নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়
  • শাহনেওয়াজ রহমানী
  • জিহাতুল
  • আজহারুল ইসলাম
  • মোস্তাফিজুর রহম...
  • রিশাদ হাসান

আপনি এখানে

দহন


বিগত দিন গুলো নিয়ে আজ ও ভাবে নজর আলি। জয়নব বিবি কে নিয়ে এ বাড়ি তে আসার আগ পর্যন্ত কত কষ্টে কেটেছে তার সময়।
কখনো কখনো না খেয়ে থাকতে হয়েছে তাকে।
আজ তার কোন দুঃখ নেই।
সে ও তার বউ মিলে এ বাড়িতে কাজ করে। তার বউ রান্না বান্না ও ঘরের যাবতীয় কাজ করে এবং সে জমিতে কাজ করে।
বড় বাবু বিরাট ধনী ব্যক্তি। আসে পাশের ৫ গ্রামের মানুষ তাকে সম্মান করে সালাম দেয়।
প্রতিদিনকার মত আজো খুব সকালে তার ঘুম ভাংগে। হাত মুখ ধুয়ে গামছা কাধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। গোয়াল ঘর থেকে হালের বলদ নিয়ে বেরিয়ে যাবার সময় পেছন থেকে ডাক দেয় বড় বাবু।
নজর আলি সালাম দেয়
-সালাম বড় বাবু।
-ওয়ালাইকুম সালাম। কই যাস ক্ষেতে?
-জ্বে বাবু।
-হুন আইজকা আমি গঞ্জে যামু।
কাইল আমু। বেশি দেরি করনের কাম নাই জলদি কইরা আইস।
-জ্বে আইচ্ছা।
- হগলতান সামলাইয়া রাহিস।
সালাম দিয়ে সে জমির দিকে রওনা হল।
বড় বাবুর নাম জলিল মন্ডল। খুবই ভাল মানুষ। কোন ছেলে নাই একটা মাত্র মেয়ে সুজাতা। তাকে ঘিরে ঈ তার সকল স্বপ্ন।বিশাল সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকার।
পাঞ্জাবির বুতাম লাগাতে লাগাতে হাক দেয় জলিল মন্ডল।
-কইগো সুজাতা মা আমার।
হাতের লাঠি ও পান নিয়ে হাজির সুজাতার মা সেলিনা
বেগম।
- সুজাতা ইসকুলে গেছে। ডাহেন কেন?
- হুন গঞ্জ থিকা কাইল আইসমু। ভালা ভাবে চইল্ল।
নজর আলীর বউ রে লইয়া ধান গুলান রে রইদে দিও।
এই বলে বেরিয়ে যায় জলিল মন্ডল।

দুপুর বেলা হালের বলদগুলো নিয়ে ফিরে আসে নজরআলী।গরু গুলানরে গামলা ভরতি ফেন আর খড় দিয়ে জয়নব বিবি আর সেলিনা বেগম এর সাথে ধান রোদ দিতে সাহায্য করে।
সেলিনা বেগম তাকে বলে
-গা মুখ দুইয়া খাইতে যাও নজর আলী মিয়া।
অনেক খাটনি অইসে।
-কি কইন গো মা! আগে কত কাম করছি আর অহন তো আর কিছুঈ করি না।
- বুছছি আর কওন লাগব না।জয়নব তুই অরে খাওন বাইরা দিয়া আয়।

নজর আলী ও তার বউ চলে যায়।
ওরা না থাকলে কি যে হত? স্বামী স্ত্রী মিলে অনেক পরিশ্রম করে এ বাড়ির জন্য। পাশের গ্রামে থাকত ওরা।নজর আলী এসেছিল কাজের সন্ধানে।প্রথম কিছুদিন রাখা হয় ছুটা কাজের লোক হিসেবে। পরবর্তী তে স্থায়ী ভাবে জামাই বউ দুই জন কে এ বাড়িতে রেখে দেয় তার স্বামী।শুনেছেন তাদের একটি ছেলে আছে। কিন্ত সে নাকি নেশা পানি খায়। তাই পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। জয়নব বিবি কে জিগ্যেস করতে হবে ছেলের বিষয়ে।
ধান নাড়তে নাড়তে ভাবে সেলিনা বেগম।
দুই হাতে দুই ব্যাগ ভরতি বাজার নিয়ে ফিরে আসে জলিল মন্ডল।
মেয়ে সুজাতা দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে।
বাবা ও মেয়ে কে নিয়ে বাড়ির ভিতরে আসে নজর আলী।
বিকেল বেলা নজর আলী ও তার স্ত্রী মিলে মরিচ খেতে পানি দিচ্ছে।এমতাবস্থায় জলিল মন্ডল হাজির হয় তাদের সামনে। সালাম দেয় নজর আলী। ঘোমটা টেনে পাশে দাড়িয়ে যয়নব বিবি।
-নজর আলী তুই আমার অনেক উপকার করস।
-কি কন হুজুর। এইডা হইল আমার কাম।আর আফনেরা হইলেন আমার মা বাফের লাহান।
-না নজর আলী হুন আমি ভাবতাছি আমার অইল গিয়া একটা মাত্র মাইয়া।আর এত জায়গা জিরাত দিয়া আমি কি করমু। তরে আমি বাড়ির লগের চারা জমিডা লেইক্কা দিয়া দিমু।
- না না হুজুর আমার জমি লাগবোনা।
যয়নব বিবির চোখ চকচক করে উঠে। স্বামীর এহেন বোকামি কথা শুনে রাগ হয় তার।সে বলে উঠে--
-এইডা অইল আফনের মেহেরবানী। আফনে যা কইবেন হেইডা ঈ অইব।
রাগ উঠে নজর আলীর মনে মনে সে বউ কে লাথি মারতে চায়।
-তুই যা এইহান থেইক্কা। বড় মাইনসের লগে কতা কওনের সাহস কেডা দিচে তরে।
-চুপ থাক নজর আলী। তোর চাচীর লগে আমি বুঝছি।তোর পুলাডার ভবিষ্যত লইয়া ভাব।
-কিয়ের পুলা হেরে আমি তেইজ্জ কইরা দিছি।
বিরবির করে কথা বলতে থাকে সে।
জলিল মণ্ডল মসজিদের পথে পা বাড়ায়।
রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে বিড়ি ধরায়।এমতাবস্থায় ঘরে ঢুকে যয়নব বিবি।ভাল করে দরজা বন্ধ করে স্বামীর পাশে বসে সে।কিছুক্ষন পর নিরবতা ভেংগে কথা শুরু করে।
-হুনছেন
-হুম।
-আফনে পুলাডার লগে এমুন করেন কেন?
-হের কতা তুই আমার লগে কইবিনা।
-যেই পুলা বাফের কতা না ভাইব্বা নেশা কইরা বেড়ায় আর চুরি করে হের লগে কোন সম্পরক নাই আমার।
-হে অহন বালা অইয়া গেছে।
-কেমনে ভালা অইছে। অহন অ তো জেলে আছে।মরুক হে জেলে পইচ্চা মরুক।
-না হে জেল থেইক্কা ছাড়া পাইছে।হের জনি ভাই হেরে ছুডাইয়া আনছে।
-তুই কেমনে জানস?হে কি এই বিড়িত আইছিল?
-না। জনি ভাই আইছিল। কইছে ৫০০০ টেহা লাগছে ছুডাইতে। হের লগে অই আছে হে।
বেশ রাগ হয় নজর আলী।
চিতকার করে গালি গালাজ শুরু করে সে।
-ফহিন্নি মাগি তুই বাইর অইয়া যা তুই যদি আর জনি আর তোর পুলার কতা আমার সাম্নে কস তাইলে তরে আমি মাইরা ফালামু।
দৌড়ে গিয়ে বটি দা হাতে নেয় সে।
ভয়ে যবুথবু হয়ে যায় যয়নব বিবি।
পাশের ঘর থেকে গলা খাকাড়ি দেয় জলিল মমণ্ডল। ডাক দেয় নজর আলীকে।
চুপ হয়ে যায় সে।
পর দিন দুপুর বেলা কাজ থেকে বাসায় ফিরে নজর আলী।
জলিল মণ্ডল ডেকে পাঠায় তাকে।
-নজর আলী বেশি বাড় বাড়ছে তোর।
লজ্জা পেয়ে কাঁচুমাচু হয়ে যায় সে।
- জে না হুজুর।
আর যেন গালাগালি না হুনি।
-জে।
-তোর পুলাডারে আইনা বুঝা।
-অল্প বয়েস বুঝাইলে বুঝব।
-মানে হুজুর--
- কোন মানে নাই।আপাতত গঞ্জে কাম ষিক্তে দে।পরে একটা দোকানের বেবস্তা আমি কইরা দিমু।
-জে আইচ্ছা।
-কাইল আমি মদন বেপারী রে কইয়া হের দুকানে লাগাইয়া দিমু।
-কিন্ত হুজুর হে যেন এই বাড়িতে না আইতে পারে।
-আইচ্ছা। অহন গিয়া খাইয়া ল।কাইল সুজাতারে দেখতে বরপক্ষ আইব। বড় বালা বংশ অলা।
লেহাপড়া যানা পুলা। অনেক কাম আছে।
আমার লগে বাজারে যাইতে অইব। বাজার সদাই করনের লাইগা।
-আইচ্ছা।
বিকেলে বাজারে যায় সে জলিল মন্ডলের লাইগা।
আসতে আসতে সন্ধে হয়ে যায়।অনেক বাজার করে জলিল মন্ডল।একমাত্র মেয়ের বিয়ের ব্যাপার।

শীত লাগছে তাই পরার জন্য শাল খুজে পাচ্ছেনা সে।
যয়নব বিবি কে জিগ্যেস করে।
স্ত্রীর কথা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে যিয় তার।
তার ছেলে কাদের এসে শাল নিয়ে যায়।
আবার রাগ হয় সে। কিন্তু বাইরে জলিল মন্ডলের আওয়াজ শুনে চুপ হয়ে যায়।
রাগে অভিমানে না খেয়ে কাথা মুড়িয়ে শুয়ে পড়ে।

পরদিন সকাল থেকে কাজ কর্ম শুরু হয়।
বিকেলে বরপক্ষ আসে।মেয়ে দেখে বরপক্ষ পছন্দ করেছে। দিন তারিখ ধার্য হয় সামনের শুক্র বার।

নজর আলীর কাজ বেড়ে যায়
বাজার সদাই সাজ সরঞ্জাম ইত্যাদি অনেক কাজ।
এদিকে তার ছেলে ও ঘন ঘন আসতে থাকে।
মাঝে মাঝে বাপ ছেলে তে দেখা ও হয় কিন্ত কথা হয়না।
ছেলে কে দেখলে তার রক্ত গরম হয়ে যায় তার।

জলিল মন্ডল নজর আলী কে নিয়ে যায় গঞ্জে।
মেয়ের জন্য গয়না কিন্তে।৫ ভরি সোনার গয়না কেনা হয়।
পরদিন বিয়ে।সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।
নজর আলী ঘুমিয়ে যায় তাড়াতাড়ি।

মাঝ রাতে চিত়্কার চেচামেচিতে ঘুম ভাঙ্গে তার।
হারিকেন হাতে বের হয় দ্রুত।
চুর এসেছে বাড়িতে।
সে ও দৌড় দেয় চুরের পিছু পিছু।
৫ /৬ জন চোর।
পিছনে থাকা লোকটি পড়ে যায় মাটিতে।জাপটে ধরে সে।
সামনে থাকা লোক ২টি এসে সজোরে আঘাত করে তার শরীরে।
ছেড়ে দেয়।
লোকটি উঠে দাড়ায়।আবছা আলোয় দেখতে পায় সে।
এ যে তার ছেলে।বাবাকে মারতে উদ্যত হয় কিন্ত লোকজন আসতে দেখে পালিয়ে যায় কাদের।
গায়ে থাকা শাল পড়ে যায় মাটিতে।
শক্ত করে ধরে রাখে তাতে নজর আলী।
লোকজন ধরাধরি করে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।
চারিদিক গগন বিদারী কান্না।
জলিল মন্ডল চিতকার করে কাঁদছে।
-অরা আমার সব শেষ কইরা গেল।টেহা নিলি সোনা নিলি কিন্ত আমার ফুলের মত মাইয়া ডারে সর্বনাশ করলি কেন?
ভোর না হতেই মেয়ে নিয়ে হাসপাতাল যায় জলিল মন্ডল।
সকাল বেলা পুলিশ আসে।
নজর আলী কে জিগ্যেস করে কাউকে চিনতে পেরেছে কিনা।
মাথা নেড়ে না সুচক উত্তর দেয় সে।
পুলিশ খেপে যায়।
দারোগা গালাগালি করতে থাকে।
-এইসব ছোটলোকের বাচ্চারা এর সাথে জড়িত থাকে।এই ওকে নিয়ে চলুন।থানায় নিয়ে প্যাঁদানি দিলে সব বেড়িয়ে আসবে।
পুলিশ তাকে নিয়ে যেতে চায়।
বাধা দেয় জলিল মন্ডল এর স্ত্রী
-অরে কই লইয়া জান আফনেরা? ও জানলে সব বইলা দিত।ছাড়েন এরে।
পুলিশ চলে যায়।
মাথা নিচু করে ঘরে চলে আসে সে।
তীব্র দহনে পুড়তে থাকে সে।
দরজা বন্ধ করে দেয় সে।
খানিক ক্ষন পরে যয়নব বিবি এসে দরজা ধাক্কায়।
কোন শব্দ নাই।
যয়নব বিবির চেচামেচিতে লোকজন এসে দরজা ভাংগে। আল্লা গো বলে মাটিতে পড়ে যায় যয়নব বিবি।

ঘরের আড়ার সাথে ঝুুুলে আছে নজর আলী।
তীব্র দহনে দগ্ধ হয়ে আত্ম হনন করে সে।

সমাপ্ত

বিভাগ: 

Comments

আহসান_পাপ্পু এর ছবি
 

প্রথম প্রকাশিত লেখা তাই কিছুটা নার্ভাসনেস কাজ করছে।
আপনাদের যেকোন মতামত সাদরে গ্রহন করার জন্য সদা প্রস্তুত।

আহসান পাপ্পু

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

লিখতে থাকুন নিয়মিত।

 
আহসান_পাপ্পু এর ছবি
 

ভালবাসা দাদা।

আহসান পাপ্পু

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আহসান_পাপ্পু
আহসান_পাপ্পু এর ছবি
Offline
Last seen: 4 দিন 3 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 26, 2017 - 2:55পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর