নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

সেই কিশোরী: আমার ক্ষণিক প্রেম


১.
নীশির শেষভাগে চাঁদের আলো দেখতে যেমন সুন্দর ঠিক তার চাইতে বেশি সুন্দর ছিল তার চাঁদনীমাখা মুখ।
কালো থ্রিপিছ, মাথায় উড়না দেওয়া তের চৌদ্দবছরের এক কিশোরী আমার হাতে এক গ্লাস জল দিয়ে এক চিমটি হাসি দিল। আমি আঁড় চোখে এক পলক দেখলাম। দেখা মাত্রই বুকের ভিতর কেমন যেন উদ্ভুত টান অনুভব হইল।
**
সেইদিন বিকেলে চট্টগ্রামের এক বন্ধু ফোন করে কেমন আছি জানতে চাইলো। বললাম-
- বিকেলে ঢাকা থেকে মা বাবা কে নিয়ে ফিরেছি। মন যে প্রায় অসুস্থ থাকে তাতো জানোস'ই। চল, কোথাও থেকে ঘুরে আসি।
- কই যাবি? আমারও দু একদিন ছুটি আছে।
- সিলেট যাবো। সেই মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় একবার গিয়েছিলাম।
- হুম। দেখা যাক। ঠিক আছে রাখ।
****
সকাল সাতটায় ফোনে রিং বেজে উঠলো। সচারচর মোবাইল সাইলেন্স করা থাকে।
- হ্যালো!
- তুই দশটায় রেল ইস্টিশনে থাকিস।
- মানে কি?
- মানে হচ্ছে, সিলেটের টিকেট করছি স্নিগ্ধা-৩৪/৩৫। সুতরাং তুই থাকবি। রাখছি।

এই বলে লাইনটা কেটে দিলো।
আমিতো চিন্তায় পড়লাম। মা বাবাকে কি বলবো।
যাক, উঠে তড়গড়ি করে রেডি হয়ে মা-কে বললাম আমার কাজ আছে। আজ নাও আসতে পারি। চিন্তা করিও না।
মা বললো কই যাই।
এতো প্রশ্ন করিও না। খারাপ কাজে যাচ্ছি না।
তারপর মা দোয়া করে দিল তাড়াতাড়ি ফিরে আয় বলে।

**
রেল স্টেশনে পৌঁছার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ট্রেন এসে থামলো। আমি দাঁড়িয়ে খুঁজছি কোনটা স্নিগ্ধা। হঠাৎ শুনতে পেলাম- ধ্রুবনীল।
আমার বন্ধু ডাক দিয়ে বললো, এই বগিতে উঠ। শোন! উঠার আগে এক বোতল জল নিস।
আমি জল নিয়ে বগিতে উঠে এদিক সেদিক না তাকিয়ে ব্যাগটা উপরে রেখে সিটে বসে পড়লাম।
তারপর বন্ধুর সাথে গল্পতে মশগুল।

আশ্চার্যের ব্যাপর হচ্ছে, ঐ বগিতে দশেক যাত্রী পুরুষ, আর সবাই সব ধরনের বয়সী নারী।
সামনা সামনি বসা ভদ্র লোকটির পাশে একজন পঁয়ত্রিশ বছরের নারী রয়েছে। মাঝে মাঝে আমার দুষ্টো কথা শুনে মুখ টিপে টিপে হাসে।
ভদ্রলোক জানতে চাইলো কি করি?
- আমি আইনজীবী আর ও ডাক্তার।
- কোথায় যাবেন?
- সিলেট।
- ঘুরতে না- কি কাজে?
- ঘুরতে। আপনারা?
- আমরাও ঘুরতে।
( বেচারার পাশে বসা মহিলাটি তার স্ত্রী। তিনি বেশ সুন্দর, যেমন চোখ তেমনই সরু ঠোঁট, সব মিলিয়ে অপরুপ। তার পাশে মানায় না। কিন্তু হয়তো অর্থের জোরে তিনি বিয়ে করেছেন। যা আমাদের সমাজগুলোতে দেখা যায়। আপনি দেখতে যতই কদাকর হউননা কেন, শিক্ষা আর টাকা থাকলে সুন্দরী বৌ পাওয়া ব্যাপর না। কিন্তু সংসারটা হয়তো লোক দেখানোর জন্য ভালো ভাবে টিকে থাকে, তলিয়ে দেখেন স্বামী পরিতৃপ্তিতে বৌয়ের সাথে প্রেম করতে পারছে না। )

*****
ট্রেন চলছে আর কিছুক্ষণ পরপর থামছে। এতোটাই বিরক্তি হচ্ছি যা আগে কখনো কোনো জার্নিতে হইনি।
এইদিকে আমার বন্ধু নাক ডাকা শুরু করেছে। আমি আর কি করবো! অনলাইন ছাড়া আর কি উপায় আছে!
( কোনো একদিন আদালত থেকে ফেরার পথে আমার এক বন্ধু আমাকে আমাদের গ্রামের এক মেয়ের সাথে পরিচয় করে দিয়েছিল। তার সাথে কথা বলে মোটামুটি ভালো লেগেছিল তাই তাকে ফেইসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠাই। ভেবেছিলাম, এ্যাক্সেপ্ট করবে না। কিন্তু কয়েকদিন পর আমাকে এ্যাড দিল। আমি নোটিফিকেশন দেখে মহাখুশি হইলাম। কোনো কারন ছাড়াই তাকে আমার ভালো লেগেছিল। কেন তা জানি না। শুধু এতোটুকু বুঝি, আমি যে বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছি সে সেই বিষয়ে পড়ছে। )

তার সাথে অনেকক্ষণ চ্যাট করার পর বিরক্তিটা কাটলো।
*******
ছকাপন রেলওয়ে স্টেশনে এসে দাঁড়ালো। তখন প্রায় পড়ন্ত বিকেল। ভেবেছিলাম ক্রসিং দিবে তাই। কিন্তু না, লাইনের কাজ চলতেছে এ্যাটেন্ডেন্স জানালো।

২.
দু-ঘন্টা দেরী হবে ট্রেন ছাড়তে। কিছু পরিচিত শব্দ শুনতে পেলাম। যেমন- ডিম ডিম, চা-গরম, চানাচু~~র ইত্যাদি।
আমি আর আমার বন্ধু দু ঠোঙা ঝাল চানাচুর নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়লাম। রেল লাইনের উপর চানাচুর খেতে খেতে হাঁটার চেষ্টা করলাম।
একবার হোচট খেয়ে পড়ে যেতেই বগির ভিতর থেকে ডাইনীর আওয়াজের মত হোহো শব্দ শুনতে পেলাম। দেখতে বেশ সুন্দর আধুনিকতার ছোঁয়ায় ভরপুর মনে হলো মেয়েগুলোকে। আমি লজ্বা পেয়ে লাইনের উপর বসে পড়লাম। খেতে খেতে আধুনিকতা আর সুদর্শনের অর্থ খুঁজতে চেষ্টা করলাম।
♣ মেয়েদের চুলের বাহার আর উড়না ছাড়া স্তনবৃন্তের পরোক্ষ প্রদর্শন এমনকি ঠোঁট বেকে বাক্য বিনিময়ে পুরো বাক্যে ৭০শতাংশ ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করাই নাকি একজন নারী আধুনিকতার ছোঁয়ায় সুদর্শনা ভঙিমায় নিজেকে প্রকাশ করে। আর পুরুষ! হরেক রকমের চুলের কাট, ছেঁড়া প্যান্ট, তালি দেওয়া টি শার্ট, হাতে ব্রেসলেট এমনকি নানা ভঙিমায় নিজেকে প্রকাশ করা নাকিই আধুনিক ছেলে।
এইসব আধুনিকতার পাল্লায় পড়ে টি-টুই-টারীর প্রেমে খেলায় আমরা মানুসিকতা নষ্ট করি।
প্রেম নামক পবিত্র সম্পর্কটিকে আমরা নষ্টামীতে ভরিয়ে, বিশ্বাসের ফানুস উড়িয়ে, চরিত্রবান মানুষদের নিকট কুরুচি করে তুলি। বিছানা গরম করার নিমিত্তে ভালবাসার প্রলোভন দেখিয়ে বিশ্বাস নিয়ে খেলা করার নামই প্রেম। ইটাই আধুনিক প্রেম।
আধুনিক প্রেমের কাছে সাধারন মানুষদের আবেগ অনুভূতি এইসবের কিছুই দাম নেই। তাদের পোহাতে হয় বিশ্বাস হারানোর দুর্ভোগ।♣

ঝাল চানাচুর খাওয়ার পর ঝাল লাগছে আবার পিপাসাও পেয়েছে খুব।
( রেল লাইনের যেখানাটায় বসা ছিলাম ঠিক তার অপাশে ছোট্ট একটি বিল্ডিং ঘর। একদম রাস্তা ঘেঁষে। ঘরের ভিতরটায় দুটো কক্ষ। সামনের রুমটাতে গিয়েছিলাম জল পান করার জন্য। বেশ পরিপাটি। একটি চৌকি, একটি চেয়ার আর ছোট্ট টেবিলের উপর ঘুছানো কিছু বই খাতা। )
*****
কাকতালীয়ভাবে পরিচয় হওয়া ফেইসবুকের তাহাকে কয়েকবার ফোন করিয়া ব্যর্থ হইয়াছি। কিন্তু মিনিট পাঁচেকের মধ্যে তিনার মর্জিতে আমার ফোন বেজে উঠিলো।
তিনি একজন বাস্তব ধর্মের মানুষ। কিভাবে যে এমন কঠিন হৃদয়ের মানুষ হইলো কে জানে! হয়তো বড় কোনো আঘাত পাইয়াছি
কিছুক্ষন তাহার সাথে কথোপকথন করিবার আমার সৌভাগ্য হইলো তাই তিনার সাথে মিনিট দশেক কথা বলিলাম।
তিনার গুনগান না হয়ে পরের কোনো এক অধ্যায় বলিবো। তবে এক কথায় তিনি অনেক বড় মনের অধিকারীনী।
*********

বন্ধুকে বললাম,
-দোস্ত শিমন! জল তো নাই। খুব পিপাসা পেয়েছে। জল খাবো।
( আমার বন্ধু আবার এক জিনিস, পিপাসার মধ্যেও সিগেরেট টানতে পারে। যা আমি পারি না। যদিও ইদানীং আমার মাত্রাতিরিক্ত ধুমপান করা হয়। )
- কি করবো এখন তুই বল ধ্রুবো।
- চল! ঐ বাড়িতে গিয়ে জল চাই।
- আরে না কি বলিস! অপরিচিত জায়গায় কেউ আমাদের জল দিবে!!
- দিবে না কেন। আমরাতো আর চোর নই।
- ঠিক আছে চল।

যাওয়া মাত্রই উঠান থেকে কালো থ্রিপিচ পড়া কিশোরী সেই ছোট্ট ঘরটির ভিতরে দৌঁড়ে পালালো। তার সাথে থাকা মেয়েটি দাঁড়িয়েছিলো একজন বয়স্কা নারীর সাথে।
আমার বন্ধু বললো,
- দিদি! একটু জল হবে?
বয়স্কা মহিলাটি মেয়েটিকে বললো,( সিলেটের ভাষায় ) যা উনার জন্য জল নিয়ে আয়।
মেয়েটি আকাশী রঙের একটি ফ্রক পরা ছিল। সে এক গ্লাস জল দিলো শিমন কে।
আমি শিমনকে বললাম তুই অর্ধেকটা খেয়ে বাকীটা আমাকে দে। সে পুরো জল সাবাড় করে মুখ টিপে টিপে হাসি রেখে বলে তুই খাবি!
( জলের জন্য নিয়ে আসলাম আমি আর সে কি-না!! )
এই বলে সে আমাকে একা রেখে চলে গেল। আমিতো হাদারাম, ভয়ে জলও চাইতে পারছি না। দু মিনিট অপেক্ষা করে চলে আসার জন্য ঘুরে দাঁড়ালাম।

৩.
-এই যে! জল নাও।
ফিরে তাকাতে এক কোমলমতী নুরের ঝিলিক আমার চোখের সামনে ঝলক দিল। আমি হতভম্ব হয়ে হাত বাড়িয়ে জল নিয়ে মাটির দিকে দৃষ্টি রেখে জল মুখে নিতেই (আমার হাতে যেন ভূমিকম্পে কাঁপছে)
- জল দাঁড়িয়ে পান করলে গুনাহ্ হয়। তাই ঐ চেয়ারটাতে বসুন।
আমি অবাক হলাম, এতো কম বয়সের মেয়ে ধার্মিক হয়!
কিছু না বলে মাথা উঁচু করে তার চেহারায় একবার কোনরকম তাকিয়ে চেয়ারটাতে বসে এক নিঃশ্বাসে পানি সাবাড় করে উঠে তার দিকে গ্লাসটা বাড়িয়ে দিলাম।
সে গ্লাসটা নিয়ে একটু যাওয়ার পর আমি সামান্য জোর গলায় বললাম থ্যাংকস।
তার সাথে থাকা মেয়েটি most welcome বলে একটা হাসি দিলো।
আমি রেল লাইনের উপর শিমনের সাথে এসে ঐ বাড়ির উঠোনের দিকে ফিরে দাঁড়ালাম।
মেয়েটিও উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের দিকে। আমি ততক্ষনে ক্ষনিক মায়াজালে আঁটকে গেলাম।
- শিমন! আমিতো মনে হয় প্রেমে পড়তেছি!
- যাহ্ ব্যাটা! তুই আবার প্রেমে পড়বি!?
- কেন? দেখ! মেয়েটা এতো সুন্দর কি করে?
( আমি দুর থেকে যেমনটা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছি ঠিক সেও আমার পানে )
- হঠাৎ হঠাৎ তোর কি হয়!! দে তোর ভিজিটং কার্ড দে, আমি ওকে দিয়ে আসি।
- আরে না! কয়েক সেকেন্ডের প্রেম আমাকে মাঝে মাঝে আনন্দ দিবে। তাতে কোনো বিশ্বাস ভাঙা কিংবা হারানোর ভয় থাকবে না। তাই এতোটুকুতেই থাক।
- তাহলে আমাকে আর এই ব্যাপারে কোনো কথা বলবি না। এইবলে তার হাতের সিগেরেট আমাকে দিল।

আমি সিগেরেট এক টান দিলাম মাত্র। হঠাৎ আমার থেকে একটু দুরে দাঁড়িয়ে আমাকে তিরিস্কার করে ছিঃ ছিঃ করে উঠলো আর বললো তোমাকে জল দেওয়াই আমার অপরাধ হয়েছে। আমি সাথে সাথে সিগেরেট ফেলে দিলাম।
তার সাথে থাকা মেয়েটি বারবার মোবাইল দেখাচ্ছিল, আমি তখন বুঝতে পারিনি; কেন সে এমনটা করতেছিল।
এ্যাটেন্ডেন্স এসে বললো- স্যার উঠে পড়ুন। দু-এক মিনিটের মধ্যে ট্রেন ছেড়ে দিবে, বলা মাত্রই ট্রেনের হরন বেঁজে উঠলো।
আমি লাফ দিয়ে উঠে দরজায় দাঁড়িয়ে চিৎকার দিয়ে বললাম- যাচ্ছি চলে। ধন্যবাদ সবাইকে। যাওয়ার সময় হয়তো দেখা হবে।
- ধন্যবাদ কারে কইছো?
- স্পেশালভাবে তোমাকে বলছি।
- ঠিক আছে, welcome. আবার আইসো।

ট্রেন ছেড়ে দিল......................................!

৪.
ট্রেন চলছে ট্রেনের মত করে, আমিও সেই কিশোরী দুটো বাক্যে বারবার খুঁজতে ছিলাম কি হারালাম!!!
কানের ভিতর শব্দগুলো নৃত্য তুলছিল এমনভাবে আপসোস যেন জ্বালিয়ে আগুনের অগ্রভাগে পরিনত করিল।
হঠাৎ মনটা চুপসে হারিয়ে গেলাম আমার দুরস্ত সময়ে। কি ক্ষতি হইতো যদি আরেকবার পরখ করা হইলে? হয়তো নতুনভাবে জীবন সাঝানোর জন্য নিয়তি তোমাকে পরিবর্তন করেছে যা কখন তুমি নিজেই বুঝোনি, বুঝার চেষ্টাও করোনি।
এখন নিজেকে ভালো রাখার জন্য দুজন দু-প্রান্তে অভিনয়ে সাঁতার দিচ্ছি। হয়তো তুমি কূল পেয়েছো আর আমি দুর্ধর্ষ জীবনের জলস্রোতে ভাসমান।
★ঠিকই তো!
বসন্তের ঝিরিঝিরি হাওয়া ছিল মনের আঙিনায়। যখন হৃদয়ের বসতিতে ঘর বাঁধিলে। হঠাৎ সেই ঘর তাসেরঘরের মত উড়ে গেল।
মনের আকাশে শ্রাবনের মেঘ জমে প্রতিটি মুহূর্ত মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। চলতি অধ্যায় শুধু অঝোরে বৃষ্টির রাশিমালা।
এক প্রাণবন্ত অধ্যায় তুমি খুন করেছো বলে আজ জীবিত থেকেও প্রায় মৃত।★

- ধ্রুবো!
- হুম।
- চল, ক্যান্টিনে গিয়ে চা আর সিগেরেট খেয়ে আসি। তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবটা কাটুক। ভগবানই জানে আর কতক্ষণ লাগবে।
- তুই যা, আমার ভালো লাগছে না।
- আরে না চল।
এইবলে আমার হাত টেনে উঠালো। আমি আর না করতে পারলাম না। তখন প্রায় সূর্যটা হারিয়ে গিয়েছে।
ক্যান্টিনে যাওয়ার পথে এইদিক সেইদিক তাকিয়ে দেখলাম অনেক সুশ্রী নারী। সবার চেহারায় শুধু একজনকে দেখতে পাচ্ছিলাম। সেই কিশোরী। নামটা পর্যন্ত জানা হয়নি।

- আপনারা কোথায় থেকে উঠেছেন?
( মাঝবয়সী এক ব্যাক্তি আমাদের জিজ্ঞেস। তিনি মিরেরেসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। ইটভাটার মালিক।কয়লা কিনতে যাচ্ছেন সিলেট। )
- শিমন বললো- আমি চট্টগ্রাম ও ফেনী থেকে। আপনি?
- আমি চট্টগ্রাম থেকে। কয়লা কিনতে যাচ্ছি। আপনারা?
- আমার সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজে একটা মিটিং আছে। আর বুঝ হওয়ার পর ও নাকি কখনো সিলেটে আসেনি। তাই কাজ প্লাস বেড়ানো।
- I see, আপনি এ্যাডভোকেট? তাই না?
- হুম! আপনি কি করে বুঝলেন?
- ঐ যে তখন ডাক্তারী আর আইনপেশা নিয়ে ঝগড়া করতেছিলেন তখন।
- ওহ, হাহাহাহা। তবে যাই বলেন, ডাক্তাররা আইনজীবীর চেয়ে বেশি কসাই।
( শিমন রেগে গিয়ে কাউন্টার দিলো। )
- তোদেরতো মিথ্যার রাজ্যে বসবাস। দুই মিনিট কথা বলবি তার জন্য হাজারটাকা নিয়ে নিস্।
- আর তোরাতো জ্বর হইলো বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানীর কমিশন পাওয়ার জন্য সব কোম্পানির ঔষুধ দিয়ে প্রেসক্রিপশন ভরায় ফেলেছ্।
- হাহাহা! আরে আপনার দুজন থামেন। চলেন সিটে গিয়ে কথা বলি। ধ্রুবো সাহেব! মনে হচ্ছে আপনার সাথে আলাপনে জমবে ভালো।
- হুঁ! তাই করেন বললো শিমন।

*** মক্কেলকে মামলার জটিলতা থেকে রক্ষা করাই হচ্ছে আইনজীবীর কাজ তাই তারা বাধ্য হয়ে পরোপকারে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। পৃথিবীতে শুধুমাত্র আইনজীবীদের বিজ্ঞ বলা হয় আর কাউকে নয়।
আর ডাক্তার! মানুষ সেবা করার নামে ব্যাঙের ছত্রাকের মত যেখানে সেখানে ব্যবসার নামে মেডিকেল কিংবা ডায়াগনিষ্টিক কসাইখানা দিয়ে মানুষের রোগ সারানোর চেয়ে হয়রানি করে রোগ আরো বাড়ায়। যা আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি। আমার বাবা অসুস্থ হওয়ার পর চট্টগ্রাম, ফেনী এমনি রাজধানী ঢাকাসহ প্রায় ৪৩জন ডাক্তার দেখিয়েছি। কোনো রোগ তারা আবিষ্কার করতে পারিনি কিন্তু তিনি হাঁটতে পারেন না। আমার মা-কে দুইজন কর্নেল সহ তিনজন মেজর এমনকি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজগুলোর ডাক্তারদের ব্যাক্তিগত চেম্বারে ফিস দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়েছি কিন্তু তাঁর তেমন কোনো রোগ ধরা পড়েনি ঠিকই তবে তিনি নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এই হচ্ছে চিকিৎসার নামে অবহেলা করে ব্যবসায়ীক সেবা। )

- তারপর ধ্রুবো সাহেব কোন সাইডে প্র্যাকটিস করেন?
- ক্রিমিনাল।
- চট্টগ্রাম আদালতে আমার একটা...........................!

৫.
- চট্টগ্রাম আদালতে আমার একটা মামলা চলতেছে। প্রায় যাওয়া আসা হয়। তাই এই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আইনজীবীরা কসাই থেকে আর কম কিসের।
( শিমন বলে উঠলো ভালো বলেছেন ভাই। আপনাকে ধন্যবাদ )
- বুঝলাম না আপনার কথা!
- বুঝেন নাই, বুঝাই বলতেছি। দুই বছর যাবৎ একটা মামলা নিয়ে বহু হয়রানিতে আছি। প্রসিকিউটর সাহেব সবসময়ে বলেন, অমুক তারিখ; সমুক তারিখে শেষ হবে। কিন্তু শেষ এখনো হয় না।
- এতে প্রসিকিউটরের কি দোষ! দোষ আপনারই। কারন আপন যথাসময়ে যথার্থ প্রমাণাদি দিতে পারেন না বলেই এমন হয়।
- হয়তো! বাদ দেন এইসব কথা। কোথায় উঠবেন?
- হোটেল-মোটেল যা পাই তাতেই উঠবো। আপনি?
- আমিও। আমরা মনে হয় এসে পড়েছি। পরে কথা হবে। চট্টগ্রাম আসলে ফোন দিবেন। এই নেন আমার কার্ড।
- ধন্যবাদ। অবশ্যই চেষ্টা করবো দেখা করার জন্য। ভালো থাকবেন।

***ভালবাসার অনুভূতি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েছে বহু আগে। ঘা শুকায়নি এখনো। তবুও যদি অনুভূতির কনাগুলো স্তুপ করে জোড়া লাগিয়ে তোমাকে বলি " আমি তোমায় ভালবাসি "। তবে তুমি কি মেনে নিবে? বিশ্বাস করবে কি-না জানি না! তোমার সাথে কথা বলার জন্য মন উতলা হয়, ঘর থেকে বের হলে তোমায় দেখবো বলে আশারা দল বেঁধে উঁকিঝুঁকি দেয়, তোমার কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ি। এর নাম যদি প্রেম হয় তবে আমি তোমার প্রেমে পড়েছি। জানি, আমি সস্তা, বেমানান একটা মানুষ। তোমার সাথে আমাকে যায় না। অনুভূতিতো আর সেকথা মানে না। তাই হয়তো মুখ ফুঁটে কখনো তোমায় বলা হবে না আমি তোমার প্রেমের রস পান করেছি।
কতো সুদর্শন তোমার পিছনে লাইন মারে, আর আমিতো সেখানে তারছেঁড়া এক বুদ্ধ উন্মাদ। হয়তো এতোদিনে তোমার মনের বাড়িতে কেউ নাম লিখে নিয়েছে। তাই প্রথম ধাপেই আমি তোমার প্রত্যাক্ষান পাবো বলেই নিশ্চুপ রইবো শেষদিন পর্যন্ত। ***

উল্টা-পাল্টা ভাবতে ভাবতে কানে একটি বাক্য আমাকে আনমনা থেকে জাগিয়ে তুললো।
- এই নামতে হবে উঠ।
- হুম! দাঁড়া। তুই আমার ব্যাগটা নে।
- পারবো না।
- প্লিজ দোস্ত।
- তাহলে শর্ত আছে।
- কি?
- ঐ যে মহিলাটা দেখছোস, উনার সাথে এক সাথে নামবো।
- ঠিক আছে।

★ এইদিকে আমার দুটো মোবাইলই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমনকি শিমনেরও। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমাদের দুজনের কাছে ক্যাশ ছিল ত্রিশ টাকা। রাত বাজে এগারটা। নতুন জায়গা। বুথ সাধারনত কমবেশি সবখানেই থাকে। রেল স্টেশন থেকে বের হয়ে আশেপাশে কোথাও HSBC ব্যাংকের বুথ পেলাম না। মাথা নষ্ট। কি করবো বুছতেছিনা। যে ত্রিশ টাকা ছিল তা দিয়ে এক কাপ চা আর দুইটা সিগেরেট নিয়ে দু জন ফুঁকছি আর ভাবছি। হঠাৎ মনে পড়লো আমার বিকাশ এ্যাকাউন্টে হাজার চারেক টাকা আছে। এই সেদিক চোখ ঘুরিয়ে দেখলাম চার পাঁচটা বিকাশ দোকান খোলা আছে।

- দোস্ত! আমার বিকাশে টাকা আছে। চল, তুলি।
- মোবাইল বন্ধ না তোর?
- হুঁ! তো কি হয়েছে। ওদেরকে বলবো চার্জ দিয়ে টাকা উঠাবো।
- তাইতো, চল।

ভাই ক্যাশ আউট করা যাবে?
- কত?
- চার হাজার।
- ঐ নাম্বারে দেন।
- ভাই! মোবাইল বন্ধ হয়ে আছে। আপনার দোকানে একটু চার্জে দিয়ে মোবাইল অন করে আপনাকে দিচ্ছি।
- ইতা কিতা মাতোরে বা? হবে না। অন্য জায়গায় যান।
- কেন?
- বললাম না, হবে না।

সবগুলো দোকান থেকে বললো এক মিনিটের জন্যও চার্জ দেওয়া যাবে না।
কি মুশকিলে পড়লাম। রাত বাজে সাড়ে এগারো টা।
শিমন বললো চল, খাওয়ার হোটেলে ডুকে মোবাইল চার্জে দিয়ে আমরা ডিনার করে ফেলি। পরে তুই মোবাইল খুলে টাকা উঠিয়ে এনে বিল পরিশোধ করে দিবি, আমি ততক্ষন বসবো।
একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস পেলাম।

ক্যাশ কাউন্টারে একজন বয়স্ক লোক বসে আছেন। বয়স আনুমানিক ৬৫বছর হবে।
- চাচা! একটু কথা বলতাম।
- কি বলবা?
- আমরা আপনার হোটেলে ভাত খাবো কিন্তু আমাদের কাছে নগদ টাকা নাই। আশে পাশে বুথ নাই। টাকা উত্তলন করতে পারছি না। এখন আপনার এইখানে মোবাইলে চার্জ দিবো।
- না, না, হবে না। অন্যখানে যান। ঐখানে যাও। সম্মানও দিবে, চার্জও দিতে দিবে।
- কি বলেন চাচা? এমন করলে কেমনে হবে?
- বললাম না যাইতে।
- যাচ্ছি।

হায়রে কপাল...............!

৬.
হায়রে কপাল! সিলেটের মানুষ এমন ভাব করলো মনে হয় আমরা ভিনদেশের প্রাণী। চার্জ দিলে কি সমস্যা হতো তাদের তা বললে মনে হয় রামায়ণ সৃষ্টি হয়ে যাবে। আমার চাইতে আমার বন্ধু চিন্তায় একদম শেষ। একেতো মোবাইল বন্ধ, তার উপর পকেট শূণ্য। রাত বারোটা ছুঁইছুঁই।
- ধ্রুবো! কি করবি এখন। বারোটা বেজে গেলো।
- হাঁটতে হাঁটতে বলছি।
( কার্ণিং ব্রিজের দিকে হাঁটা শুরো করলাম। মাথায় একটা বুদ্ধি এলো )
শুন! আমরা এইখান থেকে একটা রিক্সা নিয়ে একটা রেস্টহাউস অথবা হোটেলে যাবো। যাওয়ার পথে যদি বুথ পাই তাহলে টাকা তুলবো নতুবা পরেরটা পরে দেখা যাবে।
- ঠিক আছে চল। আমার কিন্তু ঢাকা ব্যাংকের ATM Card।
- সমস্যা নাই।
এই খালি! যাইবানি?
- কোথায় যাবেন স্যার?
- আশে পাশে ভাল কোনো থাকার হোটেলে নিয়ে যাও।
- আওক্কা মানে আসেন, ব্রিজের ওপার যেতে হবে।

উঠে পড়লাম। কোনো কথা নাই একদম চুপচাপ। রিক্সার পিছন থেকে কে যেন ধাক্কা দিচ্ছি। কিছুক্ষনপর রিক্সাওয়ালা বললো, মামা ওরে পাঁচ টাকা দেন। আমি জানতে চাইলাম কেন? বললো, রিক্সা ধাক্কা দিয়ে ব্রিজের উপর উঠাইছে তাই। মোর জ্বালা। পকেটে আছেই পাঁচ টাকা। দিয়ে দিলাম।
হঠাৎ শিমন বললো, এই মামা! দাঁড়ান।
- কেন?
- বুথে যাবো।
একটু খুশি হইলাম। ঢাকা ব্যাংকের বুথ পাওয়া গিয়েছে।
আমি রিক্সার উপর বসে রইলাম। শিমন মুখটা কালো করে বললো, কপালটাই খারাপ। কেন? কি হয়েছে? টাকা তুলোছ নাই?
- না। বুথ নাকি গত দুইদিন সার্ভিস দিচ্ছি না।
আমি তাকে বললাম একদম চিন্তা করবি না। প্রয়োজনে রাত রিক্সায় পার করে দিবো।
- দুর ব্যাটা! আমি খিদায় মরে যাচ্ছি। আর বসতেও পারবো না।
- আমি ট্রেনের মধ্যে নিষেধ করছিলাম টাকা খরছ না করতে। যা পাইলি, তাই কিনলি। এখন বুঝো মামু। আমার না খাওয়ার অভিজ্ঞতা গত একবছর ধরে আছে।

( দুজন কথা না বাড়িয়ে চুপ হয়ে বসে রইলাম। আমি মনে মনে ঠিক করলাম, হোটেলে গিয়ে ভাব নিতে হবে। এই ছাড়া কোনো উপায় নাই।
রিক্সা হোটেল হিল টাউন নামে একটা হোটেলের সামনে নিয়ে আসলো। সাড়ে বারোটা তখন। বাইরে থেকে বেশ ভালোই মনে হচ্ছে। রিক্সা থেকে নেমে রিক্সাওয়ালাকে বললাম, মামা রুম পাওয়া যায় কি-না দেখি।
আমি আর শিমন Reception এ গেলাম। যিনি ছিলেন, তিনি ফোনে কথা বলতেছেন। হাতের ইশারায় দাঁড়াতে বললেন। দশ মিনিট হয়ে গেল তিনি কথাই বলছেন।
আমার মেজাজ গরম হয়ে গেল। তবুও কিছু বলতে পারছি না কারন দুর্বলতা আছে।
- Excuse me!
-জ্বি ম্যাডাম।
- একটু সরে দাঁড়ান। কথা বলবো উনার সাথে।
এই যে room# 352 এর চাবি দেন।
একটু ম্যাডাম।
( চাবি নিয়ে যাওয়ার সময় আমার দিকে আঁড় চোখে তাকিয়ে মৃদু হাসি দিয়ে চলে গেল তিনটা মেয়ে। মেয়েগুলো দেখতে বাংলা সিনেমার নায়িকাদের মত। কথা বলার সময় মুখ দিয়ে বিয়ারের গন্ধ বের হচ্ছে। স্থির করে দাঁড়াতেও পারছেনা। দু মিনিটের মধ্যে দুইবার ধাক্কা খেল আমার সাথে। পোশাকেই বলে দিচ্ছি হাই সোসাইটির দুলালী। ত্রি-কোয়ার্টার জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট, হাতে এবং গলায় হরেক রকমের লোহা লংকার। সভ্য মা-বাবার আধুনিক মেয়ে।)

- এই যে বলুন স্যার।
- আমাদের রুম লাগবে। খালি আছে?
- জ্বি। দুই সিটের রুম খালি আছে। ২২০০ টাকা পড়বে। সমস্যা নাই। বুকিং দেন।
- আপনারা কোথায় থেকে আসছেন, কেন আসছেন, কি করেন সব বলেন।
- আমি এ্যাডভোকেট আর ও ডাক্তার। চট্টগ্রাম এবং ফেনী থেকে আসছি।
শিমন বললো- মেডিকেলে মিটিং আছে।

আপনাদের রুম নাম্বার হচ্ছে ৩৫৩। এই কথা শুনার পর শিমন আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো। এই হাসির মর্মার্থ তখন বুঝিনি।
আমাদের নামে রুম বুকিং দিয়ে পেমেন্ট করতে বললো।
আমি পার্টস্ থেকে ATM Card বের করে দিলাম।

**** ( দন্ত চিকিৎসার আড়ালে মেয়েদের সাথে যৌন সম্পর্ক গড়তে তরুন ডাক্তার দিনের পর দিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলছে। তাদের মধ্যে এমনিই একজনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যে দাঁত তোলার চেম্বার দিয়ে সেখানে মেয়েদের সাথে শারিরীক সম্পর্কের সুপরিকল্পিত স্থান বানিয়েছে। আর বোকা মেয়েগুলো তার ছলনায় অন্ধ হয়ে নিজের অস্তিত্ব ভুলে যায়। ডাক্তার জামাই হবে আমার!! কিন্তু আমি কি ডাক্তারের যোগ্য???
হায়রে বোকার দল! যারা তার ফন্দি বুঝে যায় তারা তার চোখে খারাপ। তার মতে সেক্স করতে ধর্মে ভুয়া ভুয়া নিষেধ করেছে। তার আরো মন্তব্য হচ্ছে প্রেম করে শারিরীক চাহিদা মেটানো কোনো ব্যাপার না। বিয়েটা ভাগ্যের ব্যাপার। বিয়ে হলে হবে না হলে কিছু করার নাই। এমন প্রমান তার বিরুদ্ধে দিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যাংকে কর্মরত মেয়ে এবং একজন অনার্সের ছাত্রী। তার কাছে যে মেয়েই দাঁতের চিকিৎসার জন্য যায় সে তাকে প্রথমে বন্ধুত্বের প্রস্তাব তারপর বিয়ের প্রস্তাব দেয়, আর যে মেয়েগুলো বোকা তারা তার মিষ্টি এবং মায়া কান্নার অভিনয়ের জালে ফেঁসে যায় এবং নিজেকেই ভুলে যায় সে কে, এবং কি ছিল। তার ক্ষপ্পরে আমারই খুব কাছের একজন পড়ে আজ সে ভুলে গিয়েছে তার পরিবার, তার অতীত এবং নিজেকে। দিনের পর দিন ঐ ডাক্তার তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সবার অগোচরে শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে রেখেছে। যা হয়তো তাদের কাছে কিছুই মনে হয়নি না কিন্তু ধর্ম, সমাজ এবং বিবেকের কাছে বড় অপরাধী, এখন মেয়েটির আত্বচিৎকার শুনার কেউ নেই। হয়তো আত্বহত্যাই তার একমাত্র পথ। কথায় আছে- লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।
এইসব ডাক্তার, চিকিৎসার নামে সেবা দিচ্ছি আর নষ্ট করছে বহু নারীর বিবেকবোধ। )

৭.
বিশ্বাস করা পাপ নয় কিন্তু কারো বিশ্বাস ভঙ্গ করা মহাপাপ। বিশ্বাস আছে বলে এই অবধি আমাদের ভাঙাভাঙির খেলা। আমাদের তাকেই বিশ্বাস করা উচিত যে কিনা ধীরেধীরে বটবৃক্ষের ন্যায় বড় হয়.....! তাই তোমাকে দিতে চাই কষ্ট ব্যঞ্জন বিলীন সুভাসিত হাস্নাহেনার কঠিন বিশ্বাস। নিবে তুমি? কাকে দিতে চাই সেই বিশ্বাস? কে নিবে এই বাউন্ডুলে মানুষটিকে? কি আবোল-তাবোল ভাবছি!

স্যার এইটা আপনাদের রুম। এই নেন চাবি। কিছু লাগলে আমাকে বলবেন। আমি আছি সারারাত। রুমবয় এইসব বলতেছে।
- শুনো! খাওয়ার ব্যবস্থা করো। তোমার নাম্বার বিকাশ করা?
- জ্বি না স্যার। তবে আপনাদের কি লাগবে আমাকে বলেন, আমি ব্যবস্থা করে দিবো।
- নিচে রিক্সা দাঁড়ানো আছে। তুমি তাকে পঞ্চাশ টাকা দিবা আর পাঁচটা B&H Light নিয়া আসবা।
আশে পাশে কোথাও কি HSBC বা Dhaka ব্যাংকের বুথ আছে কি-না দেখে আসবা।
- ঠিক আছে স্যার।
( মনে হচ্ছে এইমাত্র একজন পেলাম সিলেটের অতিথীয়পরায়ণ মানুষ।
এইদিকে শিমন খাটে গা এলিয়ে দিল। খিদায় ছটপট করছে মনে হচ্ছে। আমি বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে শিমনের উদ্দেশ্যে-
- ফ্রেশ হয়ে নে। বের হবো।
- মানে কি? কই বের হবো? টাকা আছে?
- আরে বেকুবের বেকুব! তুই কেমনে ডাক্তার হইলি। যা ফ্রেশ হয়ে আয়।

আমি আমার ব্যাগের ভিতরে ছোট্ট একটা পকেট রেখেছি। যেইটা কেউ সহজে খুঁজে পাবে না। এইটা হচ্ছে আমার রিজার্ভ ফান্ড। সেখানে always একটা একহাজার টাকার নোট থাকে। সহজে বের করি না।
আমি না খেলেও কোনো সমস্যা হবে না। দিনের পর দিন আমার না খেয়ে থাকার অভ্যাস আছে। কিন্তু বন্ধুকে তো আর না খাওয়াই রাখতে পারি না। বেচারা ছোট বেলা থেকেই খাদক। তার বৌ পর্যন্ত আমার কাছে বিচার দিল।
শিমন নাকি খাওয়ার বেলায় শুশর-শাশুড়ী কাউকে লজ্বা করে না। আর আমি কি করে তাকে না খাইয়ে রাখি!

★★★ সব অপবাদের গ্লানি নিয়ে এখন আমাকে চলতে হচ্ছে, ঘর থেকে শুরু করে পথে ঘাটে আমাকে তিরিস্কার করে। আমি তো কখনো কাউকে ছোট করিনি!!! তবে কেন এত বড় শাস্তি বইতে হচ্ছে??

আমি না হয় বিশ্বাসের অন্ধ ছিলাম তাই বলে সব দিক থেকে আমার এতো বড় ক্ষতি!!!
কেন!! আমি চাইলে এখনো তো অনেক কিছু করতে পারি কিন্তু কেন করবো?? আমি খারাপ হতে পারি তবে বিবেকের আদালতে আমি বন্দি। ★★★

৮.
আচ্ছা ধ্রুবনলী, তুই বল এতো রাতে বের হয়ে এখন কি করবো??
- বের হয়ে রাস্তায় নাচবো, আর গাইবো।
- বাঁকা কথা না বলে সোজা উত্তর দে।
- তোর ক্ষিধায় মাথা নষ্ট, নাকি ঘুমে?
- দুইটাই। এখন বল বের হয়ে কি করবো।
- ঐ যে বললাম নাচবো।
- যা আমি বের হবো না।

স্যার! এই নেন সিগেরেট। রিক্সাওয়ালাকে ৬০টাকা দিয়েছি। আর আপনারা যদি এখন উপশহরের দিকে যান তাহলে বুথ পাবেন।
- হুম! ধন্যবাদ। তোমাদের গেইট কয়টা পর্যন্ত খোলা থাকবে?
- স্যার, গেইট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে আপনারা একটু আগে আসছেন তাই আপনারা বের হতে পারবেন। আর আমি আছি-না, কোনো সমস্যা নাই স্যার।
- ঠিক আছে। আর হ্যাঁ, নাম্বার দিয়ে যাও। আমরা বের হবো এখন।

রেল স্টেশন এলাকার আশেপাশের দোকানগুলো আমাদেরকে চার্জ দিতে দেয় নাই কেন তুমি জানো?
- জ্বি স্যার! ঐখানে মোবাইল চার্জ দেওয়ার দোকান আছে। মিনিট পাঁচ টাকা করে।
- কেউ তো আমাদের কিছু বলে নাই।
- ঐখানের ওরা এই রকমই।
- ঠিক আছে যাও।

তামাশা এক ধরনের বাত রোগ। ইহা দ্বারা সাময়িক বিচ্যুত হয় সাম্প্রদায়িক মনোভাব। যদিও ক্ষেপনের অকারন কিন্তু নিতান্তই অশালীন। বাজপাখির মত ছোবল মারাই ললনার কারচুপি তবুও তার পিছনে ছুটে চলে পুরুষ জাত।
চলতে গিয়ে হোচট খেলাম বারংবার, লালসার স্বীকার হইলাম, সম্পর্ক নষ্ট হইল, কেন এমন হয় নির্জনে বসে ভাবলাম কিন্তু উত্তর মিললো স্বার্থপরতা।
স্বার্থের কারনে কে কি হইতেছে তাহার দিকে বিন্দু পরিমানের ভ্রুক্ষেপ করার সময় নেই কারো।

থাক সেই সব, এক নিদারুন যন্ত্রনার মধ্যে সময় চলছে, তাই সিলেটে ঘুরতে আসা। আসা মাত্রই কিছু অদ্ভুত ব্যাপার আর কলি থেকে বের হওয়া সদ্য অচেনা পাহাড়ী ফুল সেই কিশোরী, যাকে দেখার পর শুধু তার চেহারাটায় ভেসে আসছে, আর আপসোস করতে করতে আনমনায় ভিড়ভিড় করি, কেন যে নাম্বার দিলাম না। তারাতো তাদের হাত উঁচু করে কয়েকবার মোবাইল দেখিয়েছিল।
আমি না হয় অপরিচিত জায়গায় ভয় পাচ্ছিলাম কিন্তু সেতো দিতে পারতো।

শিমনকে এক প্রকার জোর করে বের করলাম। রিসিপশনে গিয়ে অনুমতি নিয়ে বাহিরে বের হলাম। শিমনকে সিগেরেট দিয়ে বললাম -
এই নে, সিগেরেট খেয়ে ক্ষুধা মেটা।
- ফাইজলামি করো আমার সাথে? কয়টা বাজে ঘড়ি দেখছো? দেড়টা বাজে তুই কই যাবি?
- চুপ থাক।
এই খালি যাইবা?
- কই মামা?
- ঘুরবো? ঘন্টা কত?
- চলেন।

দুইজন রিক্সায় উঠে পড়লাম। শিমন ভ্যানভ্যান করতেছিল।
মামা ভালো খাওয়ার হোটেল খোলা আছে?
- জ্বি মামা।
- নিয়া চল।

মানে কি? এখন তো টাকা নাই হোটেলে গিয়ে কি করবি?
- আগে খাব, তারপর মোবাইল দিয়ে দিব।
- দেখ ধ্রুব, সবসময় ইয়ার্কি ভাল লাগে না।

ভর্তা রেস্টুরেন্টে নয় রকম ভর্তা দিয়ে ভাত খেলাম। শিমন ভয় পাইতেছে। কিন্তু সে অনুমান করেছে যে আমার এই অভ্যাসটা স্কুল জীবন থেকে ছিল।
হোটেলে আসতে আসতে আড়াইটা। শিমন এসেই নাক ডাকা শুরু করেছে। আমি নিশাচর। তাই মিস নিদ্রা আমার কাছে আসতে একটু দেরী করে।
কি আর করি! ভুতের মুভি দেখতে দেখতে ঘুম।

সকাল সাড়ে ছয়টা। শিমন স্নান সেরে ফেলেছে।

৯.
পিছু টান নেই আমার, তাই মরিবার ভয় হারিয়ে গিয়েছে, বিচ্যুত সমাজে নোংরামী খেলায় পরাজিত
আমি, একদিন আত্বঘাতক হবো।

পৃথিবীর মানুষদের প্রতি আমার অজস্র রকমের অভিযোগ।
উত্তর হয়তো খসে পড়ে; পাতালে বিলীন হয়, ক্ষত হৃদয়ে বেদনা সহ্য করিবার ক্ষমতা দিনদিন ক্রমশও হ্রাস হইতেছে।

সুখের রঙ আর কষ্টের রঙে জীবন প্রায় তিতে হয়ে গিয়েছে, চক্ষুর জল প্রায় শুকিয়ে, অন্তর পাথরে পরিনত হইয়াছে। যেমনটা হওয়ার নয় তেমনটাই ঘূর্ণায়মান আমার চারপাশ। তাই পৃথিবীর অভিনয় দেখার ইচ্ছে এখন আর তেমন নেই। আছি শুধু অপেক্ষায়; আসবে কখন মৃত্যুর ডাক!

গানের মাঝে বিচরণ করিয়া সময় পার, আর অতিথি পাখীর আগমন হইবার আশাংকায় আমি শংকিত, তবুও ফুল তুলিবার প্রয়াস অন্তর মধ্যখানে টান টান অনুভূতি আমাকে ক্ষনিক বাঁচিবার আশা দিয়া যায়।

না! আমি সুন্দর ভবনে নষ্ট কীটের দংশন আর সইতে পারিতেছিনা, তাই মরিবার ইচ্ছেশক্তি উর্ধ্বগতিতে বেগবান।

ঘুমের স্বপ্নেও এক ধরনের হতাশা আঁকড়ে ধরে। বুঝেন এইবার, আমি সত্যিই একজন সাইকো।
কাক ঘুমে হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠিলাম। কারণ শিমন আমার মুখের উপর জল ছিটিয়ে দিয়েছিল।
- ধ্রুবনীল! উঠ দশটা বাজে।
- কি বলিস! তোর না দশটায় মিটিং?
- হ! তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে।

আমি সাত-পাঁচ না ভেবে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসলাম। তারপর গোলাপী রঙের পাঞ্জাবী পরিধান করে ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখি সাতটা পাঁচ বাজে।
তখন আমার মেজাজ দাউ দাউ করে উঠলো।
- ঐ ব্যাটা শিমনের বাচ্চা! দশটা বাজে এখন?
- আমি কি করবো? আমার খুব ক্ষিধা পেয়েছে তাই।
- তুই না ডাক্তার! এতো খাই খাই কেন?
- ক্ষিধা লাগলে আমি কি করবো! ভাই মাফ কইরা দে, এইবার চল। কিছু খেয়ে মাজারে যাবো।
- মাজারে কি? তুই না হিন্দু?
- হিন্দুদের মাজারে যাওয়া নিষেধ না-কি?
- নিষেধ হতে যাবে কেন?
- তাহলে বের হও।

রাতে যে রেস্তোরাঁয় খেয়েছিলাম সেটাতে আবার গেলাম। কারন তাদের আতিথীয়তা মুগ্ধ করেছিল। নাস্তা করে শাহ-জালাল (রঃ) এর মাজারের উদ্দেশে রিক্সা নিলাম। আমরা কেউ কারো সাথে কথা বলছি না। কারন শিমন জানে আমি রেগে আছি খুব।
তবে একটু হিংসে হচ্ছিল তখন। যখন থেকেই তার সাথে দেখা হইল তখন থেকে দেখতে পাচ্ছিলাম যে কিছুক্ষন পরপর তার বৌ ফোন করে খবর নিচ্ছে। কই আছে, কি করে, ঠিক মত খাচ্ছে কি-না। রাতের বেলায় তো তার বৌ আমার সাথে কথা বলে গরম হয়ে গিয়েছিল, তার জামাই কে নাকি খাওয়াচ্ছি না।
তার বৌয়ের এতো কেয়ারিং দেখে বিয়ে করার ইচ্ছেটা বেড়ে গেল। আবার ভাবছি যাকে বিয়ে করবো সে যদি ভালো না হয়।
বর্তমানে মানুষ চেনা বড় দায়। তাদের ভিতরে একরুপ আর বাহিরে আরেক রুপ। ঠিক যেন রঙ করা পুতুল। তাই ভয় হয় পাছে যদি বাকী জীবনটা নষ্ট হয়।
তাই মনের ক্যানভাসে অনুভূতির তুলি দিয়ে যে মানুষটার ছবি এঁকেছিলাম তার অপেক্ষায় থাকলাম। মনে মনে যাকে চাই; সে হবে খুব চঞ্চল, রাগী এবং আমার চাইতে বেশি পাগলামীতে ভরপুর। কারণ এই ধরনের মানুষদের মনটা খুব নরম হয়। তারা ভিতরে ভিতরে ভালবাসতে জানে খুব।

- ধ্রুবো! এসে গিয়েছে। সারাদিন আনমনা থাকিস কেন।
- তোরে কইতে হইবো?
- যা বাবা! এখনো দেখছি, ফোঁসফোঁস করছে। আচ্ছা আর ফাইজলামী করবো না।
- ঠিক আছে, যা বিড়ি নে।

শিমন গেল বিড়ি কিনতে। আমি মাজার গেইটে দাঁড়িয়ে ফেইসবুকিং করছি। হঠাৎ শুনতে পেলাম।
- আরে! আপনি?
- ( ঠিক বুঝতে পারলাম না ) আমি আপনাকে চিনেও চিনতে পারছিনা। কে আপনি?
- কি বলেন? এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন।

( চেনা চেনা লাগছিল, কিন্তু আঁচ করতে পারছিলাম না। বেশ সুন্দর তিনজন আধুনিক মেয়ে। পোশাকে মনে হচ্ছে হাই সোসাইটির দুলালী। তবে আমি মনে করতে পারছি না কোথায় দেখেছি। )

- গতকাল রাতে হোটেলের রিসেপশনে দেখা হয়েছিল। মনে পড়ছে?
- হ্যাঁ! কথা বলার সময় আপনাদের মুখ দিয়ে কেমন একধরনের গন্ধ বের হচ্ছিল, তারাই আপনারা? গতকাল রাতে তাদের চাইতে আজকে আপনাদের দেখতে অনেক ভালো লাগছে।
- ধন্যবাদ! আমি কুহিলিকা, আর ওরা হচ্ছে নিঝুম এবং জেনী। ঢাকা থেকে এসেছি। আপনারা?
- আমি ধ্রুবনীল। চট্টগ্রাম থেকে এসেছি।
- ভালোই হলো দেখা হয়ে। একসাথে ঘুরতে পারবো।

শিমন এসে বললো তোর সিগেরেট পাই নাই। ধর, রেগুলার খা এখন।
এই বলে সে আমার সাথে মেয়েগুলো দেখে একটু হকচকিয়ে গেল। আপনারা??
- হ্যাঁ আমরা। চলেন ভিতরে গিয়ে কথা হবে।
তারপর ধ্রুবনীল! আপনি কি করেন??
- তেমন কিছুই না। বেকারই ধরতে পারেন। মাঝে মাঝে আদলত ভবনে যাই। আর মন খারাপ থাকলে ঘুরতে বের হয়ে যাই। এই যেমন ধরেন এখানে চলে আসলাম।
আপনারা কি করেন?
- আমরা নর্থ সাউথে বিবিএ 7th সেমিস্টারে আছি।
- দ্যাট'স গুড।

তারপর আমরা মাজারে ভিতরে গেলাম। জালালী কবুতর আর গজার মাছের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে সালমান শাহ এর কবর জিয়ারত করতে গেলাম।

৯৬ সালের কথা। তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি। সাদাকালোর যুগ ছিল। দিনটা ছিল শুক্রবার। বিটিভিতে বাংলা সিনেমা হচ্ছিল।
সে সময়ে আমি বাংলা সিনেমার পোক ছিলাম। এর জন্য কত মাইর খাইলাম আমার মায়ের।
হঠাৎ সিনেমা বন্ধ হয়ে গেল। এক উপস্থাপিকা এসে বললো আমাদের মাঝে আর সালমান শাহ্ নেই।
এই কথা শুনার পর বুকের ভিতর কেমন যেন হাহাকার করে উঠলো। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। সে আমার খুব প্রিয় একজন নায়ক ছিল।
পরের দিন সকালে পত্রিকায় দেখলাম অনেক মেয়ে তার জন্য আত্বহত্যা করেছে। কেমন পাগল ছিল তারা!

- কুহেলিকা! আমরা এখন হোটেলে যাবো। তারপর ওসমানী মেডিকেল কলেজে যাবো। সেখানে শিমনের একটা মিটিং আছে। আপনারা কোথায় যাবেন?
- আমরাও আপাতত হোটেলে যাবো। তারপর দেখি কি করা যায়।
আচ্ছা! এমন হয় না যে আপনারা মিটিং শেষ করে আসুন তারপর একসাথে চা বাগানে যাবো।
- হ্যাঁ, হয়। তাহলো চলুন।

একটা ব্যাপারে খুব আশ্চার্য হলাম। সিলেটে যতদুর মেয়ে দেখেছি, তার আশি শতাংশ মেয়েরা হিজাব পরা। খুব পর্দাশীল নাকি সৌখিনতা তা অবশ্য বুঝতে পারিনি।

হঠাৎ মনে পড়ে গেল সেই কিশোরীর মিষ্টি সুরে বলা " আবার আইসো" বাক্যটি।
এতো সুন্দর রুপ দিয়ে সৃষ্টিকর্তা মনে হয় নিজ হাতে মনের মাধুরী মিশিয়ে মেয়েটিকে সৃৃষ্টি করেছে। স্টেশনের পাশে ছোট্টকুঁড়ে ঘরে অপরুপ কিশোরী, যেন গোবরে পদ্মফুল।

আমি ইদানীং খুব হীনমনতায় ভুগি। তার কারণ হচ্ছে দিন দিন আমি শুকিয়ে কাঠে হয়ে যাচ্ছি। প্রথম দর্শনে হয়তো কেউ মুখ ফিরিয়ে নিবে। তাই আর কাউকে ভালো লাগলেও সাহস হয় না বলার।

- ধ্রুবো তুই গোসল করবি?
-না। তুই?
- হ্যাঁ। তাহলে তুই তাহলে রেডি হও। আমি গোসল করে আসি।

আমরা যখন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে পৌঁছলাম তখন একটা জিনিস লক্ষ করলাম যে রোগীদের মোটামুটি অবস্থা।
...................................চলবে।

ইকরামুল শামীম

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইকরামুল শামীম
ইকরামুল শামীম এর ছবি
Offline
Last seen: 18 ঘন্টা 30 min ago
Joined: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 7, 2017 - 7:42অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর