমি বিশ্বাস করি এদেশে যেই নতুন প্রজন্মের জন্ম, তারা দেশকে অবশ্যই ভালবাসে। আদর্শের মিল না হলে, বা মতের একটূ এদিকসেদিক হলেই, ছাগু, হাম্বা, ভাদা পাদা, রাজাকার, দালাল ট্যাগ দেয়া বিদ্বেষ আরও উস্কে দেয়। পাকিস্তানপন্থী বলে যারা পরিচিত ছিল, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের বদল তাদেরও রাজাকার ট্যাগ দিয়ে হবে না, হবে তাদের সামনে সত্য তুলে ধরে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে। তাহলেই হয়ত জাতির সামনে যদি নতুন দূর্যোগ আসে কোনদিন, তাহলে খান আতার মত প্রতিভাশালী কাউকে নিয়ে এমন বিতর্ক হবে না। সকল দূর্যোগে দেশের সকল মানুষ কেবল দেশ ও নিজ জাতির ন্যায়ের সংগ্রামে একসাথে পাশাপাশি থাকবে। আবার ক্ষমাও মহৎ গুণ, খান আতা যেহেতু সরাসরি অপরাধে যুক্তি ছিলেন না, সে সময়ে প্রাণভয়ে পাকিস্তানীদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিলেন, মিডিয়ায় কাজ করেছিলেন বলেও অনেকে দাবী করছেন, সন্দেহবশতও তো উনাকে এসবের বাইরে রাখা যায়। পরপারে চলে যাওয়া একজন খান আতা, যাকে নিয়ে পুরো দেশ উত্তপ্ত হওয়ার আপাতদৃষ্টিতে কোন প্রয়োজন দেখি না, তাকে কেন্দ্র করেই প্রজন্ম বিতর্ক, কুতর্ক ও গালাগালিতে চক্কর কাটছে। পরপারে চলে যাওয়া একজন খান আতা, যাকে নিয়ে পুরো দেশ উত্তপ্ত হওয়ার আপাতদৃষ্টিতে কোন প্রয়োজন দেখি না, তাকে কেন্দ্র করেই প্রজন্ম বিতর্ক, কুতর্ক ও গালাগালিতে চক্কর কাটছে। এক খান আতা ইস্যুতেই দেশ এভাবে বিভক্ত হয়ে গেলে তা মানুষের মতাদর্শের বিভক্তিটাই আরও প্রকটরুপে বোঝায়, এমনটা তো স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও থাকবার কথা ছিল না।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 4 ঘন্টা 59 min ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর