নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়
  • শাহনেওয়াজ রহমানী
  • জিহাতুল
  • আজহারুল ইসলাম
  • মোস্তাফিজুর রহম...
  • রিশাদ হাসান

আপনি এখানে

সহীহ মুসলমানের চেহারা (প্রথম পর্ব)


ধারাবাহিক উপন্যাস:
সহীহ মুসলমানের চেহারা
(প্রথম পর্ব)
সাইয়িদ রফিকুল হক

তাইজুল বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার বাপ মাঠ থেকে দৌড়ে এলো। ছেলে তার ঢাকায় যাচ্ছে। শেষ বিদায়কালে তাকে অন্তত ভালো-মন্দ একটা-কিছু তো বলা দরকার।

এই ভেবে সলিমুদ্দীন গায়েগতরে মাটিসমেত ছেলের কাছে এগিয়ে এলো। আর তাকে প্রায় জড়িয়ে ধরে বললো, “বাজান, ঢাহায় চাকরির জন্যি যাইতেছো যাও। আল্লাহ তোমার মনের আশা পূরণ করুক। কিন্তু বাজানরে, হারাম টাহাপয়সার দিক কিন্তু কোনো সময় চাইয়া দেখবা না। আর কোনোসময় কোনো হারামখোরের বাড়িতে থাকপাও না আর খাইবাও না। আমরা গরিবমানুষ, বাজান। আমাগরে বেশি টাহাপয়সার দরকার নাই। টাহাপয়সার পিছনে বেশি ঘুইরেগাইরে ঈমানআমল কিন্তু নষ্ট করা যাবি না। আর যত কষ্টই হোক বাজান ঘুষ খাইবে না। বেশি দরকার পড়লি তোমার ওই দুঃসম্পর্কীয় দুই-তিন চাচা আর মামুগরে ঠিকানা নিয়ে যাও। বেশি দরকার হলি তাগরে কাছে যাইবে। আর লেহাপড়া যহন শিখছো চাকরি একটা-না-একটা হইবেই।”
তাইজুল বাপকে জানালো: সে তার সমস্ত চাচা ও মামার ঠিকানা সঙ্গে নিয়েছে। আর চাকরির জন্য তার পেশকার-চাচার কাছেই যাবে।
তারপর একটু পরে তাইজুলের বাপ আরও কয়, “আর শোনো বাজান, তোমারে যে ঠিকানাখান দিছি তা কিন্তু হারায়ো না। তোমার এই চাচার বিরাট ক্ষমতা। তিনি একাই ঢাহার হাইকোর্ট চালান! আর লোকজনের কাছে শুনছি, আর নিজের চোহেও দেখছি তিনি খুবই ধার্মিক। তার মতো ধার্মিক এই দেশে আর নাই। নামাজকালামেও তার মতো পরহেজগার আর-কেউ নাইরে বাপ। তিনি একজন খাঁটি মুসলমান। তার সাথে বেয়াদপি কইরো কিন্তু। আরেকখান কতা বাজান, পারলে চাচারে হাতেপায়ে ধইরে একখান চাকরি আদায় কইরে নিও। না পারলে দ্যাশে ফিরে আইসো। আর চাকরি হইলে সময়মতো আমারে জানাইয়ো। শেষকতা বাজানরে, কোনোসময় ঘুষের পথে যাইয়ো না।”
তাইজুল ‘জ্বি-আচ্ছা, বাজান’ বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো।
বংশে তাইজুলের চেয়ে বেশি শিক্ষিত আর-কেউ নাই। সে অনেক চেষ্টার পর গতবছর এইচ.এস.সি. পাস করেছে। ধরতে গেলে এই বংশে সেই একমাত্র শিক্ষিত মানুষ।

একটা চাকরিবাকরির আশায় সে ঢাকায় চলে এলো। প্রথম রাতটা সে তার এক রিক্সাওয়ালা-বন্ধুর সঙ্গে বস্তিতে কাটিয়ে দিলো। তারপর সে পরদিন তার বাপের কথামতো দুঃসম্পর্কীয় এক চাচার সঙ্গে দেখা করতে হাইকোর্টের দিকে রওনা হলো।

সে এর আগেও কয়েকবার ঢাকায় এসেছে। রাস্তাঘাট সে যে একেবারে চেনে না তা নয়। সে সকাল আটটার দিকে বন্ধুর বস্তি থেকে চারটে খিচুরি খেয়ে শ্যামলী থেকে গুলিস্তানগামী একটা বাসে উঠে পড়লো। আর সে একসময় হাইকোর্টের সামনে প্রায় লাফিয়ে বাস থেকে নেমে পড়লো। তার যেন আর তর সইছিলো না। সে ভাবছিলো: তার এই চাচার কাছে যত আগে যাওয়া যাবে তত তাড়াতাড়ি তার চাকরি হয়ে যাবে।

বিশাল হাইকোর্টের ভিতরে ঢুকতে তার ভয়-ভয় করছিলো। তবুও সে কিছুক্ষণ পরে সাহসসঞ্চয় করে সেখানে ঢুকে পড়লো। আর তার চাচার কথা মনে হতেই তার সাহস যেন আরও বেড়ে গেল।
সে যখন দেখলো, কেউ তাকে বাধা দিলো না—তখন সে বেশ সাহসী হয়ে উঠলো। আর সে কিছুক্ষণ দ্রুত হেঁটে হাইকোর্টের সবচেয়ে বড় ভবনটাতে ঢুকে পড়লো।

সে এখানকার কিছুই চেনে না। জীবনে সে এই প্রথমবারের মতো হাইকোর্টে ঢুকেছে। তবুও সে এখানকার নিচতলায় কিছুক্ষণ হাঁটলো।
শেষমেশ সে একটা লোকের কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো, “ভাই, এখানে রহিম-পেশকারের অফিসটা কোন দিকে? একটু দেখায়ে দিবেন?”
এই লোকটা এখানকার পিয়ন। সে সব চেনে।
সে তাকে একপাশে ডেকে নিয়ে বললো, “রহিম-পেশকার নি? উনি তো মুহুরি-কাম-পেশকার। তা উনি আপনার কী লাগে?”
তাইজুল এবার খুশি হয়ে বুক টানটান করে বললো, “আমার চাচা অয়।”
সেই লোকটা সঙ্গে-সঙ্গে বললো, “আসেন, আমার সাথে।”
এই লোকটা তাকে প্রায় হাতেধরে রহিম-পেশকারের কাছে নিয়ে গেল।
সেখানে গিয়ে তারা দেখলো—রহিম-পেশকার এজলাশের একপাশে নামাজ পড়ছে।
তখন ওই লোকটা তাইজুলকে বললো “ভাই, আপনে এইখানেই খাড়ান। উনার নামাজ শেষ হলে পরে কথা বলবেন। কিন্তু নামাজে ডিস্টার্ব কইরেন না। উনি খুব নামাজীমানুষ!”
তাইজুল ‘জ্বি-আচ্ছা’ বলে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে।
লোকটা বলে গেছে কোর্ট শুরু হবে সাড়ে দশটায়।
আর এখন বাজে দশটা। এখানে, লোকজন এখন তেমন কেউই নাই। সব ফাঁকা। এতোবড় একটা এজলাসে তার রহিম-চাচা নামাজ পড়ছে—এটা ভেবে তার গর্ব হলো। সে ভাবে: তাইলে তার এই রহিম-চাচার কতবড় ক্ষমতা!
সে তার চাচার পিছনে একজায়গায় বসে পড়লো। কিছুক্ষণ এখানে বসে থেকে একবার তার মনে হলো এই সকাল দশটার সময় আবার কীসের নামাজ! জোহরের নামাজের ওয়াক্ত তো এখনও শুরু হয় নাই! তার মনে খটকা লাগে। তবুও সে বসে-বসে ভাবে—তার চাচা হয়তো কোনো কামেলপীর!
সে দেখতে লাগলো: তার চাচা অনেক সময় নিয়ে আজ নামাজআদায় করছে। তাইজুলের এবার সত্যি মনে হলো: সে হয়তো বড় কোনো বুজুর্গ হবে। সে তার চাচার প্রতি মনে আরও ভক্তিভাব আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে থাকে। আর সে মনে-মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলো: বাঃ এমন একজন বুজুর্গলোক তিনি তাকে মিলিয়ে দিয়েছেন। সত্যি, আল্লাহ রহিম-রহমান!

তাইজুল বসেই থাকে। কিন্তু চাচার যেন উঠার নামগন্ধ নাই। তার নামাজ যেন এই জীবনে আর শেষ হবে না। এমন নামাজ সে জীবনে দেখে নাই। রহিম-পেশকারের প্রতি শ্রদ্ধায় তাইজুলের মাথা আপনাআপনি নত হয়ে এলো। মনে-মনে সে তার চাচাকে কদমবুসি করার কাজটা শেষ করে ফেললো।

অনেকক্ষণ পরে সে দেখলো, এবার যেন তার চাচা ডাইনে-বামে একটু তাকালো। সে আশায় বুক বাঁধতে লাগলো।
সে তার চাচার নামাজশেষ হওয়ার প্রতীক্ষা করতে থাকে।
আরও একটু পরে সে দেখলো, তার চাচা যেন নড়াচড়া করছে। আর তখনই সে বলে উঠলো “চাচা, আপনের নামাজ কি শেষ?”
রহিম-পেশকার হঠাৎ এভাবে চাচা-ডাক শুনে অবাক হয়ে একটু পিছন ঘুরে বললো, “হ্যাঁ। কিন্তু তুমি কে বাবা? তোমাকে তো ঠিক চিনতে পারছি না!”
তাইজুল তখন একনিঃশ্বাসে বললো, “আমি হরিদেবপুর-গ্রাম থেইকে আইছি। আমার বাপের নাম সলিমুদ্দীন। আমি কাইল ঢাকায় আইছি, চাচাজান।”
কথাগুলো বলেই তাইজুল উপুড় হওয়ার ভঙ্গিতে রহিম-পেশকারের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলো।
এবার রহিম-পেশকার উঠে দাঁড়িয়ে তার মাথায় হাত রেখে বললো, “ও, চিনতে পারছি, বাবা। তোমার বাপ আমার প্রায় আপন খালাতো ভাই।”
“তা কী জন্যি ঢাকায় আইছো?”—সে শান্তভাবে জানতে চাইলো।
তাইজুল মাথানিচু করে বললো, “যাহয় একটা চাকরিবাকরি দেন, চাচা। গ্রামে আর টিকতি পারতিছি না। আমাগরে এমনিতে জমিজমা কম। বাজান কোনোরকমে তা আবাদ কইরে পেটের ভাত জোগাড় করতিছে। আর তো চলে না, চাচা। এবার এটা উপায় বাইর করেন।”
রহিম-পেশকার বলে, “চাকরির বাজার বাবা বড় কঠিন। তয় দেখি চেষ্টা করে।”
এরপর সে জানতে চাইলো, “উঠছো কোথায়?”
তাইজুল অকপটে বললো, “আমার এক বন্ধুর বস্তিতে।”
রহিম-পেশকার যেন আঁতকে উঠে বললো, “সে কী! আমি থাকতে তুমি বস্তিতে থাকপা—তা তো হয় না বাপ। তুমি আমার বাসায় চলে এসো। দেখি, তোমার চাকরির কী করা যায়।”

চাচার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলে তাইজুলের সাহস বেড়ে গেল। সে বললো, “আচ্ছা চাচা, আপনে এই অবেলায় কীসের এতো নামাজ পড়লেন! জোহরের নামাজের ওয়াক্ততো দেরি আছে।”
রহিম-পেশকার তার মেহেদিরঞ্জিত দাড়িতে হাত বুলাতে-বুলাতে বললো, “তুমি ভাতিজা-মানুষ, তোমার কাছে এসব গোপন করে লাভ কী বাপ। তয় আসল কথাটাই বলি। একটা জোড়াখুনের মামলা পাইছি, বাপ। আর সেই মামলা থেকে একজন ফাঁসির আসামীকে খালাস করার জন্য খুনীর পরিবারের কাছ থেকে নগদ পঁয়তাল্লিশ লাখ টাকা নিছিলাম। অনেক কষ্টে এই মামলার জজসাহেবকে গতকাল চল্লিশ লাখ টাকায় রাজী করিয়েছি। আর বাকী পাঁচলাখ টাকা আমার ভাগে পড়েছে। এই খুশিতে আল্লাহর শোকরিয়া-আদায়ের জন্য এতোক্ষণ এই শুকরিয়া-নামাজ পড়লাম।”
চাচার কথা শুনে তাইজুলের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। সে এমন আজবকথা জীবনেও শোনে নাই। জোড়াখুনের আসামীকে ছেড়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র! হঠাৎ এসব শুনে সে অস্থির হয়ে আপনমনে ভাবতে থাকে: এ কোন জায়গায় এলাম রে বাবা!
তাইজুল চাচার কথা শুনে কিছুক্ষণ আর কোনো কথা বলতে পারলো না। সে এজলাসের একপাশে দাঁড়িয়ে রইলো। অনেকটা সময় পরে সে বললো, “চাচাজান, যে লোকটা জোড়াখুন কইরছে তার কি আর শাস্তি হইবে না?”
রহিম-পেশকার হাতের কাজ একটু থামিয়ে হেসে বলে, “হবে না বাবা। কেন হবে? জজসাহেব বড় ঈমানদার। তিনি যখন টাকা নিছেন তখন সততার সঙ্গে তাকে খালাস করিয়েই ছাড়বেন। প্রয়োজনে তিনি আরও কিছু বখশিস পাবেন। একবারে ডাইরেক্ট খালাস দেওয়া কি কম বুদ্ধির কথা!”
এসব শুনে তার অনেককিছু বলতে ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু সে মনের সব কথা গোপন করে বিনয়সহকারে বললো, “চাচাজান, আপনে ঘুষ খান?”
রহিম-পেশকার নুরানি চেহারায় পরিতৃপ্তির হাসি এনে তাইজুলের দিকে চেয়ে বলে, “এ-কে ঘুষ বলছো কেন বাবা? এতো আমার মেহনতের কামাই। তুমি কি জানো এই জজসাহেবকে রাজী করতে আমার শরীর থেকে কত ঘাম ঝরেছে! অবশেষে গতকাল সন্ধ্যার পরে জজসাহেব তার রুমে আমাকে একা ডেকে নিয়ে বললেন, “আপনার ক্যান্ডিডেটের জন্য পুরা চল্লিশ লাখ এখনই দিতে হবে। আর এসব ক্ষেত্রে কিছুই বাকী রাখার নিয়ম নাই। আমার তখন যে কী খুশি লাগছিলো বাবা। তা আমি তোমাকে এখন বোঝাতে পারবো না। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আমার হাতে পাঁচ লাখ টাকা চলে এলো। এই খুশিতে বাবা আজ সকালে এই শুকরিয়া-নামাজটা ভালোভাবে আদায় করে নিলাম। আর আল্লাহ খুশি থাকলে এরকম কেস আরও পাবো, ইনশা আল্লাহ।”

তাইজুল কী বলবে ভেবে পায় না। সে কিছুক্ষণ পরে বললো, “চাচাজান, আপনাগরে জজসাহেব কেমন মানুষ?”
রহিম-পেশকার আবার একটা তৃপ্তির হাসি মুখে এনে বলতে লাগলো, “তার কথা আর কী কবো বাজান। তার মতো মানুষ হয় না। বড়মানুষের বড় মন। তিনিও কাইল সন্ধ্যায় টাকাটা হাতে পেয়ে সাথে-সাথে শুকরিয়া নামাজআদায় করেছেন। আইজ সকালে তিনি আমাকে আবার ডেকেছিলেন। আর তখন তার মুখেই শুনলাম: তিনি নাকি রাতে আল্লাহর শোকরিয়া-আদায়ের জন্য তাহাজ্জুদের নামাজও পড়েছেন। আরও শুনলাম: এজন্য নাকি তিনি মসজিদে একটা কুরআনখতমেরও ব্যবস্থা করাবেন। এবার ভেবে দেখো বাজান, ধার্মিক কাকে বলে! কুরআনের প্রতি তার কত ভক্তিশ্রদ্ধা! তিনি আমার চেয়ে অনেক বড় ধার্মিক বাজান। এতোবড় ধার্মিক আমি আগে আর দেখি নাই। তা ঢাকায় যখন আইছো। আমার বাসায় থাকো কিছুদিন। আর তোমার একখান চাকরিবাকরির ব্যবস্থা করতে পারলে এই মানুষটারে একদিন তোমার দেখাবোনে। এরকম মানুষকে দেখাও সওয়াবের কাজ। তারউপরে জজসাহেব বলে কথা। আর সবার উপরে তিনি বিরাট একজন ধার্মিক। আর সত্যিকারের একজন মুসলমান। এরও কারণ আছে। তার বাপ-দাদাও বড় ধার্মিক ছিলেন। তারা দেশ ও দশের জন্য মুসলিমলীগ করতেন। সেই বংশেরই যোগ্যসন্তান এই জজসাহেব!”
এবার তাইজুল আরও বেশি হতাশ হলো। সে বলার মতো কোনো ভাষা খুঁজে পায় না। সে কয়েক বছরের সাধনায় অনেক কষ্টে মাত্র এইচএসসি পাস করেছে। আর জজসাহেবরা কতবড় মানুষ! তাদের সম্পর্কে কোনো খারাপ কথা বলতে তাইজুল সাহস পেলো না।
তবুও সে একপর্যায়ে বললো, “চাচাজান, “আমি এই ঘুষের মদ্যি নাই। আমি গ্রামের ছাওয়াল চাইরটা ডাইলভাতের জন্য ঢাকায় আইছি। গরিব থাকলেও আমি খারাপ হবো না।”
ওর কথা শুনে রহিম-পেশকার হেসে বললো, “ওসব কথা এখন থাক বাবা। আমার বাসা কাছেই। এই নাও আমার ঠিকানা। তুমি আমার বাসায় যাও। আইজ খেয়েদেয়ে বিশ্রাম নাও। কাইল থেকে দু’জনে মিলে তোমার চাকরি খোঁজার কাজে নেমে পড়বো।”
তাইজুল ঠিাকানাটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো।
আর রহিম-পেশকার লেগে গেল তার নিজের দৈনন্দিন কাজে।

তাইজুলের পা যেন আর চলে না। সে কোনোরকমে হাঁটতে-হাঁটতে হাইকোর্টের সীমানার বাইরে চলে এলো। তবুও এখন তার কিছুটা ভালো লাগছে।
সে বা তার বাবা গরিব। কিন্তু তারা চুরি-ডাকাতি কিংবা ঘুষের মতো খারাপ কাজে কখনও শামিল হয়নি আর হবেও না।

সে খুব মনখারাপ করে আবার বন্ধুর বস্তিতে ফিরে এলো। জীবন গেলেও সে এদের মতো ধার্মিক হতে পারবে না। একসময় তার মনে হলো: তার এদের মতো সহীহ মুসলমান হওয়ারও কোনো দরকার নাই। এই জীবনেই সে অনেক ভালো আছে।

(চলবে)

সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
১১/১০/২০১৭

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 13 ঘন্টা 51 min ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর