নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়
  • শাহনেওয়াজ রহমানী
  • জিহাতুল
  • আজহারুল ইসলাম
  • মোস্তাফিজুর রহম...
  • রিশাদ হাসান

আপনি এখানে

ইসলাম হলো মুহাম্মদের স্বপ্নে পওয়া ওষুধ


দুনিয়ার সব মোমিন মুসলমান জেনে এসেছেন , মুহাম্মদ হেরা গুহায় যখন ধ্যানমগ্ন ছিলেন , তখন তার কাছে আকাশ থেকে জিব্রাইল হাজির নাজির হয়ে আল্লার বানী তথা কোরান উপহার দেয়। কিন্তু বিশ্বাস করুন , এই গল্পটা একেবারেই ডাহা মিথ্যা কথা। মুহাম্মদের কাছে কোন কালেই জিব্রাইল আসে নাই , বরং মুহাম্মদ স্বপ্নে দেখতেন তার কাছে জিব্রাইল এসে কোরানের বানী বলে গেছে। তার মানে ইসলাম হলো মুহাম্মদের স্বপ্নে পাওয়া ওষুধ। কি বিশ্বাস হয় না ?

ইবনে ইসহাকের সিরাত রাসুলুল্লাহ নাম নবীর জীবনি গ্রন্থে তিনি বলেছেন -
-----------------------------------------------------------------
মুহাম্মদ(সা) বলেছেন- যখন আমি ঘুমের মধ্যে ছিলাম , তখন জিব্রাইল এসে আমাকে বলল - পড় । আমি বললাম - আমি কি পড়ব ? সে আবার বলল- পড় , আমি বললাম - কি পড়ব ? সে এবার আমাকে চেপে ধরে বলল- পড় । আমি আবারও বললাম - কি পড়ব ?------- এরপর নাজিল হলো সুরা আলাক। ----- তারপর আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল , আর সেই বাক্যগুলি আমার হৃদয়ে গেথে গেছিল।
সিরাত রাসুলুল্লাহ , ইবনে ইসহাক , পৃষ্ঠা নং - ১০৬

তাহলে সহিহ হাদিসগুলো কি সব মিথ্যা কথা বলল ? ভাই , আপনারাই তো বলেন , সহিহ হাদিসের সব হাদিস সহিহ না ,বা দুর্বল বা জাল হাদিস। এখন সেটা কিভাবে বুঝব ? সহজ একটা রাস্তা আছে। সেটা হলো - ধরুন , নবাব সিরাজুদ্দৌলার কাহিনী তার সময়কার বা তার পরের জেনারেশন অধিকতর সঠিক জানবে , নাকি ২৫০ বছর পর আজকের লোকজন অধিকতর সঠিক জানবে ? তাছাড়া আজকের লোকজন যে নবাব সিরাজুদ্দৌলার কাহিনী জানবে ,সেটা কিভাবে ? নিশ্চিতভাবেই সিরাজুদ্দৌলার সময়ে বা তার মৃত্যূর কিছুকাল পরে যারা সেসব ইতিহাস লিখবে , সেখান থেকেই আজকের মানুষজন জানবে ও ইতিহাস লিখবে , তাই না ? তার মানে আজকের লোকের লেখা ইতিহাস হবে , সেই আগের কালের ইতিহাসবিদদের লিখে যাওয়ার দলিল।

এবার উক্ত বিধানটা ইসলামের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাক । মুহাম্মদ মারা যাওয়ার পর সর্ব প্রথমে যিনি তার জীবনি লেখেন তার নাম ইবনে ইসহাক। তার বাড়ী মদিনায় এবং তার জন্ম ৮৫ হিজরি আর মৃত্যু ১৫০ হিজরি। তার মানে মুহাম্মদ মারা যাওয়ার প্রায় ৭০ বছর পর তার জন্ম। সুতরাং নিশ্চিতভাবেই তিনি মুহাম্মদের কোন সাহাবীকে না দেখলেও তাবেইন ও তাবে তাবেইনদের অনেকের সাথেই তার দেখা সাক্ষাত ও কথা বার্তা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকেই তিনি মুহাম্মদ সম্পর্কে প্রচলিত সব কাহিনী জেনে সেগুলোই লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন। তার সেই পান্ডুলিপি বর্তমানে নাই সেসব আব্বাসীয় খিলাফতের আমলে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তার সেই লেখার বেশ কিছু অংশ ইবনে হিসাম নতুনভাবে সংশোধিত আকারে প্রকাশ করেন। ইবনে হিসামের জন্ম ঠিক কবে তা জানা না গেলেও মৃত্যূ ছিল ২১২ হিজরিতে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে , ইবনে ইসহাকের ভিত্তিতে ইবনে হিসাম সম্ভবত ১৬০/১৭০ বছর পর থেকেই তার কিতাব মুহাম্মদের জীবনি লিখেছেন।

এবার আমরা সহিহ হাদিসের লেখকদের জন্ম ও মৃত্যুটা একটু দেখি :

Sahih Bukhari, collected by Imam Bukhari (d. 256 AH, 870 CE), includes 7,275 ahadith
Sahih Muslim, collected by Muslim b. al-Hajjaj (d. 261 AH, 875 CE), includes 9,200 ahadith
Sunan Abu Dawood, collected by Abu Dawood (d. 275 AH, 888 CE), includes 4,800 ahadith
Jami al-Tirmidhi, collected by al-Tirmidhi (d. 279 AH, 892 CE), includes 3,956 ahadith
Sunan al-Sughra, collected by al-Nasa'i (d. 303 AH, 915 CE), includes 5,270 ahadith
Sunan ibn Majah, collected by Ibn Majah (d. 273 AH, 887 CE), over 4,000 ahadith

দেখা যাচ্ছে , সব চাইতে কনিষ্ঠ যিনি , সেই ইমাম বুখারী , তিনি মারা যান ২৫৬ হিজরিতে , তার মানে ইবনে ইসহাকের মৃত্যুর ১০০ বছর পর , আর ইবনে হিসামের মৃত্যুর প্রায় ৫০ বছর পর। সুতরাং বলাই বাহুল্য ইমাম বুখারি তার সহিহ হাদিস গ্রন্থ সংকলন করেন ইবনে ইসহাকের মৃত্যুর ১০০ বছর ও ইবনে হিসামের মৃত্যুর ৫০ বছর পর। সুতরাং এখন প্রশ্ন হলো - কার লেখা ইতিহাস ও দলিলকে আমরা অধিকতর সঠিক হিসাবে মানব ? ইবনে ইসহাকের লেখাকে , নাকি ইমাম বুখারির লেখাকে যা নাকি ইবনে ইসহাকেরও ১০০ বছর পর লেখা ?

তাহলে ইমাম বুখারি কেন তার হাদিসে লিখল , মুহাম্মদ যখন হেরা গুহায় ছিল তখন জিব্রাইল তার কাছে সশরীরে হাজির হয়েছিল ? তখন ছিল আব্বাসীয় খেলাফতের কাল। তারা মুহাম্মদকে আরও মহীয়ান করে তোলার জন্যেই মুহাম্মদ সম্পর্কে এমন কথা লেখার জন্যেই ইমাম বুখারিকে আদেশ করেছিল সেটা বোঝা যায়। তাছাড়া ,ইমাম বুখারির জন্ম ইরানে , যদিও তিনি মদিনায় গিয়ে তার হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন, কিন্তু সেটা কি আর তখনকার খলিফার হুকুম ছাড়া প্রকাশ করতে পেরেছিলেন ? সেটা কি সম্ভব ছিল সেই স্বৈরাচারী খিলাফতের আমলে ? সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে , ইসলামকে ততদিনে আব্বাসীয় খলিফারা একটা রাজনৈতিক আদর্শে রূপ দিয়েছিলেন , সেই কারনেই মুহাম্মদ সম্পর্কে তখন তারা নানা রকম অতি রঞ্জিত কাহিনী তৈরী ও প্রচারের কাজ শুরু করেছিলেন। প্রশ্ন হলো তাহলে তারা ইবনে হিসামের কিতাব ধ্বংস করলেন না কেন ? হিসাবটা সহজ। ততদিনে ইতিহাস নয় , বরং কোরান ও হাদিস হয়ে উঠেছিল ইসলামের একমাত্র প্রামান্য দলিল। আর সেসবের প্রচার ও প্রসার নিয়েই খলিফারা ও মোল্লারা ব্যস্ত ছিলেন। তাই ইতিহাস নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় নি। তাছাড়া সেই কাালে তো আর আজকের মত ছাপা খানা বা ইন্টারনেট ছিল না যে ইবনে হিসাম তার ইতিহাস কিতাব সর্বত্র প্রচার করে ফেলেছিলেন।

ইবনে ইসহাক : https://en.wikipedia.org/wiki/Ibn_Ishaq
ইবনে হিসাম : https://en.wikipedia.org/wiki/Ibn_Hisham
সহিহ হাদিস লেখকগন: https://en.wikipedia.org/wiki/Kutub_al-Sittah
সিরাত রাসুল আল্লাহ , ইবনে ইসহাক : https://archive.org/details/TheLifeOfMohammedGuillaume

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঠমোল্লা
কাঠমোল্লা এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, এপ্রিল 8, 2016 - 4:48অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর