নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • মাইকেল অপু মন্ডল
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • সুবর্ণ জলের মাছ
  • দ্বিতীয়নাম

নতুন যাত্রী

  • অনুপম অমি
  • নভো নীল
  • মুমিন
  • মোঃ সোহেল রানা
  • উথোয়াই মারমা জয়
  • শাহনেওয়াজ রহমানী
  • জিহাতুল
  • আজহারুল ইসলাম
  • মোস্তাফিজুর রহম...
  • রিশাদ হাসান

আপনি এখানে

ইসলামের নামে মাদ্রাসাশিক্ষায় ভণ্ডামির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (প্রথম পর্ব)


ইসলামের নামে মাদ্রাসাশিক্ষায় ভণ্ডামির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (প্রথম পর্ব)
সাইয়িদ রফিকুল হক

আমাদের দেশে স্বেচ্ছায় মুসলমান হওয়ার কোনো উপায় নাই। আর সত্যিকারের ধার্মিক কিংবা ধর্মপ্রাণ হওয়ারও কোনো সুযোগ নাই। সবখানে এখন একশ্রেণীর কাটমোল্লার অযাচিত রাজত্ব ও বাড়াবাড়ি। তাই, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীদের কিংবা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পর্যন্ত এখন জোরপূর্বক মুসলমান বানানোর জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি ধর্মব্যবসায়ীচক্র। এরা মাদ্রাসাওয়ালা বা মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষাদানে বিশ্বাসী একটি ধর্মান্ধগোষ্ঠী। আর এই চক্রটি মনে করে: মাদ্রাসায় না পড়লে কেউ মুমীন-মুসলমান হতে পারবে না! এরা আরও মনে করে থাকে: একমাত্র মাদ্রাসাশিক্ষাই ইসলামের ও মুসলমানের শিক্ষা! আর এদের ধর্মীয় বিশ্বাস হলো: জোর করে ছেলেদের (পুরুষদের) কাউকে একটুখানি দাড়ি, টুপি, পায়জামা, পাঞ্জাবি ইত্যাদি ধারণ করাতে, মেয়েদের বোরকা-হিজাব পরাতে, আর সবাইকে মাদ্রাসায় পড়াতে পারলেই সে মুসলমান হয়ে গেল! তার আর-কিছু লাগবে না। শুধু মাদ্রাসা-পাসের জোরেই সে মুসলমান হয়ে যাবে! আর এভাবেই সে সারাজীবন মানুষ না হয়ে—মানুষখুন, হত্যা, মিথ্যাচার, ধর্ষণ, জঙ্গিপনা ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়েও শুধু মাদ্রাসা-পাসের কথিত সার্টিফিকেটের জোরে এই জীবনে মুসলমান-নামের বিরাট একটা কিছু হয়ে যাবে! আর এইধরনের আজগুবি, অসুস্থ ও ভ্রান্ত মানসিকতা আজ আমাদের দেশের মাদ্রাসার হুজুর-পাতিহুজুরগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি। এরা জোর করে যে-কাউকে তথাকথিত মুসলমান বানানোর জন্যেই এইসব মাদ্রাসাপ্রতিষ্ঠা করেছে।

মাদ্রাসার এই পাতিহুজুরচক্রটি মনে করে: ছেলে-মেয়েদের মাদ্রাসায় পড়ালেই সে মুসলমান হয়ে গেল! আসলে, এই মূর্খগুলো এখনও জানে না যে, মুসলমান হওয়ার জন্য মাদ্রাসায় পড়াটা জরুরি কিংবা আবশ্যক নয়। কিন্তু এরা ইসলামের নাম-ভাঙ্গিয়ে জোরপূর্বক মাদ্রাসাশিক্ষাকে ‘একমাত্র ইসলামীশিক্ষাব্যবস্থা’ বলে অপপ্রচার করে ‘মাদ্রাসা’ ও ‘মাদ্রাসাশিক্ষা’কে সমাজের বুকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নানারকম মিথ্যাচারের আশ্রয়গ্রহণ করেছে, আর এখনও তা করছে। এখানে, সবার জ্ঞাতার্থে একটি ঐতিহাসিক, চিরসত্য ও তথ্যনির্ভর কথা জানিয়ে রাখি: আমাদের নবীজী হজরত মোহাম্মদ সা.-এর যুগে আরবে কিংবা আরবের বাইরে কোনো মাদ্রাসা ছিল না। এমনকি তখন এর কোনো অস্তিত্বও ছিল না। হজরত মোহাম্মদ সা. জীবনে কোনোদিন মাদ্রাসা-শব্দটি একবারের জন্যও উচ্চারণ করেননি। আরও তথ্য: ইসলামের পূর্বযুগে, ইসলামের জন্মলগ্নে, আর নবী সা.-এর যুগে ইসলামে কোনোপ্রকার মাদ্রাসা কিংবা এইজাতীয় কোনোকিছুর অস্তিত্ব আরবে কিংবা আরবের বাইরে কোথাও ছিল না। আসল সত্য হলো: তাঁর ওফাতের কয়েকশ’ বছর পরে এইসব মাদ্রাসার জন্ম হয়। এমনকি কুরআন-হাদিসের কোথাও একটিবারের জন্যও ‘মাদ্রাসাবিষয়ক’ একটি কথা বা ‘মাদরাসা’শব্দটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইসলামে এগুলো ‘বিদআত’ বা ‘নতুনসৃষ্টি’। আর মহান আল্লাহ বা ইসলামের নবী কাউকে কোথাও-কোনোভাবে একটি মাদ্রাসাপ্রতিষ্ঠা করতে বলেননি কিংবা এবিষয়ে আদেশও করেননি, এবং প্রচলিত ‘মাদ্রাসাশিক্ষা’কে ‘ইসলামীশিক্ষা’ বলে স্বীকৃতিও দেওয়া হয়নি। এসব প্রাচীনযুগের ও এই যুগের সাধারণ আরবিশিক্ষিত মোল্লা-মৌলোভীদের অপপ্রচার, এবং নিজেদের স্বার্থের মাদ্রাসাবিষয়ক ব্যবসা টিকিয়ে রাখার অপকৌশল মাত্র। তবুও এই মাদ্রাসাশিক্ষাকে আজ জোরপূর্বক ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য অমানুষিক উৎপীড়ন চালানো হচ্ছে।
ইসলামের দেশ বলে খ্যাত সৌদিআরবেও মাদ্রাসা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সেখানে, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে গড়ে উঠেছে সব আধুনিক ধাঁচের ও ছাঁচের ঝকঝকে-তকতকে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। আর মাদ্রাসাশিক্ষার বাড়াবাড়ি শুধু এশিয়ার হাতেগোনা কয়েকটি দেশে (ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে)। বর্তমানে এশিয়ার অধিকাংশ মাদ্রাসাই পরিচালিত হচ্ছে ইসলামবিরোধী ওহাবী ও জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণাধীনে।

দেশের মাদ্রাসায় যে-সব শিক্ষার্থীরা পড়ছে এরা আবার দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত। কারণ, আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের তথা বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোও দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত। যথা:

১. কওমীমাদ্রাসা (দেশে প্রায় আনুমানিক ৮-১০ হাজার কওমীমাদ্রাসা আছে। এগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো আরও বাড়ছে)।
২. আলিয়ামাদ্রাসা (এখানে, মাত্র ৩টি সরকারি আর বাকীগুলো বেসরকারি। আর বেসরকারি আলিয়ামাদ্রাসার সংখ্যাও কয়েক হাজার হবে)।
আমাদের উদ্দেশ্য মাদ্রাসার সংখ্যা গণনা করা নয়। আমরা আজ দেখবো, মাদ্রাসাগুলো ধর্মের নামে চটকদার কথা বলে মাদ্রাসায় বিভিন্নস্তরের ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করলেও আসলে কি তারা ধর্মপালনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে?
না। মোটেও না। এরা মাদ্রাসায় পড়ে জ্ঞানী কিংবা প্রকৃত মুসলমান—কোনোটাই হতে পারছে না। আর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শুধুই সহজে সার্টিফিকেট অর্জন করার জন্য এখন মাদ্রাসায় ভর্তি হচ্ছে। বিষয়টি পরে ব্যাখ্যা করা হবে। বর্তমানে মাদ্রাসাগুলো ইসলামের কথা বললেও আসলে সেখানে কোনো ইসলাম নাই। সেখানে আছে শুধু ধার্মিকের একপ্রকার খোলস মাত্র।

দেশের আলিয়ামাদ্রাসাশিক্ষায় বিরাজমান কতকগুলো প্রাথমিক অসঙ্গতি এখানে তুলে ধরা হলো:

১. বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো নিজেদের ধর্মের একেকটা বিরাটকিছু ভাবলেও আসলে তাদের মধ্যে ধর্ম বলতে তেমনকিছু নাই। অধিকাংশ মাদ্রাসার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই লোকদেখানো ধর্মপালন করে থাকে মাত্র। বাহ্যিকভাবে এরা শুধু পোশাকিধর্মপালন করে থাকে। আর আত্মিকভাবে এরা কলুষিত। এদের আত্মা সহীশুদ্ধ কিংবা পবিত্র করার কোনো ব্যবস্থা এখানে নাই। এসব মাদ্রাসা এখন শুধুই শরীয়তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তাও এরা সবসময় শরীয়তের ভুলব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপথগামী করে তুলছে। এদের মধ্যে কোনো আধ্যাত্মিক পুরুষ বা সাধক নাই। এখানে, একশ্রেণীর মাদ্রাসা-পাস সাধারণমানের হুজুর ও পাতিহুজুরদের দিয়েই মাদ্রাসাগুলো পরিচালনা করা হয়ে থাকে। আর এরা নিজেনিজেই একেকজন বড়সড় আলেমের দাবিদার! কারণ, এরা শুধু শরীয়তসম্পর্কে কিছু জানে, আর এদের শিক্ষার্থীদেরও শুধু শরীয়তের কতিপয় নিয়মকানুনই শিখিয়ে থাকে। আর এদের যা শেখানো হয়ে থাকে—তার অধিকাংশই মনগড়া, বিকৃত, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আর এইসব নিয়মকানুনের মধ্যে রয়েছে: ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ—কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ ও জাকাত। কিন্তু এরও প্রকৃত শিক্ষা মাদ্রাসাশিক্ষার্থীরা কখনও পায় না। আর এর বাইরে যে আরও জ্ঞানের বিশাল জগৎ রয়েছে সে-সম্পর্কে এদের অবহিত করা হয় না। তাই, দেশের মাদ্রাসাগুলোতে এখনও পর্যন্ত আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের মধ্যে মন্যুষত্বের বিকাশ ও জাগরণ, মানবপ্রেম ও মানবতাবোধ, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ও ধ্যানধারণা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা এবং সর্বোপরি দেশপ্রেমও শিক্ষা দেওয়া হয় না। এখানে, আধুনিক মানুষ হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। তাই, এখানে মানবতাবিরোধী কথাবার্তা শেখানো হয়ে থাকে। যেমন—ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম কখনও ধর্ম নয় (ইসলামধর্ম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম মানা যাবে না), মুসলমানই একমাত্র জাতি, ইহুদি-খ্রিস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধরা মুসলমানের শত্রু ইত্যাদি।
এখানে, মানে মাদ্রাসাগুলোতে সবসময় বলা হয়ে থাকে: মুসলমানের ভাষা আরবি। আর মুসলমানদের কুরআন-কিতাবের ভাষাও আরবি। এই পাতিহুজুররা শিক্ষার্থীদের সামনে নিয়মিত আরও বলে: মুসলমানদের অন্যান্য ভাষা হলো—ফারসি, উর্দু! কিন্তু এখানে আমাদের প্রাণের বাংলা-ভাষা কোথায়? আর বাংলার অস্তিত্ব কোথায়? কওমীমাদ্রাসায় এখনও বাংলাচর্চার পথ রুদ্ধ। আর আলিয়ামাদ্রাসাগুলো সরকারি-বেতনের লোভে শুধু বাংলা-ভাষার নামকাওয়াস্তে চর্চা চালু রেখেছে। এতে নিজের ভাষাসম্পর্কে বিভ্রান্ত হচ্ছে মাদ্রাসার হাজার-হাজার কোমলমতীশিক্ষার্থী।

২. মাদ্রাসাগুলোতে নামাজের ব্যাপারে খুব কড়াকড়ি করা হয়ে থাকে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নামাজের ব্যাপারেও আগ্রহ কম। এখানে, একটি কথা বলে রাখছি। দেশের অধিকাংশ মাদ্রাসাই হোস্টেলভিত্তিক বা হোস্টেলনির্ভর। আবাসিক-ব্যবস্থা ব্যতীত মাদ্রাসাগুলো চলতে পারে না। কারণ, সারাদেশের বিভিন্নস্থান থেকে এখানে ছাত্রসংগ্রহ করা হয়। আর এদের বেশিরভাগই নিম্নবিত্তপরিবারের সন্তান। স্বল্পখরচে পড়ালেখা করার সুযোগলাভের জন্য এরা এখানে ভর্তি হয়ে থাকে। তাই, মাদ্রাসার পাতিহুজুররা এদের উপর জোরজবরদস্তি ও প্রভাব খাটিয়ে এখানে নিজেদের মনগড়া বিদ্যাশিক্ষা দিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এখানে, শিক্ষার্থীরা লোকদেখানো নামাজআদায় ব্যতীত আর-কিছু শিখতে পারছে না। এখানে, কেউ নামাজ না পড়লে তার হোস্টেলের খাবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। অধিকাংশ গরিব শিক্ষার্থীই আজ খাবার-বন্ধের ভয়ে নামাজ চালু রেখেছে। এরা নামাজের ব্যাপারে কড়াকড়ি ব্যবস্থা রাখলেও দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উদাসীন। এদের জীবনে দেশপ্রেমের বড়ই অভাব। আর তাই, মাদ্রাসাগুলোতে আজও আমাদের মহান ভাষাশহীদদিবস, স্বাধীনতাদিবস, বিজয়দিবস উদযাপিত হয় না। এরা এগুলো বিশ্বাসও করে না। আর পালন করবে কীভাবে?

৩. মাদ্রাসাশিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রভর্তি, পরীক্ষাপদ্ধতি, পরীক্ষায় পাস-ফেল ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিরাট একটা ফাঁকফোঁকড় রয়েছে। তাছাড়া, মাদ্রাসায় সহজে ভর্তি হয়ে সহজে পাসও করা যায়। এখানে, এসব নিয়মকানুনের ক্ষেত্রে শিথিলতা রয়েছে। যেমন—মাদ্রাসায় নিয়মিত ক্লাস না করেও প্রাকনির্বাচনীপরীক্ষা বা নির্বাচনীপরীক্ষা দেওয়া যায়। আবার দেখা যায়, এখানে প্রাকনির্বাচনী বা নির্বাচনীপরীক্ষা একেবারে না দিয়েও কিংবা কোনো-কোনো ক্ষেত্রে এগুলো দিয়েও এতে সমূলে অকৃতকার্য হয়েও কেন্দ্রীয় বা পাবলিকপরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়া যায়। মাদ্রাসার দাখিল (এসএসসি-সমমান) ও আলিম (এইচএসসি-সমমান) স্তরে এভাবে দুর্নীতি বেশি হয়ে থাকে। সরকারিভাবেও এগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। ফলে, এখানে শুধু সময়মতো রেজিস্ট্রেশন করে এখন যে-কেউ যেকোনোসময় নির্বাচনীপরীক্ষা ব্যতীত বা নির্বাচনীপরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে সবার সহযোগিতায় সহজে পাস করে আসতে পারে। সেইজন্য দেখা যায়, বর্তমানে আলিয়ামাদ্রাসাগুলোতে দুর্বলপ্রকৃতির শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বার্থে আলিমস্তর পর্যন্ত মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে তারপর সমমানের সুযোগগ্রহণপূর্বক বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ কারিগরীশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যন্ত ঢুকে পড়ছে। মাদ্রাসায় পড়ে সহজে অধিক নম্বর তোলা যায়। তার কারণ, এখানে আরবিবিষয় বেশি। আর মাদ্রাসার পাতিহুজুররা আরবিবিষয়গুলোতে অত্যধিক (মাত্রাতিরিক্ত) নম্বর প্রদান করে থাকে।

৪. আলিয়ামাদ্রাসাগুলোতে বিজ্ঞানশিক্ষার তেমন কোনো পরিবেশ, পরিস্থিতি, সামর্থ্য ও ব্যবস্থা নাই। তবুও দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আলিয়ামাদ্রাসাগুলোতে দাখিল ও আলিমস্তরে বিজ্ঞানশাখা খোলা হয়েছে! কিন্তু এখানে না আছে কোনো বিজ্ঞানবিষয়ক যন্ত্রপাতি—আর না আছে কোনো বিজ্ঞানাগার। তবুও এখানে চলছে বিজ্ঞানশিক্ষা। অধিকাংশ মাদ্রাসার বিজ্ঞানশিক্ষার অবস্থা শোচনীয়। অনেক মাদ্রাসায় বিজ্ঞানের ব্যবহারিক ক্লাস হয় না। কিছুসংখ্যক মাদ্রাসায় তা হলেও—নিতান্ত দায়সারাভাবে আর অনিয়মিত। কিন্তু সমমানের সুযোগে এই নড়বড়ে বিজ্ঞানশিক্ষাগ্রহণ করেও অনেক শিক্ষার্থী অন্যান্য বিষয়ে প্রচুর নম্বর তুলে এবং বিজ্ঞানবিষয়গুলোতে যেকোনোভাবে নাম্বার তুলে মাদ্রাসার গণহারে পাসের হিড়িকে এদেরই কেউ-কেউ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পর্যন্ত ভর্তি হয়ে যাচ্ছে! এদের বিজ্ঞানশিক্ষার এই দুরবস্থার মধ্যেও এরা মেডিকেলে পড়ে জাতির চিকিৎসাক্ষেত্রকে আরও নাজুক ও সংকটাপন্ন করে তুলছে। আর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রেও একই ভয়াবহ অবস্থা।

৫. মাদ্রাসাগুলো আসলে স্বল্পখরচে সার্টিফিকেট-ব্যবসার একটা উন্মুক্তস্থান। এখানে, সবচেয়ে সহজে যেকেউই একখানা সার্টিফিকেট বানিয়ে নিতে পারে। বর্তমানে প্রচলিত অধিকাংশ মাদ্রাসাই সার্টিফিকেট-সরবরাহের অপকাণ্ডে নিয়োজিত।

৬. মাদ্রাসাগুলোতে কোনো আলেম নাই। এখানে আছে শুধু স্বল্পশিক্ষিত হুজুর, পাতিহুজুর, কাটমোল্লা আর ধর্মব্যবসায়ীচক্র। আর এরাই এখন নামের আগে মাওলানা, মুফতি, আল্লামা, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, শায়খুল হাদিস ইত্যাদি লাগিয়ে রমরমা ব্যবসা করছে। এরা সবসময় ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে তথা ধর্মব্যবসার খাতিরে নিজেদের আলেম বলে দাবি করে থাকে। আর সমাজের বুকে অহরহ আলেম বলে পরিচয় দেয়। এদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো—ধর্মব্যবসা। এরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদান করবে?

(আগামী কয়েক সংখ্যায় সমাপ্য)

সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
১৮/০৮/২০১৭

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সাইয়িদ রফিকুল হক
সাইয়িদ রফিকুল হক এর ছবি
Offline
Last seen: 13 ঘন্টা 35 min ago
Joined: রবিবার, জানুয়ারী 3, 2016 - 7:20পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর