নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • মৃত কালপুরুষ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়
  • শাহনেওয়াজ রহমানী
  • জিহাতুল
  • আজহারুল ইসলাম
  • মোস্তাফিজুর রহম...
  • রিশাদ হাসান

আপনি এখানে

মসজিদের এইসব ইমাম মিথ্যাকথার খনি আর শয়তানের দোসর


মসজিদের এইসব ইমাম মিথ্যাকথার খনি আর শয়তানের দোসর
সাইয়িদ রফিকুল হক

শুক্রবারদিন সাধারণ মুসলমান তথা মুসল্লীরা দৌড়ে মসজিদে গিয়েছে জুম্মার নামাজআদায়ের জন্য। আর এক্ষেত্রে ইমামের কাজ হলো যথাসময়ে এদের নামাজ পড়িয়ে জুম্মার কাজ সমাপ্ত করা। কিন্তু মসজিদের সন্ত্রাসীইমামগুলো অহেতুক এদের দেড়-দুই ঘণ্টা জিম্মি করে আটকিয়ে রেখে আস্তে-আস্তে তার নিজস্ব নানারকম মনগড়া, মিথ্যা, আবোলতাবোল, আজেবাজে, উদ্ভট, কল্পনাপ্রসূত ও শয়তানী কথাবার্তা বলতে থাকে। আর এইসময় এইসব ইমাম-নামধারী প্রাণীগুলো একেবারে লাগামছাড়া হয়ে যায়। এরা এইসময় ‘পাগলা’ হয়ে সীমাহীন ‘ছাগলামি’ করতে থাকে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মসজিদেরই চিত্র এরকম। আজকাল এইজাতীয় প্রাণীগুলো ইমামের দায়িত্বদখল করে সাধারণ মুসলমানদের অতিসস্তামার্কা শয়তানীকথাবার্তা দ্বারা বিভ্রান্ত করছে। এদের এগুলো করতেই ভালো লাগে। তাই, এরা নামাজবিষয়ক ও সত্যিকারের উপেদেশমূলক কথাবার্তা বাদ দিয়ে নিজেদের আলতুফালতু ও লাগামহীন কথাবার্তা বলতে থাকে। আজকাল কোনো ভদ্রলোক মসজিদে গিয়ে শান্তিতে দুদণ্ড বসতে পারে না। সবখানে এই সন্ত্রাসীইমামদের ত্রাসের রাজত্ব চলছে।

এই ইমামগুলো চাঁদাবাজ। মসজিদে গেলে এরা নানারকম অজুহাত তুলে দানের নামে চাঁদাবাজি শুরু করে দেয়। আর এজন্য এরা দাতাকে আখেরাত-পরকালের দুর্লভসামগ্রী বেহেশতো হাতে-হাতে দিয়ে দেয়। কিন্তু নিজেরা কখনও দান করে না। এরা এখন নিজেদের স্বার্থের চাঁদাবাজির পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধীঅপতৎপরতা ও সন্ত্রাসীকার্যকলাপ শুরু করেছে।

আজকের জুম্মার আগে বাসার কাছের মসজিদের ইমাম বলতে লাগলো:
“সম্মানিত মুসল্লীভাইয়েরা, গত জুম্মার মতো আইজও আমি রোহিঙ্গাদের নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। তারা আমাদেরই মতো মুসলমানভাই। তাদের সর্বপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করা আমাদের ঈমানীদায়িত্ব। আর এটা বিশাল সওয়াবের কাজও। মরার পরে আপনি বিনাহিসাবে বেহেশতো যেতে পারবেন। তাই, যে-সব ভাই রোহিঙ্গাদের জন্য কিছু দিবেন বলে গত জুম্মায় ওয়াদা করেছিলেন, তারা আইজ সব দিয়ে দিবেন। আমাদের টিমের লোকেরা আইজ রাতের মধ্যে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ। আপনার দানের টাকাও রোহিঙ্গামুসলমানদের হাতে পৌঁছে যাবে (আসলে, কে-কীভাবে-কত টাকা পৌঁছে দিচ্ছে তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব এখানে নাই)! ...

মুসলমানদের নামাজ ছাড়া কোনো মুক্তি নাই। নামাজ না পড়লে দোজখ অবধারিত! আর যারা নামাজ পড়ে না তারা শয়তান! মুসলমানের ছেলেরা এখন নামাজ পড়তে চায় না! এটা আমাদের জন্য বিরাট লজ্জার বিষয়। নামাজ হলো মুসলমানের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। আর যে যাই করেন না কেন নামাজটা ঠিক রাখবেন। আইজ মুসলমান নামাজ পড়ে না বলেই মুসলমানের এই দুরাবস্থা। আইজ মুসলমান দুনিয়ার সবখানে মাইর খাইতেছে! মুসলমানরা ফিলিস্তিনে মাইর খাইতেছে, কাশ্মীরে মাইর খাইতেছে, বার্মায় (মিয়ানমারে) মাইর খাইতেছে, ইরাকে মাইর খাইতেছে (কিন্তু সে ইয়েমেন ও সিরিয়ার নাম করে না। কারণ, সেখানে তার বাপ সৌদিআরব সন্ত্রাস চালাচ্ছে—আর দুনিয়াজুড়ে মুসলমানসন্ত্রাসীরা যে সন্ত্রাসতাণ্ডব চালাচ্ছে সেসম্পর্কে সে কিছুই বললো না)!...
আইজ মুসলমানদের আগের মতো সেই সুদিন নাই। একদিন এই মুসলমানই সারাদুনিয়ার মালিক ছিল। তখন দুনিয়ার সব কাফের-মোশরেকরা সমানে মাইর খাইতো! আর আইজ মুসলমানরা ওই নিকৃষ্ট জাতি কাফের-মোশরেকদের হাতে মাইর খাইতেছে! মুসলমানদের জন্য এরচেয়ে বড় আফসোস আর কী আছে (মুসলমানের দুঃখে এইখানে এই ইমামের কলিজা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো)! মুসলমানদের আবার সেই সুদিন ফিরায়ে আনতে হবে। দুনিয়ার সব কাফের-মোশরেকদের আবার পরাজিত করতে হবে। তার আগে মুসলমানদের নামাজী হতে হবে। আইজ একশ্রেণীর মুসলমানরা আমেরিকা-রাশিয়া-চীনকে ভয় পায়। আসলে, এরা কিছুই নয়। আর আপনারা যদি সত্যিকারের মুসলমান হয়ে থাকেন—তাইলে কখনও আমেরিকা-রাশিয়া-চীন-ভারতকে ভয় পাবেন না। এদের কোনো ক্ষমতা নাই। সব ক্ষমতা আল্লাহর হাতে। আল্লাহর জিবরাইল যদি এদের ধরে একটা টান দেয়—তাহলে, এরা সব একনিমিষে খতম হয়ে যাবে। আর এরা তো মশা-মাছির মতো। আর এরা তো আল্লাহর ক্ষমতার কথা কিছুই জানে না। জানলে এরা মুসলমানদের উপর অত্যাচারনির্যাতন করতো না। আইজ সময় নাই। আগামীজুম্মায় জিবরাইলের ক্ষমতার কথা কিছু বলবো। তবে একটা কথা আইজ না বললেই নয়। আল্লাহ প্রয়োজন মনে করলে আবার মুসলমানদের জন্য ফেরেশতা পাঠাবেন। এই কথার প্রতি কি আপনাদের ঈমান আছে? আছে। সবাই জোরে বলেন—আছে-আছে। আরও জোরে বলেন—আছে (এইসময় ‘আছে-আছে’ বলে কিছু চিৎকার ও চেঁচামেচি)। সোবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লিাহ।...

আইজ আপনাদের একটা ঘটনা বলতেছি। আইজ এই মুসলমানদের এইরকম ভাঙ্গাচোরা চেহারার মধ্যেও মুসলমানদের একজন নেতা আছে! তিনি হলেন তুরস্কের মহামান্য প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তার একটা ঘটনা বলছি: কিছুদিন আগে তুরস্কের সরকার আমেরিকার এক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। এতে আমেরিকা রাগ হয়ে তুরস্কের নাগরিকদের আমেরিকা প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাজারী করেছে। তুরস্কের জন্য আমেরিকা ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তা করলে কী হবে? তুরস্ক কাউকে ভয় পায় না। তাই, এই ঘটনার প্রতিবাদে মুসলিম-মিল্লাতের নেতা তুরস্কের মহামান্য প্রেসিডেন্ট এরদোগানও আমেরিকার নাগরিকদের জন্য তুরস্কের ভিসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এবার যাবে কোথায় নাসারার দল? আর ঠেলার নাম বাবাজী! এই হলো মুসলমানের সাহস! এই হলো মুসলমানের মতো মুসলমান! এই হলো বাঘের বাচ্চা বাঘ! এই হলো বাপের বেটা বাপ! আমাদের নামাজী হতে হবে। আর এরদোগানের মতো সাহসী হতে হবে!...

আইজ আফসোস লাগে মুসলমানের ছেলেমেয়েদের ধর্মকর্ম নাই দেখে! তারা ঠিকমতো নামাজকালাম পড়ে না। কিন্তু বিধর্মীদের মতো পোশাকআশাক পরে। এগুলো সব জাহান্নামি পোশাক। আইজ মুসলমানের ছেলের মুখে দাড়ি নাই! তাদের পোশাকআশাকে কোনো শালীনতা নাই। বিশেষ করে মেয়েদের পোশাক খুবই খারাপ। তারা নবীর স্ত্রীদের মতো পোশাক পরে না। বিবি ফাতেমার মতো পোশাক পরে না। আইজকাইল শুনি—মেয়েরা এখন মার্কেটে গিয়ে নাকি ‘পাখি-ড্রেস’ চায়। তারা ‘কিরণমালা-ড্রেস’ চায়! কিন্তু কেন? আমাদের মুসলমানের ড্রেস নাই! মুসলমানের মেয়েদের বোরকাপরা ফরজ!...

আইজ আর সময় নাই। আগামীজুম্মায় আবার নামাজের বাকী ফজিলত বলবো।”

নামাজের ফজিলত বলতে গিয়ে এই ভণ্ডইমাম দুনিয়ার শয়তানী কথা বলে নামাজের ফজিলত বলা বাকী রেখে বললো ‘আগামী জুম্মায় এগুলো আরও বিশদভাবে বর্ণনা করবো’! কিন্তু কেন? আজ তোমার কী হয়েছে? এতোক্ষণ তুমি কেন এসব শয়তানীকথাবার্তা বলেছো? এর জবাব সে কখনও দিবে না। কারণ, সে নিজেকে ‘নবী-রাসুল’ মনে করে থাকে।

এই ইমাম একটা আস্ত শয়তান। সে এতোক্ষণ নামাজের ফজিলতবর্ণনা বাদ দিয়ে নিজের মনের ও দলের শয়তানীরাজনীতির কথা বলে সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করেছে। সে একবারও বাংলাদেশের কথা বলেনি। দেশপ্রেমের কথা এদের মুখে আসে না। কিন্তু সে সবসময় অবাধে অপরাজনীতির কথা বলে থাকে। মসজিদের ইমাম হিসাবে এগুলো তার দায়িত্ব-কর্তব্য নয়। তবুও এরা দিনের-পর-দিন এভাবে শয়তানী করে যাচ্ছে। কিন্তু কার স্বার্থে? নিশ্চয়ই পরের স্বার্থে।

নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলাম। কয়েকজন মুসল্লীকে খুব বিরক্ত দেখলাম। কিন্তু ইমাম বলে লোকটাকে তারা কিছু বলতে পারছে না। আসলে, কাজ কাউকে-না-কাউকে শুরু করতে হবে। আর এইজাতীয় ভণ্ডদের প্রকাশ্যে মসজিদে গণপিটুনি দিলে এরা আর এইরকম শয়তানীকথাবার্তা সহজে মুখে আনবে না। এদের স্পর্ধার সীমা দিন-দিন মাত্রাঅতিক্রম করছে।

১৯৭৮ সালে, এইরকম একটি মহৎকাজ করেছিলেন তৎকালীন বাকশাল-নেতা (বর্তমানের ‘ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন—বর্তমানে তিনি প্রয়াত) আব্দুর রাজ্জাক। সেই সময় জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রণে গোলাম আযম পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরে আবার নানারকম শয়তানীকথাবার্তা বলতে শুরু করেছিলো। একদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে গোলাম আযম তার চেলাদের সামনে আজেবাজে কথাবার্তা শুরু করতেই আব্দুর রাজ্জাক নিজের পায়ের জুতা খুলে গোলামের দুই গালে জুতার বাড়ি বসিয়ে দিলেন। তাঁর দেখাদেখি আরও অনেকে। এরপর গোলামকে কেন্দ্র করে মুসল্লীদের শুরু হয়ে গেল জুতাবৃষ্টি। সেদিন গোলাম পুলিশপ্রহরায় বেঁচে গিয়েছিল। এদেরও এমনটি করতে হবে।

দেশে আইনের শাসন না থাকায় এইসব ধর্মব্যবসায়ীগোষ্ঠী এখন নিজের ইচ্ছেমতো লাগামহীন ও অশ্লীল কথাবার্তা বলছে। কিন্তু আর কত? এর একটা শেষসীমা থাকা উচিত। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে এই লাগামহীন ছাগলগুলো এভাবে আর কত ভ্যা-ভ্যা করবে? এদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে না তুললে ৩০লাখ শহীদের আত্মা কষ্ট পাবে।

সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
১৩/১০/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 13 ঘন্টা 45 min ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর