নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • নকল ভুত
  • মিশু মিলন
  • দ্বিতীয়নাম
  • আব্দুর রহিম রানা
  • সৈকত সমুদ্র
  • অর্বাচীন স্বজন

নতুন যাত্রী

  • সুমন মুরমু
  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান

আপনি এখানে

গুজব! বাংলাদেশের গুজব। গুজব লাগবে, গুজব! লাল গুজব, কালো গুজব, হরেক রকম গুজব!!


গুজব! বাংলাদেশের গুজব।
গুজব লাগবে, গুজব! লাল গুজব, কালো গুজব, হরেক রকম গুজব!!

পর্ব-০১) গুজবের উপাদান : ভাষা

কখনো কখনো মনে হয় বাংলাদেশ একটা গুজবের দেশ। যখন যে গুজবটা ছড়ানো হয় – পেট্রোল ছিটানো দ্রব্যে আগুন লাগার মতো ছড়িয়ে পড়ে মহুর্তে এবং দাহ করে সব কিছু। বাংলা ভাষাভাষী ভূখন্ডে গুজবের ইতিহাস অতি পুরোনো। অতি পুরোনো কেন উল্লেখ না করেই এর একটু সংক্ষিপ্ত উদাহরন দেয়া দরকার। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মুসুলমান জনগোষ্ঠির ব্যাপারে একটা কথা প্রচলিত আছে। তাহ’ল ইসলাম যখন ভারতবর্ষে আসে এবং ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল ছড়িয়ে এ বাংলা প্রসারের সুযোগ খুঁজছিল – তখন এখানকার মানুষ এধর্মটি সম্পর্কে বিষদভাবে না জেনে না বুঝেই নাকি বহু মানুষ নাকি দলে দলে ইসলাম কবুল করেছিল। ওরা শুনেছিল সুমুলমান যোদ্ধারা যেখানে যাবে সেখানে অমুসলিমদের কল্লা যায়, এবং মুসুলমান হলে রক্ষে পায়। সুতরাং আর যায় কোথায়, বখতিয়াররা আসারে আগেই অনেকেই টুপি লাগিয়ে মুসুলমান হয়ে যায়। প্রচলিত একথাটির সত্য মিথ্যা জানার সুযোগ কম। তবে ধরানা করা যায় বোধ হয় প্রচলিত এধারনার কারণেই হয়তঃ লোকমুখে একজন অন্যজনকে বলতে শুনা যায় - “হুইনা মুসুলমান” বাক্যটি।

গুজব যে কি হয় এবং হতে পারে – বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর বিষদ ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয় না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় গুজবের আগুনে বরাবরই দাহ্য হয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়। গুজবে হিন্দু দাহ্য হবার ধারা সেই সাতচল্লিশ থেকেই চলে এসেছে।

ধারাবাহিকভাবে সংক্ষেপে কয়েকটি গুজবের কয়েকটি উপকরণ, ঘটনা, সংক্ষিপ্ত কারণ ও ফলাফল পর্যায় ক্রমে উল্লেখ করবো-

০১) ভাষাঃ আববি ভাষার লেখা ছেঁড়া কাগজ নিয়ে উপমহাদেশের বহু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। উদাহরণ হিসাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী ঢাকার অদূরে সাভারের একটি ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয়। সময়টা ১৯৭৩ সাল। সাভারে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক দোকানদার কাগজ দিয়ে বিড়ি বানাচ্ছিলেন। সে সময়ে হাতে বানানো বিড়ির ব্যাপক চাহিদা ছিল। বিড়ি বানানোর কাজে ব্যবহৃত টুকরো কাগজের ভিড়ে আরবি লেখা কাগজের টুকরাও ছিল। কে বা করা এলাকায় রটিয়ে দিলে যে, এই দোকানে কোরানের পাতা ছিঁড়ে বিড়ি বানানো হচ্ছে। ব্যস আর কোন কিছুর প্রয়োজন হয়নি। মুহূর্তে মধ্যে শত শত লোক ঐ হিন্দু দোকানে হামলা করে করে বসল। দোকানদার আকস্মিকতা হত বিহ্বল হয়ে পড়ে এবং পালিয়ে প্রাণ বাঁচান। কিন্তু দোকানটিকে রক্ষা করা গেল না, বিক্ষুব্দ তৌহিদী জনতার আগুনে দোকানটি পুড়িয়ে দেয় হয়।

অন্য দশটা ভাষার মতো আরবি এশিয়া ও আফ্রিকার মরু অঞ্চলের মানুষের একটা ভাষা। আরবি যাদের মাতৃভাষা, এসব মানুষ আরবি ভাষায় তাদের সব রকম ভাব বিনিময় করে। এমনকি ছেলে মেয়েকে যদি কেহ কাউকে কোন কু প্রস্তাব দেয় তাও এভাষাতে। আজ থেকে প্রায় বছর ৩৫ আগে কলেজের বাংলার এক অধ্যাপক তাঁর লেকচার ক্লাশে ঠাট্টা ছলে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছিলাম - এদেশের কোন ছেলে যদি কোন মেয়েকে আরবি ভাষায় প্রেম পত্র লিখলে মেয়েটি ঐপত্রটিকে পবিত্র আয়াত মনে করে চুমো খাবে। আবার কোন মাওলানা বা মুফতি শীত মওসুমে অনুষ্ঠিত গ্রাম বাংলার ওয়াজ মাহফিলে আরবি ভাষায় সুর করে উপস্হিত জনতার উদ্দেশ্যে গালি দিলেও উপস্হিত জনতা রাগ না করে বরং কেঁদে বুক ভাসাবে। উপমহাদেশের মানুষেরা আররি ভাষা বুঝক কিংবা না বুঝুক, এদের কাছে এটি আল্লাহতালার ভাষা। মহানবীর মাতৃভাষা আরবি ছিল এবং তিনি এভাষায় কথা বলতেন,আরবি ভাষায় কোরান নাজিল হয়েছিল, মহানবীর সাথে ফেরেস্তারা আরবী ভাষায় কথা বলেন এবং স্বয়ং আল্লাহতালার সাথে তাঁর পয়গম্বরদের আলাপচারিতা আববি ভাষাতে সম্পন্ন হয়েছে ইত্যাদি কারণে একারণ হলো আবর অঞ্চলের বাইরে বিশেষতঃ ভারতীয় উপমহাদেশের মুসুলমানদের কাছে আরবি ভাষার অন্য একটা মাত্রা পেয়েছে। আরবিতে যা লেখা তা অনুধাবন করার অক্ষমতা এবং আরবি ভাষায় লিখিত কোন প্রকাশনার মমার্থ বুঝতে না পারার কারণে সর্বোপরি আবরিকে দশটা ভাষার মতো এটি সাধারণ একটি ভাষা হিসাবে মেনে নিতে পারার কারণে এমন অবস্হা হয়েছে।

যারা বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যারা বসবাস করছেন – এরা একটু লক্ষ্য করবেন নানা ভাষার বর্ণাক্ষরে লিখিত পরিত্যক্ত বই কিংবা মাগাজিনের পাতা দিয়ে কাগজের ঢোঙ্গা তৈরী হতে দেখেছেন, নতুন শাড়ী কাপড় কিংবা লুঙ্গী কিনে সেই শাড়ী কিংবা লুঙ্গীর ভাঁজে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার পত্রিকা পাতা কিংবা মাগ্যাজিনের পাতা পেতে থাকতে পারেন। কিন্তু কখনো আরবি ভাষায় পরিত্যক্ত কোন কাগজ পেয়ে থাকতে পারেন বলে মনে হয় না। মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের ভাষা হলো উপমহাদেশের মুসুমানদের কাছেআল্লাহর ভাষা। সুতরাং এই আরবি ভাষাকে ব্যবহার করে কোরানের অপমান হয়েছে এমন অজুহাতে তুলে ও গুজব রটিয়ে আজ অবধি বহু হিন্দুর সর্বানাশ করা হয়েছে। চলবে…..

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

বাহ

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

চিত্রগুপ্ত
চিত্রগুপ্ত এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, মে 2, 2017 - 1:00অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর