নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

সমসাময়িক দূর্গা পূজা।


বাংলাদেশের ষড়ঋতুর মাঝে শরৎকাল অন্যতম। উষ্ণ আবহাওয়া, চারদিকে মনোহর পরিবেশ, নদীর ধারে সাদা কাশবন। ক্ষণে ক্ষণে বৃষ্টি আবার তার পরই সুনীল আকাশ।

এই শরৎকালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা। যা অকাল বোধন হিসেবেও পরিচিত। কথিত আছে ভগবান শ্রী রামচন্দ্র রাবণবধ করার জন্য এই অসময়ে দেবী দূর্গাকে আহ্বান করেন। যা বর্তমানে বাঙালী হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দেবী দূর্গা স্বর্গ থেকে সপরিবারে তার বাবার বাড়িতে (পৃথিবীতে) আসেন পৃথিবীর সকল অশুভ দূর করতে। জগৎকে করতে পবিত্র।

মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দূর্গার যাত্রা শুরু হয় আর বিজয়া দশমীর তিথিতে দূর্গা আবার বাবার বাড়ি ছেড়ে স্বর্গে ফিরে যান। দেবী দূর্গাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মা বলে সম্বোধন করেন। যে মাাতার আগমনে ধরা পবিত্র হওয়ার কথা সেই মাতার আগমনী বার্তা শোনার পর থেকেই পরিবেশের ধরন পাল্টে যায়। ধূম্রজালে আবদ্ধ ধরণীতে যতটুকু ধূপের গন্ধ পাওয়া যায় তার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া যায় বিভিন্ন মাদকের ধোয়ার গন্ধ। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গাঁজা। সম্প্রতি গাঁজার পাশাপাশি ইয়াবা, হিরোইন ইত্যাদিও ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাপক হারে। তারপর মা যতদিন থাকেন ততদিন যেন সারাদেশে মাদককে বৈধতা দিয়ে দেন সরকার। প্রশাসনের লোকদের সামনেই চলে নানা ধরনের মাদক গ্রহণ। তারা নির্বাক হয়ে সবকিছু দেখে। কোথাও তেমন কোন প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যায় না। বিশেষ করে গাঁজা আর মদ, এই দুটোর উপর রীতিমত ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়ে যায়। চারদিক থেকে ভেসে আসে মদ আর গাঁজার গন্ধ। অতঃপর একেক জন হিন্দু সৈনিক মাতাল বা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় তাদের মায়ের সামনে শুরু করে প্রলয় নৃত্য। মা দূর্গা তার সন্তানদের এমন উন্মাদনা দেখে কতটুকু খুশী হন তা তিনিই ভাল জানেন। মায়ের সামনে সন্তানদের এই ধরনের অসভ্যতা কতটুকু সামাজিক কাজ তা নিয়েও প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে অষ্টমী, নবমী আর বিজয়া দশমী, এই তিন দিনে সারাদেশে যে পরিমান নেশা করা হয় তা বছরের আর কোন দিন করা হয়না। উপজাতি খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনেও প্রচুর পরিমাণ নেশা করা হয়,তবে তা নির্দিষ্ট একটা গন্ডির মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু দূর্গা পূজার সময় যেন সারাদেশে নেশাকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বিজয়া দশমীর দিন ১৪,১৫ বছরের বালক থেকে শুরু করে ৬০,৭০ বা তার ঊর্ধের ব্যক্তিরাও মাতাল অবস্থায় সর্বত্র চলাফেরা করে। যেই মা পৃথিবীকে পবিত্র করার উদ্দেশ্যে স্বর্গ ছেড়ে পৃথিবীতে আসেন তার আগমনের পর থেকেই শুরু হয় এই অপবিত্রতার কর্মকান্ড।

দেবী দুর্গতিনাশিনী আসার পর একদিকে যেমন কিছু লোকের দুর্গতি নাশ হয় অন্যদিকে কিছু লোকের জীবনে নেমে আসে অনেক বেশি দুর্গতি। পূজা উপলক্ষে ভক্তবৃন্দ যে প্রণামী (পূজার চাঁদা) সংগ্রহে বের হন সেখানে প্রণামী সংগ্রহ চলে নাকি চাঁদাবাজি চলে? প্রণামী হলে তো দাতার দানে সন্তুষ্ট থাকার কথা। কিন্তু সেখানে চাপে ফেলেও টাকা আদায় করা হয়। এমনও পরিবার আছে যারা পূজা উপলক্ষে কোন কেনাকাটা করতে পারেনি অথচ চাঁদা দেয়ার সময় কম দিলে চলবে না। এক্ষেত্রে তাদের দুর্গতির কতটুকু নাশ হলো কিছু ভেবে পাইনা।

পূজার শেষে প্রসাদ বিতরণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় নতুন সমালোচনা। প্রসাদ বিতরণেও চলে স্বজনপ্রীতি। মুখ দেখে দেখে প্রসাদ বিতরণ প্রায় প্রতিটি মন্দিরের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদিন অভুক্ত থেকেও অনেককে একমুঠো প্রসাদে সন্তুষ্ট থাকতে হয়, আবার অনেকে ঘরের খাবার নষ্ট করার পরও বাড়তি প্রসাদ নিয়ে শেষে নষ্ট করে ফেলে দেয়।

উৎসবে সবাই আনন্দ করবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু একজনের আনন্দ যদি অন্যজনের বিরক্তির কারন হয় তবে তা থেকে একটু বিরত থাকাই ভাল। দূর্গা পূজার পাঁচদিন ধরেই চলে ধুমধাম শব্দোৎসব। কে কতটা বেশি শব্দদূষণ করে পরিবেশের বারটা বাজাতে পারবে তারই প্রতিযোগিতা চলে এখানে। সারাদিন সারারাত ভরে চলে এই আনন্দ। কখনো কখনো পূজামণ্ডপের আশেপাশে কোন অসুস্থ ব্যক্তি থাকলে তার বারটাই বাজিয়ে দেয় এই আনন্দ। ছোট ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও এই অতিরিক্ত শব্দ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর ওভার লাইটিং ও মাতাল ডিজে পার্টির ভিড়ে ভদ্রমহিলা ও মেয়েরা ঠিকমত পূজা দেখার সুযোগই পায়না।

সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শরৎকালকে দেয় এক নতুন রূপ। শরৎ তার নিজের সৌন্দর্য হারিয়ে কৃত্রিম উন্মাদ পরিবেশে হারিয়ে যায়। বছর শেষে আবার আসবে এই মহোৎসব। আবার চলবে উন্মাদনা।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মোঃ যীশুকৃষ্ণ
মোঃ যীশুকৃষ্ণ এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 23 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 29, 2017 - 10:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর