নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়
  • শাহনেওয়াজ রহমানী
  • জিহাতুল
  • আজহারুল ইসলাম
  • মোস্তাফিজুর রহম...
  • রিশাদ হাসান

আপনি এখানে

আস্তিক নাস্তিক একসাথে বসবাসে সমস্যা কোথায়?


আস্তিক নাস্তিক একসাথে বসবাসে সমস্যা কোথায়?
আমার নিজ দেশ বাংলাদেশে আস্তিক নাস্তিক নিয়ে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং হচ্ছে। ইতিমধ্যে আস্তিকরা বিজ্ঞানমনস্ক কিছু মানুষকে হত্যাও করেছে যার এখনও ভাল কোনো বিচার হয়নি। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। কট্টর ইসলামপন্থী, উচ্ছৃঙ্খল দেশ পাকিস্তানের দ্বারা ধর্ষিত, নির্যাতিত, শোষিত হয়ে অনেক মূল্য দিয়ে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি হল- জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র। এই চারটি মূলনীতি মেনে যদি বাংলাদেশ চলতে থাকে তবে রাষ্ট্রে বিজ্ঞানমনস্ক লোকের জন্ম বেশি হবেই। কারণ এই চারটি নীতির প্রতিটি নীতিই মানুষের যৌক্তিক মতামতের স্বাধীনতা দিতে বাধ্য।

আর বিশেষ করে সমাজতন্ত্র আনতে হলে মানুষকে সমাজতান্ত্রিক হতে হয়। সমাজতান্ত্রিক হওয়া মানে সমাজবিজ্ঞানী কার্লমার্ক্সের দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদে বিশ্বাসী হওয়া। আর দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ এক বিজ্ঞানসম্মত সূত্র যাতে প্রমাণিত বিষয় হল-- বস্তুর বাইরে মহাজগত পরিচালনাকারী অলৌকিক কোন যাদুকর ঈশ্বর বা যে কোন প্রকার সৃষ্টিকর্তা থাকা অবাস্তব একটি বিষয় এবং এই অলৌকিক ঈশ্বরের নামে পরিচালিত ধর্মগুলো মিথ্যা, বানোয়াট কুসংস্কার দিয়ে ভরপুর। সুতরাং এটা সবাই জানে যে, সমাজতান্ত্রিক মানেই অবশ্যই নাস্তিক। তাহলে বাংলাদেশের মূল চার নীতিতে নাস্তিকতা স্বীকৃত বিষয়।

কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে নাস্তিক কথাটি শুনলেই প্রতিক্রিয়াশীল একটি শ্রেণি তার পিছনে চাপাতি নিয়ে দৌঁড়াতে শুরু করে। ইতিমধ্য এসব প্রতিক্রিয়াশীলরা হুমায়ূন আজাদ ও অভিজিৎ রায়ের মত দু'জন বড়মাপের লেখকসহ কয়েকজন ব্লগার হত্যা করেছে নাস্তিক উপাধি দিয়ে। তাহলে আমাদের দেশে আমরা কোথায় নেমে যাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশে জাসদ নামক যে বামপন্থী পার্টিটি গড়ে উঠেছিল সেটি নাস্তিকদের পার্টি ছিল। সে পার্টির লোকেরা ধর্মের নামও শুনতে পারতনা। কিন্তু সেসময় নাস্তিকদের পিছনে স্বাধীন বাংলার কোন দল বা সাধারণ মানুষ চাপাতি নিয়ে দৌঁড়ায়নি। সবার সবরকম মতামত প্রকাশের অধিকার ছিল। সেসময় আওয়ামীলীগের রক্ষীবাহিনী নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। কিন্তু নাস্তিক আস্তিক নিয়ে বর্তমান সময়ের মত কুত্তাদৌঁড় ছিলনা।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর শুরু হয় ধর্ম নিয়ে রাজনীতি। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানের পক্ষের রাজাকারগুলো এদেশকে আবার পিছনে টেনে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কিছু রাজাকারের ফাঁসির ব্যবস্থা করেছেন -- যেটি তিনি ক্ষমতায় না থাকলে কেউই করতনা। কিন্তু কিছু রাজাকারদের ফাঁসি দেওয়ার পরও এদেশের পাকিস্তান সমর্থনকারীরা ভয় পায়নি। এখনও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছে। এই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা জানোয়ারগুলো মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক হতে বাধা সৃষ্টি করছে। কারণ মানুষ যত বিজ্ঞানমনস্ক হবে ততই সামাজিক কুসংস্কার দূর হবে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের খারাপ অবস্থার যৌক্তিক সমাধান খুঁজবে।। তাই আজ বাংলাদেশে কেউ ধর্মের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি উপস্থাপন করতে গেলেই তাকে চাপাতি দিয়ে খুন করা হচ্ছে অথবা ৫৭ ধারা অনুযায়ী জেলে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশের

রাজাকার এবং প্রতিক্রিয়াশীলদের জন্য ৫৭ ধারা অনেক আনন্দের বিষয়। এই ধারাটি থাকায় কোন ব্যক্তি ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বললেই প্রতিক্রিয়াশীলরা রাস্তায় নেমে যায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফাঁসি চেয়ে। কিন্তু যারা মুক্তমনাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে তারা বেশিরভাগই রাজাকার এবং খুনী, ধর্ষক, মুখোশধারী। বাংলাদেশ সরকারকে ৫৭ ধারাসহ মুক্তমনা, প্রগতিশীলদের হেনস্থা করার সব ব্যবস্থা দূর করা উচিৎ। উন্নত বিশ্বের মতো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ অনুন্নত, গরীব দেশ বলে এদেশের সব ব্যবস্থাকে আরও গরীব করার ষড়যন্ত্র পাকিস্তানিদের সমর্থনকারীরা করতে পারে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগের করা উচিৎ নয়।

বিজ্ঞানমনস্ক নাস্তিকরা কাউকে খুন করতে যায়না, ধর্ষণ করতে যায়না,নারীদের উপর অমানবিক আইন চাপিয়ে নারীদের অত্যাচার করতেও যায়না। বিজ্ঞানমনস্ক নাস্তিকরা মানুষকে ভালবাসে, মানুষের মানবিক মুক্তি চায়। নাস্তিকরা পরকালের পুরস্কারের আশায় কিছু করেনা। সব মানুষের মানবিক মুক্তিটাই তাদেরকে শান্তি দেয় এবং এটাকেই তারা ভাল কাজের পুরস্কার মনে করে।

ইদানিংকালে বাংলাদেশের একজন মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ নিজেকে মুক্তমনা, নাস্তিক বলে ঘোষণা দিয়েছেন এবং দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি কোরান হাদিসের অনেক আইনকে অমানবিক, অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক বলছেন যেসব কথার সাথে অনেকে একমত। মুফতি মাসুদ তার অনেক লেখায় বলেছেন যে, সে তার স্ত্রী সন্তানদের অনেক ভালবাসেন এবং তাদের সাথে জীবনযাপন করতে চান। কিন্তু তার স্ত্রী আস্তিক। এদেশের মোল্লারা ফতোয়া দিয়েছে যে, " আস্তিক আর নাস্তিক কখনও স্বামী স্ত্রী হতে পারেনা। স্বামী স্ত্রী থাকলেও অটোমেটিক তালাক হয়ে যায়।" মুফতি মাসুদের স্ত্রী এই ফতোয়া মেনে নিয়েছেন এবং তার স্বামীকে তওবা করে আস্তিক হয়ে দেশে এসে বাস করতে বলছেন। এমন অবস্থায় মুফতি মাসুদ দেশে ফিরে আসলে তাকে এদেশের প্রতিক্রিয়াশীলরা বাঁচিয়ে রাখবেনা বলেই তার মুক্তমনা সব বন্ধুরা মনে করেন। তাহলে মানবিক সমাধান কি এক্ষেত্রে? মুফতি মাসুদ সাহেব তার স্ত্রীকে অনেক ভালবাসেন এবং তার স্ত্রীও তার স্ত্রীও তার জন্য কেঁদে কেঁদে পাগলের মত হয়ে গেছেন। কিন্তু ধর্মের নিয়মে তারা দু'জন একসাথে বাস করতে পারবেনা। ধর্মের নিয়ম কি এক্ষেত্রে মানবিক? তবে মুক্তমনা, বিজ্ঞানমনস্কদের জন্য ভালবাসাটাই বড়, আস্তিক নাস্তিক বড় নয়। মানুষ কাউকে ভালবাসলে ধর্ম, বর্ণ, সাদা কালো সব ভুলে যায়- মনে থাকে শুধু পরস্পরের মনের শান্তির কথা। আমাদের সবার এটাই বোঝা উচিৎ যে, আস্তিক বা নাস্তিক হওয়া অপরাধ নয়, অপরাধ হল-- মানুষের প্রতি অমানবিক আচরণ করা।
মানবতা বেঁচে উঠুক - যা আজ মৃত প্রায়।

Comments

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম  এর ছবি
 

বঙ্গবন্ধুর সময়ে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার অনেকটা নিষিদ্ধ ছিল |দেশে ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষতা | আমাদের সে অর্জনকে ধ্বংশ করেছিল বাংলার বেইমান ও কুখ্যাত স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান | সেই থেকে আমরা পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশের চাকা উল্টা দিকে ঘুরাতে থাকি | আজ অবধি কোন সরকার দেশকে ধর্মের কালো থাবা থেকে রক্ষা করছেনা | ধর্মীয় দস্যু, চোর-গুন্ডা, বদমায়েস, সন্ত্রাসী, জ্ঞানহীন রাজনীতিবিদ, মৌলবাদী, ভন্ডপীর সকলের বাঁচার অধিকার কথাবলার অধিকার নিশ্চিত আছে কিন্তু নিরপরাধ নিরীহ নাস্তিকের কোন অধিকার নাই |নাস্তিকের জন্য তৈরী করেছে ৫৭ ধারা যা মানবতা বিরোধী ও মূল সংবিধান বিরোধী |

 
আব্দুর রব এর ছবি
 

অসাধারণ সুন্দর একটি লেখা। পড়ে মুগ্ধ হলাম।
শুভকামনা রইল। আশা করছি এই ধারালো কলম থামবেনা।

আব্দুর রব

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

যৌক্তিক

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

তানিয়া ফারাজী
তানিয়া ফারাজী এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 1 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, সেপ্টেম্বর 14, 2016 - 11:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর