নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়
  • শাহনেওয়াজ রহমানী
  • জিহাতুল
  • আজহারুল ইসলাম
  • মোস্তাফিজুর রহম...
  • রিশাদ হাসান

আপনি এখানে

কুরআন অনলি কুইক রেফারেন্স: ভূমিকা


কুরআনের বাণীর প্রবক্তা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম (উমর) ইবনে আবদে মানাফ (আল-মুগিরাহ) ইবনে কু'সে (যায়েদ) ইবনে কিলাব ইবনে মুরাহ; সংক্ষেপে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। কিন্তু মুহাম্মদের দাবী "কুরআন সৃষ্টিকর্তার বানী, তার নয়!” যে সৃষ্টিকর্তা-কে তিনি 'আল্লাহ' নামে আখ্যায়িত করেছেন। আমার এ লিখাটি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাসের স্বপক্ষে কিংবা বিপক্ষে নয়; স্রষ্টায় বিশ্বাস উচিত নাকি অনুচিত, ক্ষতিকারক নাকি লাভজনক - সে বিষয়ে নয়। মুসলমানরা কি করেন বা না করেন এ লিখাটি সে বিষয়েও নয়। "মুসলমান" ও "ইসলাম" এই শব্দ দু'টি একে অপরের পরিপূরক নয়। ইসলাম হল একটি মতবাদ ও জীবন-বিধান, যা হযরত মুহাম্মদ (সা:) ও তার সমসাময়িক ও মৃত্যু পরবর্তী অনুসারীরা প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করেছেন। পক্ষান্তরে, মুসলমান হল এক মনুষ্য জনগোষ্ঠীর নাম। পৃথিবীর প্রায় সকল ধর্মাম্বলীদের মত প্রায় সকল মুসলমানই তাদের ধর্মটাকে উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছেন, অন্যান্য ধর্মাম্বলীদের মত তারাও তাদের ধর্মটি-কে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করেন ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মত একজন মুসলমানও তার ও তার পরিবারের জীবন-চাহিদার প্রয়োজন মিটাতেই সদা সংগ্রামী।

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ জন্মসূত্রে সাধারনতঃ দুটি জিনিষের অধিকারী হোন। এক, তার পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন প্রদত্ত নাম। দুই, তার পিতা-মাতার ধর্ম। একজন হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টানের মতই একজন মুসলমানও এই উত্তরাধিকারের ধারাবাহী। সাধারণ পরিবেশে ধর্মান্তরিতদের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। তারা ব্যতিক্রম, উদাহরণ মাত্র। একজন সাধারণ হিন্দু, বৌদ্ধ অথবা খ্রিষ্টানের জীবন-ধারার প্রতিফলন যেমন বেদ, ত্রিপিটক ও বাইবেলের মূল শিক্ষার সাথে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তেমনি একজন সাধারণ মুসলমানের জীবন-ধারাও ইসলামের মূল শিক্ষার প্রতিফলন নয়। কিন্তু পারিপার্শ্বিক বহু প্রভাবের মত ধর্মীয় শিক্ষার প্রভাবও যে যে কোন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বভাব, সংস্কৃতি ও মনস্তত্ত্বের উপর শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করে, এ সত্যকে কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না। আর ধর্মীয় শিক্ষার আদি উৎস যেহেতু নিজ পরিবার, শিশুকালের অনুশাসন (Childhood Indoctrination), সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতা; তাই এর প্রভাব খুবই গভীর ও সুদূর প্রসারী। অধিকাংশ মানুষই এর বেড়াজালে সারাজীবনই বন্দী থাকেন। কখনই মুক্ত হতে পারেন না।

ইসলামের মূল শিক্ষাকে জানার মাধ্যম হল কুরআন ও মুহাম্মদের মৃত্যু-পরবর্তী নিরবচ্ছিন্ন ১০০-২৫০ বছরের মুসলিম শাসনামলে শাসকদের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ছত্রছায়ায় বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই রচিত মুহাম্মদের জীবনী (সিরাত) ও তার আদেশ-নিষেধ সম্বলিত (হাদিস) গ্রন্থ। মুহাম্মদ তার সুদীর্ঘ ২৩ বছরের (৬১০-৬৩২ সাল) সংঘাতময় ঘটনাবহুল নবী জীবনের বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার পরিপার্শ্বিক মানুষদের সাথে 'আল্লাহর নামে' যে বানীগুলো প্রচার করেছিলেন, সেই বানীগুলোর সংকলন গ্রন্থই হলো 'কুরআন'। কুরআনের বহু ঘটনা বিন্যাসের বর্ণনা মুহাম্মদের জীবনেরই অংশ ও তার আচরণ ও চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন। চারণ-কবির মত তা তিনি প্রচার করেছিলেন ‘আল্লাহর বাণী’ বলে। যেহেতু কুরআনের বহু ঘটনা বিন্যাসের বর্ণনা মুহাম্মদের জীবনেরই অংশ ও তার চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন, তাই কুরআন-কে বলা যেতে পারে মুহাম্মদের “ব্যক্তি-মানস জীবনী গ্রন্থ (Psycho-biography)।" মুহাম্মদের কর্মজীবন ও তার পারিপার্শ্বিকতার সঠিক ইতিহাস জানতে এ বইটি সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য। এই গ্রন্থটি সম্পাদনের সময় মুহাম্মদের জীবনের ঘটনা প্রবাহের ধারাবাহিকতা-কে (Chronology) কোনরূপ আমলেই নেয়া হয় নাই; বাতিল (Abrogated) ভার্স-গুলোকেও এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে কোনরূপ টিকা বা মন্তব্য ব্যতিরেকেই। তাই, সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের সহায়তা ছাড়া এই গ্রন্থের অন্তর্নিহিত সত্যকে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এতদসত্ত্বেও এই গ্রন্থে এমন অনেক তথ্য আছে, যা থেকে মুহাম্মদের মনস্তত্ত্ব ও তাঁর পরিপার্শ্বিক সমাজের কিছুটা সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। প্রয়োজন নির্মোহ পক্ষপাতহীন অনুসন্ধান। ইসলামকে সহি উপায়ে বুঝতে হলে মুহাম্মদকে জানতেই হবে! এর কোনোই বিকল্প নেই। বলা হয়,

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে; যে তাকে জানে না, সে ইসলাম জানে না।”

ধর্ম বিষয়ক যে কোন আলোচনায় এক পক্ষ অপর পক্ষের বক্তব্যের সপক্ষে 'রেফারেন্স' দাবী করে বসেন। স্বাভাবিক কারণেই রেফারেন্স ছাড়া তারা একে অপরের বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা খুঁজে পান না। ইসলাম নামক মতবাদের সর্বশ্রেষ্ঠ 'রেফারেন্স' হলো কুরআন! আর কুরআন হলো এমন একটি গ্রন্থ, যেখান থেকে বিষয়-ভিত্তিক 'রেফারেন্স' খুঁজে বের করা খুবই সময় সাপেক্ষ ও গবেষণা ধর্মী কার্যক্রম। এ ছাড়াও কুরআন নামের এই গ্রন্থটি এতই অসম্পূর্ণ যে সিরাত ও হাদিসের সাহায্য ('তফসির') ব্যতিরেকে এই গ্রন্থে বর্ণিত অসংখ্য বিষয়ের স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। আর, সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে এই বিষয়গুলোর বিশ্লেষণ কালে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা এমন অসংখ্য ঘটনা-প্রবাহের বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত বর্ণনার উল্লেখ করেছেন, যার আলোকে মানবতার মাপকাঠিতে নবী মুহাম্মদ-কে কোনভাবেই মানব ইতিহাসের একজন নীতি-পরায়ণ ও মহানুভব ব্যক্তি হিসাবে ভুলেও ভুল করার কোন অবকাশ নেই! শুধু তাইই নয়, তাদের এই বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট তা হলো:

"স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন গণহত্যা সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষদের খুন, জখম, সম্পত্তি-লুণ্ঠন; তাদের ও তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের জোড়-পূর্বক ধরে নিয়ে এসে দাস ও দাসী-করণ ও বিক্রি; শত শত বছরের আবাসভূমি থেকে তাদের প্রায় এক বস্ত্রে বিতাড়িত করে তাদের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি লুন্ঠন; ইত্যাদি অসংখ্য মানবতা-বিরোধী অমানুষিক নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মহানায়ক।"

সেকারণেই, আজকের পৃথিবীর তথাকথিত মোডারেট (ইসলামে কোন কোমল, মোডারেট ও উগ্রবাদী শ্রেণীবিভাগ নেই, নেই কোন পলিটিকাল ইসলাম বা শান্তিপূর্ণ (Non-Political) ইসলাম জাতীয় শ্রেণী বিভাগ; ইসলাম একটিই আর তা হলো মুহাম্মদের ইসলাম) ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা বিভিন্ন কসরতের মাধ্যমে 'সিরাত ও হাদিস' গ্রন্থের এ সমস্ত অসংখ্য ঘটনা-প্রবাহের বর্ণনাগুলো-কে অ-নির্ভরযোগ্য (Not authentic) বলে দাবী করেন। তাদের যুক্তি এই যে, যেহেতু এই গ্রন্থগুলো মুহাম্মদের মৃত্যু পরবর্তী একশত-দুইশত বছরেরও অধিক পরে মানুষের মৌখিক বর্ণনার ভিত্তিতে রচিত, তাই তা অ-নির্ভরযোগ্য। কিন্তু একই সাথে, তারা এই গ্রন্থগুলো-তে বর্ণিত মুহাম্মদের জীবনের ইতিবাচক বর্ণনাগুলো বিনা বাক্যে সত্য বলে আখ্যায়িত করতে সদা সচেষ্ট। এই কপট ভূমিকায় তারা কোনরূপ লজ্জাবোধ করেন না!

অন্যদিকে, বর্তমান পৃথিবীতে আর একদল তথাকথিত মোডারেট ইসলাম বিশ্বাসী আছেন, যারা সম্পূর্ণ সিরাত ও হাদিস গ্রন্থকেই অগ্রহণযোগ্য বলে দাবী করেন। তারা হলেন, 'কুরআন অনলি' ইসলাম বিশ্বাসী। প্রথম দলটির সাথে এই দলটির পার্থক্য এই যে এই দলটি বোধ করি অনুধাবন করেন যে, যে যুক্তিতে সিরাত-হাদিসে বর্ণিত মুহাম্মদের অসংখ্য অমানবিক ও অমানুষিক নৃশংস নেতিবাচক বর্ণনাগুলো গ্রহণযোগ্য নয়; সেই একই যুক্তিতে এই সব গ্রন্থে বর্ণিত মুহাম্মদের জীবনের ইতিবাচক বর্ণনাগুলো "আরও বেশী" অগ্রহণযোগ্য। কারণ, ইসলামের ইতিহাসের এই সমস্ত আদি বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা (লেখক ও বর্ণনাকারী - যাদের বর্ণনার ভিত্তিতে এই বইগুলো লেখা হয়েছে) একজোট হয়ে তাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ-কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য নবীর চরিত্রের অসংখ্য নেতিবাচক ঘটনাগুলো বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা তাদের নবীর ইতিবাচক চরিত্রগুলোকে সত্য-মিথ্যার আবরণে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বৃদ্ধি করার কোন চেষ্টাই করেন নাই, এমন সম্ভাবনা যতটুকু; তার চেয়ে বহুগুণ বেশী সম্ভাবনা হলো এর সম্পূর্ণ বিপরীত-টি ঘটার। কারণ, মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এই যে তারা তাদের একান্ত প্রিয় পাত্রের যাবতীয় নেতিবাচক চরিত্র-গুলো গোপন করার চেষ্টা করেন ও ইতিবাচক দিক-গুলো সগর্বে প্রচার করার চেষ্টা করেন। প্রথম দলটির সঙ্গে এই দলটির বিশেষ মিল এই যে, এই 'কুরআন অনলি' গুষ্ঠির সদস্যদের-কে ও যখন কুরানের কোন স্পষ্ট অমানবিক, অনৈতিক ও নৃশংস বর্ণনার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়, তখন তারা আবার ফিরে যান সেই 'সিরাত হাদিসে'; যেখান থেকে তারা মুহাম্মদের জীবনের ইতিবাচক ঘটনার উদ্ধৃতি উপস্থাপন করেন, কিংবা বিভিন্ন কসরতের মাধ্যমে কুরআনের এ সমস্ত বানী-কে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন। সংগত কারণেই তারা তাদের নবীর চরিত্রের কোনরূপ নেতিবাচক অবস্থান-কে কোনভাবেই গ্রহণ করতে পারেন না!

প্রশ্ন হলো: যে যুক্তিতে এই মানুষগুলো সিরাত-হাদিসের বর্ণনাগুলো অস্বীকার করেন, সেই একই যুক্তিটি তারা কেন কুরআনের ব্যাপারেও প্রয়োগ করেন না? কুরআন নামক গ্রন্থটিও তো মুহাম্মদের মৃত্যুর (জুন, ৬৩২ সাল) উনিশ বছর পর ইসলামের ইতিহাসের তৃতীয় খুলাফায়ে রাশেদিন উসমান ইবনে আফফানের (রা:) রাজত্বকালে এক কমিটি কর্তৃক সংকলিত। যে আলী ইবনে আবু তালিব মুহাম্মদের নিজস্ব পরিবারের সদস্য, নয় বছরে বয়সে মুসলামানিত্ব বরণ করার পর মুহাম্মদ-কে কবরে শোয়ানো পূর্ব পর্যন্ত (৫ জন লোকের একজন যারা মুহাম্মদকে কবরে শোয়ায়ে ছিলেন) যিনি মুহাম্মদের প্রায় প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তার পাশে পাশে ছিলেন; সেই আলী ইবনে আবু-তালিব কে ঐ কমিটিতে রাখা হয় নাই। সংকলন-কালে খলিফা উসমান ইবনে আফফান ও তার নিযুক্ত কমিটি সদস্যরা, যারা নিশ্চিতরূপেই মানুষ ছিলেন, ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত “কোনরূপ” ভুলভ্রান্তি করেন নাই, এমন দাবীর যৌক্তিকতা কতটুকু? কেন তারা এই সম্ভাবনা-কে কোনভাবেই গ্রহণ করতে রাজী নয়? এর জবাব হলো, আল্লাহর নামে মুহাম্মদের বানী:

১৫:৯ (সুরা হিজর) - "আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।"
৭৫:১৬-১৭ (সূরা আল-ক্বেয়ামাহ) - "তাড়াতাড়ি শিখে নেয়ার জন্যে আপনি দ্রুত ওহী আবৃত্তি করবেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমারই দায়িত্ব।"

অর্থাৎ, কুরআনের শুদ্ধতার বিষয়ে কোনরূপ প্রশ্ন উত্থাপন করা ইসলামের একান্ত প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী। ইসলামের একান্ত প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা হলো, আল্লাহ ও তার নবীর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস। এমত পরিস্থিতিতে তাদের সামনে যে আর একটি মাত্র পথ খোলা থাকে তা হলো, বিভিন্ন কসরতের মাধ্যমে কুরআনের যাবতীয় বানী-কে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা। যেমন:

১) আরবি না জানলে কুরানের আসল অর্থ বুঝা যায় না:
এ দাবী সত্য হলে সমস্ত আরবি-ভাষী ও আরবি ভাষাবিদ পণ্ডিতরা একইভাবে কুরআন-কে বুঝতেন এবং তারা নিজেদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনরূপ মত বিরোধ করতেন না। বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। মুহাম্মদের মৃত্যুর ঐ দিনটিতেই [1] ইসলামের ইতিহাসের প্রথম খুলাফায়ে রাশেদিন আবু-বকর ইবনে কুহাফা (শাসনকাল: ৬৩২ সাল-৬৩৪ সাল) কর্তৃক মুহাম্মদের সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও নবী কন্যা ফাতিমা ও তার পরিবারের সাথে আবু বকর ও উমর ইবনে খাত্তাব গংদের মতবিরোধের সূচনা; কুরআন তেলাওয়াত-রত অবস্থায় তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফাফানের (শাসনকাল: ৬৪৪ সাল-৬৫৬ সাল) নৃশংস খুন; এই খুনের পর চতুর্থ খলিফা আলী ইবনে আবু-তালিবের (শাসনকাল: ৬৫৬ সাল - ৬৬১ সাল) ক্ষমতা আরোহণের পর পরই নবী পত্নী আয়েশা ও তার সমর্থকদের সাথে আলী ও তার সমর্থকদের যুদ্ধ ('উটের যুদ্ধ' - ডিসেম্বর, ৬৫৬ সাল); অতঃপর আলী ও তার সমর্থকদের সাথে মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান ও তার সমর্থকদের যুদ্ধ (('সিফফিন যুদ্ধ’ - জুলাই, ৬৫৭ সাল); এই যুদ্ধের পর আলী ও তার সমর্থকদের সাথে তার বিরোধীদের ('খারেজী') নাহরেওয়ানের যুদ্ধ (৬৫৮ সাল); বিষাক্ত ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে আলী-কে খুন; মুহাম্মদের মৃত্যুর ৪৮ বছরের মধ্যে (কারবালা যুদ্ধ, ৬৮০ সাল) তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সক্ষম প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সদস্যদের একে একে নৃশংসভাবে খুন; ইত্যাদি সমস্ত কর্মকাণ্ডই সম্পন্ন করেছিলেন মুহাম্মদেরই প্রত্যক্ষ সহচর সাহাবী ও তাদের সন্তানরা। এদের সবাই ছিলেন আরবি ভাষী!

২) ভুল অথবা বিকৃত অনুবাদ:
কুরআনের কোন অনুবাদ সর্বজনসম্মত আছে বলে জানা যায় না। যে নির্দেশিকার অর্থ একেক জনের কাছে একেক রকম, তা অস্পষ্ট। একে অপরকে 'সহি ইসলাম' পালন না করা নিয়ে দোষারোপ-মারামারি-যুদ্ধ ইসলামে কোন নতুন খবর নয়। গত ১৪০০ বছর ধরে এই বিতর্ক চলছে ও চলবে। কুরআনের লেখক/প্রবর্তক কোন ভাবেই এ দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন না!

৩) পরিপার্শ্বিক পরিস্থিতি (Situational Ethics):
উদাহরণ, "সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে তা ছিল যথার্থ।" এ দাবীটি সত্যি হলে ইসলাম সার্বজনীন নয়, যা ইসলামের মূল শিক্ষার পরিপন্থী! ইসলামের মূল শিক্ষা হলো, "আল্লাহর (সৃষ্টিকর্তার) এই বিধান সর্বকালের সকল মানুষের জন্য একমাত্র জীবন ব্যবস্থা!"

৪) তুলনামূলক নৈতিকতা (Moral relativism):
উদাহরণ, "মানব ইতিহাসে এমন বহু ব্যক্তি ও রাষ্ট্রনায়কদের উদাহরণ আছে, যারা ছিলেন মুহাম্মদের চেয়েও বহু অমানবিক ও নৃশংস কর্মকাণ্ডের মহানায়ক!" এ দাবী সত্য হলে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, মুহাম্মদ ছিলেন তাদেরই মত এক অত্যাচারী শাসক; পার্থক্য হল মুহাম্মদের অপরাধ ও নৃশংসতার মাত্রা ছিল তাদের তুলনায় কম! মানব ইতিহাসের অসংখ্য অত্যাচারী শাসকদের উত্থান ও পতন ঘটেছে। তারা কে কার চাইতে অধিক অত্যাচারী ও নৃশংস ছিলেন, সে প্রশ্ন এখানে বাতুলতা; এই কারণে যে তাদের সংঘটিত অপরাধ গুলো কখনোই মুহাম্মদের মানবতা বিরোধী অপরাধের ন্যায্যতা প্রদান করে না। শুধু তাইই নয়, ইতিহাসের এসব অত্যাচারী শাসকরা কখনোই দাবী করেন নাই যে তারা ছিলেন 'সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত মহাপুরুষ (নবী) ও তাদের আদর্শ সকল যুগের সকল মানুষের জন্য অবশ্য পালনীয় বিধান', যা মুহাম্মদ করেছিলেন! ফলাফল, আজকের পৃথিবীর সকল সভ্য মানুষই যখন ইতিহাসের এই সব অত্যাচারী শাসকদের নাম ঘৃণা ভরে উচ্চারণ করেন; তখন পৃথিবীর কোটী কোটী মানুষ মুহাম্মদের প্রশংসা ও গুণকীর্তনে থাকেন মগ্ন ও তার আদর্শ প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় ব্রতী। ইতিহাসের ঐসব অত্যাচারী শাসকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আজকের পৃথিবীতে যেখানে শুধুই ইতিহাস, সেখানে ধর্মের নামে নিবেদিতপ্রাণ মুহাম্মদ অনুসারীদের সংঘটিত ঘৃণা ও সন্ত্রাস আজকের পৃথিবীর এক বিভীষিকাময় বাস্তবতা। সে কারণেই, মুহাম্মদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কর্মকাণ্ডের তুলনা একেবারেই অর্থহীন!

আমার এই লেখায় শুধু কুরআনেরই উদ্ধৃতি থাকবে, যা সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হারাম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা থেকে নেয়া। [2][3] অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। সম্পূর্ণ এই লেখাটিতে কুরানে বর্ণিত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর 'কুরআন উদ্ধৃতি' ধারাবাহিকভাবে আলোচিত হবে:

প্রথম অধ্যায়: কুরান!
প্রবক্তার বক্তব্য
কুরআান সন্দেহ ও তার কারণ
অবিশ্বাসীরা কুরআান-কে যেভাবে মূল্যায়ন করতেন
অবিশ্বাসীরা মুহাম্মদ-কে যেভাবে মূল্যায়ন করতেন
প্রসঙ্গ জ্বীন জাতি
অবিশ্বাসীদের যুক্তি
পূর্ববর্তী নবীদের 'মোজেজা'
অনুরূপ 'মোজেজার' বায়না ও তার জবাব
মুহাম্মদের 'মোজেজা'
কুরানের রচয়িতা কারা
কৈফিয়ত ও আত্মপ্রশংসা
হুমকি-প্রলোভন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আহ্বান!
আরবী ভাষায় কুরআন কেন ও কাদের জন্য
কুরাইশরা ছিলেন 'আল্লাহ' বিশ্বাসী
কুরআনের বানী সুস্পষ্ট - যা কিতাবের আসল অংশ!
কুরআনের বানী অস্পষ্ট - যার ব্যাখ্যা শুধুমাত্র আল্লাহই জানে!
কুরআন অনলি বিশ্বাস; ইত্যাদি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: স্বাধীন ইচ্ছা বনাম স্বেচ্ছাচার!
আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শয়তান বেকার
আল্লাহ অবিশ্বাসীদের সরল পথ প্রদর্শন করেন না
আল্লাহ অবিশ্বাসীদের মনে-কানে-চোখে পর্দা নিক্ষেপ করেন
আল্লাহ অবিশ্বাসীদের অন্তরের ব্যাধি বৃদ্ধি করেন
অবিশ্বাসীদের পথভ্রষ্ট করার জন্য আল্লাহ শয়তান নিয়োগ করেন
আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করলেই সবাই হত সরল পথ প্রাপ্ত
আল্লাহ্‌ চাইলেই অবিশ্বাসীরা করত না কোন শেরক
আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন; ইত্যাদি।

তৃতীয় অধ্যায়: কুরান কার বাণী?
বক্তা যেখানে "তৃতীয় পক্ষ"
মানুষকে খুন করার পর শয়তান-কে দোষারোপ!
মানুষকে দিতে হবে বিশ্বাসের পরীক্ষা
ইসলামই "একমাত্র" গ্রহণযোগ্য ধর্ম!
আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব করার ক্ষমা নেই!
একই বক্তব্যের পুনুরাবৃতি
মুহাম্মদের পারিবারিক প্রয়োজন? বাণী বর্ষণ!
মুহাম্মদের পালিত পুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ আকাঙ্ক্ষা? বাণী বর্ষণ!
মুহাম্মদের যৌনতার প্রয়োজন? বাণী বর্ষণ!
প্রতারণার (তাকিয়া-Taqiyya) প্রয়োজন? বাণী বর্ষণ! ইত্যাদি।

চতুর্থ অধ্যায়: প্রসঙ্গ মুহাম্মদ!
মুহাম্মদের দায়িত্ব - মক্কায় মুহাম্মদ:
“রাসূলের দায়িত্ব শুধুমাত্র বাণী পৌঁছে দেয়া!”
“ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই!”
মুহাম্মদের বিরুদ্ধাচরণের শাস্তি – মদিনায় মুহাম্মদ:
“তাদেরকে হত্যা কর কিংবা হস্ত-পদ কেটে দাও!”
“তাদের গর্দানে মার, পরাভূত কর ও শক্ত করে বেধে ফেল!”
স্বয়ং আল্লাহ ও মুহাম্মদের অভিশাপ!
ফেরেশতা ও সমগ্র মানবজাতির অভিশাপ!
অভিসম্পাতের আসর!
কসম ও শপথ!
কবিদের সমালোচনা
মোনাফেকদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি!
পরবর্তী নবীর নাম "আহমেদ"; ইত্যাদি।

পঞ্চম অধ্যায়: ইসলামে নারীর মর্যাদা!
পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্ব-শীল!
'শুধুমাত্র' নারীর সাক্ষ্য অগ্রহণযোগ্য - পুরুষ দরকার!
ধর্ষণের প্রমাণ: চার জন পুরুষ সাক্ষী!
ঋতু-স্রাব গ্রস্ত মহিলারা অপবিত্র!
যে কোন বয়সী নারী বিবাহ শাস্ত্রসম্মত - নূন্যতম বয়স নেই!
তালাক ও ইদ্দত
নারীদের পর্দা (হিজাব)
দাসীর সাথে যৌনকর্ম সম্পূর্ণ বৈধ!
পুরুষ ও নারী বৈষম্য
মেয়ে শিশু হত্যা সংক্রান্ত
মুহাম্মদ ও তাঁর পত্নী; ইত্যাদি।

ষষ্ঠ অধ্যায়: ধর্মানুভূতি ও মুহাম্মদ!
অবিশ্বাসীদের অসম্মান, হুমকি, শাসানী, ও ভীতি প্রদর্শন!

সপ্তম অধ্যায়: হিজরত!
প্রসঙ্গ হিজরত
নব্য মুসলিমদের পূর্ব-ধর্মে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা
মুহাজিরদের প্রতি আনসারদের সাহায্য ও ভালবাসা
দীক্ষিত মুসলিমদের ধর্মত্যাগের শাস্তি; ইত্যাদি।

অষ্টম অধ্যায়: জিহাদ!
আল-নাসিক ওয়া আল-মানসুক (Abrogation)
যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল!
বদর যুদ্ধ - সুরা আনফাল!
বনী নাদির গোত্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের বর্ণনা!
বনী কুরাইজা গোত্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের সাক্ষ্য!
মুসলমানদের ভয়ে ভীত অমুসলিমরা
মুহাম্মদকে অস্বীকার ও বিরুদ্ধাচরণের শাস্তি
“তাদেরকে পাকড়াও কর ও যেখানে পাও হত্যা কর!”
"তাদের' সাথে যুদ্ধ কর যে পর্যন্ত না আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়!"
“তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয যদিও তা তোমাদের অপছন্দ!"
যুদ্ধ বিমুখ অনুসারীদের প্রতি হুশিয়ারি!
যে অনুসারীরা জিহাদের বাধ্যতা থেকে মুক্ত
বাঁচলে লাভ: লুটের মাল (গণিমত) ও ক্ষমতা!
মরলে লাভ: বেহেশত ও তার বর্ণনা! ইত্যাদি।

নবম অধ্যায়: চূড়ান্ত (Final) নির্দেশ – ‘সুরা তওবা!’
“কাফেরদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও!”
“মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে পাও সেখানেই!”
অভিশাপ বর্ষণ ও বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করণ!
অবিশ্বাসীদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করার নির্দেশ!
অবিশ্বাসীদের চরম অসম্মান!
ইসলামই একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম!
মুহাম্মদ-কে ভালবাসা বাধ্যতামূলক!
মুহাম্মদ-কে অনুসরণ বাধ্যতামূলক!
মুশরিকদের দুই 'চয়েস': মৃত্যু কিংবা মুসলমানিত্ব!
ইহুদি-খ্রিস্টানদের তিন 'চয়েস': মৃত্যু, মুসলমানিত্ব কিংবা জিজিয়া!
যুদ্ধ বিমুখ অনুসারীদের প্রতি হুশিয়ারি!
বেহেশতের প্রলোভন!
জিহাদের বাধ্যতা থেকে যারা মুক্ত - শেষ নির্দেশ!
মুনাফিকদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি!
কাবা শরীফের দায়িত্বভার অর্পন! ইত্যাদি।

দশম অধ্যায়: বিধিবিধান-উপদেশ ও বাধ্যবাধকতা!
বিশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটে এমন প্রশ্ন নিষিদ্ধ!
যাদের সাথে বসতে মানা - প্রার্থনা মানা!
অবিশ্বাসীদের সাথে বন্ধুত্ব বারণ!
পিতা-মাতার প্রতি ব্যবহার
শপথ
কিসাস
সম্পত্তির উত্তরাধিকার
বিবাহ
বিবাহ-হারাম মহিলারা
অনাথ
চোরের শাস্তি
ঈসা আল্লাহর নবী কিন্তু খ্রিস্টানদের বিশ্বাস ('ট্রিনিটি’) ভুয়া!
ঘুষ
যদি দুই দল মুমিন যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে ---
ভয় নামাজ (Fear prayer)
যাকাত ও খায়রাতের ভাগীদার
হালাল 'ফুড'
অজু ও রোজা
‘LEAP YEAR’ IS HARAM!
নবীর পত্নীরা হলেন মুমিনদের মাতা
গীবত (Backbite)
মদ্য পান; ইত্যাদি।

একাদশ অধ্যায়: উদ্ভট দাবী!
যুক্তি ও বিচার-বুদ্ধিতে যার কোন অর্থ নেই!

দ্বাদশ অধ্যায়: কুরানে বিজ্ঞান!
ভ্রূণতত্ত্ব; মানুষ ও জীবন সৃষ্টির উপকরণ; পৃথিবী ও পাহাড় প্রসঙ্গ; আকাশ ও পৃথিবী প্রসঙ্গ; সূর্য ও চন্দ্র; দিন ও রাত্রি বিষয়ক; ছায়া-মেঘ ও বৃষ্টি; পানি-চক্র; সমুদ্র; দুধ; ইত্যাদি।

এ লিখাটির মূল উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিকর্তার রেফারেন্সে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর বানী সমূহের 'বিষয়ভিত্তিক সহজ ও কুইক রেফারেন্স' পাঠকদের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা, যার মাধ্যমে পাঠকরা নবী মুহাম্মদের জীবনী, মনস্তত্ব ও তাঁর পারিপার্শ্বিকতার কিছুটা ধারনা পেতে পারেন। সিরাত ও হাদিসের সাহায্য ছাড়া মুহাম্মদের এই বানীগুলোর যতটুকু মর্মার্থ উদ্ধার কর যায় তার আলোকে নবী মুহাম্মদের মানসিকতা, কর্মকাণ্ড ও শিক্ষা পৃথিবীর সভ্য সমাজে আদৌ গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে কি না; তার কার্যকলাপ কি ঐশ্বরিক নাকি দানবীয় (Demonic); তার দাবীকৃত "আল্লাহ" বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তার (যদি থাকেন) গুনে গুণান্বিত হবার যোগ্যতা রাখেন কিনা - তা বিচারের ভার মুক্তমনের পাঠকদের। প্রচলিত সকল ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মেশ্বর (ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত ঈশ্বর), নবী-রসুল, দূত-অবতার ও তাদের কিচ্ছা-কাহিনী ইত্যাদি অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করেও একজন মানুষ স্রষ্টায় বিশ্বাসী হয়ে (কিংবা না হয়ে) মানবিকতার চর্চা করতে পারেন। ধর্মে অবিশ্বাস ও স্রষ্টায় অবিশ্বাস বিষয়টি একে অপরের পরিপূরক নয়। আমি আশা করি, মুহাম্মদের বানী ও শিক্ষার এই 'কুইক রেফারেন্স’ গাইডটি মুসলমান ও অমুসলমানদের ইসলামের মূল শিক্ষা সম্বন্ধে আরও বেশী বেশী জানার আগ্রহ সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] কিতাব আল-তাবাকাত আল-কাবির – লেখক: মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ), অনুবাদ এস মইনুল হক, প্রকাশক কিতাব ভবন, নয়া দিল্লি, সাল ২০০৯ (3rd Reprint), ISBN 81-7151-127-9 (set), ভলুউম ২, পৃষ্ঠা ৩৯২-৩৯৪
http://kitaabun.com/shopping3/product_info.php?products_id=4170

[2] হারাম শরীফের খাদেম কর্তৃক বিতরণকৃত কুরআনের বাংলা তরজমা: http://www.quraanshareef.org/
[3] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

Comments

নরসুন্দর মানুষ এর ছবি
 

শুভেচ্ছা ভাই!

স্বাগতম ইস্টিশনে..!
কয়েক টন কথা জমে অাছে;
বলবো দ্রুতই!

নরসুন্দর মানুষ

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

ভাই নরসুন্দর, অনেকদিন হলো আপনার কোন খবর না পেয়ে খুবই দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। ২৫ দিন হলো 'ইস্টিশন' পরিবারের সাথে যুক্ত হয়েছি। ইস্টিশনের আত্মকথা, বিধিবিধান ও ট্রেন যাত্রীদের ভাল লেগেছে, তাই।

গোলাপ মাহমুদ

 
নরসুন্দর মানুষ এর ছবি
 

ভাই!

অাপনার মেইল পেয়েছি,কিন্তু সু-সংবাদ দেবার জন্য কাজ করছিলাম বলে উত্তর দেইনি!
অনেক কাজ গোছাতে হচ্ছে দ্রুত অাপডেট পাবেন! তবে নতুন করে ৭ তারিখ থেকে কাজ শুরু হয়েছে! অাশাকরছি সব চলমান থাকবে। অাপনি তো জানেন পা টেনে ধরার লোকের অভাব নেই কোথাও!

ইস্টিশনের নতুন সিরিজের জন্য অাপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না!
অামি অাছি অাপনার পেছনে, অাপনি লিখতে থাকুন…!

শুভেচ্ছা ভাই!

নরসুন্দর মানুষ

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

ইস্টিশনে স্বাগতম। আমি আপনার একজন একনিষ্ঠ পাঠক। প্রিয় লেখককে ইস্টিশনে দেখে ভাল লাগছে। অন্যান্য লেখাগুলোর মত কোরানের কুইক রেফারেন্সও আশা করছি চমৎকার হবে।

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

ভাই নুর নবী, লেখাগুলো পড়ছেন জেনে খুবই ভাল লাগলো। ঐ সিরিজটির বয়স প্রায় সাড়ে ছয় বছর। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে পঞ্চম ও ষষ্ঠ+ ভলুম শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি।

অনুপ্রেরণার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

গোলাপ মাহমুদ

 
কিন্তু এর ছবি
 

একবার এক্ষান জ্বীন পাইতাম , মহেশ খাইল্লা পানো কিনি তারে বানাই খবাইতাম

মানবতাই ধর্ম

 
মোমিনুর রহমান মিন্টু এর ছবি
 

না বললেই নয় গোলাপ মাহমুদ ভাই, আপনার লিখা না পড়লে হয়তো আমি সারাজীবন অন্ধ থাকতাম। আপনার পরবর্তী লিখার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। ভাল থাকবেন।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 4 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর