নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী
  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

নাস্তিকতা : ধর্মকে পুঁজি করে স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত, আর তা বললেই হয়ে যাই নাস্তিক


নাস্তিকতা: শুধু "নাস্তিক" শব্দটি মুখস্ত করে রেখেছেন কিন্তু " নাস্তিক " কাকে বলে তার সম্পর্কে আপনাদের বিন্দু জ্ঞান আছে বলে মনে হয় না। যদি থাকতো তাহলে কাউকে "নাস্তিক" আখ্যায়িত করে রোষানলে ফেলবার পাঁয়তারা করতেন না। আপনারা শুধু " নাস্তিক " শব্দটি মুখস্ত রেখেছেন এই জন্য যে, ধর্মের বিরোধীতা না করে আপনাদের ধর্মের নামে ভন্ডামি তথা মুখোশ উন্মোচনে করতে গেলে তখন যেন শব্দটির সুবিধাভোগ করতে পারেন এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে আবেগময়ী বাঙ্গালিদের ধোঁকা দিতে পারেন।

আমি নাস্তিক নই কারণ আমি ধর্ষণকে সমর্থণ করি না, সমকামীতার মত জঘন্য মনোভাবের বিরোদ্ধে এবং বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী নই। সুতরাং আমি আস্তিক তবে সংস্কারবাদী। কাউকে নাস্তিক বলে রোষানলে ফেলার আগে নিজের ঈমান/বিশ্বাসটাকে পরীক্ষা করে নিবেন যে আপনি কি? ইসলাম হচ্ছে সর্ববৃহৎ ধর্ম, শান্তির ধর্ম এবং ইসলাম'ই হচ্ছে সর্বশেষ ধর্ম, যা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। কিন্তু ইসলামের হুকুম-আহকাম আমি পালন করতে পারি না কারণ ইবলিশ শয়তানের বংশধর আমার উপর ভর করে আছে। আমি পালন করি না ঠিক আছে কিন্তু সংবিধানের ৩৯নং অনুচ্ছেদের বাকস্বাধীনতার অধিকার বলে বলি যে এইসব কারণে তা হলো, আপনারা ইসলাম ধর্মকে Show off করে তার অন্তরালে ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ সেইসব নিষেধগুলো সম্পাদন করেন বলে। আবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আসলে তখন নিজেকে সাধু দাবীও করে বিরোধীতা করে স্লোগান তুলেন। আর আমাদের মত সংস্কারবাদীরা আপনাদের মুখোশ উন্মোচন করতে গেলে তখন আপনাদের কাছে হয়ে যাই নাস্তিক তথা ধর্ম বিরোধী। অথচ আপনারা ইসলাম তথা আল্লাহ তায়ালার হুকুম-আহকাম এবং রসুল (সঃ)'র প্রতিষ্ঠিত বিধানকে পালন না করে পরোক্ষভাবে ইসলামের অবমাননা করছেন তা একবারও তলিয়ে দেখেন না। এখন আপনারই বলুন আপনাদের কি বলা যায়! বিগত প্রকাশিত আমার আর্টিকেলে আমি " ইসলাম " ধর্মের বিরোধীতা করিনি, যদি ধর্মের বিরোধীতা করতাম তাহলে লিখতাম " পর্দা" নিষিদ্ধ করা হউক, আমি বলেছি বোরখা এবং হিজাবের কথা, কেননা, পরোক্ষভাবে এই বোরখা এবং হিজাব পরিধানে "পর্দার" অবমাননা করছে। এই ব্যাপারটাকে বৃহৎআকারে চিন্তা না করে, সংকীর্ণ মনোভাবে সমীকরণ করে আমাকে আমার'ই চেনা-জানা কিছু ব্যক্তিবর্গ বললো আমি নাস্তিকের পথে পা বাড়াচ্ছি। অথচ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা তথা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ধর্মীয় বিশারদ এবং সাহিত্যকরা আমাকে সাধুবাদ জানালো।

( আমার আর্টিকেলটি ছিল - বোরকা আর হিজাবের অন্তরালে চলছে বেহায়াপনা। বর্তমানের নারীরা যে হিজাব পরে তা কি শরীয়তের হুকুম পালনের জন্য? না কি নষ্টামি করার জন্য? বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় পর্দার নামে হিজাব বা বোরকা পরে মা-বাবা স্বামীদের অন্তরালে প্রেমরস সুধাইতে ব্যাকুল।
ইসলামে নারীদের জন্য পর্দা আবশ্যক করে দিয়েছে। তবে তা কি ধরনের পর্দা? কালো বোরকা, হিজাব নাকি মন???
কালো বোরকা এবং হিজাবের বিরোধীতা করলাম। কারণ এই বোরকা পরে পতিতারা রাস্তায় রাস্তায় দেহ ব্যবসা করে। এই বোরকা পরে হোটেলগুলোতে বেশ্যারা সহজে চলাফেরা করে। এই বোরকা পরে ৭০শতাংশ প্রবাসীদের স্ত্রীরা পরকীয়া করে শরীরের চাহিদা মেটায়। এই বোরকা পরে নারীরা অবৈধ মাদক এবং অস্ত্র চালান করে। এই বোরকা পরার মানে কি দাঁড়ায়?
বাংলাদেশে যারা বোরকা পরছে তার ৯৭% সৌখিনাতর জন্য, মানুষকে দেখানোর জন্য কিন্তু তলে তলে অবৈধ কার্যকলাপে ব্যস্ত।

হিজাব! বাংলাদেশের প্রায় স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা হিজাবের প্রতি আসক্ত। কেনো ইসলাম বলেছে তাই? নারে ভাই! ফ্যাশন। ৯৯শতাংশ মেয়ে প্রেমের নামে পার্ক, অন্ধকার রেস্তোরাঁ, হোটেল কিংবা লিটনের ফ্ল্যাটে অনৈতিক কাজে ব্যস্ত। এর প্রমাণ যদি চান তবে ইউটিউবের পর্ণ সাইটে গিয়ে দেখেন মুসলিম নামধারী বোরকা বা হিজাবওয়ালীরা কি সুবিধা নিচ্ছে।

হিজাব বা বোরকা নয়। মনে পর্দা হচ্ছে আসল পর্দা। সুতরাং পর্দার অপব্যবহার পরিহার করুন এবং ইসলামকে পরিপূর্ণ মর্যদা দান করুন। )

আমি আপনাদের মত " বিচার মানি তবে তালগাছ আমার" এই নীতি বিশ্বাসী নই। যারা ধর্মের হুকুম-আহকামের অবমাননা করছে আমি তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেই বলে আপনাদের মুখোশ উন্মোচিত হয় আর তাই আপনারা অপপ্রচারে ব্যস্ত।
নাস্তিক তারা'ই যারা কোরআন, বাইবেল, তোরাহ, ত্রিপিটক এবং গীতা অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস করে না তাদেরকেই নাস্তিক বলে। সুতরাং অনুরোধ জানাচ্ছি, আমাকে ভালো না লাগলে এড়িয়ে চলুন কিন্তু ভ্রান্ত ধারনা প্রচার করা থেকে বিরত থাকুন।
গ্রামের একটা প্রবাদ আছে- "তলে তলে টেম্পু চালায় কিন্তু আমরা জানলে হরতাল"। ঠিক তেমনই আমরা সত্য বললে নাস্তিকতার পথে যাই আর আপনারা করলে ব্যক্তি সমস্যা। ইহা কি অজ্ঞতা নাকি উগ্রতা? জীবন হচ্ছে প্রভাতে বস্রপরিধান আর মধ্যাহ্নে বস্রহরন করিবার প্রয়োজনেই আমাদের এতো অঙ্গীকার,সাঁঝ বেলায় আদিক্ষ্যেত, সবাইতো নিজেকে বস্রহীন করিবার জন্য যুদ্ধ করিতেছি.....!তথাপিও আমাদের সমাজ দাম্ভিকতার চোবলে বিষায়িত কেনো?

আপনাদের জন্য কিছু তথ্য তুলে ধরলাম নাস্তিক এবং আস্তিক কারা। নাস্তিক এবং আস্তিক সম্পর্কে জেনে তারপর ঠিক করে নিন আপনারা কি? আরেকটি কথা মনে রাখবেন, একজন মুসলমানের নাম আরেকজন মুসলমান বিগড়িয়ে ডাকতে পারে না, এমনকি একজন মুসলমান একজন কাফেরকেও কাফের বলে সম্বোধন করতে পারে না। সুতরাং কাউকে নাস্তিক বলার আগে, নিজের ঈমান এবং ঈমানের উপর কতটুকু প্রতিষ্ঠিত তা পরখ করে নিবেন।

[* নাস্তিকতা’ ও ‘আস্তিকতা’ শুধুমাত্র দুটি বিপরীতার্থক শব্দ নয়।  ব্যক্তিগত চিন্তা-স্বাধীনতার অধিকার বলে বিবেচনা করা হলেও এদের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সমাজে প্রতিফলিত হয়, কেননা সমাজ হচ্ছে ব্যক্তির সমষ্টি। আস্তিকতার ভিত্তি হচ্ছে স্রষ্টা প্রদত্ত নৈতিকতার গাইডলাইন (যেমন কোরান, বাইবেল ও তোরাহ)। নৈতিকতা এবং সমাজের প্রচলিত রীতি-নীতি ও আইন-কানুন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অন্যদিকে  নাস্তিকতাবাদের ভিত্তি হচ্ছে বস্তুবাদ। বর্তমানে এটা বিজ্ঞানের নামে বিবর্তনবাদ তত্ত্বের খোলসে প্রচার করা হয় (বিস্তারিত বিজ্ঞান, বিবর্তনবাদ ও নাস্তিকতা)। তাই এর নৈতিকতার ভিত্তি হচ্ছে ডারউইনবাদ।

১. আপনি কি ধর্ষণকে নৈতিকভাবে সমর্থন করেন?

আস্তিক্য নৈতিকতা অনুযায়ী পৃথিবীর সব সমাজেই ধর্ষণ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও প্রচণ্ড শাস্তিমূলক অপরাধ। কিন্তু নাস্তিক্য/ডারউইনবাদী নৈতিকতা অনুযায়ী ধর্ষণকে পজিটিভ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়! এক জরিপে দেখা যায় ধর্ষণের মাধ্যমে প্রায় ৩০% মহিলা গর্ভবতী হয়। অন্যদিকে সহমত অনুযায়ী একবার মিলিত (consensual sex) হলে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা ২-৪%। এই পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে বায়োলজি প্রফেসর  রান্ডি থর্নহীল (Randy Thornhill) ও নৃ-বিজ্ঞানী ক্রেইগ পালমার (Craig Palmer) তাদের লিখিত “Natural History of Rape” বই-এ ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ অনুযায়ী দাবী করেন ধর্ষণ হচ্ছে প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল বা এডাপ্টিভ (Adaptive), কেননা প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে কোন প্রজাতিকে টিকে থাকার জন্য ধর্ষণ সহায়ক! পুরুষেরা নাকি ধর্ষণের মাধ্যমে তাদের জীন ছড়িয়ে দেয় যা তার বংশধারা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে! প্রাণীজগতেও ধর্ষণ বিদ্যমান। তার মানে বিবর্তনবাদীয় ধারায় এই স্বভাব মানুষও অর্জন করেছে! পরবর্তীতে তাদের এই ধারণাকে অপ-বিজ্ঞান বলে আখ্যা দেওয়া হয় (বিস্তারিত)। কিন্তু বিবর্তনবাদী সাইকোলজিষ্টরা মনে করেন তারা পলিটিক্সের শিকার। বিবর্তনবাদীয় সাইকোলজি অনুযায়ী মানবের সব স্বভাবই (মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা ইত্যাদি) এডাপ্টিভ হিসেবে গণ্য করা হয়, কেননা এগুলো প্রজাতির বংশধারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বজায় রাখতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। 

২. আপনি কি নৈতিকভাবে সমকামিতাকে সমর্থন করেন?

ইসলাম, ক্রিষ্টিয়ানিটি ও জুদাইজম অনুযায়ী  সমকামিতা হচ্ছে চরমভাবে অনৈতিক। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের এক জরীপে দেখা যায় সেখানকার মুসলিমদের কেউ-ই সমকামিতাকে নৈতিকভাবে সমর্থন করে না (Muslims in Britain have zero tolerance of homosexuality)। এজন্য মুসলিমদের ডারউইনবাদের চারণভূমি ইউরোপে থাকার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে! সেখানে সমকামিতাকে সামাজিকভাবে  অত্যন্ত মূল্যবান ভ্যালু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। যেহেতু এটা আস্তিকতার গাইডলাইন অনুযায়ী অনৈতিক, নাস্তিকতা অনুযায়ী এটা নৈতিক হতেই হবে। এর জন্য  দ্বারস্থ হতে হয়েছে পশুদের কাছে। পশু-পাখীদের যৌন কার্যকলাপকে নিবীড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে সেখানেও নাকি সমকামিতা বিদ্যমান। যেহেতু সমকামিতা পশুতে বিদ্যমান, সেহেতু বিবর্তনবাদ তত্ত্ব অনুযায়ী মানুষে এটা হতে বাধ্য বা “বৈজ্ঞানিক”!

এখানে বিবর্তনবাদীদের স্ব-বিরোধীতা লক্ষ্য করার মতো। যুক্তির খ্যাতিরে ধরে নেয়া যাক ধর্ষণ বিবর্তনবাদে প্রজাতির টিকে থাকতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, কেননা এতে জীন ছড়ানোর ইস্যু জড়িত। অন্যদিকে সমকামিতা প্রজাতির বিলুপ্তির ক্ষেত্রে সহয়তা করবে। কেননা এতে বংশধারা ব্যহত হবে। কিন্তু বিবর্তনবাদীরা এটাকেও বিবর্তনের আলোকে ব্যাখ্যা করেন! এর ভিত্তি হচ্ছে পশুদের মধ্যেও সমকামিতা বিদ্যমান। মজার ব্যাপার হচ্ছে বিবর্তনবাদীরা নিজের প্রয়োজনে বলে থাকেন সমকামিতা হচ্ছে বিবর্তনীয় বাই-প্রডাক্ট!

ইসলাম-বিদ্বেষী মুক্তমনা নাস্তিকদের ভাষ্য অনুযায়ী ডঃ জাফর ইকবাল ডারউইনের বিবর্তনবাদের কট্টর সমর্থক। তাই তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী তিনি নাস্তিক। কিন্তু সমকামিতার বিরুদ্ধে যায় এমন কিছু মন্তব্য (তার রচিত বইয়ে) করায় তার ধর্ম-বিশ্বাস নিয়ে মুক্তমনারা চরম সন্দেহের মধ্যে পড়ে গেছেন। ডঃ জাফর ইকবাল মনে-প্রাণে বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী হয়েও সমকামিতাকে নীতিগতভাবে সমর্থন করতে পারেননি বলে তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হচ্ছে (বিস্তারিত- ডঃ জাফর ইকবাল কি নাস্তিক?)!

৩. আপনি কি ইনসেস্টকে (নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ের সাথে যৌনকর্ম) নৈতিকভাবে সমর্থন করেন?

প্রাণীজগতে ধর্ষণের চেয়ে বরং ইনসেস্ট অনেক বেশী পরিলক্ষিত হয়। সবাই কম-বেশী এটা দেখে থাকবেন। পশুরা সচরাচর পরিবারের সদস্যদের সাথে এমন কাজ করে যা বংশধারা বজাইয়ের জন্য ভূমিকা রাখে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সমাজের চাপের কারণে বিবর্তনবাদী নাস্তিকেরা এটা পাশ কাটিয়ে যায় এভাবে যে ইনসেস্টের মাধ্যমে বংশধরদের জেনেটিক সমস্যা হতে পারে। কারণ হিসেবে বলে থাকে যে ইনব্রীডিং-এ মিউটেশন যুক্ত বাজে জীনের সমাবেশ হতে পারে, যার জন্য বংশধারা ব্যহত হতে পারে। প্রশ্ন হতে পারে আমরা যেহেতু পশুর স্বভাব বিবর্তনের মাধ্যমে অর্জন করেছি, সেহেতু পশুদের মধ্যে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত ইনসেস্ট মানবেরও স্বভাব হওয়া বেশ যুক্তি-যুক্ত।

ইনসেস্টের মাধ্যমে বাচ্চা-কাচ্চা না হলে বিবর্তনবাদীয় নৈতিকতা অনুসারে তা সাদরে গ্রহণ করতে তেমন বাধা নেই। সহমতের মাধ্যমে ইনসেস্টের বা consensual incest- এর জন্য বিবর্তনবাদীয় ভাবধারার সোসাইটিতে জনমত গড়ে তোলা হচ্ছে। এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে সমকামিতাকে তুলে ধরা হচ্ছে; যদি সমকামিতা নৈতিকভাবে মেনে নেওয়া হয় তবে  consensual incest-এ সমস্যা কোথায়?

সমকামিতা বা ইনসেস্টকে নৈতিক সমর্থন দেওয়া মানে এই নয় যে ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে এসব কাজে নিয়োজিত হতে হবে। এটা ব্যক্তিগত রুচিবোধের উপর নির্ভর করে। তবে সামগ্রিকভাবে কোন কিছুর নৈতিক সমর্থনের উপর ভিত্তি করে সামাজিক কৃষ্টি-কালচার গড়ে উঠে। প্রসংগত, ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত American Psychiatric Association এর সংজ্ঞা অনুযায়ী সমকামিতাকে মানসিক রোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। পরবর্তীতে  সমাজে সমকামিতাকে নৈতিকভাবে সমর্থন দেয়ার কারণে ইউরোপের কমপক্ষে তেইশটি দেশে সমকামি বিবাহ আইন দ্বারা সিদ্ধ করা হয়েছে, যা সমকামিতা প্রচার ও প্রসারে সহয়তা করছে। বর্তমান যুগের ফ্যাশন হিসেবে সমকামিতা ও সমকামিদের বিকৃত প্র্যাকটিস তরুন সমাজে ব্যাধি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এ সমস্ত বিকৃত অভ্যাসের ফলে সংক্রামিত রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাবের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রসংগত, ধূমপান একসময় যুগের ফ্যাশন হয়ে উঠেছিল। মিডিয়াতে ধূমপানকে পৌরুষত্ত্বের  প্রতীক হিসেবে দেখানো হতো। বামপন্থী কমরেডদের কাছে সিগারেট ফুঁকা ছিল ঐতিহ্যের মতো! বর্তমানে ব্যক্তিগতভাবে ধূমপান  যে কেউ করতে পারে। তবে এটা যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি ধূমপায়ীরাও তা স্বীকার করে। এজন্য অনেক দেশেই পাবলিক প্লেসে ধূমপানকে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিডিয়াতে ধূমপানের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী করা হচ্ছে। ধূমপানের পক্ষে মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন প্রচার করাও নিষিদ্ধ। ধূমপানের  সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাবকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য সিগারেটের প্যাকেটেও বিভৎস ছবি লাগানো অনেক দেশে বাধ্যতামূলক। সিঙ্গাপুরের ইউনিভার্সটি ক্যাম্পাসগুলোতে ধূমপান আইনত দন্ডনীয়। এ সমস্ত গণসচেতনতামূলক কার্যকলাপের ফলে ধূমপায়ীদের সংখ্যা স্পষ্টতই নিম্নমুখী।

৪. মানবতার নামে নাস্তিকদের মায়াকান্না!

‘মানবতা’র নাম করে সমকামিদের সমর্থনে বিবর্তনবাদী নাস্তিকেরা বিজ্ঞানের খোলসে যে করেই হোক সমকামিতাকে বিবর্তনবাদের সাথে লিঙ্ক করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে যতটুকু না মানবতাবাদ জড়িত তার চেয়ে  বেশী বরং নাস্তিকতা ভাবধারা জড়িত। আস্তিকেরা যেহেতু ধর্ষণ, সমকামিতা, ও ইনসেস্টের বিরুদ্ধে, তাই তাদেরকে যে করেই হোক এর বিরুদ্ধে যেতেই হবে। বলা হচ্ছে সমকামিতা ‘জেনেটিক্যাল’। তার মানে এতে সমকামিদের করার কিছুই নেই! ইসলাম-বিদ্বেষী মুক্তমনা গুরু ডঃ অভিজিৎ রায় বাংলাদেশে সমকামিতাকে সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দান ও আইন সিদ্ধ করার সুদীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি বইমেলায় একটি বই প্রকাশ করেছিলেন। বিবর্তনবাদী নাস্তিকেরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতার বিরুদ্ধচারণ করতে গিয়ে ক্রিমিনাল এক্টিভিটিকেও (যেমন খুন, চুরি, ধর্ষণ) জেনেটিক্যালি প্রগ্রামড এক্টিভিটি তথা অপরাধীকে নিরপরাধ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। যেমন এই বই- The Psychopathology of Crime: Criminal Behavior as a Clinical Disorder–

"Presenting sociological, genetic, neurochemical, brain-imaging, and psychophysiological evidence, it discusses the basis for criminal behavior and suggests, contrary to popular belief, that such behavior may be more biologically determined than previously thought".

সমাজে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব কল্পনা করতেই শরীর হিম হয়ে যাচ্ছে। সমাজে অন্যায়ের বিচার উঠে যাবে। কোর্টে খুনী, ধর্ষকরাও রেহাই পেয়ে যেতে পারবে। প্রমাণ হিসেবে জেনেটিক কারণ উল্লেখ করা হবে এবং তা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিখ্যাত উপস্থাপিকা অপরাহ উইনফ্রে’র ওয়েবসাইট মানুষকে এ  বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন  করার প্রয়াসে উদ্যেগী হয়েছে- How Brain Science May Change the Way We Live. বিখ্যাত বায়োলজি জার্নাল Plos Biology'র এক রিভিউ আর্টিকেলে Law, Responsibility, and the Brain উল্লেখ করা হয়েছে:

" New studies of the criminal brain are likely to shape moral views on responsibility and free will, with possible impacts on how legal systems punish and treat criminals"** ]

[ তথ্য: *চিহ্ন সংগ্রহিত ]

ইকরামুল শামীম
আইনজীবী, ব্লগার
এম.এস.এস( রাষ্ট্রবিজ্ঞান ), এলএলবি।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইকরামুল শামীম
ইকরামুল শামীম এর ছবি
Offline
Last seen: 18 ঘন্টা 30 min ago
Joined: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 7, 2017 - 7:42অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর