নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়
  • শাহনেওয়াজ রহমানী
  • জিহাতুল
  • আজহারুল ইসলাম
  • মোস্তাফিজুর রহম...
  • রিশাদ হাসান

আপনি এখানে

নবুয়ত্ব পরীক্ষায় নবি মুহাম্মদ চুড়ান্তভাবে ফেল করলেন


মক্কার কুরাইশরা প্যাগান ছিল , তাই আব্রাহামিক ধর্ম ( ইহুদি ও খৃষ্টান) সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারনা ছিল না। কিন্তু মুহাম্মদ নিজেকে আব্রাহামিক ধর্মের সর্বশেষ নবী হিসাবে দাবী করলেন। সুতরাং এবার কুরাইশরা ইহুদি রাব্বিদের শরনাপন্ন হলো - মুহাম্মদের নবুয়ত্ব পরীক্ষার জন্যে। এবার দেখা যাক , সেই পরীক্ষায় মুহাম্মদ পাশ করলেন নাকি ফেল করলেন।

ইবনে ইসহাকের সিরাত রাসুলুল্লাহ- তে খুব পরিস্কার করে একটা ঘটনার বর্ননা আছে। প্রথমেই বলতে হবে , ইবনে ইসহাক মুহাম্মদের জীবনি লিখেছিলেন মুহাম্মদের মৃত্যুর প্রায় ৮০ বছর পর। আর সব সহিহ হাদিসই লেখা হয় মুহাম্মদের মৃত্যুর কমপক্ষে ২৩০ থেকে ২৫০ বছর পর। ইবনে ইসহাকের জন্ম মদিনায় , যেখানে সকল হাদিস লেখকদের জন্ম ইরানের বিভিন্ন যায়গায়। ইবনে ইসহাক তার সব তথ্যই সরাসরি তাবেইন( মুহাম্মদ বা তার সাহাবিদের পরের প্রজন্ম) বা তাবে তাবেইনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন যেখানে সহিহ হাদিস লেখকরা মুহাম্মদ সম্পর্কে মুহাম্মদ মারা যাওয়ার কম পক্ষে ৫/৬ জেনারেশন পরের লোকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। সুতরাং কার লেখা তথ্য বেশী নির্ভরযোগ্য ? ইবনে ইসহাকের , নাকি হাদিস লেখকদের ?

তো ঘটনা হলো , ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে অবশেষে মক্কার কুরাইশরা মদিনায় গেল ইহুদি রাব্বিদের কাছে , এটা বুঝতে যে মুহাম্মদ ইহুদিদের কিতাব তৌরাত অনুযায়ী আসলেই নবী কি না । রাব্বীরা তাদেরকে বলে দিল, তিনটা প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারলে মুহাম্মদ নবী। সেই তিনটা প্রশ্ন হলো - (১) প্রাচীন কালে সেই যুবকদের কি অবস্থা হয়েছিল যারা হারিয়ে গেছিল ? (২) সেই অভিযাত্রী কে যে পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত দখল করতে পেরেছিল ? (৩) রুহু বা আত্মা কি ? কুরাইশরা মক্কায় ফিরে মুহাম্মদ এই প্রশ্ন তিনটা করল। উত্তরে - মুহাম্মদ বললেন তিনি পরদিন উত্তর দেবেন। কিন্তু পনের দিন পেরিয়ে গেল মুহাম্মদ উত্তর দিতে পারলেন না। পনের দিন পর অবশেষে জিব্রাইল এসে মুহাম্মদের কাছে উক্ত তিনটা প্রশ্নের উত্তর আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে হাজির হলো ( সিরাত রাসুলাল্লাহ , ইবনে ইসহাক , পৃষ্ঠা নং - ১৩৬), সেটা দেখা যাবে নিচের আয়াত সমুহে --

সুরা কাহফ - ১৮:১৩: আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

উক্ত কয়জন যুবকের কি হলো ? সেটা দেখা যাবে নিচের আয়াতে --

সুরা কাহফ - ১৮: ১৬: তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক হলে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করে তাদের থেকে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয়গ্রহণ কর। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ কর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করবেন।

গুহায় অবস্থান করার পর কি ঘটল ? সেটা দেখা যাক নিচের আয়াতে ---

সুরা কাহফ- ১৮: ২৫: তাদের উপর তাদের গুহায় তিনশ বছর, অতিরিক্ত আরও নয় বছর অতিবাহিত হয়েছে।

তার মানে উক্ত যুবকগুলো গুহার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে, যখন তারা জাগ্রত হয় তখন তিনশত বছর কেটে গেছে। পুরো ঘটনা জানা যাবে সুরা কাহফের ১৩ থেকে ২৫ পর্যন্ত আয়াত পড়লে। এখন ইতিহাস থেকে উক্ত যুবকদের ঘটনা সম্পর্কে আমরা কি জানি ? ২৫০ খৃষ্টাব্দের দিকে ইফেসাস শহরের কতিপয় যুবক যারা খৃষ্টান ধর্ম গ্রহন করেছিল , তারা রোম সম্রাট ডেসিয়াসের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে একটা গুহায় প্রবেশ করে। তারপর যখন তারা জাগ্রত হয় তখন মাঝে ২০০ বছর কেটে গেছে। সেই সময়ে খৃষ্টানরা রোম সম্রাটদের কোপানলে ছিল। এখন প্রশ্ন হলো - এটার সাথে ইহুদি ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। ইহুদিরা যীশুকে ঈশ্বরের পূত্র তো দুরের কথা , কোন নবী হিসাবেও মানে না। সুতরাং এই কাহিনীর সাথে ইহুদিদের তৌরাত কিতাবের বা ইহুদি ধর্মের কোন সম্পর্ক থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। তার মানে এই ঘটনা সত্য হলেও তৌরাত কিতাব অনুযায়ী মুহাম্মদ কোনভাবেই নবী হবেন না। সুতরাং যার সাথে ইহুদি ধর্মের বা তৌরাত কিতাবের কোন সম্পর্ক নেই , সেই ধরনের একটা প্রশ্নের উত্তরের সাথে তৌরাত কিতাব অনুযায়ী কারও নবী হওয়ার বিষয়টা হাস্যকরই না ,রীতিমতো আষাড়ে গল্প। ইহুদিদের রাব্বিরা( ধর্ম গুরু) অত্যন্ত গোড়া ও ধর্ম পরায়ন , তাই যৌক্তিকভাবেই বোঝা যায় , রাব্বিরা কখনই এই ধরনের প্রশ্ন ও উত্তরের মাধ্যমে মুহাম্মদের নবুয়ত্বকে প্রমানের উপায় বাতলে দেবে না।

তারপরেও ধরা যাক , উক্ত প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা মুহাম্মদ নিজেকে নবী হিসাবে প্রমান করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কথা হলো - মুহাম্মদ নিজেই বলেছিলেন যে উত্তর দেবেন পরদিন , কিন্তু সেটা দিতে না পেরে পনের দিন সময় নিলেন । এর অর্থ কি ? এখন যার একটু সাধারন জ্ঞান আছে তিনিই বুঝতে পারবেন , এই সময়টা উনি নিয়েছিলেন উক্ত ঘটনা সম্পর্কে খবরাখবর নিয়ে উত্তর দিতে। সেই সময়ে উক্ত গল্পটা মধ্য প্রাচ্যের প্রায় সর্বত্রই প্রচারিত ছিল। তাই বলা বাহুল্য সেটা মক্কা বা তার আশ পাশের যেসব খৃষ্টান বা ইহুদি ছিল তাদের অনেকেই এই গল্পটা জানত। কারন এটা একটা বিখ্যাত গল্প। তাছাড়া মুহাম্মদ নিজেও বহুবার খৃষ্টান ধর্মের লীলা ভূমি সিরিয়াতে গমন করেছিলেন ব্যবসা উপলক্ষ্যে আর সেখানে তিনি আগে এই ধরনের ঘটনা শুনে থাকবেন। কিন্তু গল্পটা বিস্তারিত জানতেন না। তিনি সময় নিয়েছিলেন বিস্তারিত জানা ও বোঝার জন্যে। আর তারপর আল্লাহর বানীর নামে সেই গল্পটা কুরাইশদেরকে বলে গেলেন। কিন্তু বলা বাহুল্য , কুরাইশদের মধ্যে অনেকেই হয়ত এই ঘটনা আগে থেকেই জেনে থাকবে , তাই মুহাম্মদের আল্লাহর বানীর নামে এই বলা ঘটনাটা কোন প্রভাব ফেলতে পারল না কুরাইশদের মনে। আর বলা বাহুল্য , নবী হিসাবে নিজেকে প্রমান করতে মুহাম্মদ চরমভাবে ব্যর্থ হলেন।

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে মুহাম্মদ কোরানের বানীর নামে জুলকারনাইনের কথা বললেন যেমন ---

সুরা কাহফ - ১৮: ৮৬: অবশেষে তিনি যখন সুর্যের অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন।
সুরা কাহফ - ১৮: ৯০: অবশেষে তিনি যখন সূর্যের উদয়াচলে পৌছলেন, তখন তিনি তাকে এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হতে দেখলেন, যাদের জন্যে সূর্যতাপ থেকে আত্নরক্ষার কোন আড়াল আমি সৃষ্টি করিনি।

তার মানে জুলকারনাইন বলে এক লোক পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তে সূর্যের অস্ত স্থল থেকে পূর্ব প্রান্তে সূর্যের উদয় স্থল পর্যন্ত গোটা পৃথিবী দখল করেছিল। প্রশ্ন হলো - দুনিয়াতে এমন কোন সম্রাট বা রাজা কি অতীতে ছিল , যে কিনা পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত গোটা পৃথিবী দখল করেছিল ? উত্তর হলো - না। তার মানে কোরান কোন রূপকথার সম্রাটের কথা বলছে। বলাবাহুল্য এ ধরনের কাহিনীর সাথেও ইহুদিদের ধর্ম বা তাদের কিতাব তৌরাতের কোনই সম্পর্ক নেই। তবে অনেক ইসলামী পন্ডিতরা বলে থাকেন , এই জুলকারনাইন হলো আসলে আলেক্সান্ডার। যদি সেটা সত্যও হয় , তাহলেও বা কি প্রমানিত হলো ? আলেক্সান্ডার যে একজন মহাবীর ছিলেন আর তিনি তখনকার দিনের জানা প্রায় অধিকাংশ দেশই দখল করেছিলেন , এটা তো সেই তখনকার দিনে দুনিয়ার সর্বত্রই প্রচারিত ছিল। আরবের মরুভূমির মক্কা মদিনার লোকজন না জানলেও সিরিয়ার লোকজন সেটা জানত। মুহাম্মদ সিরিয়ায় বহুবারই গেছিলেন বানিজ্য উপলক্ষ্যে , সেই সূত্রে তারও সেটা জানা থাকার কথা। আর সেই জানা ঘটনাটা কোরানের বানীর নামে চালিয়ে দিয়ে তিনি কি ভাবে প্রমান করলেন তিনি আল্লাহর নবী ? আর ইহুদি রাব্বীরা এত পাগল না , যে এই ধরনের বহুল প্রচলিত ঘটনার কথা জানার মাধ্যমে কাউকে নবী হিসাবে প্রমান করার উপায় বাতলে দেবে।

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে , এসব কাহিনী মুহাম্মদের সাহাবিরা নিজেরাই তৈরী করে সেসব মুহাম্মদের নামে প্রচার করেছে তাকে নবী হিসাবে প্রমান করার জন্যে। যেমনটা আজকে বহু পীরের মুরিদরা অতিরঞ্জিত করে নানা গল্প প্রচার করে থাকে তাদের পীরদের সম্পর্কে। বিশেষ করে মৃত পীরদের সম্পর্কে। যেমন - ওমুক পীর নদী ভাঙ্গন রোধ করেছিল , তমুক পীর ট্রেন থামিয়ে দিয়েছিল , বা জ্বীন পরীদের সাথে সভা করেছিল ইত্যাদি।

যুবকদের গল্প সম্পর্কে তথ্য : https://en.wikipedia.org/wiki/Seven_Sleepers
ইবনে ইসহাকের সিরাত : https://archive.org/details/TheLifeOfMohammedGuillaume
ইবনে ইসহাক সম্পর্কে : https://en.wikipedia.org/wiki/Ibn_Ishaq
সহিহ হাদিস লেখকরা : https://en.wikipedia.org/wiki/Kutub_al-Sittah

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর