নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • আকাশ সিদ্দিকী
  • সৈকত সমুদ্র
  • পৃথ্বীরাজ চৌহান
  • ভিন্ন_মত
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • জোসেফ হ্যারিসন
  • সাতাল
  • যাযাবর বুর্জোয়া
  • মিঠুন সিকদার শুভম
  • এম এম এইচ ভূঁইয়া
  • খাঁচা বন্দি পাখি
  • প্রসেনজিৎ কোনার
  • পৃথিবীর নাগরিক
  • এস এম এইচ রহমান
  • শুভম সরকার

আপনি এখানে

ধর্মহীন লাশ


হেমন্তের পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের লাল, নরম মোহনীয় অথচ সরল আলোকরশ্মির আলোয় কাঁশফুল গুলো হিমেলকে আরও থেতিয়ে দিচ্ছে। আজ সে চুমু খাবেই। দু বছর হয়ে গেল প্রেমের প্রতিবারের মত আজও সে নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করেছে, চুমো খাবেই। আস্তে করে ডান হাতটি চেপে ধরে কাঁশবনের পাশে ঘেষা দেয়ালটায় প্রজ্ঞার পিঠ লাগিয়ে দেয়। আরেকটু কাছে এসে হিমেল তার ঠোঁট দুটো প্রজ্ঞার নাক বরাবর ঘেষে কপাল পর্যন্ত নিয়ে যায়।
- কিরে তোর কপালের মাঝ বরাবর সিঁথিতে একটা চুল পেঁকে গেছে মনে হয়! বুড়ি হয়ে গেলি নাকি?
- যাও তুমি যে কি করোনা, একদম ভয় পাইয়ে দাও। আমি চললাম সন্ধ্যা হয়ে গেছে ঠাকুর ঘরে পূজো দিতে হবে।বলেই দৌড়।

ব্যার্থ প্রেম! আজও হলো না। এতদিনেও চুমু খাওয়ার কথাটি সে বলতে পারলো না। ভাবনার আড়ালে মাগরিবের আজান ভেসে আসলো। এবার হিমেল কেও যেতে হবে। গতকাল নামাজ না পড়ায় মার বকা খেতে হয়েছে। হবেই না বা কেন, বাবা এলাকার মসজিদের ইমাম মোঃ মোখলেছুর রহমান গণ্যমান্য ব্যাক্তি। আর তার ছেলে আবু হানিফা নামাজ পড়বে না তা গ্রামের মানুষ ভালো চোখে দেখবে কি করে? এর মধ্যে আবার বন্ধুদের মাঝে নিজের নাম দিয়েছে হিমেল। নামটা অবশ্য প্রজ্ঞার দেওয়া, হিমেলের ও পছন্দ।

47 এর দেশ ভাগের পর থেকেই কোন এক অজানা কারনে কীর্তনখোলা গ্রামের হিন্দুদের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। আগে এই গ্রামে হিন্দুর সংখ্যা ছিলো সত্তর ভাগ যা এখন প্রায় তিরিশের কোটায় নেমেছে। শিক্ষিত হিন্দুদের অধিকাংশই বর্ডার ক্রস করেছে, তুলনামূলক শিক্ষিতের হারটা তাই মুসলমানদেরই বেশি।এই গ্রামে হিমেলেই একমাত্র ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্র। ছেলেটি বেশি দিন হোস্টেলে থাকতে পারে না ঘন ঘন বাড়িতে চলে আসে। এ নিয়ে মা বাবা বকা দিলেও তাদের গর্বের শেষ নেই তাদের প্রতি সন্তানের এহেন ভালবাসা দেখে।

এশার নামাজ পড়ে হিমেল তার মায়ের রুমে ঢুকলো। মা আমেনা খাতুন টাংক গোছাতে গিয়ে পুরোনো গানের খাতাগুলো খুঁজে পেয়েছে। আপন মনে সেগুলোতে চোখ বুলাতে গিয়ে স্মৃতির পাতায় আটকে গেল। অসম্ভব ভালো লাগতো তার রবীন্দ্রসংগীত। রেডিওতে শুনে খাতায় লিখে রাখতো। আশেপাশের সিঁথি রায়, পূজা দেবী, শ্রাবণী দাস, অহনা সব বান্ধবীদের ডেকে এনে গান শুনাতো। এতো সুন্দর গানের গলা ছিলো যে, কেউ আসর ছেড়ে উঠতেই চাইতো না। মুন্সীর মেয়ে হয়ে আমেনার এই দস্যিপনা, হিন্দু গান গাওয়া পোক্ত ঈমানদার আমেনার বাবার ঈমানে আঘাতহানে। অনেকটা তড়িঘড়ি করেই আমেনার বিয়ে দিয়ে দেয় ইমামের কাছে।
সেদিন থেকেই স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে আমেনার।স্বামীর নির্দেশ মানতে গিয়ে আর কখনই রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া হয়নি আমেনার। গানের যে ধর্ম হয় আমেনার এটা বুঝার বয়স তখনও হয়নি।
কখন যে ছেলে এসে আমেনার পিছনে দাড়িয়ে গেছে স্মৃতিতে হারিয়ে যাওয়া আমেনা টেরই পাননি।
- মা......তুমি রবীন্দ্রসংগীত গাইতে পারো! মা......একটা শুনাও না প্লিজ।
-আরে না, সেই ছোট থাকতে গাইতাম তারপর তো কোনদিনই গাওয়া হয়নি। তোর বাবা চলে আসবে অন্য একদিন শুনাবো।
খাটের কোণে বসা মায়ের কোলে মাথা রেখে হিমেল জিজ্ঞেস করলো - তুমি বাবাকে এতো ভয় পাও কেন?
-ভয় কিসের? মেয়েদের এরকম ভাবেই চলতে হয়, স্বামীর কথা শুনতে হয়।
আচ্ছা মা প্রজ্ঞা কতো সুন্দর হয়েগেছে তাই না?
-হুম, বিয়ে দেওয়ার মত একটা হিন্দু ছেলেও গ্রামে নেই। সবাই ইন্ডিয়া চলে গেছে। এরা যে কি কারনে রয়ে যাচ্ছে!

কি, মা ছেলে কি কথা হচ্ছে? ছেলেকে একটু বুঝাও শুধু ফরজ আদায় করে দৌড় দিলেই হবে সুন্নত নফল এর খবর নাই। তুমি ছেলেকে মাথায় তুলে রেখেছ।
-ছেলে কি শুধু আমার নাকি?
হিমেল আস্তে করে বের হয়ে নিজের রুমে চলে গেল।

সকালের জ্বলমলে মিষ্টি রোদের আলোয় চিকচিক করছে দেহটা। লম্বা চুলগুলো জালের মত ছড়িয়ে আছে পানির উপর। সরপুঁটি গুলো চুলের ফাঁকে স্থায়ী বাসা বানানোর স্বপ্ন দেখছে। পরনের কারুকার্যখচিত সেলোয়ারটি দেখে মনে হচ্ছে কোন অভিজাত পরিবারের হবে মেয়েটি। টাকা -পয়সা, সৌন্দর্য সবসময় সুখের হয়না, আমাদের মত সমাজে অনেক সময় অভিশাপ।

ঝটলা বাড়তে থাকে, ছেলে বুড়ো সবাই প্রায় এসে গেছে।লাশটাকে ডাঙায় তোলার কথা কেউ ভাবছে না। পুলিশ ছাড়া লাশটা তুলতে গিয়ে পরে না আবার বিপদ আসে। লাশ তুলতে গিয়ে হাতের চাপ বসে গেলে, নিজেকেই কিনা আবার খুনি হতে হয়।
ঝটলা ফাঁক করে সবার সামনে চলে আসলো ভুবনেশ্বরী। কিছুক্ষণ চুপ করে লাশটিকে দেখলো। কয়েকজনের নাম ধরে বললো লাশটি তুল। ভুবনেশ্বরীর কথা শুনে সবাই একটু ভরসা পেলো।
ভুবনেশ্বরী হলো গ্রামের প্রিয় মুখ হিন্দু, মুসলিম এমন কোন ঘর নেই যে তার পদধূলি পড়ে নাই। ভুবনেশ্বরীর বাবা ছিলো এই গ্রামের মাতাব্বর। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমলারা আসতো তার বাড়িতে। এখনও গ্রামে সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ বা কোন এনজিও আসলে আগে ভুবনেশ্বরীর সাথে দেখা করে।
লাশটিকে তুলে নেওয়া হলো কীর্তনখোলা ঈদগাহ মাঠে। আগে পুরোটাই শশ্মান ছিলো,মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দুই তৃতীয়াংশ ঈদগাহ মাঠ করা হয়েছে। মাঠের পূর্ব পাশে শশ্মান ঘাটটি ছোট থেকে ছোটতর হচ্ছে দিন দিন।

মনে হচ্ছে লাশটি বেশিক্ষণ আগে পানিতে ফেলা হয়নি, ঘনটা খানেক হবে হয়তো। জমীর মাঝি যখন ভোরবেলায় মাছ নিয়ে যায় তখনও এখানে কিছু ছিলো না। দূরে একটা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দেখতে পেয়েছিলো সে সম্ভবত এই ট্রলার থেকেই লাশটা ফেলে রেখে গেছে।

নজর আলী এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লাশটির দিকে। লাশটির যৌবন তার কাছে এখনো শেষ হয়ে যায়নি। নজর আলীর নজর নিয়ে গাঁয়ে একটা কথা প্রচলিত আছে -নজর আলীর নজর লাগলে সেটা ধ্বংস হবেই, সেটা ফসলের ক্ষ্যাত হোক, ফলের গাছ হোক বা কোন প্রসূতি নারীই হোক।
আমেনা একটা চাদর এনে ডেকে দিলো লাশটিকে। নজর আলী ভীমরি খেলো। অধিকাংশ বৃদ্ধ লোকের শেষ বয়সে একটা রোগ হয়। যৌবন শরীর থেকে এসে মনে বসে। বুড়ো বয়সে এই যৌন বিকারগ্রস্ত হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ কি? তা হয়তো কোরআন ঘাটলে পাওয়া যেতে পারে।

মাতাব্বর ফুরকান মিয়া, ইমাম মোঃমোকলেছুর রহমান আর ভুবনেশ্বরী রওনা হলো থানার দিকে। এই দুর্গম চর থেকে ষোল ঘোড়া ডিজেল চালিত ইঞ্জিন নৌকাই একমাত্র দ্রুতগামী যানবাহন।

সবাই যখন মাঠে লাশ নিয়ে ব্যাস্ত প্রজ্ঞা দৌড়ে গেল হিমেলকে ডাকতে। হোস্টেলে থেকে ভরদুপুর পর্যন্ত ঘুমের একটা বাজে অভ্যেস গড়ে তুলেছে।
মাথায় হাত বুলিয়ে হিমেলকে ডাকছে প্রজ্ঞা - তাড়াতাড়ি উঠো গাঁয়ে একটা কান্ড ঘটে গেছে।
ঘুম ভেঙে প্রজ্ঞার সরল মায়া মাখা মুখ দেখে কেমন জানি এলোমেলো হয়ে গেলো সে।
-তুমি আমার রুমে ডুকেছো! মা বাবা কেউ নেই বাসায়!
- না, মা বাবা মাঠে। ওখানে একটা লা........
- থাক আর শুনতে চাচ্ছি না। আমি তুমাকে একটা চুমু খেতে চাই। বলেই ইতস্তত বোধ করতে লাগলো হিমেল। এভাবে বলাটা ঠিক হয়নি, নিজেকে নিচু ও বাজে ছেলে মনে হতে লাগলো।
প্রজ্ঞা কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর হাত চেপে ধরে বললো কখনো আমাকে ছেড়ে যাবেনাতো। ধর্ম যদি বাধা হয়ে আসে।
- আমি ধর্মটর্ম মানি না। তোমাকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো। যেখানে কোন ধর্ম থাকবে না শুধু ভালবাসা আর ভালবাসা।
- ঠিক আছে, বাসি মুখে চুমু খেতে নেই। মুখ ধুয়ে মাঠে এসো তারপর দেখা যাবে। বলেই ভোঁ দৌড়।

2.
থানায় ওসি সাহেব টেবিলে একটা পা দিয়ে মহিষের মত শরীরটা চার পা ওয়ালা চেয়ারের ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে পান চিবুচ্ছে।
-এই যে মাতাব্বরের মেয়ে ভুবনেশ্বরী আসেন বসেন। এত দেরী করলেন কেন?
মনে হচ্ছে ওসি সাহেব আগে থেকেই জানেন ঘটনা। তবে আমাদের আগিয়ে এখানে কেউ এসেছিলো নাকি?
-তা কেন? তা কেন? পুলিশের একটা দায়িত্ব আছে না। দায়িত্ব বোধ থেকেই অনেক কিছু জেনে নিতে হয়। এই নেন পান খান। আর চরে যেয়ে লাশটাকে ভালভাবে সৎকার করে নিয়েন। আপনাদের এই দুর্গম চরে কোন সাংবাদিক যাওয়ার ও অপশন নাই। উপর মহলের নির্দেশ আছে এটা নিয়ে আর কথা বাড়ায়েন না যা হয় সব চরের মানুষের মধ্যেই রাইখেন।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে প্রায়।
ভুবনেশ্বরীরা ফিরে আসলো গাঁয়ে। সন্ধ্যের মধ্যেই সৎকার করতে হবে ওসি সাহেবের নির্দেশ। বুঝতে বাকি রইলো না কারোই।

যতীন্দ্র এসে বললো সে কাঠ কয়লার ব্যবস্থা করে ফেলেছে। এখন সবাই অনুমতি দিলেই পুড়িয়ে ফেলবে।
- পোড়াবো কেন? চেঁচিয়ে ওঠলো লালু মিয়া। যত্তসব বিজাতী এসে দেশটাকে গিলে খেলো। এভাবে পুড়িয়ে লাশের আত্মাটাকে কে কষ্ট দেওয়া হয়। যত্তসব ফালতু ধর্ম, হাজারটা ভগবান।

- এই তুমি ধর্ম নিয়ে কথা বললে কেন? আমরা বিজাতী না বরং
তোরাই বিজাতীয় ধর্ম এখানে নিয়ে এসেছিস।
আপনারাই দেখেন লাশটার কি গোলগাল চেহারা একদম মা দূর্গার চেহারা পাইছে। মুসলমান মেয়েদের চেহারা তো আর দেবীর মত হবেনা।

সাকা সিঁদুর বিহীন মেয়ের লাশটি ঝামেলা তৈরী করবে বলে মনে হয়। শ্যামল চন্দ্র এগিয়ে গিয়ে মোকলেছুর রহমানকে বললো - লাশটা যেহেতু যতীন্দ্রই আগে দেখেছে তাই তার কথাটা রাখাই যুক্তি সংগত।
- কিন্তু মুসলমান হিসেবে একটা লাশকে আমি পুড়াতে দিতে পারি না। লাশটাতো আর হিন্দু নয়। তাছাড়া আমরা সংখ্যায় বেশি।
- দেশ থেকে তাড়িয়ে এখন সংখ্যায় বেশি গুণছেন। ভুলে যাবেন না এখানে মুসলমানরা হিন্দুদের অধীনে ছিলো।
যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা বলেই হট্টগোল শুরু করে দিলো লালু মিয়া। ধর্মের জন্য জীবন দিবো সব মুসলমান লাঠি লও।
-যতীন্দও চেঁচিয়ে উঠলো, বাপ দাদার দেশ ত্যাগের প্রতিশোধ আজ নিতেই হবে।

হঠাৎ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো শ্যামল চন্দ্র। হাত বেয়ে রক্ত পড়ছে। দৌড়ে আসলো ভুবনেশ্বরী। ভুবনেশ্বরীর কোলে মাথা রেখে শেষ কথাটি বললো শ্যামল - আমার মা মরা মেয়েটাকে তুমি দেখে রেখো। তারপর মাথাটা বাম দিকে হেলে পড়লো।

3.
হাস্যোজ্জ্বল গ্রামটি স্তব্ধ হয়ে গেলো। নদীর কূলকূল ধ্বনি নেই, পাখির কিছিরমিছির নেই,জোনাকিরা আজ ছুটি নিয়েছে। সত্তর ভাগ মুসলমান একদিকে অন্যদিকে তিরিশ ভাগ হিন্দু, মধ্যে ধর্মের অদৃশ্য বলিরেখা গ্রামটিকে দুভাগ করে দিয়েছে।
শশ্মানে শ্যামল চন্দ্র কে পোড়ানো হয়েছে। একমাত্র মেয়ের শোকের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠেছে কীর্তনখোলার বাতাস। যার তরঙ্গ ঢেউ এসে লাগছে হিমেলের মনে। বাবার অবাধ্য হয়ে ওদিকে মুখ ফেরানোরও সাহস পাচ্ছে না হিমেল।

এক সপ্তাহ পর হিমেল কাছে খবর আসলো প্রজ্ঞা ভুবনেশ্বরী কে নিয়ে ইন্ডিয়া চলে যাবে তার এক দূর সম্পর্কের মামার কাছে। পরদিন সকালেই ফ্লাইট। আজ রাতেই ঢাকা রওনা দিবে তারা।
হিমেল ভার্সিটির কথা বলে ঢাকায় রওনা দিলো, যে করেই হোক আটকাতে হবে প্রজ্ঞাকে।
-অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য তো আমি দায়ী নই। প্রজ্ঞা এই সহজ জিনিস টা কেন বুঝতে পারছে না। আমি থাকে নিয়ে চলে যাবো অনেক দূরে ধর্মহীন সুন্দর পৃথিবীতে।
রাতে বিমানবন্দরে পৌছেই সকালের ফ্লাইটের খুঁজ নেয় হিমেল। ফ্লাইট সকাল সাড়ে ছয়টায়। নিরাপত্তার কারনে ভিতরে অবস্থান করতে দিচ্ছে না কাউকে। হিমেল তাই এক নাম্বার গেইটের মেইন রোডে দাড়িয়ে আছে। তার সূক্ষ্ম দৃষ্টি এড়িয়ে একজনেরও ভিতরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই।

অজ্ঞাত কারনেই জীবনের প্রথম বোরকা পড়েছে প্রজ্ঞা ও ভুবনেশ্বরী। গেইটে ডুকতেই হিমেলের চেহারা চোখে পড়লো ভুবনেশ্বরীর। প্রজ্ঞার মাথাটা কাঁধে নিয়ে গেইট দিয়ে ঢুকে গেলো ভুবনেশ্বরী।
সারাদিন অপেক্ষা করেও প্রজ্ঞার দেখার পেলো না হিমেল।
আজ দু বছর যাবৎ এক নম্বর গেইটে বসে চিঠি লিখছে হিমেল। হাতের লেখা বড্ড খারাপ হয়ে গেছে।
হিমেলের চিঠি -
- গানের ধর্ম থাকতে হয়।
- লাশের ধর্ম থাকতে হয়।
- ভালবাসার ধর্ম থাকতে হয়।
- ধর্মহীনেরও ধর্ম থাকতে হয় এই পৃথিবীতে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

তায়্যিব
তায়্যিব এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 6 দিন ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 10, 2016 - 12:31অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর