নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • চিত্রগুপ্ত
  • কাঠমোল্লা
  • মৃত কালপুরুষ
  • অ্যাডল্ফ বিচ্ছু
  • নরসুন্দর মানুষ

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

আর্তনাদ


কিছু কুকুর পাড়ার মোড়ে চি‌ৎকার করে।
সন্ধ্যে থেকে একাকি বসে আছে শাপলা।কোনো কিছুতেই আজ আর তার মন নেই।সাধের সন্ধ্যেকালীন নাটককেও আজ আর তার মন ধরছে না।স্বামী হারাবার পর থেকেই এরকম হয় শাপলার।খেতে ইচ্ছে করে না,পড়ায় মন বসেনা,শুধু ইচ্ছে করে কাঁদতে, কেঁদে মনের সমস্ত স্মৃতিকে নিশ্চুপে ভাসিয়ে শিথিল করে ফেলতে অশ্রুর বহতায়।

বাড়িতে তিনি একাই থাকেন সারাক্ষণ। সম্বল বলতে ছোট্ট কাজের মেয়ে আফরোজা।ছেলে আছে কিন্তু তাকে তিনি তাঁর পরিবারের ভাবতে কষ্টবোধ করেন। তাঁর দিন-রাতের হিসেব নেই।গভীর রাতে নেশাগ্রস্ত হয়ে বেহুঁশ হয়ে বাড়ি ফেরা আর সকালেই খুব ব্যস্ততা দেখিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়া।কি করে,কোথায় থাকে, কি খায় কিছুই জানেন না শাপলা।ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেই তো সেই এক কথা,'সে নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না'।ওর বাবা থাকলে ছেলেটা এমন হতোনা।

আফু এক পেয়ালা চা দিয়ে যা মা।তখনই মনে পড়ল,দুইদিনের ছুটি নিয়েছে আফরোজা।
চায়ের ব্যবস্থা করে আবার এসে বসলেন আরাম কেদারায়।চুমুকে নিয়েই পিরিচে পেয়ালা রেখে পুরানো অ্যালবাম বের করতে উৎসুক হলেন।আবার কি ভেবে বসে পড়লেন।হাতে তুলে নিলেন পেয়ালা।দেওয়ালে টাঙানো তাদের যুগলবন্দী ছবির দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করতে থাকেন, এই আরাম কেদারায় মাঝেই একটু একটু করে জমেছে স্মৃতি।প্রতি সন্ধ্যায় এখানেই আড্ডা জমতো আড্ডা।চাকুরী থেকে ফিরে শাপলা দেখতেন বিজন ঠিক এভাবেই চায়ের পেয়ালা হাতে বসে থাকতেন আর সারাদিন বাড়িতে বসে কি কি ব‌ই পড়েছেন তাই শোনাতেন।শাপলা তাই তাকে আদর করে ডাকতেন 'জ্ঞানী'।
'বড্ড ভালো মানুষ ছিলেন',আবার বিড়বিড় করতে থাকেন শাপলা।তারপর একদিন হঠাৎ করেই নিঁখোজ হলেন।অনেক খোঁজ করেছেন, পুলিশে জানিয়েছেন কিন্তু কোথাও পাওয়া গেল না বিজনবাবুকে।
'আমার কিন্তু কোনো দোষ ছিল না।আমি দোষী ন‍ই,বিশ্বাস করো সেদিন আমার কোনো দোষ ছিল না'-বলতে বলতে গুমরে কেঁদে উঠলেন শাপলা।

সেদিন চাকুরী সেরে বাড়ি ফিরেই শাপলা দেখেন বিজনবাবু সোফাতে শুয়ে।শরীরে খুব উত্তাপ।জলপট্টি আর বাড়িতে থাকা ঔষধে যখন কাজ দিল না,ঠিক করলেই হাসপাতাল নিয়ে যাবেন।অগত্যা ড্রাইভারকে ডেকে বেরিয়ে পড়লেন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে।গাড়িতে চাপার পর থেকেই কেঁপে কেঁপে উঠছেন বিজনবাবু।ড্রাইভারকে তাড়া দেন দ্রুত যেতে।গাড়িও পিচের মসৃণ রাস্তায় এগিয়ে যেতে থাকে।
শাপলা জিজ্ঞেস ড্রাইভারকে করে,আর কতক্ষন?
ড্রাইভার: দিদি এই জঙ্গল পেরিয়ে, নদী পেরোলেই।মিনিট পনেরো লাগবে।
হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় গাড়ি।ড্রাইভার জানায় ইঞ্জিন খারাপ।মিস্ত্রি না এলে তো ঠিক হবে না দিদি।
শাপলা মনে মনে ভৎসনা করতে থাকে গাড়ি ও ড্রাইভারকে।
কিন্তু এভাবে বসে থাকলে তো চলবে না।বিজনকে নিয়ে যেতেই হবে হাসপাতালে।
ড্রাইভারকে শাপলা বলে রাস্তায় গাড়ি পেরিয়ে গেলে লিফট চাইতে।
শাপলা মাথায় বাতাস করতে থাকে বিজনের।এখনো কোনো হুঁশ নেই মানুষটার।
অগত্যা শাপলা নিজেই নেমে আসে রাস্তায় লিফট চাইতে।
অনেক গাড়ি ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে।ড্রাইভার লিফট চেয়েছে কিন্তু কোনো গাড়ি থামেনি।একটা তো একেবারে ড্রাইভারের গা ঘেঁষে পেরিয়ে গেল।
এবার কিন্তু পরের গাড়ি অবশ্যই থামাতেই হবে।আলো দেখা যাচ্ছে।হ্যাঁ ওটা একটা গাড়ি আসছে,রাস্তার মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে থাকল শাপলা।গাড়িটা থামল।দরজার পাশে গিয়ে শাপলা দেখল দুই যুবক।'তুমি' বলবে ভেবে 'আপনি' করেই বলল,''আমার স্বামী অসুস্থ, আমাদের সামনের হাসপাতাল মোড়ে নামিয়ে দেবেন''।
ছেলেদুটো নিজের মধ্যে তাকাতাকি করে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে গেল।
শাপলা উদভ্রান্তের মতো কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করতে থাকে।
গাড়িটা কিছুটা গিয়েই আবার থামল।গাড়ির একজন যুবক চেঁচিয়ে বলল,চলে আসুন।
ড্রাইভার আর শাপলা মিলে তুলে বিজনকে তাদের গাড়িতে তুলে দিল।ড্রাইভারকে দেখেই একজন যুবক বলল,এতজন হবে না।
শাপলাদেবী বুঝিয়ে বললেন,না না আমি আর আমার স্বামী।
গাড়ি চলতে শুরু করল।
সামনে পড়বে নদীব্রিজ,শ্মশান।তারপর কিছুটা এগিয়ে হাসপাতাল মোড়।
গাড়ির দুই যুবকেই বোতল থেকে পানীয় খাচ্ছে।গাড়ির মধ্যের মৃদু আলোতে পানীয় সম্পর্কে বুঝতে অসুবিধা হল না শাপলার।বুঝেও বাইরে তাকিয়ে থাকলেন না বোঝার ভান করে।অচৈতন্য বিজন শুয়ে আছে শাপলার কোলে মাথা রেখে।

ব্রিজের সামনে এসেই দাঁড়িয়ে গেল গাড়িটা।দুইযুবক নেমে টেনে হিঁচড়ে বের করে শাপলাকে।
শাপলা বুঝে ওঠার আগেই নরপিশাচরা খুবলে খেতে থাকে শাপলাকে।আর্তনাদ করতে থাকে নিশীথের বুক চিরে। তারপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শাপলা।
হাসপাতাল মোড়ে ফেলে গিয়েছিল বিজন-শাপলাকে।
পাশের গলিতে চিৎকার করে কিছু কুকুর।
চমকে ওঠে শাপলা।
হাসপাতাল থেকেই নিখোঁজ হয়েছিল বিজন।

স্মৃতির কাটাকুটি শেষে শাপলা ভাবে, সমস্ত স্মৃতিকে নিশ্চুপে ভাসিয়ে শিথিল করে ফেলতে অশ্রুর বহতায়।
দেওয়ালে টাঙানো তাদের যুগলবন্দী ছবির সামনে দাঁড়িয়ে শাপলা বিড়বিড় করতে থাকে ---
সেদিনের তোমার নিখোঁজ হওয়ার জন্য কি দায়ী আমার রুপ,যৌবন নাকি আমার নারী হয়ে জন্মানো।আর পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ছত্রছায়ায় বড়ো হ‌ওয়া নরপিশাচরা কি এর জন্য দায়ী নয়?কিসের এতো ব‌ই পড়তে গো তুমি,শুধু 'জ্ঞানী' নেওয়ার জন্য।ব‌ইয়ের বর্ণ কি সমাজ-জীবনের বর্ণের পরিবর্তন আনবে না?হাজার হাজার বিজন কি নিখোঁজ থাকবে দিশারী না পেয়ে?সুশীল সমাজ কতদিন শুনবে এ আর্তনাদ?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রানা মন্ডল
রানা মন্ডল এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 9 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, অক্টোবর 10, 2017 - 1:37অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর