নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • এলিজা আকবর
  • পৃথ্বীরাজ চৌহান
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

ইসলামের নবী ও গণহত্যা ২:


মুহাম্মদ তাকে নবী হিসাবে গ্রহণ না করার জন্য ইহুদীদের ভাগ্য নির্ধারিত করলো। শুরু হলো মদীনা থেকে ইহুদীদের নিশ্চিহ্নকরণ। জানুয়ারী ৬২৪তে মক্কার একটি বাণিজ্য মিছিলকে আক্রমণ ও লুঠের উদ্দেশ্যে মুহাম্মদ এবং তার ৩০০-এর কিছু বেশী মুসলমান অনুসারী অনুসরণ করলো আর বদরের যুদ্ধে তার বাহিনীর সংখ্যার তুলনায় প্রায় তিনগুণ সংখ্যার বাহিনীর সাথে যুদ্ধে চোখ ধাঁধানো জয় লাভ করলো। মুহাম্মদের ছাতি একেবারে বাহাত্তর ইঞ্চি ফুলে গেল আত্মবিশ্বাসে। এইবার ইহুদীদের মুহাম্মদকে নবী প্রত্যাখ্যান করার জন্য এলো কোরানের নির্দেশ :

“কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি, যাহাতে তুমি আল্লাহ্ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুযায়ী তাহাদের বিচার নিষ্পত্তি কর, তাহাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ না কর, তাহাদের সম্বন্ধে সতর্ক হও, যাহাতে আল্লাহ্ যাহা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন উহারা তাহার কিছু হইতে তোমাকে বিচ্যুত না করে। যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া লয় তবে জানিয়া রাখ যে, তাহাদের কোন কোন পাপের জন্য আল্লাহ্ তাহাদিগকে শাস্তি দিতে চাহেন এবং মানুষের মধ্যে অনেকেই তো সত্যত্যাগী।”- কোরান- ৫:৪৯ ।।

ইব্ন ইসহাক [Life of Muhammad (c. 750), Karachi, p. 363] থেকে ইহুদীদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ কীভাবে সহিংসতা শুরু করেছিল দেখা যাক:

“ইতিমধ্যে বানু কাইনুকার ঘটনা ঘটল। নবী তাদেরকে তাদের বাজারে জমায়েত করলেন এবং তাদেরকে নিম্নবর্ণিত কথা বললেন, ‘হে ইহুদীগণ, ঈশ্বর কুরাইশ (মক্কাবাসী)-দের উপর যে ধরনের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন তা থেকে বাঁচতে হলে মুসলমান হয়ে যাও। তোমরা জান যে আমি একজন নবী, যাকে পাঠানো হয়েছে – তোমরা দেখতে পাবে যে এ কথা তোমাদের ধর্মগ্রন্থে আছে এবং তোমাদের সঙ্গে ঈশ্বরের অঙ্গীকার সেখানে পাবে।’ তারা প্রতিউত্তরে বলল, ‘হে মুহাম্মদ, মনে হচ্ছে যে তুমি আমাদেরকে তোমার লোক মনে করছ। নিজেকে ফাঁকি দিও না, কারণ তুমি যাদেরকে (কুরাইশ) মোকাবিলা করেছিলে তাদের যুদ্ধ সম্পর্কে কোন জ্ঞান ছিল না এবং তাদেরকে পরাস্ত করেছিলে; কিন্তু ঈশ্বরের নামে বলছি আমরা যদি তোমার বিরুদ্ধে লড়াই করি তাহলে তুমি দেখতে পাবে যে আমরা হচ্ছি প্রকৃত পুরুষ।”

প্রচ্ছন্নভাবে প্রমাণিত যে মুহাম্মদ ইহুদীদের ইসলাম গ্রহণ করতে হুমকি দিয়েছিল। সে কথাও তিনি বদরের যুদ্ধে মক্কাবাসীদের কী অবস্খা হয়েছিল সেটার কথা উল্লেখ করে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে ইসলাম গ্রহণ না করলে ইহুদীদের ভাগ্যে কী আছে ! ইহুদীরা কিন্তু এই হুমকিতে ভয় পায়নি এবং মুহাম্মদের আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছিল যে যদি মুহাম্মদ তাদেরকে আঘাত করে, তারাও প্রত্যাঘাত করবে।

মুহাম্মদের আল্লাহ এবার নিজেই ইহুদীদের হুমকি দিল | ইব্ন ইসহাক (পৃ: ৩৬৩) লিখছেন:

কোরান- ৩:১২-১৩ এর দুই আয়াত:
“১২। যারা কুফরী করে তাহাদিগকে বল, ‘তোমরা শীঘ্রই পরাভূত হইবে এবং তোমাদিগকে একত্রিত করিয়া জাহান্নামের দিকে লইয়া যাওয়া হইবে। আর উহা কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল!”
“১৩। দুইটি দলের (বদরের যুদ্ধে) পরস্পর সম্মুখীন হওয়ার মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে। একদল আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করিতেছিল, অন্যদল কাফির ছিল; উহারা তাহাদিগকে (এ স্খলে উহারা অর্থ কাফিরগণ ও তাহাদিগকে অর্থ মুসলমানগণ।) চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখিতেছিল। আল্লাহ্ যাহাকে ইচ্ছা নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ইহাতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকের জন্য শিক্ষা রহিয়াছে।”

বানু কাইনুকা ইহুদীরা দুটো হুমকিকেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল । মুহাম্মদ কোন ছুতো খুঁজে পাচ্ছিল না ইহুদীদের আক্রমণ করার। আল্লাহ ৮:৫৫-৫৮ আয়াতের মাধ্যমে মুহাম্মদকে অযৌক্তিক ছুতোর মাধ্যমে আক্রমণের সুযোগ তৈরী করে দিল:
* “আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট জীব তাহারাই যাহারা কুফরী করে এবং ঈমান আনে না।” (কোরান- ৮:৫৫)।
* “ফিরআওনের স্বজন ও তাহাদের পূর্ববর্তীগণের অভ্যাসের ন্যায় ইহারা ইহাদের প্রতিপালকের নিদর্শনকে অস্বীকার করে। তাহাদের পাপের জন্য আমি তাহাদিগকে ধ্বংস করিয়াছি এবং ফিরআওনের স্বজনকে নিমজ্জিত করিয়াছি এবং তাহারা সকলেই ছিল যালিম।” (কোরান- ৮:৫৪) ।

ফারাও যে শাস্তি ভোগ করেছিল মুসাকে অস্বীকার করার জন্য (সম্পূর্ণ ধ্বংস) মুহাম্মদকে অস্বীকার করার জন্য ইহুদীদেরও সেই শাস্তি প্রাপ্য। ইহুদীদেরকে আক্রমণ করার জন্য ৮:৫৬ আয়াতে মুহাম্মদের আল্লাহ বানু কাইনুকা উপজাতিকে চুক্তি ভঙ্গের জন্য সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযুক্ত করল :
“উহাদের মধ্যে তুমি যাহাদের সহিত চুক্তিতে আবদ্ধ তাহারা প্রত্যেক বার তাহাদের চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তাহারা সাবধান হয় না।” (কোরান- ৮:৫৬)

মুহাম্মদের আল্লাহর বক্তব্য যে, মুহাম্মদ মদীনার ইহুদীদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিলেন সেটা তারা বারবার ভঙ্গ করেছিল। দুটো স্পস্ট মিথ্যাচার আছে এই আয়াতে :
(১) মুহাম্মদ এবং ইহুদীদের মধ্যে এই ধরনের কোন চুক্তিই হয়নি; (২) এবং হলেও ইহুদীরা সেটা কখনই ভঙ্গ করেনি। পরের পর্বে ব্যাপারটা পরিষ্কার করবো।

(চলবে..........)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রাজর্ষি ব্যনার্জী
রাজর্ষি ব্যনার্জী এর ছবি
Offline
Last seen: 10 ঘন্টা 4 min ago
Joined: সোমবার, অক্টোবর 17, 2016 - 1:03অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর