নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়
  • শাহনেওয়াজ রহমানী
  • জিহাতুল
  • আজহারুল ইসলাম
  • মোস্তাফিজুর রহম...
  • রিশাদ হাসান

আপনি এখানে

রোহিঙ্গাপ্রেমিক পাকিস্তানপন্থী মসজিদের ইমামদের অশ্লীল বয়ান


রোহিঙ্গাপ্রেমিক পাকিস্তানপন্থী মসজিদের ইমামদের অশ্লীল বয়ান
সাইয়িদ রফিকুল হক

জুম্মার নামাজের জন্য মুসলমান ছুটছে। এমন সময় মসজিদ থেকে ভেসে এলো (মসজিদের ইমাম মাইকে সদম্ভে বলছে): “আমাদের দেশে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগস্বীকার করতে হবে। তারা আমাদের ভাই। তাদের জন্য আমাদের সবাইকে মুক্তহস্তে দান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের দানের ইতিহাসসৃষ্টি করতে হবে। রসুলের যুগের মুসলমানরা—এক মুসলমান ভাইয়ের জন্য আরেক মুসলমান ভাই তার নিজের স্ত্রীকে পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছেন! তবে আপনাদের আমি এতোটুকু করতে বলছি না। কিন্তু তাদের জন্য এখনই মুক্তহস্তে দান করতে হবে।

মসজিদের আরেক ইমাম সেদিন শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে (আমার নিজের কানে শোনা এবং চোখেও দেখা) মসজিদের মাইকে গলাফাটিয়ে চিৎকার করে তারস্বরে বলছিলো: “রোহিঙ্গারা আমাদের ভাই! তারা আমাদেরই মতন মুসলমান ভাই! রোহিঙ্গারা আমাদের দেশের মেহমান! তাদের সঙ্গে আমাদের সবসময় অতিউত্তম ব্যবহার করতে হবে। এই প্রসঙ্গে আমি আমাদের রাসুলের যুগের একটি সত্য ঘটনা বলতেছি—মক্কায় যখন মুসলমানরা কাফেরদের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে আর টিকতে পারলো না—তখন তারা মদীনায় হিজরত করলো। আর যখন তারা মদীনায় হিজরত করলো তখন মদীনার সাহাবীরা-মুসলমানরা তাদের দেখে খুশিতে হাসিমুখে স্বাগতম জানালো। এইসময় মদীনার আনসার-সাহাবীরা মক্কার হিজরতকারী-মুহাজির-সাহাবীদের থাকা-খাওয়ার সুন্দর ব্যবস্থা করলো। এমনকি মদীনার আনসার-সাহাবীরা নিজেদের—যাদের একের অধিক স্ত্রী ছিল তারা সেখান থেকে একটি বা দুটি করে তালাক দিয়ে মক্কার হিজরতকারী-মুহাজির-সাহাবীদের জন্য একটি করে বউও উপহার দিয়ে দিলো! এই হলো মুসলমান। আর এই হলো ইসলাম। আর মুসলমান হলে অবশ্যই আমাদের আরেক মুসলমান ভাইয়ের কথা ভাবতে হবে।”—এই কথাগুলো সে গুরুত্ব দিয়ে কয়েকবার বললো। এই হলো ইমাম-নামধারী একটা জানোয়ারের আসল চেহারা। আর স্বাধীনবাংলাদেশের একটি মসজিদের মুসলমান তথা ইমাম-নামধারী আস্ত একটা শূয়রের বাচ্চার লাগামহীন বক্তব্য। তার মানে, সে বুঝাতে চাইছে—বাঙালি-মুসলমানকে এখন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তাদের বউও শেয়ার করতে হবে! প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের জন্য নিজের বউও দিয়ে দিতে হবে! কোনো মানুষ কখনও এসব বলতে পারে? একবার ভেবেচিন্তে বলুন তো। জানি, আপনারা একবাক্যে বলবেন: না-না, কক্ষনো না। কোনো মানুষ এসব বলতে কিংবা ভাবতেও পারে না। কিন্তু আমাদের দেশের স্বাধীনতাবিরোধী একশ্রেণীর ইমাম-নামধারী শূয়রের বাচ্চা নির্দ্বিধায় এসব মনগড়া কথা বলে এদেশের সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। এরা তো মানুষই না! এরা মুসলমানের ইমাম হয় কীভাবে?

নিজের বউকে তালাক দিয়ে আরেকজনকে দিতে হবে! আরেকজনের সঙ্গে তাকে বিয়ে দিতে হবে! এটা কোনো মানুষের কথা? এটা কোনো আইনকানুন? আর এটা মানবতা না শয়তানী? নিশ্চয়ই শয়তানী। কোনো মানুষ এসব ভাবতে পারে না। কিন্তু আজকাল বাংলাদেশের ইমাম-নামধারী একশ্রেণীর রোহিঙ্গাপ্রেমিক শূয়রের বাচ্চা এখন মসজিদের ভিতরে বসে-বসে এসবই বলছে। রোহিঙ্গারা যেন ওদের বাপ হয়—তাই, ওরা ওদের মা-বোনকে আজ রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো অশ্লীল, অশালীন, জঘন্য, বীভৎস আর কুৎসিত কথা বলতে পারছে। তাহলে, পাঠক—একটু মনে করে দেখুন, এই শূয়রের বাচ্চারা ১৯৭১ সালে—ওদের চিরকালীন ‘বাপ’ পাকিস্তানের পক্ষে কী-না বলেছিলো! তা আর বলতে চাই না—ইতিহাসের পাতায় সেসব আজও লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর ওদের ধর্মব্যবসার শয়তানীমুখোশ এখন চিনতে পারছেন তো?

সৌদিআরবের ব্যভিচারী-জারজ-কামজ-ক্ষেত্রজ বাদশাহরা এখনও অবাধে নারীসম্ভোগে ব্যস্ত। আর এরা সারাবিশ্বের মুসলমানদের কষ্টের হজ্জের টাকায় নারীসম্ভোগে, আর সর্বপ্রকার সীমাহীন ভোগবিলাসিতায় ব্যস্ত। বাংলাদেশের একশ্রেণীর ইমাম-নামধারী সাধারণ মোল্লাগুলো আসলেই শূয়রের বাচ্চা। তাই, এরা সৌদিআরবের মতো ইসলামধর্মের নামে অবাধে নারীসম্ভোগের অপকর্মে লিপ্ত। আর সবসময় মানবতাবিরোধী সৌদিরাজের ঘোরতর সমর্থক। এদের কাছে আজও বাংলাদেশটা আপন মনে হয় না। এরা খায়-দায়-শোয়-ঘুমায় বাংলাদেশে কিন্তু গুণগান গায় পাকিস্তানের! বাংলাদেশের এই শ্রেণীর মুসলমানদের মতো এতো নিমকহারাম পৃথিবীর আর-কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এদেরকে ‘শূয়রের বাচ্চা’ বলে গালি দিলে শূয়রেরও অপমান হয়।
এরা এখন ছোট্ট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আর তার স্বার্থের কথা চিন্তা না করে রোহিঙ্গাদের জন্য মায়াকান্নাপ্রদর্শন করে চলেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে: মানবতা ভালো কিন্তু মায়াকান্না ভালো নয়। আর নিজের অস্তিত্ব বিলোপ করে মানবতা দেখানোটা দেশদ্রোহিতারই শামিল।

সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
০৬/১০/২০১৭

Comments

সোহেল ইমাম এর ছবি
 

আমাদের মনে রাখতে হবে: মানবতা ভালো কিন্তু মায়াকান্না ভালো নয়। আর নিজের অস্তিত্ব বিলোপ করে মানবতা দেখানোটা দেশদ্রোহিতারই শামিল।

ভালো বলেছেন।

----------------------------------------------------
কে লেখে, কারা লেখে দেয়ালের আঁকিবুকি দাগ
সময়ের স্মৃতি রেখে বাকী অর্থ খ’সে পড়ে যাক

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

ভাই আপনি জামাত শিবির বা ইসলাম পন্থিদেরকে গালি দিলেন , নাকি মুহাম্মদ ও তার সাহাবিদেরকে গালি দিলেন ? হুজুর তো ঠিকই বলেছে। মুহাম্মদ যখন মদিনায় তার সাগরেদদের নিয়ে হাজির হয় , তখন মুহাম্মদের নির্দেশে অনেকেই তাদের স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দেয় , যাতে মুহাম্মদের সাগরেদরা তাদেরকে বিয়ে করতে পারে। এটা তো মুহাম্মদ তথা ইসলামের নির্দেশ বা বিধান। আপনি যদি এখন এই হুজুরদেরকে গালি মারেন , তাহলে তো আপনি আসলে আপনার নবী মুহাম্মদকেই গালি মারলেন। সেটা কি আপনার মাথায় ঢুকেছে ? যদি না ঢোকে তাহলে এখন ভাল করে ঢুকিয়ে নিন।

 
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
 

ভাই, আরবের জন্য ১৪০০ বছর আগের একটা সাধারণ নিয়ম কখনও এই আধুনিকযুগে প্রযোজ্য হতে পারে না। সেই সময় এটা করা হয়েছিলো। ব্যস, এটি সেই সময়ের জন্য, আর তা শুধু সেই হিজরতের ঘটনাক্রমে। এটি বর্তমান সময়ে চালু রাখতে হবে এবং এইব্যাপারে কুরআনের নির্দেশ আছে এমনটি নয়। আর এখনও এসব করতে হবে তাও নয়। যেমন, ধরুন আমাদের নবীজী সা. তো কমপক্ষে ১৩-১৪টি বিবাহ করেছেন, এখন মুসলমান হলেই তাকে ১৩-১৪টি বিবাহ করতে হবে এমনটি নয়। আর এটি সাধারণ মুসলমানদের পক্ষে করাও সম্ভব নয়।
তাই, আমি শুধু আমাদের দেশের মোল্লাদের গালি দিয়েছি। যারা একটা সময়ের বা ঘটনাক্রমের নিয়মকে মুসলমানদের জন্য আইন বানাতে চায় তারা নরপশু।
ভাই, আপনি তো জানেন, বর্তমানে কুরআনের সব আয়াতও মানা যাবে না। মানতে গেলে মুসলমানিত্ব থাকবে না। তার কারণ, এগুলোর কিছু-কিছু ‘নসখ’ আর ‘মানসুখে’র দ্বারা রহিত করা হয়েছে। ‍কিন্তু আমাদের দেশের মাদ্রাসাপাস মোল্লারা এসব না বুঝেই সব ব্যাপারে ১৪০০ বছর আগেকার বিধান হাজির করে। আমি এই নরপশুদের গালি দিয়েছি। আমি রাসুল সা.-কে গালি দেইনি।

আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আর সঙ্গে রইলো শুভেচ্ছা।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...
সাইয়িদ রফিকুল হক

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

ভাই , নিজে নিজে যা বুঝবেন , সেটা তো ইসলাম না। ইসলাম হলো - কোরান যা বলেছে , মুহাম্মদ যা বলেছে ও নিজে করেছে , সেটাই। আপনার যুক্তি মতে , মুহাম্মদের সময় বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছিল , তাই তার নির্দেশে মদিনার লোকরা তাদের স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়েছিল যাতে করে মুহাজিররা বিয়ে করতে পারে। তাই না ? সেই একই যুক্তিতে কি এটা বলা যাবে না যে - আরবে সেই সময়ে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল , আর তাই মুহাম্মদ ইসলাম চালু করেছিলেন আর সেটা আরবের সেই সময়ের লোকদের জন্যে প্রযোজ্য ছিল , বর্তমানে প্রযোজ্য হবে না ? বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্যে তো একেবারেই প্রযোজ্য হবে না ?

তারপরও ধরে নিলাম আপনার যুক্তি সঠিক। তাহলেও , বর্তমানে কি রোহিঙ্গাদের জন্যে সেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে না ? রোহিঙ্গা মুসলমান পুরুষরা অনেকেই একা একা বাংলাদেশে আসছে , যাদের কোন স্ত্রী নেই। তো এই সময়ে কি বাংলাদেশের মুসলমানদের উচিত না মুহাম্মদের দেখান পথে , তাদের অতিরিক্ত স্ত্রী থাকলে তাকে তালাক দিয়ে রোহিঙ্গা পুরুষের সাথে বিয়ে দেয়া ?

আপনি নাসক ও মানসুকের কথা বললেন। কিন্তু কোন আয়াত দ্বারা কোন আয়াত মানসুক হয়েছে , সেটা কে নির্ধারন করবে ? নির্ধারন করার নীতিমালাই বা কি হবে ? এ ব্যাপারে কোরানে কি কোন নির্দেশনা আছে ? আপনার কাছে একটা মানসুক বলে মনে হলে , অন্য আলেমের কাছে সেটা হবে না। তখন কি করবেন ?

ধরে নিলাম একই বিষয়ে যদি মুহাম্মদ দুই সময়ে দুই ধরনের আয়াত নাজিল করে থাকেন , তাহলে শেষ আয়াতটা পুর্ববর্তী আয়াতের বিধানকে রদ করে দেয়। বিষয়টা এরকম হবে না ? তাহলে ইসলামের অবস্থাটা কি দাড়ায় ? মুহাম্মদ যখন মক্কায় দুর্বল ছিলেন , অথবা মদিনায় যাওয়ার ঠিক পরেই যখন তিনি তখনও মদিনার শাসক হন নাই , তখন তিনি কিছু শান্তির আয়াত নাজিল করেন। যেমন - সুরা কাফিরুন - ১০৯:৬ বা বাকারা -২: ২৫৬। কিন্তু তার পর মুহাম্মদ যখন মক্কা দখল করেন , তারপর জীবনের সর্বশেষ সুরা তাওবা নাজিল করেন। আর তাতে জিহাদ ছাড়া কোন কথা নেই। যেমন তাওবা-৯:৫ ,৯: ২৯ ইত্যাদি। এমতাবস্থায় উক্ত জিহাদের আয়াত ৯:৫ ও ৯:২৯ দ্বারা কি পুর্বের শান্তির বিধান বাতিল হয়ে যাবে না ? এটা যখন আপনার কাছে বলা হবে , তখন কিন্তু আপনি শুরু করবেন নানান ধানাই পানাই। আর সেটাই দেখা যায় আপনাদের মত কথিত মডারেট মুসলমানদের মধ্যে। কিন্তু যারা প্রকৃত ইসলাম জানা আলেম , তারা কিন্তু পরিস্কার ভাবেই বলে - হ্যা জিহাদের আয়াত দ্বারা শান্তির আয়াত বাতিল। আর সেই কারনেই তাদের মধ্যে যাদের সাহস আছে , তারা জঙ্গি জিহাদি দল গঠন করে ইসলামী শাসন কায়েমের জন্যে জীবনবাজী রেখে লড়াই করে , বোমাবাজি করে , আত্মঘাতী হামলা চালায়। তার মানে তারাই প্রকৃত ইসলামের বিধান মেনে চলে , আর তখন আপনারা তাদেরকে কি আখ্যায়িত করেন ? তাদেরকে বলেন জঙ্গি , আরও বলেন , জঙ্গিদের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। কি মজা তাই না ?

তাহলে বিষয়টা আসলে কি দাড়াল ? বিষয়টা কি এটাই দাড়াল না যে যখন যেটা আপনাদের পছন্দ সেটাকেই ইসলাম বলে আপনারা চালিয়ে দেন ? আর যার সাথে আসলে কোরান হাদিসের কোনই সম্পর্ক নেই ? অথচ কি আজব বিষয় , কোরান হাদিস বহির্ভুত মনগড়া কথাবার্তাকে ইসলাম বলে চালাচ্ছেন , আর নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন আপনি মুসলমান। আপনি কি তখন আসলেই আর মুসলমান থাকেন ? নাকি মুসলমান নামধারী মুনাফিকে পরিনত হন ?

 
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
 

ভাই, আপনি আমার সম্পর্কে ভুলধারণা পোষণ করেছেন।

প্রথমত; আমি একজন সাধারণ মুসলমান মাত্র।
দ্বিতীয়ত; আমি কোনো মডারেট-মুসলমান নই। আর আমি মডারেটদের ঘৃণা করি। এবিষয়ে ‘ইস্টিশনে’ আমার একাধিক লেখা আছে।
তৃতীয়ত; আমি জঙ্গিবিরোধী। এবিষয়ে ‘ইস্টিশনে’ আমার বেশ কয়েকটি লেখা আছে। আর আমি জঙ্গিদের ‘জঙ্গি’ বলি আর জঙ্গিদের ‘জঙ্গিমুসলমানই’ বলে থাকি।
কিন্তু মনে রাখবেন: দুনিয়ার সব মুসলমানই জঙ্গি নয়।

এখানে, আমার একটি লেখার লিংক:রোহিঙ্গাইস্যু এবং বাঙালি-মডারেট-মুসলমানদের কতিপয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও তাদের স্বরূপ


একজনের বউকে তালাক দিয়ে আরেকজনের বউ বানানোর নীতিকে আমি ঘৃণা করি। আরবে সেসময় এটি হয়ে থাকলেও তা নিন্দনীয়। তাই, আমি এই ঘৃণ্যপ্রথার বিরুদ্ধে লিখেছি।
আর একজনের বউকে আরেকজনের বউ বানানোর কোনো নির্দেশ কোরআনে নাই। তাই, এটি রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে বা অন্য কারও বেলায় প্রযোজ্য হবে না। সেই সময়ের একটি ঘটনা কখনওই দলিল হবে না। এমনকি যে রাসুল সা. এটি করেছিলেন এব্যাপারে তার কোনো পরবর্তী নির্দেশ নাই।

পঞ্চমত; আমি মনগড়া কোনো কথা বলি না। ইসলামের নামে যারা ভণ্ডামি করছে আমি তাদের বিরুদ্ধে লিখে থাকি। আর আল্লাহ, রাসুল, ইসলাম আমার টার্গেট নয়। মুসলমান-নামধারী ভণ্ডসহ সকল ভণ্ডই মানবতার শত্রু। এদের বিরুদ্ধেই আমার লেখনী।

এখানে, স্বল্পপরিসরে লিখে কাউকে কিছু বোঝানো সম্ভব নয়।
অক্ষমতার জন্য ক্ষমা করবেন।

ধন্যবাদ আপনাকে।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...
সাইয়িদ রফিকুল হক

 
কাঠমোল্লা এর ছবি
 

আপনি কি তাহলে কোরান ও হাদিসের বিধান না মানা মুসলমান ? আপনার কথার মাথা মুন্ডু তো কিছুই বুঝি না।

মুহাম্মদের সাথে যেসব সাহাবি মদিনায় গেল , তখন অনেকেরই স্ত্রী ছিল না। তখন মদিনার মুসলমানদেরকে মুহাম্মদ নির্দেশ দিল, তাদের মধ্যে যাদের একাধিক স্ত্রী আছে , তাদেরকে তালাক দিতে যাতে মুহাম্মদের সাহাবীরা তাদেরকে বিয়ে করতে পারে। এটা একটা পরিস্থিতি। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মুহাম্মদ উক্ত নির্দেশ জারি করে। সুতরাং এই একই ধরনের পরিস্থিতি যখন পুনরায় কোথাও সৃষ্টি হবে , মুহাম্মদের নির্দেশনা মোতাবেকই মুসলমানদেরকে চলতে হবে। এটাই কোরান হাদিস বা ইসলামের নির্দেশ।

বর্তমানে রোহিঙ্গা অনেক মুসলমান পুরুষ একা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তাদের কোন স্ত্রী নেই। ঠিক ১৪০০ বছর আগে মুহাম্মদের সাহাবীদের যে অবস্থা তৈরী হয়েছিল। সুতরাং মুহাম্মদ যে ভাবে সেই পরিস্থিতিতে মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছিল , সেই মোতাবেকই , বাংলাদেশে কারও দুই বা ততোধিক স্ত্রী থাকলে , সে একটা রেখে বাকি স্ত্রীকে তালাক দেবে , যাতে রোহিঙ্গা মুসলমান পুরুষরা তাদেরকে বিযে করতে পারে। আর তা হলেই তো মুহাম্মদের নির্দেশ পালন করা হলো , তাহলেই ইসলামের বিধান অনুসরন করা হলো। আপনি বলছেন , আপনি এই বিধান ঘৃণা করেন , তার মানে কি আপনি আপনার নবী মুহাম্মদের প্রনীত বিধানকে ঘৃণা করেন ? আপনার বক্তব্যে তো সেটাই মনে হচ্ছে। নবী মুহাম্মদের বিধানকে ঘৃণা করে , আবার নিজেকে মুসলমান দাবী করছেন কিভাবে ? আমি তো সেটাই বুঝতে পারছি না। তবে মুহাম্মদেরই বিধান মতে , আপনি কিন্তু মুনাফিক। কারন আপনি মুসলমান নাম ধারন করেন , নিজেকে মুসলমান পরিচয় দেন , কিন্তু ইসলামের বিধান মানেন না। এই ধরনের লোককে বলা হয় মুনাফিক। মুনাফিকের শাস্তি কি জানেন ? সোজা কল্লা কাটা।

এবার আসেন জঙ্গি প্রসঙ্গে । আপনি কাদেরকে জঙ্গি বলছেন ? কোরান হাদিসের বিধান হলো অমুসলিমদেরকে ইসলাম গ্রহনের দাওয়াত দিতে হবে , যদি গ্রহন না করে , তাহলে তাদেরকে আক্রমন করে হত্যা করতে হবে , তবে যদি তারা জিজিয়া কর দিয়ে হীনভাবে আপনার অধীনে বাস করতে রাজী থাকে , তাহলে তাদেরকে ছেড়ে দেবেন। কোরান হাদিসের আরও বিধান হলো - যারা মুর্তাদ বা ইসলাম ত্যাগী ও মুনাফিক , তাদেরকেও হত্যা করতে হবে। এখন কোরান হাদিসের বিধান অনুযায়ী , কেউ যদি কাফের বা মুর্তাদ বা মুনাফিককে হত্যা করে , সেটা জঙ্গিবাদ হয় কিভাবে ? আর সে নিজেই বা কিভাবে জঙ্গি হয় ?

বর্তমানে আপনাদের মত নামধারী মুসলমান যারা কোরান হাদিসের বিধান মানে না , তাদের সংখ্যা বেশী মানে মুনাফিকদের সংখ্যা বেশী। এসব দেখে বহু খাটি সহিহ মুমিন সহ্য করতে না পেরে , কোরান হাদিসের বিধান মতেই , আপনাদের ওপর আক্রমন করে হত্যা করছে , খাটি ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে যাতে দেশে ইসলামী শাসন কায়েম হতে পারে। আর সেটা হলো একজন খাটি মুসলমানের দায়ীত্ব। এতে সে যদি মারা যায় তো শহিদ হয়ে সোজা বেহেস্তে চলে যাবে , সেই সাথে সেখানে মিলবে অঢেল মদ ও ৭২ টা কুমারি নারী যৌনফুর্তির জন্যে। আর স্বাভাবিকভাবে ইসলামী বিধি বিধান পালন করে মরার পর বেহেস্তে যে কেউ যাবেই , তার কোন নিশ্চয়তা নেই। সুতরাং বেহেস্তে যাওয়ার সহজ রাস্তা কোনটা ? কাফির , নাস্তিক , মুর্তাদ , মুনাফিকদেরকে হত্যা করার সময় নিজেই নিহত হয়ে শহিদ হওয়ার মাধ্যমে , নাকি স্বাভাবিক ভাবে নামাজ রোজা হজ্জ যাকাত দিয়ে মরার মাধ্যমে ?

এখন যারা খাটি মুমিন , দেশে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্যে কাফের মুনাফিক মুর্তাদ নিধন করে নিজেরা শহিদ হচ্ছে , তাদেরকে আপনি জঙ্গি বলছেন ? আর তাদের কাজকে বলছেন জঙ্গিবাদ ? আরে ভা্ই , আপনি তো আবারও সেই কোরান হাদিসের বিধানকে বর্বর ও অসভ্য বিধান হিসাবে গণ্য করে তাকে জঙ্গিবাদ বলছেন, সে খেয়াল আছে ? আপনি নিজেই খাটি মুমিনদের ইসলাম সম্মত কাজকে জঙ্গিবাদ বরে গণ্য করে মনের অগোচরে ইসলামকে একটা বর্বর ও অসভ্য বিধান হিসাবে রায় দিচ্ছেন এবং একই সাথে নিজেকে আবারও মুসলমান হিসাবে দাবী করছেন। ভাই , আপনার মাথা কি ঠিক আছে ?

আগে ইসলামকে জানুন, তারপর কারা খাটি মুমিন আর কারা জঙ্গি সেটা বিচার করুন।

 
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
 

দেখুন ভাই, একজন মুসলমানকে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, আল্লাহর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, আখেরাত, ভাগ্য (তাকদীর) ও মৃত্যুর পর পুনরুত্থান-এর প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। আর এগুলোর কারণেই সে মুসলমান। আমিও তা-ই।

মদীনায় হিজরতের সময় রাসুলের জীবদ্দশায় তার অনুসারী কিছু সাহাবী মক্কার মুহাজির-মুসলমানদের জন্য তাদের কারও-কারও বউ ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু সবাই নয়। আর এটি বর্তমানে ইসলামের বিধান নয়। এটি দলিলও নয়।
আরবের লোকেরা যা করেছে তাই ইসলাম নয়। রসুলের সব কাজ একজন মুসলমানের জন্য ফরজ নয়। তার কারণ, একটি উদাহরণ: সব মুসলমান ‘ছয় বছরের মেয়েকে এবং ১৩-১৪ নারীকে’ কখনও বিবাহ করতে পারবে না।
আধুনিক যুগের সাধারণ মুসলমানরা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, আল্লাহর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, আখেরাত, ভাগ্য (তাকদীর) ও মৃত্যুর পর পুনরুত্থান-এর প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করলেই সে মুসলমান।

এখানে আরবের বর্বরদের সব কাজ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া, ইসলামীবিধান মতে কারও ছেড়ে দেওয়া বউকে বিয়ে করতে হলে ৪মাস ১০দিন অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু মক্কার মুহাজিররা কি তা করেছিল? করেনি। তাই, আরবের একটি ঘটনাকে ইসলাম বলে প্রচার করাটা এই মোল্লাদের চালবাজি আর শয়তানী। আর এদের বিকৃত-যৌনবাসনা চরিতার্থ করার হীনমানসিকতা। আমি এই পশুদের বিরুদ্ধে।
আমার সম্পর্কে আপনার ধারণা সঠিক নয়।
আর মনে রাখবেন: আমাদের রাসুল কিন্তু কোনো মুহাজিরের জন্য স্ত্রীত্যাগ করেনি। কারণ, নবীদের স্ত্রীকে মুমীনদের মাতা বলা হয়ে থাকে। এটি আরবের কিছুলোকের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এটি সাময়িক।
ধন্যবাদ।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...
সাইয়িদ রফিকুল হক

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সরকারকে সাবধান হতে হবে

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 13 ঘন্টা 35 min ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর