নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • মৃত কালপুরুষ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়
  • শাহনেওয়াজ রহমানী
  • জিহাতুল
  • আজহারুল ইসলাম
  • মোস্তাফিজুর রহম...
  • রিশাদ হাসান

আপনি এখানে

প্রচলিত ধর্ম গুলি কি সবই সামাজিক ব্যাধি।



গতকাল মুফাসসিল ইসলাম স্যার এর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে মনি জামান এর একটি লেখা দেখলাম অনীশ্বরবাদী গ্রুপে। সেখানে ব্লগ এবং ব্লগার সম্পর্কে ইসলাম ধর্মাবলম্বী দুজন মাদ্রাসা ছাত্রদের ব্লগ সম্পর্কিত ধারনা তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টা এমন ছিলো যে, ২০১৩ সালে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে হত্যা করে খুনিরা পালিয়ে যাবার সময় তৃতীয় লিঙ্গের কাছে দুই জন মাদ্রাসার ছেলে ধরা পড়ার পর তাদের যখন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বলা হয়েছিল কেন তাকে খুন করা হলো ? এই প্রশ্নের উত্তরে মাদ্রাসা ছেলে দুটির কথা ছিল এমন ওয়াশিকুর রহমান বাবু একজন ব্লগার, আর যারা ব্লগে লিখে তারা নাস্তিক। নাস্তিক হত্যা বা ইসলাম অবমাননাকারীকে হত্যা করা জায়েজ এই শিক্ষা দিয়েছে তাদের মাদ্রাসার বড় হুজুর। অথচ যখন তাদের বলা হয়েছিল ব্লগ কি ? তারা কিন্তু ব্লগ কি তা জানেনা। তাহলে কি পরিমান মস্তিষ্ক ধুলাই করে মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে খুন করতে উদ্বুধ করা হয়েছে তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন কেউ। এটা কি আমরা আমাদের দেশের জন্য একটি সামাজিক ব্যাধি বলতে পারি না। এমন কথা শুনে বিভিন্ন ধর্মের মডারেট ধর্মাবলম্বীরা আবার বলা শুরু করবেন আপনারা ভুল জানেন বা আপনাদের চোখ কান বন্ধ আছে , বা আপনারা কি একজনের সাথে সম্পুর্ন জাতিকে দোষী করতে চাচ্ছেন বা আপনারা নিশ্চয় কোন ষড়যন্ত্র করছেন মনে হচ্ছে। আর এসব একদম সত্য কথা। আমার একটি প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কিত লেখাতে মাত্র আমাকে একজন বলেছে যে আমি নাকি কোণ ষড়যন্ত্র করছি। কিন্তু তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে আর আমাকে উত্তর দিতে পারে নাই আমি কি ষড়যন্ত্র করছি।

এই যে সত্য কিছু ইতিহাস লেখার কারনে ষড়যন্ত্রকারী আক্ষা বা ব্লগার মানেই নাস্তিক আর তাকে হত্যা করা জায়েজ এটা কি কোন সামাজিক ব্যাধি যেমন ক্যান্সার বা অন্য কোন রোগের থেকে কোন অংশে কম। আসুন একটু ক্যান্সার নিয়েই জানি। ক্যান্সারকে আমরা একটি জীবন বিধ্বংসী ব্যাধী বলে থাকি। কিন্তু কেন ? কারন ক্যান্সার কোন একক রোগ নয় এটা অনেক গুলি রোগের একটি সমষ্টি বলতে পারি আমরা। এখানে বিভিন্ন কোষের কিছু অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি আর বিভাজন ঘটে থাকে। আর এই জাতীয় নিয়ন্ত্রনহীনতার কারনে কোষসমূহ তাদের আশেপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং সুস্থ কোষ গুলি ও টিস্যুকে ধ্বংশ করতে থাকে। এটাই হচ্ছে ক্যান্সারের মুল কারন সাথে আরো অনেক প্রসেস শেষ করে এই মরন ব্যাধি হয়ে থাকে যাকে আমারা জীবন বিধ্বংসী শারিরীক ব্যাধি বলে থাকি। এই ক্যান্সার সম্পর্কে তো আমরা সবাই জানি কারন এটা আমাদের দেশে একটি অতি পরিচিত ব্যাধি। কিন্তু আমরা কি এই যে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু ধর্মের ব্যাধির খবর খুব একটা রাখি। আসুন তা নিয়ে আজ একটু জানার চেষ্টা করি কারন আমি যদি প্রাচীন ইতিহাস বা মিশরীয় সভতা, ও প্রাচীন আরব্য সভ্যতা নিয়ে লেখলে ষড়যন্ত্রকারী হয়ে থাকি তাহলে এই ব্যাধি নিয়ে আপনাদের আগে জানা উচিত বলে মনে করি।

বর্তমানে বিভিন্ন ধর্মের ধার্মিক ও মডারেট ধার্মিক ভায়েদের কমন ডায়ালগ হলো ধর্মটি তাদের একান্ত নিজস্ব সম্পত্তি। এবং সেটা তাদের সমস্ত চিন্তা, ভাবনা, ধ্যান, ধারনা ও মননের সাথে অতপ্রত ভাবে জড়িয়ে আছে এবং তারা মনে করে যে তারা কারো কোন ক্ষতি করছে না তাদের এই ধর্ম পালনের মাধ্যমে। তাদের দাবী যারা এই জাতীয় কাজ করে থাকে অন্যের ক্ষতি করা, হত্যা করা, মারামারি, কাটিকাটি, চাপাতি, বোমা, জংগী, জিহাদী তারা কেউ সঠিকভাবে ধর্ম পালন করে না বা তারা কেউ প্রকৃত ধর্ম কি তা জানে না আর তাই তারা এগুলা করে থাকে। কিন্তু দেখুন আমরা যুক্তিবাদী সমাজে কিন্তু এই জাতীয় মনোভাব ব্যাক্ত করাকে বলে থাকি অযুক্তি বা কুযুক্তি যাকে বলা হয় “নো ট্রু স্কটসম্যান”। এখন কথা এমন দাড়াচ্ছে যে যতক্ষন না আমাদেরকে উপর থেকে (ধারনা করা হয় উপরে বা আকাশে কেউ থাকেন) গড, ঈশ্বর, ভগবান, আল্লাহ, জিউস, হুবাল, অসিরিস, আইসিস, সেথ, অহুর মাজদা, গাইয়া বা ইয়াহুয়ে এরকম কোন একজন নেমে এসে না জানাচ্ছেন যে আপনার সঠিক না বেঠিক আছেন ততক্ষন আমরা আসল সত্য জানতে পারছি না। আর ততক্ষন সমাজে যারা আমাদের মাঝে এমন যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন তাদের কথাই মেনে নিতে হচ্ছে। আবার এখানে কিন্তু দুইটি ভাগ তৈরি হচ্ছে দেখুন একদল যারা মডারেট ধর্মান্ধ তারা আর একদল হচ্ছে খাটি ধর্মান্ধ বা মৌলবাদীরা। তাদের একদল আমাদের বলছে অপেক্ষাকৃত উদার ধর্মচেতনার কথা আর একদল বলছে অতিরক্ষনশীল, অনুদার ও অসহিষ্ণু ধর্মচেতনার কথা।

এই যে উপরের দুটি ভাগের ধর্ম বিশ্বাসী মানুষদের আমরা আমাদের দেশের সমাজে দেখতে পাচ্ছি আসলে তাদের মধ্যে কে সঠিক আছে আর কে সঠিক নেই তা কিন্তু একজন সাধারন ধর্মপ্রান মানুষের পক্ষে নির্নয় করা খুবই কঠিন একটি ব্যাপার হবে। কারন সকল ধর্মই টিকে আছে একমাত্র যুক্তিহীন বিশ্বাসের উপরে। আর কেউ যদি তা বাছাই করে পালন করতে যায় তবে তাকে ধর্ম গুলির উপর থেকে বিশ্বাস হারাতে হচ্ছে। এই দুইটির কোনটা বেশী গ্রহনযোগ্য হবে সেটা নির্নয় করা একটু কঠিন কাজ। এখন ভেবে দেখবেন একবার এই দুইটিই কিন্তু চাচ্ছে মানুষের সর্বময় জীবনের উপরে কতৃত্ব চালাতে। পাশাপাশি সমাজকেও নিয়ন্ত্রন করতে। মানুষের জীবন যাপনে কিন্তু এই দুই ধরনের ধর্ম বিশ্বাসই কুপ্রভাব ফেলছে সমানভাবে। কারন দেখুন আমি কেন এই জাতীয় ধর্মগুলিকে একটি সামাজিক ব্যাধি বা ক্যান্সার এর সাথে তুলনা করছি। ধরুন একটি শিশু জন্ম নিলো এই শিশুটি কিন্তু কোন ধর্মের আওতায় পড়ে না। তাকে প্রথমেই কেউ বলতে পারবে না সে কোন ধর্মের মধ্যে পড়েছে। তাকে আস্তে আস্তে শেখানো হচ্ছে নানা ধর্মীয় আচার আচরন। বাধা দেওয়া হচ্ছে নানান জ্ঞান ও মুক্ত বুদ্ধির চর্চা করতে। তাকে জন্মের পর থেকেই বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে কথাবার্তায়, আকার ইঙ্গিতে, কাজে কর্মে তার মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কোন একটি বিশেষ ধর্মের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে।

এই জাতীয় আনুগত্য প্রকাশ করতে গিয়ে একটি শিশুকে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের বেড়াজালে আটক করা হচ্ছে। তাকে তার সুস্থ মস্তিষ্কে কৌশলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে মানুষের প্রতি ঘৃনা, জ্ঞান অর্জনের সীমাবদ্ধতা, ব্যালান্সড লাইফ লিড করার ক্ষমতা হরন করা ও মুক্তভাবে চিন্তা না করা। আর এর পর থেকেই শুরু হয় সেই ক্যান্সারের দ্বিতীয় ধাপের মতো এক কোষ থেকে অন্য কোষে ছড়িয়ে যাবার কাজ বা অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি এবং প্রসার। একটু গভীরে গিয়ে ভেবে দেখবেন ধর্ম বা ধর্মীয় অনুভূতি কিন্তু কখনই নিজের নিয়ন্ত্রনে থাকে না আর যদি কেউ বলে আমি ধর্ম পালন করি ও আমি আমার ধর্মীয় অনুভুতি ও ধর্মীয় আবেগ সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রন করে রাখতে পা্রি সেটা হবে চরম একটি ভুল কথা। এটা হবে ধর্মের প্রকৃতি বহিঃর্ভুত একটি কাজ। কোন মানুষের ধর্মচেতনা কোন ভাবেই সেই একজন মানুষের মস্তিস্কে সীমাবদ্ধ তাকতে পারেনা। একবার যদি ধর্মভাব মাথায় জাগে তাহলে সেটা অচিরেই ছড়িয়ে পড়ে এক মাথা থেকে আরেক মাথায়, মস্তিষ্ক থেকে মস্তিষ্কে সমমনা ধার্মিকদের ভেতরে। সকল অনুভূতির মধ্যে সূক্ষ্ণভাবে ঢুকে স্বল্পসময়ের মধ্যেই তা মস্তিষ্কের সকল কার্যবলী নিয়ন্ত্রন করতে থাকে হাইয়ার নিউরাল ফাংশনের মাধ্যমে। যা একজন মানুষের স্বাভাবিক চিন্তা ভাবনার সমস্ত সরজা বন্ধ করে দেয়।

এসময় একজন ধার্মিক মানুষ তার সমস্ত বুদ্ধি, যুক্তি, বিবেচনা করার ক্ষমতা, অনৈতিকতা বা নৈতিকতা জ্ঞান এসমস্তই হারিয়ে ফেলে। সেই মানুষটির ভেতরে একটি উত্তেজনায় অনুভূত হতে থাকে তা হচ্ছে শুধুই উন্মাদনা। সেটা আবার এমন এক উন্নমাদনা যার নেই কোন যুক্তিযুক্ত ভিত্তি। যা শুধুই দাঁড়িয়ে আছে একটি অন্ধ বিশ্বাস এর উপরে। যেই বিশ্বাস এর পক্ষে কেউ দিতে পারবে না একটি যথাযথ যুক্তি। সবচেয়ে বিষাক্ত, ক্ষতিকারক, ছোয়াচে এই বিশ্বাসের উন্মাদনা মানেনা কোন যুক্তি, মানেনা কোন সাধারন বুদ্ধি, যা শুধুই বিশ্বাস করে কোন এক অদৃশ্য শক্তিকে বা অলীক, অনুপস্থিত কোন এক কল্পনাপ্রসূত ব্যাক্তি বা বস্তুকে। এরকম সময়ে একজন ধার্মিকের মাথায় একটি বিষয়ই শুধু ঘুরপাক খেতে থাকে আর তা হচ্ছে কোন একজন এই সমস্ত সৃষ্টির ইতিকথা একটি কয়েকশো পাতার বই বা কোন ধর্মীয় পুস্তকে লিখে গিয়েছেন যার বাইরে আর কোন কিছুই সত্য হতে পারে না। এই জাতীয় অযাচিত ঐশী বাক্য অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই হয়ে উঠে তাদের জন্য জীবনের প্রথম কাজ।

এটাই হচ্ছে সেই উন্মাদনা যার চেহারা আমরা মাঝে মধ্যেই আমাদের লেখার নিচের মন্তব্যকারীদের ভেতরে দেখতে পারি। আমার আজকের এই লেখটি ছিলো এমন কয়েক জনকে উদ্দেশ্য করেই যারা এই জাতীয় ব্যাধিকে ক্যান্সার এর সাথে তুলনা করতে অস্বীকৃতি জানায়। যারা নিজের অজান্তেই নিজেদের জীবনের সমস্ত নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা দিয়ে দেয় অন্য আরেকজনের হাতে যাদেরকে আমরা সমাজের ধর্মগুরু বলে থাকি। আর এই সব কথিত ধর্ম গুরুদের মুখের কথায় আগেপিছে চিন্তা না করেই তারা নেমে পড়ে যুক্তি-বুদ্ধিহীন ঘৃণ্য, জঘন্য, হীন ও পাশবিক আচরন করতে। আর এসব কাজে যোগদান করা খুবই সহজ একটি কাজ। কারন এখানে কাউকে নিজের কাজের দায়িত্ব বা রেস্পন্সিবিলিটি নিজেকে বহন করতে হয় না। যে কোন একটি ধর্মের ছায়াতলে থাকলেই চলে।

----------- মৃত কালপুরুষ
১১/১০/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মৃত কালপুরুষ
মৃত কালপুরুষ এর ছবি
Online
Last seen: 52 sec ago
Joined: শুক্রবার, আগস্ট 18, 2017 - 4:38অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর