নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • রসিক বাঙাল
  • এলিজা আকবর

নতুন যাত্রী

  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার
  • আব্রাহাম তামিম

আপনি এখানে

কেন অামি মানুষ হলাম?


15-10-17
~~~~~~~~~~~~~~
ভালোই তো ছিলাম, কেন যে মানুষ হলাম!

অামার মনে বিভিন্ন প্রশ্নের উদয় হতো ছাত্রাবস্থায় যা অামি অামার প্রাণপ্রিয় একজন হুজুরের কাছে বলতাম, উনি সন্তানবৎ স্নেহ দিয়েই অামাকে বোঝাতেন।
(প্রশ্ন করলে উত্তর মিলবে, কিন্তু সব উত্তরই সঠিক নয়; অহেতুক জোর করে একজন ব্যক্তি বা তার কর্মকে মহান করার চেষ্টা করলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।) অামার অাব্বার সাথেও হুজুরের খুব সুসম্পর্ক ছিল। মাদরাসায় অামি গল্প-উপন্যাস পড়ে ধরা পড়লে হুজুরের সুপারিশে ক্ষমা পেতাম। অামার বাবাও ইমাম ছিলেন, তাই অামি কোন অালেমকে ঘৃণা করি না। অামি রক্তপাত ও জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করি, যা প্রশ্রয় পায় ধর্মের কাছে। অামার চেয়েও অনেক বেশি সন্দেহ নিয়ে মানুষ ইমামতি করছে, অামি বরং নৈতিকতার কারণে ইমামতি ছেড়েছি যখন ইসলামের স্বরূপ অামার নিকট পুরোপুরি উদঘাটিত হয়েছে। অর্থলোভে নয়, সত্যের সপক্ষে কথা বলতে গিয়েই অামি এখন দেশছাড়া।

অামার প্রতি মানুষের সব ভালোবাসা অামাকে স্মৃতিকাতর করে, কাঁদায়, কিন্তু সত্যনিষ্ঠা হতে অামি পিছু হটতে রাজি নই। অামি (মানিকদী) ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের যে বাসায় ভাড়া ছিলাম সে বাসার বাড়িওয়ালা, অামার মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি, মহল্লার যুবক ও কিশোর অনুসারী যারা অামাকে প্রাণাধিক ভালোবাসতো, তাদের কখনো ভুলতে পারি না। অন্য ইমামদের চেয়ে অামি অনেক বেশি ফ্যাশনদুরস্ত ও স্বাধীনচেতা ছিলাম। দশ বছরের ইমামতির জীবনে কোনদিন ছুটি চেয়ে পাইনি বা কম পেয়েছি এমনটি হয়নি কখনো।

অামার প্রাণাধিক প্রিয় মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি, উস্তাদগণ, মুসুল্লিবৃন্দ, বন্ধুরা কাউকেই ভুলতে পারিনা। অর্থাভাব বলছেন? অাপনি জানেন না মিস্টার - অামার সামান্য জ্বর হলে অামার মুসুল্লিদের ঢল নামতো অামার বাসায়, অামার পরিবারের কারো অসুখ হলে মানুষের ঢল নামতো অামার ভালোবাসায়।
অামার শ্বশুর-শাশুড়ি অামাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন তা অাপনারা মুমিন কেউ অাপনাদের বাবা-মায়ের কাছেও পাননা। শুধুমাত্র ধর্ম... শুধুই ইসলাম.... শুধুই ফতোয়া অামাদের মাঝে তুলে দিল দুর্লঙ্ঘ প্রাচীর!
অনেক টাকা দিয়ে কি করবো অামি? অনেক নারী দিয়ে কি করবো অামি? ইউরোপের ভিসা দিয়ে কি করবো অামি? অামি এখনো দেশে ফেরার জন্য অাকুল হয়ে থাকি, কিন্তু অামার পক্ষে কি দেশে ফেরা সম্ভব?
গ্যারান্টি দিন - নারায়েতকবির গ্রুপ অামাকে কোপাতে অাসবে না, তাহলে কালই দেশে ফিরবো। অথবা ফতোয়া দিন, ধর্ম বা বিশ্বাসের পরিবর্তনের ফলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট হয়না, তাহলে দেশে ফিরবো কালই।

অামি সবসময়ই অন্যদের চেয়ে অালাদা ছিলাম। অামার চলাফেরা ও রুচিবোধে মুন্সিয়ানা ভাব ছিল, নারী অধিকারের সমর্থক ছিলাম, অামার শিক্ষকগণও এটা জানেন। এটাই অামাকে ক্রমেক্রমে মুমিন থেকে মানুষ হতে সাহায্য করেছে।
অামার অাব্বার নানা ছিলেন গওহরডাঙ্গা কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রিন্সিপাল) ও দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অালেম, তিনি পীরও ছিলেন। তিনি শামসুল হক ফরিদপুরীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহচর ছিলেন। দক্ষিণবঙ্গে ইসলাম প্রচারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
অামার দাদাজান (দাদার ছোটভাই) ছিলেন গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস।
অামার অারেক দাদা ছিলেন সাতকাছেমিয়া কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, অালেমসমাজে ওনার উপাধি ছিল 'মুমতাজুল মুহাদ্দিসীন' মুহাদ্দিসগণের মাথার মুকুট।

ছোটকাল থেকে অামার বাবা অামাকে অনেক অালেমদের কাছে নিয়েছিলেন বরকতের জন্য, দোয়া নেয়ার জন্য। জাতীয় ক্বেরাত সম্মেলন, হামদ-নাতের অনুষ্ঠান ইত্যাদি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবা অামাকে নিয়ে যেতেন।
অাব্বা দু'টি বিষয়ে সবসময় উপদেশ দিতেন : (১) অনেক বড় অালেম হও, পরহেজগার হও (২) অনেক সৎ মানুষ হও।
অাব্বার প্রথম উপদেশটি রাখতে পারলাম না, দ্বিতীয়টি রাখার চেষ্টা করছি।
কারণ, বড় অালেম হওয়া অার সৎমানুষ হওয়া পরষ্পরবিরোধী।
অাব্বা অাজ বেঁচে নেই, থাকলে হয়তো সবার চেয়ে বেশি কষ্ট তিনিই পেতেন।

বায়তুসসালাম মাদ্রাসার প্রথম দেয়াল পত্রিকার সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছিল অামাকে।
সাপ্তাহিক বক্তৃতা গ্রুপের অামির নির্বাচিত হয়েছিলাম। সুতরাং সাহিত্য ও বক্তৃতা দু'টোতেই ভালো হওয়ার চেষ্টা ছিল সেই ছাত্রজমানা হতেই। বাংলা সাহিত্যপাঠের সবক নিয়েছিলাম সম্মানিত উস্তাদ খন্দকার মনসুর অাহমদ হুজুরের কাছ থেকে। তবে মাদ্রাসা অঙ্গনে ইসলামি সাহিত্য ছাড়া সকল সাহিত্য পরিত্যাজ্য!

অনেকেই মজা করে বলেন - অাপনি মুমিন থাকতে ক'জনকে কুপিয়েছেন?
তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি - অামি ২০০১ সালে জিহাদি ট্রেনিং নিয়েছি, তখন বয়স মাত্র সতেরো বছর; কিন্তু ২০০৩ সালে উরায়নার হাদিস পড়ার পর থেকে সহিংসতাবিরোধী হতে লাগলাম। হাদিসে উরায়নার নৃশংসতা পড়ার পর ক্লাসেই হুজুরকে বলেছিলাম - হুজুর, এটা কি একটু বেশি শাস্তি হয়ে গেলনা? অার যায় কোথায়! হুজুর এমন ক্ষেপা ক্ষেপলেন..... নবীর কাজের উপরে এশকাল (অাপত্তি) !! কোনোমতে ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রা পার পেলাম!
এরপর থেকে অামি ইসলামকে রিফর্ম করার চিন্তা করতে লাগলাম, তবে তখন বয়স সবেমাত্র উনিশ বছর, বুদ্ধির পরিপক্বতা অাসেনি। বিয়ের অাগেই অামি পরিপূর্ণ নারীবাদী হয়ে গেলাম, যদিও কোন নারীবাদীর সাথে দেখা কিংবা বই পড়া হয়নি, এটা অামার সেলফ স্টাডি।
এজন্যই বিয়ের পর যখন স্ত্রীকে বললাম - তুমি অামাকে নাম ধরে ডাকবে, সে তো অাকাশ থেকে পড়লো! - হুজুর মানুষ (স্বামী) বলে কি?
অামার মায়ের কাছে নালিশ করা হলো, মা ও অবাক - তুই অালেম হয়ে এ কেমন কথা বলিস? স্ত্রী কেন স্বামীর নাম ধরে ডাকবে?!
কি অার করা, অামারও কিন্তু তাঁকে নাম ধরে ডাকতে লজ্জা হতো..... অামার নাম নেয়া যদি তার জন্য হারাম হয় তাহলে তাঁর নাম নেয়া অামার জন্য কেন হারাম নয়?
অামার বাবা-মা তাঁর বৌমার কাছ থেকে জানতে পারলেন, ছেলে ক্রমান্বয়ে মুক্তচিন্তার দিকে ঝুঁকছে, কিন্তু বাবাকে কষ্ট দিতে চাইনি, তাই অস্বীকার করতাম!
অগত্যা অামার স্ত্রীকেই তারা ভুল বুঝতো!

প্রিয় এক্স ওয়াইফ, সবাইকে স্বাক্ষী রেখে তোমার কাছে এ ব্যাপারটার জন্যে ক্ষমা চাইছি। অামার হার্টের রোগী অাব্বাকে কষ্ট দিতে চাইনি বলে তোমাকে মিথ্যাবাদী বানিয়েছিলাম, অবশ্য কিছুটা স্বীকার করেছিও, বলেছি - অামি মোল্লাতন্ত্রের ইসলাম পছন্দ করিনা, অামি সহীহ ইসলাম পছন্দ করি।
পরে গবেষণা করে জানলাম - মোল্লাদের ইসলাম মোহাম্মদের ইসলামের চেয়ে বরং ভালো, মোল্লাদের চরিত্র মোহাম্মদের চরিত্রের চেয়ে ঢের ভালো।
অালেমগণ অামার ইসলাম-বিচ্যুতির কথা জানতে পেরেও অামাকে কোপাননি, মোহাম্মদ বেঁচে থাকলে নির্ঘাত কুপিয়ে মারতো! অবশ্য এখন অামাকে কোপানো তাদের প্রধান তপস্যা ও ধ্যানজ্ঞান। তবুও অামি নিশ্চিত - অামার প্রিয় শিক্ষকগণ, অামার ক্লাসমেটরা, অামার মুসুল্লিরা, বন্ধুরা এখনো অামাকে ভালোবাসে। অামার ব্যক্তিত্ব ও রুচিশীলতা নিয়ে অামি সন্তুষ্ট, অামার সাথে দু'দিন চললে অাপনি অামাকে ভালোবাসতে বাধ্য হবেন।
অামি কোনরূপ নেশা, অপরিচ্ছন্নতা, অতিকথা, মানুষের সমালোচনা, অলসতা এসব পছন্দ করি না, অাগেও করতাম না।
নিজের তারিফ করতে এবং শুনতে ভালোবাসি অামি, সমালোচনাও পছন্দ করি, গালাগালি একেবারেই অপছন্দ।
ভোম্বলদাসদের দু'চক্ষে দেখতে পারিনা। অামার যৌক্তিক সমালোচনা করলে অাপনাকে পুষ্পমাল্য গিফট করবো, গালি দিলে ব্লক খাবেন!
সত্যি বলছি !

বিভাগ: 

Comments

Rafat এর ছবি
 

এগিয়ে যান ভাই। উন্নতি হচ্ছে দেশের উন্নতি হচ্ছে মানুষের চিন্তাভাবনার উন্নতি হচ্ছে। সবাই আস্তে আস্তে চেঞ্জ হবে

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মুফতি মাসুদ
মুফতি মাসুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: সোমবার, আগস্ট 14, 2017 - 6:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর