নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

বেশ্যা এবং আমি : নিস্তব্দ নিশীতে আপোষহীন


১.
কাকতালীয় ভাবে সে দিন একটা বেশ্যার সাথে পরিচয় হইল।

আমি এখন মন খারাপ সংগঠনের দুর্ভাগ্য সদস্য । তাই মাঝে মাঝে একাকীত্ব অনুভূতিতে বেরিয়ে যাই অচেনা গন্তব্যে। সেই দিন বিকেলের প্রায় শেষ দিকে হালকা আলোতে লেকের পাড়ে বসে সিগেরেট ফুঁকছিলাম। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, লাল টকটকে জামা পরিহিত একজন ২৪/২৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে আমার দিকে আসছে। আমি ভেবেছিলাম আমার পাশ দিয়ে সামনের দিকে চলে যাবে। কিন্তু না, এসে আমার পাশে বসলো। তাকিয়ে থাকার মত অপরুপ, কালো টিপ, খোলা চুল, হালকা খয়েরী লিপস্টিক আর নোখগুলো কাঠবেলীর মত, হাতে অদ্ভুত সুন্দর একটা ব্যাগ। শরীরে একধরনের মিষ্টি সুগন্ধ পারফিউম ব্যবহার করেছে।

আমাকে জিজ্ঞেস করলো, কেনো ডাকলেন?
- মানে? কখন ডাকলাম?
- দুই হাজার টাকা নাকি পাঁচশত টাকা??
- বুঝলাম না ঠিক..
- আচ্ছা না বুঝলে দুইশত টাকা দাও নতুবা চিৎকার করবো।
- আরে বাবা তুমি কে,কেন এমন করছো??

সে আমার কাছে এসে একবারে গা ঘেঁষে বসলো, তারপর রানের উপর হাত দিয়ে বললো, প্যাঁচাল বাদ দিয়ে টাকা দিয়ে দাও।

আমি বললাম ঠিক আছে দিবো তবে তোমার পরিচয় দাও।
-ঢাকায় কি নতুন?
- না, বেড়াতে আসি মাঝে মাঝে।
- কোথায় থাকো?
- চট্টগ্রামে।
- কি করা হয়?
- আপাতত কিছু না।
- আমি নীলা, মিরপুর-১ এ থাকি,টাকার বিনিময়ে পুরুষদের সাথে বিছানায় যাই। তোমাকে অনেক্ষণ একা বসে থাকতে দেখে ভাবলাম হয়তো তুমি হতে পারো আমার রাতের সঙী। তাই তোমার কাছে আসলাম। যাবে আমার সাথে?

চুপচাপ থেকে "না" উত্তর দিলাম।
- কেন টাকা নাই?
- আছে, কিন্তু অভ্যাস নেই।
- অভ্যাস থাকা লাগে!! তোমাদের মত পুরুষরা মেয়ের নরম শরীর পেলে হিংস্র হয়ে যাও। কত দেখলাম।
- সবাই কে একই চোখে দেখা ঠিক না।
- তাই! সিগেরেট আছে?
- হুম, নাও।
- সিগেরেট ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে; নাম তো বলো নাই।
- ধ্রুবনীল।
- হিন্দু নাকি?
- না, ইশমাক হোসেইন ধ্রুবনীল।
- চলো, তুমি আজ আমার সাথে থাকবে।
- কেন যাবো তোমার সাথে?
- ক্ষণিকের সম্পর্কের মায়াজালে আবদ্ধ হতে।
- স্বাদ নেই আমার। আমি ঘৃনা করি তোমাদের সেই সব সম্পর্ক।
- ভাব!!! নিজেকে জলের রঙ মনে করো??
- না, আমারও কালো দাগ আছে। তাই বলে শুটকির ভর্তা হতে চাই না।
এইসব কেন করো? তাছাড়া আর কি করো?
- বলবো, যদি আমার সাথে যাও।
- শর্তসাপেক্ষে যাবো।
- কি কি শর্ত?
- ড্রিংক এবং তন্দ্রায় ডুব পর্যন্ত গল্প করতে হবে, এইছাড়া আর কিছুই না। পারবে??
- হকচকিয়ে হুম। কত দিবে?
- তুমি যা নাও।
- ঠিক আছে চলো।

সিএনজি নিয়ে চুপচাপ মিরপুরে চলে এলাম। কোনো কথা হয় নাই শুধু সিগেরট চললো দুজনের।
অবাক হলাম ভাড়া সেই দিল, কিছু ফল কিনলো কারণ রাতের খাবার নাকি এইসব।

তার পিছে পিছে একটা উঁচু তলার বাড়িতে ঢুকলাম, ঘরে ঢুকে আশ্চার্য হলাম, কারন অনেক সাজানো গুছানো বড় বাসা। দুজন মেয়েকে দেখলাম সোফায় বসে টিভি দেখছে।
আমার দিকে দৃষ্টি রেখে নীলাকে বললো-
- কিরে, এই কাকে নিয়ে এলি? ভদ্রলোক এইখানে বেমানান মনে হয়!!
- ঠিক বলছিস। কিন্তু তাকে দেখে মায়া হলো। চোখের দিকে তাকিয়ে দেখ, ছলছল করে এই নিঠুর পৃথিবী সম্পর্কে কি যেন বলতে চাচ্ছে।
- ও! ভালোই আজ তাহলে আড্ডা দেওয়া যাবে এক সাথে।

♠♠♠ নীলার যুক্তি ছিল- বর্তমানের যুবক-যুবতিরা যে প্রেম লীলায় ঘুরে বেড়ায় তার চাইতে টাকার বিনিময়ে রাত কাটানো শ্রেয়, কারন প্রেম করে অমুক তমুকের ফ্ল্যাটে, অন্ধকার রেস্তোরাঁ বা হোটেলে ভালবাসার নামে বহুজনের সাথে নোংরামীর চাইতে এই জীবন ভালো। সমাজে ঐসব মেয়েরা ভাল ভাবে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু আমাদের মত নীলারা সমাজের চোখে খুব খারাপ। কেন তবে?? এই উত্তর কে দিবে??
আমরা যখন বাসে করে যাই তখন অনেক মানব কুত্তা আমাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেয়, অফিসের বড়ড়কর্তারা শুতে চায়, পড়াশুনায় থাকলে হাত বদলের প্রেমে ফ্ল্যাটে যেতে হয় প্রেমিকের সাথে এবং পুকুর পাড়ের সিঁড়ির মত ব্যবহার হতে থাকি। তাহলে এই সমাজ আমাদের মানবে না কেনো??? ♠♠♠

২.
- ইভা! ও হচ্ছে ধ্রুবনীল।
ধ্রুবো! ওরা হচ্ছে ইভা আর ও সুগন্ধা

♣♣
এরা তিনজনই ইডেন কলেজে ইংরেজী চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। নীলার পরিবারে আয় করার মত কেউ ছিল না। তার ছোট দুইবোন আর এক ভাই, পড়ালেখা করে গ্রামে। বাবা পঙ্গু আর মা নেই। আহমরী বেতনে চাকুরী নাই বলে ইভার হাত ধরে এই পথে আসা। নীলার সম্পর্ক ছিল একটি ছেলের সাথে। ছেলেটির চাহিদা মিটে যাওয়ার পর নীলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে অন্য মেয়ের সাথে......!!

আর ইভা স্বচ্ছল পরিবারের মেয়ে কিন্তু বর্তমান ভালবাসায় সে বিশ্বাসী না। ভালবেসে যখন শুতে হয় তাহলে টাকা ভালবেসে শুই, আয়ও হবে শারীরিক চাহিদাও মিটবে।

সুগন্ধা ভালবেসে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিল। একবছর যেতে না যেতে ছাড়াছাড়ি হয়। বেঁচে থাকার স্বাদ হারিয়ে পেলে কিন্তু আত্বহত্যা করতে ভয় তাই নীলার হাত ধরে চলতে শুরু করে নতুন জীবনে । ♣♣

- কি করো তুমি ইভা প্রশ্ন করলো।
( ইভা শ্যামবর্ণের, দেখতে একদম ব্ল্যাক ডায়মন্ড, হাসিতে তার গন্ধরাজ ফুল ফুটে। )
- তেমন কিছু না।

- তো! পৃথিবীর বিরুদ্ধে এতো ক্ষোভ কেন?
- কিভাবে বুঝলে??

- ফ্যাকাসে মুখ, বিরক্তিতে ভরা আর সিগেরেটের পর সিগেরেট, মনে হচ্ছে পাহাড় ঘেরা জঙলে নিজেকে হারিয়ে আবার নিজেকেই খুঁজছো।

- পৃথিবীর বিরুদ্ধে নয়, কূয়োর ব্যাঙ আর মুখোশের আড়ালে স্বার্থান্বেষী হিংস্র মানবদেহের প্রতি। যারা সময়ের নদীতে বেলা ভাসিয়ে একুল-ওকুলের মানুষ নিয়ে মধ্য ভাগে ভাসিয়ে রাখে, তাদের প্রতি আমার ঘেন্না আর তিক্ততা।
- বাহ! করুন অভিজ্ঞতা।

♠♠♠ ইভার সাথে পরিচয় পর্ব আলোচনা করতে করতে দেখি নীলা আর সুগন্ধা ভোদকা এবং বীয়ারে বোতল ও প্রয়োজনীয় সরোঞ্জাম নিয়ে আসলো। আমাকে ফ্রেশ হওয়ার জন্য সুগন্ধা তার রুমের বাথরুম দেখিয়ে দিল।
আমি বাথরুমে ঢুকে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে হিসেব করছি অতীত জীবনের ব্যর্থ সময়ে; ময়ূর বেশী কাকপক্ষী মানুষদের সাথে কাটানো দিনগুলিতে ব্যর্থ হওয়ার ক্লান্তিময় ভারসম্যহীন সম্পর্কের কথা।
আর ভাবছি, এইসব মেয়েদেরও বুঝি মন আছে!! সম্মান চিনে!! এদেরকে আমরা সমাজে ঘৃনার চোখে দেখি। কিন্তু বুঝতে চাই না যে এরা কেন এই পেশায়। আমরা পুরুষরাই এদের কাছে যাই, আবার এদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করি। পুরুষ বড় আজব রহস্য আর নারী স্বার্থের টানে ছুটে চলে এই ভ্রমর কি ঐ ভ্রমরের সাথে। ♠♠♠

নীলা দরজায় টোকা দিয়ে বললো,
- কি ব্যাপার ঘুমিয়ে পড়লে? নাকি ভয় পাচ্ছো।
- না, আমি আসছি দু মিনিটে।

π বেরিয়ে এসে তাদের সাথে বসলাম, ফুল ভলিউমে নয় হালকা করে গান ছাড়লো ইভা। π

সুগন্ধা একটু লাজুক টাইপের। কিন্তু কিভাবে রাতের পর রাত.....!! আমি হিসেব মিলাতে পারিনি।
সে সবাইকে প্যাক বানিয়ে দিলো।
তারপর cheers...!!!

নীলা- ধ্রুবো! তোমার ভিতরে কষ্টের এক খন্ড পাথর হয়েছে। কেন জানতে পারি??!
- আমাকে দেখে তোমাদের এমন হচ্ছে কেন?
ইভা- তিনটা সুন্দরী মেয়ে, রাত এগরোটা, মদ গিলছো, অথচ একবারও খেয়াল করিনি আমাদের দিকে কামনার দৃষ্টিতে তাকাতে। তাহলে তুমি কেন এসেছো?
- আমিতো আসিনি। নীলা আমাকে জোর করে নিয়ে এসেছে।
- কিরে নীলা! সত্যি?
আমরাতো কোনো মক্কেল পেলাম না পছন্দ মত আর শরীরও চাচ্ছেনা ( প্রত্যেকদিন কি চায়? ) তাই চলে এলাম। কিন্তু তুই কাকে নিয়ে এলি??

নীলা- বলিস না। এক ঘন্টা যাবৎ দুর থেকে লক্ষ্য করলাম, একা একা বসে সিগেরেট টানছে। তাই ভাবলাম বেচারা মনে হয় মক্কেল। কিন্তু হিতে বিপরীত, কথা বলে ভালো লাগলো। মনে হলো অনেকদিন পর একজন সত্যিকারের মানুষের সাথে দেখা হল। এই ধরনের লোকের সাথে কবে রাতে আড্ডা দিয়েছি ভুলে গিয়েছি। তাই নিয়ে এলাম।

সুগন্ধা- ভালো করেছিস। মিঃ ধ্রুবো বাবু! আপনি গান গাইতে পারেন।
- না, তবে কবিতা আবৃতি করতে পারি।
- আবৃতি করেন একটা।
-ঠিক আছে, শুনো........

জীবনের নাম যদি হয় বদনাম
আমি করিনিতো ভুল,
সাজিয়ে রঙীন নেশায়
হলাম আমি ব্যাকুল।

নিস্তব্দ নিশীতে
আপোষহীন আমি
ললনার চাওয়াতে
নষ্ট করিনি বিশ্বাসের ভূমি।

আজ আমি পেলাম
হাজার স্পর্শের নারী
ছন্দহীন জীবনে
অবাধ্য মনের বাড়ী।

মল্লিকার ঘ্রানে
মাতাল আমি তোমার কুঞ্জে
বাতায়নে হিমেল হাওয়ায়
অবচেতন তুমি প্রেম গঞ্জে।

হারিকেনের মিটিমিটি আলোয়
কামনায় জাগ্রত তুমি আমি
বিবেক ক্ষয় আলিঙ্গনে
পারিনি আবদ্ধ হতে জানে অর্ন্তযামী।

ইস্কাপনের টেক্কা ভাবিনি
গোলাপের পাপড়ি ছিলে
কোমল হাতের ছোঁয়ায়
অন্তর ঘাম ঝরালে।

তবুও বাড়াইনি হাত
বললে, কি গো লাজ কিসের
কামনার উল্কায় তুমি
বললাম, আমি দাঁড়িয়ে বেদনার তীরে। "

♠♠♠ ছোট বেলায় শুনতাম, পতিতাদের কথা। সমাজের নিকৃষ্ট জীব। আজ আমি তাদের সাথে একটি বদ্ধঘরে। সিনেমা নাটকে দেখেছি প্রেমের রমরমা প্রেম কাহনী। যা হয়ে গেল আমার জীবনে অতীত। হঠাৎ চাঁদের হাসি মিশ্রিত পারমিতার মুখ খানি মনে পড়লো। যে মুখ দেখিয়া আমি প্রেমে পড়েছিলাম।
আমার স্বর্গতুল্য মাকে প্রাধান্য দিয়ে পারিমতার সাথে অন্যায় করছিলাম অনেক। যখন ভুল বুঝতে পারলাম ঠিক তখনই পারু আমাকে ভুল বুঝা শুরু করলো। আস্তে আস্তে নিজেকে তৈরি করলো নিজের মত করে। যার কাছে কোনো একসময়ে পৃথিবীতে সব চাইতে দামী ছিলাম, তার নিকট হয়ে গেলাম আমি খুব নিম্নমানের একজন মানুষ। কিন্তু এখনো তার অন্তরে আমি আছি, থাকবো চিরকাল এবং তার অজান্তে তারই চোখের জলে ভিজে যাবে বুকের উপরিভাগ । কখনো নেভাতে পারবেনা বুকের ভিতর অনুশোচনার আগুন।

পারু! তুমি আজ পরাজিত একজন মানুষ। নিজেকে সৎ রাখতে গিয়ে নোংরা জলে স্নান করেছো । তাই শুরু হলো তোমার আমার খুনসুটে প্রেম কাহনীর সমাপ্তি । ♠♠♠

৩.
♠♠♠ছয় প্যাক নেওয়ার পর একটু নিজেকে হালকা লাগছে। মনে পড়লো জামিয়া নামের এক মেয়ের কথা।
আমার কাছের এক বন্ধু ছিল, সে গীটার আর গানে ব্যাস্ত থাকত। কোনো একদিন বিকেলে খালের পাড়ে বসে গানের সুর তুলে গান ধরল, ঐ পাড়ের কোনো এক বয়সী নারী তালগাছের সাথে হেলান দিয়ে গানের প্রতি মগ্ন বিভোর, আমি লক্ষ করলাম, তার কান গানে আর দৃষ্টি আমার পানে।
আমি সুমল'কে ইশারা দিয়ে দেখালাম। সুমল তার গানের গলায় জোর বাড়িয়ে দিল।
এমন জোর দিচ্ছিলো এক পর্যায় প্রাকৃতিক মিউজিক বের হয়ে গেল। দুজন কিছুক্ষণ চুপ থেকে হেসে উঠলাম কারন ঐ পাড়ের সে শুনেনি তাই।
চেঁচিয়ে তার নাম জানতে চাইলাম। জামিয়া বলে চলে গেল।♠♠♠

- কি ব্যাপার? চুপচাপ কেন? কারো কথা মনে পড়ছে বুঝি, ইভা জানতে চাইলো।
- হুম, মনে পড়ছে।
- কার বা কিসের???
- কচুপাতার জলের কথা মনে পড়ছে।
- মানে??
- কচুপাতার জল যেমন বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারে না; ঠিক এইরকম কিছু মানুষ আছে যারা বেশিদিন একই স্থানে বেশিদিন যায় না। টুনটুনি পাখির মত পথের দ্বারে ডঙ্গুর গাছের পাতায় বাসা বাঁধে আর লজ্বাবতীর ন্যায় যে কারো স্পর্শে নুয়ে পড়ে।

- আমাদের চাইতেও দেখছি মানুষ সম্পর্কে তোমার অনেক বেশি ধারনা। অনেক পুরুষ সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের। রাতের পর রাত পুরুষের হিংস্রতা দেখেছি। দেখতে দেখতে এতোটাই দেখেছি যে নিজেকেই এখন আর চিনতে পারি না।
আর ভালবাসা!! সে তো আজব খেল। স্বার্থের একটু নড়ছড় হলে উলঙ্গ শরীরে জড়িয়ে রেখে " তুমি আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না, কথা দাও। দুজনই বলে না, কখনই না" এই অঙ্গীকার ভুলে যায়। fuck of this love.

তার কথা শুনতে শুনতে আমার মুখ দিয়ে ভিড়ভিড় করে বের হতে লাগল-

Life can't make you happy
but you can do it selfishness,
Friends may not be loyal
but you see them by forgiveness.

Lover can't be longer time
but you can love again & again
Beloved may be broken your heart
but you may overcome by brain.

Love can't shake you without shatter
but you can do it anytime,
Betrayer may be matter
but you may cheat without shame.

So, don't destroy your moment
and you have to kick your emotion,
Need to change your character
You may become a true person.

You may fall in love one or two time
but you can't kiss at third time
If you do it, you may become best dame
but you know what you're.

- ভালোই বললে ধ্রুবো। পৃথিবীতে শুধু আমরাই দোষী।

-সমাজে কিছু কীট নিজেকে সচেতন এবং ধোয়া তুলসী পাতা মনে করে অন্যের প্রতি কূটক্তি ছড়ায়। সত্য কথা হচ্ছে - এদের জন্য আঙ্গুর ফল টক। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে কপালে দাগ করে কি লাভ অন্তর যদি গলিত আবর্জনা হয়!! পরো নারীতে আসক্তি হয়ে দেহের স্বাদ নেওয়ার লোভে যে পুরুষ বদনাম রটাতে পারে সে নিজেকে কি করে সৎ এবং নিষ্ঠাবান দাবী করে??

স্বীয় সচেতনতার অভাবে বিরোধ সৃষ্টি করা এইসব মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। এরা বুলি ছুড়ে পাহাড় সমান কিন্তু কাজের বেলায় এক টুকরো শক্ত মাটি।

বহু পৃষ্ঠা দেখেছি যাহা হিংস্রতায় ভরা এবং নান্দনিক রহস্যে আড়ষ্ট। আপসোস হয়, রাগ নিবারনে এক ফোঁটা মিথ্যে যথেষ্ট তবুও চেনা এতো বছরের মানুষগুলো নিমিষেই অচেনা হয়ে যায়।

- সত্যিই আমরা কাশবনের উঁইপোকা। স্বার্থের টানে শক্ত সুন্দর কাঠকেও নষ্ট করে ফেলি; বললো নীলা।
- আমাদের যখন কচি দুর্বা ঘাসের মত মন থাকে তখন শুধু রঙীন প্রজাপতি বসে। প্রজাপতির জিরানো হলে নিমিষেই উড়ে যায়। তারপর শুরু হয় এই পোকা ঐ পোকা, বিচ্ছুর বা কালো সাপের চলন। নষ্ট করে দেয় সামনের দিনে ভাল করে বেড়ে চলার।
- একদম খাঁটি কথা, ধ্রুব।
ইভা জানতে চাইলো আমার জীবনে উঁই পোকা এসেছিল কি-না?
- হ্যাঁ! সকাল বেলার ফুল হয়ে এসেছিল। পরিত্যক্ত ছা-ভিটে বাড়ি করে গেল।
- কি নাম? দেখতে কেমন???
- শারিন নূর পারমিতা। হরিনী চোখ, কাজল কালো কেশ, চিকন শ্বেতশ্বেতে দাঁত, ঠোঁট যেন কমলার কোঁষ, একদম দুর্গাদেবীর মত। তার চাহনীতে সরলতার প্রতিচ্ছবি , হাসিতে হাস্নাহেনা ফুল। ভালবাসতাম; বড্ড বেশি বাসতাম।
- কল্পনাতে তোমার দেওয়া উপমাই বলে দিল, ভালবাসতে খুব। জানি না কার কপালে ছিলে তুমি; যাতে ছিল তোমার গুপ্ত ভালবাসার ফুল বাগান, সুগন্ধা এই বলে বড় নিঃশ্বাস নিলো।

৪.
- তোমাদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে কেন ধ্রুবো??

- মা আমার কাছে প্রথম স্বর্গ ছিল, আর পারমিতা অতল সাগরে ঝিনুক থেকে কুঁড়িয়ে আনা মুক্তা। অনেক চেষ্টা করেছিলাম আমার মা কে রাজি করানোর জন্য কিন্তু কখনই পারিনি রাজি করাতে। তাই বুকের ভিতর কষ্টের রক্ত জমাট করে পারুর সাথে প্রতিদিন খারাপ ব্যবহার করে পারুর আবেগগুলো কে দিনদিন খুন করেছিলাম শুধু আমার মায়ের জন্য। কিন্তু আমি এতোটাই কষ্ট চাপা রেখেছিলাম তা কখনো কেউ বুঝেনি।
আমার উপরের কঠিন পাথরে লুকিয়ে ছিল পারুর প্রতি আমার ভালবাসার নরম ছোঁয়া।
আমার প্রথম স্বর্গের কারনে দ্বিতীয় স্বর্গের সাথে বড় অন্যায় করেছি, তা যদি কখনো বিধাতা আমাকে ক্ষমা করে তবে আমি হয়তো ক্ষমা পাবো, নয়তো অভিশপ্ত জীবন নিয়ে বাকি সময় পার করতে হবে।
যদি কখনও বুঝতে পারতাম আমার ভূলের কারনে পারুর আবেগী মন তাকে নষ্ট পথে নিয়ে যাবে তাহলে কখনো হয়তো নষ্ট পথে যেতে দিতাম না এই ভেবে বেশিদিন তো আমার প্রথম স্বর্গ প্রকৃতির নিয়মে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে কিন্তু আমি ভাবিনি বলেই হয়ত আজ তার জীবনে আবারও আসবে এক নিদারুন না পাওয়ার যন্ত্রনা, এইসব কিছুই আমাকে ভেবে খুব ক্লান্ত করে তুলে যা কেউ কখন বুঝতে চায় নি কে আমি, কি আমার জীবন।
কথা না বলা, দুরে সরে থাকলেই যে ভালবাসা কমে যাবে এমনও না, ভালবাসা ছিল, আছে এবং থাকবে চিরকাল।
হয়ত পারু আমাকে ঘৃনা করে ভাল থাকার জন্য আবার সুখ কুঁড়াতে ব্যস্ত হয়ে নিজেকে হারিয়ে দিবে কিন্তু বর্তমান সমাজ, সংসার আর মানুষগুলো খুবই স্বার্থপর, তাই আবার কারো প্রতি বিশ্বাসের গভীরতা খনন করে ডুবে যাবে।।।।

নীলার চোখের দিকে চোখ যেতে খেয়াল করলাম আমার কথায় সে খুব ব্যথিত হয়েছে, ছলছল করছে তার অশ্রু; যেন এখনি গড়িয়ে পড়বে।

-পুরুষ এতো ভালবাসতে জানে!! ইভার কম্পিত গলায় বের হল। পুরুষরা নারীকে সম্মান দিতে জানে না। ভোগের পাত্র মনে করে।
- পুরুষরা ভালবাসতে জানে কিন্তু জিয়ে রাখতে জানে না।
- পুরুষদের তোমরা বিশ্বাস করো না। কারন তোমরা সাময়িক সুখে বিশ্বাসী।
জ্বোৎস্না রাতে তাল গাছ তলায় বসে চাঁদের রুপ মনে করো তোমরা, কখনো আপন মনে খেয়াল করেছো যে চাঁদের আলোয় একলা উঁচু তালগাছের উপরদিক টা দেখতে কেমন??
দেখনি, তাই তোমরা পুরুষদের বুঝতে পারো না। ভুল বুঝে তোমরা ভুল করো, আর ভুলের মাশুল গুনতে হয় পুরুষদের।
পুরুষদের হিংস্র বলো কিন্তু কেন তাদের হিংস্রতা তা বুঝতে চাও না। নারীর রুপ স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও বুঝতে পারে না। কারন নারীদের সাঁইত্রিশটা রুপ, যার ফলস্বরুপ আমাদের হিংস্র হতে হয়।
তোমাদের মন হচ্ছে অতি ক্ষুদ্র এবং বেমানান আর ঘোড়ার ডিম।
তবুও কবিতার ছলে বলতে হয়---,

নারী
তুমি হাসি-কান্না
তুমি সুখ কবু দুখ; মিশালো রান্না,

তুমি আকাশের যত রঙ
তুমি কালো বিড়ালের ঢঙ,

তুমি সাগরের গর্জন
তুমি বিসর্জন,

তুমি রাতের বাকা চাঁদ
তুমি শুভঙ্করের ফাঁদ,

তুমি সাঁইত্রিশ রুপ
তুমি কোলাহলে চুপ,

তুমি মাটির গন্ধ
তুমি পুরষ লোকের মন্দ,

তুমি কচুপাতার জল
তুমি ভালোবাসার বল,

তুমি সাতকাহন
তুমি নির্বাসন,

তুমি রোদেলা বৃষ্টি
তুমি অন্ধকারের দৃষ্টি,

তুমি জড়তার লক্ষন
তুমি হিংস্রতার ভক্ষন,

তুমি কামের ধরন
তুমি দেহ জ্বালাতন,

তুমি পৃথিবীর সব
তুমি পুরুষের যব
-------------------

আমি দেখনি
তোমার মোহনা
কালচে বোটার বাহনা,
দেখিনি
ঘর্মাক্ত শরীর
লেহন চালাইনি
আছে ভরপুর,
আবরনে নারী তুমি সুন্দর
তুমি নির্ঝর; কালো রাত্রির পূর্নিমা চাঁদ
হিংস্র পুরুষ তাই করে ফাঁদ,

নারী
তুমি পৃথিবীর অহংকার
তোমার প্রতি সম্মান
থাকবে চিরকাল
এই পুরুষের অঙ্গিকার।

♠♠ ♠কাকের পিছনে পেখম দিলে ময়ূর হওয়া যায় না,
কুষ্ঠ কালিণ্যতায় অক্ষমতা অগোচর করিয়া মনুষ্যজগত কে বোকা বানাইতে সহজ বটে কিন্তু পাগল ভাবা বড্ড বোকামি।
বহুপথ চলিয়া অবশেষে দুর্নাম আর মিথ্যাকে সত্য করিবার লোভে নিজেকে পর নিকটে গড়িয়া তোলা আহম্মক বৈ আর কি!
তবে নিজ কতখানি বাস্তব ধর্মে ঠিক প্রত্যেক নিজেই তাহা বুঝিয়া শুধু শুধু নিজের অহংকার টিকাইবার ধরুন বহু কিছু ঘটাইয়া অট্টহাসির ভিতরে সাময়িক নন্দিত হই; তবে লাভ কি!

আমরা অনেকেই নিজেকে মনে করি কিংবা উপস্থাপন করি যে, গঙ্গার জলে ধোয়া তুলসী পাতা। এইটা যেন কাকের চোখ বন্ধ করে জল খাওয়ার সময়ের ভাবনা; কেউ আমায় দেখছে না।
আবার আমরা অনেকে নিজেকে নিজেই ভাবি যে আমিই সব আর সবাই ধইনচ্যা; ইহা যেন পিঁপড়ার পিঠে হাতী চড়ার গল্প।
আমরা হয়তো ভুলে যাচ্ছি- মোগল সম্রাটদের ইতিহাস, বৃটিশদের একক শাসন কিংবা গাদ্দাফি, সাদ্দাম বা সমসাময়িক আমার দেশের এরশাদ শিকদার আর জয়নাল হাজারীর পতন। ক্ষনিকের মোহ আর দাম্ভিকতায় ভুলে গিয়ে ভাবা উচিত নয়- নিজের জন্য চার হাত আর অন্যের জন্য সাড়ে তিন হাত, আমরা সবাই সমান, ইহাই সত্য তা প্রমান করে- মসজিদ বা মন্দির কিংবা গীর্জা। হয়তো আজ আপনি; কালকে সে কিংবা আমি বা আমরা; এইটাই ভাগ্যের চক্র।♠♠♠

৫.
♣♣♣ ধ্রুবনীল মফস্বলের আকাঁবাকা মেঠো পথে প্রায় কুসংস্কারে বেড়ে উঠেছে। ভাই'র উপার্জন দিয়ে চলতো তাদের সংসার।
মফস্বলে কুসংস্কারে এতো ভরা যে, ইসলাম ধর্মকেও শ্বাসরুদ্ধ হতে হয়। যেমন - মসজিদের ইমাম শুক্রবার খুৎবা শুরু হওয়ার আগে বয়ান দিয়ে থাকেন, বেগানা মহিলা হারাম, তাদের দিকে তাকানো মহাপাপ। আবার সেই হুজুর ঘন্টার পর ঘন্টা ঐ মহিলাদের সামনে বসিয়ে তাবিজ আর পানিপোড়া দিচ্ছে।

গ্রামগঞ্জে নামাজের পর মুনাজাত না করিলে এই ইমাম সাহেব ভালো না, মিলাদ না পড়লে মহাপাপ হয়, তাও যদি পড়া হয়, দাঁড়ানো কিংবা বসা নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়।
ইসলাম ধর্ম কত সহজ তা পবিত্র কোরআন আর হাদিস না পড়লে কুসংস্কারে থেকে যেতে হবে এবং ইসলামের সহজতা জানা যাবে না ।
আমাদের দেশে ওহাব আর সুন্নী নিয়ে প্রায় তর্ক বিতর্ক হয়, একজনে আরেকজনকে মুসলনমান বলে স্বীকার করে না, তাহলে সাচ্চা মুসলনমান কারা?
সেইদিন জায়গা নিয়ে এক ব্যক্তির সাথে বাকবিতণ্ডা হয়েছে, তিনি একজন আমাদের এলাকায় সম্মানীয় আলেম এবং ইসলামী দলের বড় নেতাও বটে। আমাদের এলাকার মসজিদের কিছু অংশ খাস জমির উপর উঠেছে, এই ব্যাপারে তিনার যুক্তি - সরকারী জায়গায় নামাজ পড়িলে নামাজ হইবে না। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন, প্রত্যেক পবিত্র জায়গায় নামাজ পড়া যাবে। তাহলে ঐ জায়গায় কেন মসজিদ করলে হবে না? ইহা কি কুসংস্কার এবং উগ্রতা নয়?
আর এই সব কুসংস্কারের মাঝে ধ্রুবনীলের বেড়ে উঠা। শৈশব, কৈশর এমনকি এখনো মৌমাছির চাকের মত বন্ধুদের মাঝে জট বেধে থাকে তাদের বন্ধুত্বের বন্ধন। মাঝে মাঝে কেউ ঢিল ছুড়লে সাময়িকের জন্য তারা বিচ্ছেদ হয় কিন্তু আবার এক সাথে মিশে যায় মৌমাছির দলের মত। ধ্রুবনীল আর তার বন্ধুদের বয়স এখন প্রায় ত্রিশের কোটায়।♣♣♣

- নারীর প্রতি তোমার ভক্তি দেখে আমি হতভম্ব। জানো ধ্রুবো! তোমার মত কোনো পুরুষ আমার স্বংস্পর্শে আসলে তবে পৃথিবীতে আমার সব সুখ আমি তাকে দিয়ে দিতাম। ছেড়ে দিতাম অন্ধকারের এই রাসলীলা। পেতে চাই স্বচ্ছ হৃদয়ে কোমল স্পর্শ। এই বলে ইভা আমার পাশে এসে বসলো ।
- হুম! পুরুষ প্রেমের সম্পর্ক শুরু করার আগে থাকে এক চরিত্রের ঠিক যেন কলাফুল আর প্রেমের মাঝে এসে হয়ে যায় শাখের করাত। তাই না ধ্রুবো? নীলার প্রশ্ন।

- তোমাদের জীবনকে পাকা রাস্তার সাথে তুলনা করা যায়, রোদ-বৃষ্টি আর বন্যায় একই থাকো, কোনো পরিবর্তন হয় না। আর পুরুষ; বাদল দিনের আঁকাবাঁকা মেটো পথ। বৃষ্টিতে কাদা, গরমে ধূলাবালি। তবুও তাদের অন্তরে তোমাদের প্রতি থাকে পথের কিনারায় অজস্র সুন্দর মিষ্টি গন্ধ ছোট ছোট ভালবাসার ঘাসফুল। যা তোমরা দেখতে পাও না।

- বেশি বললে কিন্তু..!!
- তেমন কিছু বলিনি। তবে হ্যাঁ পুরুষ নারী লোভী। আর নারী তাদের স্বার্থের কারনে সেই লোভের স্বীকার হয় এবং পুরুষ তোমাদের দৃষ্টিতে হিংস্র হয়ে যায়।
- আমি তোমার কথা মানতে পারলাম না, বললো সুগন্ধা।
- কেন? অন্যায় কিছু বলিনি। বাস্তবতা তোমরা বিশ্বাস করো না। বর্তমানের বিশ্বাসী তোমরা, নীলাভ জল তোমাদের পিপাসা মেটাতে পারো না।
শুনো তবে বলি হে নারী-

"যদি জল হইতাম
তোর তৃষ্ণা মেটাইতাম;
না ! হয়েছি তোর -
নয়নের ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু জল।

যদি তাজা হাসনাহেনা হইতাম
তোকে সুভাষিত করিতাম;
না ! হয়েছি তোর-
ডায়েরীর ভাঁজে শুকনো পাপড়ি।

যদি চাঁদ হইতাম
পূর্নিমা দিয়ে রাখিতাম;
না ! হয়েছি তোর-
ঘুমের ঘোরে রাজকুমার।

যদি জোনাক হইতাম
আঁধার ঘরে আলো দিতাম;
না ! হয়েছি তোর-
পথের দ্বারে ঘাস পোকা।

যদি কাপুরুষ হইতাম
বিষপানে মরিতাম;
না ! হয়েছি তোর -
ভুলে ভরা একজন অমানুষ।"

- কিছু বলার নেই। শুধু এইটুকু বলবো, সবার চরিত্র মাটির ভিতর থেকে পাওয়া নলকূপের পানি নয় ভালোর চাইতে মন্দ লোকের প্রাধান্য বেশি। তাই আজ এতো বিদ্বেষ, হানাহানি আর চোখের জল। সমাজের চোখে আমি নীলা একজন অবলা নারী ছিলাম; যখন অসহায় ছিলাম, আর এই অসহায়তার সুযোগ নিতে ব্যস্ত ছিল সেইসব পুরুষ যাদের জন্য আজ আমি বা আমরা নষ্টা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু কেউ বুকের ভিতরে ছোট্ট একটা মন আছে যার বিশালতা সাত আসমানের চেয়েও বড় তা বুঝতে চেষ্টা করেনি বরং বেশ্যা বলে উপহাস করে ।
এখন দেখ! রাস্তাঘাটে পুরুষরা আমাদের দিকে কুদৃষ্টি দিতে সাহস করে না, কারন আমরা পতিতা।
আর যারা পরকিয়া করে স্বামী বা স্ত্রীর অগোচরে বিছানা গরম করে তারা কি?? তাদের প্রতি মানুষ রুপী কীটদের সম্মান থাকে। ধিক্কার জানাই অন্ধ সমাজকে।

- আমরা পুরুষরা তোমাদের সে বিশাল আসমানের অজস্র তারা গুলো দেখতে পাই না, সেজন্য কখনো ভালবাসার চাঁদ হই, এরপর কিছুদিন গেলে ঘুটঘুটে অমবস্যার অন্ধকারে ছেড়ে চলে যাও। বাইন মাছ যেমন কাদার ভিতর উলট-পালট করে ঠিক তোমাদের চরিত্রও সময়-অসময়ে পরিবর্তন হয়।

- জানি না, তবে নিজেকে বকুল ফুল দাবী করতে পারি। বকুল শুকিয়ে গেলেও অনকে বছর পর্যন্ত মিষ্টি সুবাস দিয়ে যায় যেমনটা আমরাও ভালবাসার সুগন্ধ আমরন পর্যন্ত রাখি স্বপ্নের মানুষটির জন্য।

৬.
♣♣♣ সুখ !! কে সুখী?
জন্মের দিন থেকে শুরু করে মায়ের কোলে দুধ পান বন্ধ করা পর্যন্ত সবাই সুখী।
পৃথিবীতে অভাবের কারনে কেউই সুখী নয়। আর অভাব প্রতিটি মানুষের রয়েছে।
তারপর হাঁটতে শেখার জন্য হাতেখড়ি থেকে শুরু করে; প্রাইমারীর ছাত্র হলে সন্ধ্যার সাথে সাথে ঘুমের সুখ হয় না, মায়ের বকুনির জন্য। উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার টেবিলের জন্য সুখ হয় না, কারন পড়তে তখন কার ভালো লাগে! মহাবিদ্যালয়ে প্রেম মনা,ভালবাসার অভাব।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার সাথে চলতে টাকার অভাব। পড়াশুনা শেষ, তারপর চাকুরীর অভাব। চাকুরী আছে; বৌয়ের অভাব। বৌ হয়েছে কিন্তু বিশ্বাসের অভাব। বাচ্ছা হয়েছে কিন্তু জয়ের অভাব।
অনেক অর্থ হয়েছে,বাড়ি, গাড়ী সব হয়েছে কিন্তু নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত।
কেউ আমরা সুখী নই। তবুও সুখের পিছনে আমরা ছুটে চলি একটু তৃপ্তির জন্য কিন্তু অমানুষ হয়ে যাই। আজ আমরা অমানুষের কাতারে। ♣♣♣

- নিজেকে বকুলফুল দাবী করতে পারো কিন্তু তোমাদের দেওয়া স্মৃতিগুলো শিং মাছের বিষের চাইতেও বেশি যন্ত্রনা দেয়।

জীবন খুব কঠিন গোলক ধাঁধাঁ, জানো?
উত্তর খুজি পাই না; কিসের তরে পৃথিবী বড় নিষ্ঠুর,
ভালো থাকতে দেয় না!
আমি আজ বড্ড অসহায়
পৃথিবীর কৃত্রিমতার সাথে যুদ্ধ করে,
হাঁটু নিচে নেমে ক্ষমা চেয়েছিলাম
কিন্তু চলে যায়
তামাসা দেখিয়ে ।

আমি বড্ড ক্লান্ত
প্রতিক্ষার অবসর
হয়তো আসবে না; শেষ সময়ের আহ্বান
খুঁজি তবুও বেঁচে থাকার
অভিনয়; এইতো বেশ ভালো,
কাল হয়তো কেউ; জল ঢালবে
তুলসী গাছে; আমি তখন
ঐ দূরে হারিয়ে থাকা মিটিমিটি তারা
মূল্যহীন এক অসহায়; উড়ে চলা,
খন্ড খন্ড মেঘের আঁড়াল নিজেকে লুকিয়ে বলবো
ভালো থেকো হে, তুমি আর তোমরা ।

- দেখ ধ্রুবো! নিঃশ্বাস যতদিন আছে ততদিন খাও দাও ফূর্তি করো। দেখবে সময় তোমার পিছনে দৌড়াচ্ছে।

- হতে পারে। কিন্তু স্রোত মাঝে মাঝে উজানে ছুটে বলেই জীবনের সংশয়। তুমি আর আমি বা আমরা যখন কারো সত্য কথা জেনে যাই, তখন আমরা হয়ে যাই খারাপ, আর ক্রিমিনাল ধরনের মানুষ নিজেকে মিথ্যে হিরো হয়ে সময়ের স্রোতে ভেসে চলে। থুথু দিলাম, ভালো রা ভালো থাক আর আমরা খারাপেরা খারাপ হয়ে ভাল থাকার চেষ্টা করি।
কয়টা বাজে?
-০২:৪৫ বাজে, ইভা বললো।

♠♠এর মাঝে সুগন্ধা রাতের খাবার নিয়ে আসল। এক লিটার হুইস্কি শেষ, আছে ছয়টা বিয়ার এবং হাফ রাম। ইভা আর আমি পুরো লোড। নীলা আর সুগন্ধা তেমন বেশি নেয় নাই। ♥♥

- খেয়ে নাও, নীলার অনুরোধ।
- ইচ্ছে করছে না।
- একটু চোখ রাঙ্গিয়ে ধমকের সুরে, খেতে বলছি!!!
- I can't baby. please don't force me for eating. just you take. said - Dhruva.
- don't mess. we will take together. said Eva
-
♣♣♣
আমার জীবনের কোনো একদিন, রাত তখন একটা-
যদি খুব বেশি মন খারাপ হয় তাহলে বাইরে বেরিয়ে পড়ি, গতকালও তাই....
হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো; অচেনা নাম্বার, দ্বিধা ছাড়া রিসিভ করলাম, নিশ্চয়ই কেউ বিপদে পড়েছে।
- হ্যালো!
- ( চুপ ছিলো কিছুক্ষণ ) কেমন আছো?
- আমি স্তম্ভিত! তারপর বললাম - ছয়টি ঋতুর বৈশিষ্ট্য নিয়ে যেমন থাকা যায় তেমনি আছি।
- স্বভাবটা গেলো না বুঝি?
- কি করবো বলো..! মানুষের হায়াৎ নদীর স্রোত কিন্তু স্বভাবতো আর জল নয় যে ভেসে যাবে।
- না পেঁচিয়ে সোজা সাপ্টা উত্তর দেওয়া যায় না?
- জীবনটাইতো হরেক রকম প্যঁচের খেলা।
- হুম! বদলাবে না কখনো তুমি, জিজ্ঞেস করলে নাতো আমি কেমন আছি...!
- বড্ড বেমানান হইতো তাই...
- মানে?
- কাউকে যদি জিজ্ঞেস করি পূর্ণিমা দেখতে কেমন তবে সে কি উত্তর দিবে -ঘোর অন্ধকার...!
- নেই ভালো, তাই কল করেছি...
- কেনো তোমার সে আর তার বাচ্চারা কোথায়?
- আছে
- ভালো নেই কেনো?
- তা তুমি বুঝবেনা...কিছু কি করছো? নাকি আগের মতই?
- আগে ছিলো পড়াশুনা
এখন রাত জেগে স্বপ্ন বুনা
জানতেইতো চাকুরী আমার সয় না,
তবে যেখানে ইহকাল জীবনে মানুষের পাপ কর্মের বিচার হয় সেখানে মাঝে মাঝে আসা যাওয়া ।
- বেশ ভালো, কিছুতো একটা করছো।
- আহা! তোমার মত কাড়ি কাড়ি টাকা নেই, কিন্তু ভাবনা দিয়ে সুখ কিনি আর তাতে চলে আমার নিজের গড়া সংসার।
- বিয়ে করছো কবে?
- বিয়ে! বিয়ে আমার সাথে যায় না, বিয়ে কেনো করে; প্রতিদিন বা দু দিন কিংবা সপ্তাহে নতুবা মাসে দশ পনেরো মিনিটের সুখের জন্য?
সেই সুখ আমি চাই না, তবে বিয়ে করবো না বলে ভেবো না আমি পতিতায় আসক্তি, মোটেও না, ঘেন্না লাগে এইসব।
- বাজে বোকো না, বিয়ে করে নাও।
- বেশি বলছো, বিয়ে ছাড়া কতজন মারা গেলো তার কোনো হিসেব আছে...! ধরো, কোনো এ্যাকসিডেন্ট এ আমার মৃত্যু হয়েছে, এখন যা আছি তা লোক দেখানো রস বিহীন আখ...
- অর্থহীন বোকছো কেন?
- পারবে তুমি সেইদিন গুলো দিতে আবার? মনে আছে তোমার কোনো দিবসে আমাকে একটা পাঞ্জাবী দিয়েছিলে, এইটা গায়ে দিয়ে তোমার সাথে যখন বের হলাম তুমি বলেছিলে- কৃষ্ণচূড়া রঙে তোমাকে বেশ লাগে।

------------------
হঠাৎ ঐপাড়ের একটা আওয়াজে লাইনটা কেটে গেলো....
চুপ করেছিলাম বহুক্ষন আর পিছনে ফিরে গেলাম।
স্বীকার করি, আমরা দুজন-দুজনার দ্বারা প্রতারিত।
- নদী ভাঙ্গনে জলের কি দোষ যদি বৃষ্টি না হয়,
বৃষ্টির কি দোষ গ্রীষ্মের তাপে যদি না শুকায়।
সবই তিনার ইচ্ছা, ভাগ্য নামক যন্ত্র টা যেমন বাজে আমরাও তেমন সুর তুলি তালে বেতাল। ♣♣♣

৭.
♠♠♠ইভার কথা মত সবাই মিলে হালকা করে খেলাম। তারপর নীলার গলায় " জানি একদিন আমি চলে যাবো এই পৃথিবী ছেড়ে" গানটি উপভোগ করলাম। আমি এতো পরিমানের গিলছিলাম আর ফুঁকছিলাম নীলার সহ্য হয়নি মনে হয়, তাই আমার হাত থেকে গ্লাসটি নিয়ে ভেঙ্গে ফেললো। ♠♠♠

- কি সমস্যা তোমার? এতো খাচ্ছো?
- তোমার কি সমস্যা? আলগা পিরিত দেখাইওনা। টাকার বিনিময়ে তোমার এইখানে ড্রিংক করতে এসেছি, ভালবাসা পেতে নয়। so don't disturb please.

- কষ্ট পেলাম, তবে মনে কিছু নেইনি। সত্যিতো তুমি টাকার বিনিময়ে এসেছো, আমার কোনো অধিকার নাই তোমাকে বাঁধা দেওয়ার। কিন্তু আমার সামনে একটা মানুষ হুঁশ হারিয়ে ফেলবে আর আমি তা সহ্য করবো এমন মেয়ে আমি নই। চলো ঘুমাবে।

- আমার ঘুম আসবে না। I need more, please give me.
- No, I won't. try to understand ধ্রুবো, তোমার যদি এইখানে কিছু হয়ে যায় তার দায়ভার কে নিবে?
- কেন! তুমি নিবে।
- আমার ঠেকা নাই, তোমার মত উন্মাদের দায় নেওয়ার।
-ঠিক আছে, একটা কলম আর ডায়েরী নিয়ে আসো, আমি লিখে দেই যে যদি আমার কিছু হয় তার পিছনে কারো লাইবেলিটি থাকবে না।
- হয়েছে আর বকতে হবে না।
- আমি সিগেরেট ধরিয়ে জোরে একটা চিৎকার দিলাম।
π নীলা কেঁদে দিল π
- আমি কি মানুষ নই? যদি মানুষ হই তবে সহানুভূতি কি আমার উচিত নয়?
- ধিক্কার! পুরুষ জাতটাই খারাপ, জানো না। need not sympathy...
- ok, আপনার যা মন চায় তা করেন আমরা গেলাম।
- ঔ, চুপ! কই যাও! কবিতা শুনো---

" নগ্ন আবেগে মন ছুঁইছে কাহার
নব্য জাগরনে স্নান করি আবার,
পিয়াসু প্রজাপতি তোমারও বিহনে
কাতরে রহিলে কামনার নেমন্তনে।
ঝরিয়া পড়িল প্রেম পুষ্প কানন বিলীনে
অন্তর চক্ষু খুঁজিয়া কাঁদে তোমারও স্বরনে,
কাম মিষ্টান্ন স্বাদ ছিলে গুপ্ত মনে
না, আর হইবে না কভু আমারই জীবনে।
পায়রা মন তোমার কামনার ভাব
অনূভুতিতে এই উন্মাদের অভাব,
কিসে ভাঙিল লজ্বাবতীর লাজ
গুনপোকা সর্বক্ষন মস্তকে আজ।
ক্ষয়ে ক্ষয়ে রহিব আয়ুষ্কাল
সখী! এই যাতনা তুমি বুঝিবে দীর্ঘকাল,
ভগ্ন স্বপ্নে ফোঁটা ফোঁটা জল
তুই-কি-তুমি ছাড়া থাকি কেমনে বল।
তাত্ত্বিক মৌনব্রত সুপ্ত প্রেম চর্চায়
জাগতিক নন্দনীয় তুমি গুপ্ত লীলায়,
ভাবনা তরী করিল নীল বিষাদ
রাঙা হৃদয়ে কৌতুহলী তোমার আবাদ।"
- নীলা তোর ঘুম পেয়েছ? তাহলে তুই চলে যা, আমি আর সুগন্ধা আছি।
- না, ঘুম পায় নাই। দেখ! ধ্রুবোকে আর খাওয়াস না।
- আমাদের কি ইচ্ছে করছে!
ধ্রুবো! আর না, চলো আর কিছুক্ষন without drinking আমরা গল্প করি, তারপর সুন্দর করে বিছানায় চলে যাবে। ok dear??
- হুম! ইভা তুমি অনেক ভালো। আচ্ছা বলতো, নারীরা ক্ষনিকের মধ্যে সব ভুলে যায় কেন?
- ভুলতে হয়। আঁকড়ে ধরে কি লাভ?? বরং ক্ষতিকারক বস্তুকে জলে ফেলে দেওয়া ভালো।
- যদি তাই হয় তাহলে আজ আমি ভুলে যাবো অনেক কিছু।
- মানে?
- কিছু না।
- কিছু একটা অবশ্যই লুকায়িত। বলতে না চাইলে বলিও না।
ধ্রুবো, জ্বলন্ত সিগেরেট দিয়ে ঐ ঠোঁট না পুড়ে, আসো আমি কিস্ করে তোমার ঠোঁটের চাহিদা মিটিয়ে দেই, এই বলে ইভা আমাকে চোখ টিব দিল।
- হেসে দিয়ে বললাম, চুম্বনেই কি প্রেম??
- না, আবেগ মিশ্রিত ভালবাসার প্রতিফলন চুম্বন।
- তাই বলে বারবার ভালবাসবো আর বারবার ঠোঁট পরিবর্তনে আবেগের জয় সাধন করবো!! অসাধরন যুক্তি। এই না হয় নারী!!

- যুগ আর সংস্কৃতির পরিবর্তনে নিজেকে বদলাতে হয়। নতুবা পরাজয়ের গ্লানী টানতে টানতে একদম ক্লান্ত আর আঁড় চোখের পাত্র হবে। সুতরাং বদলাও।
- বললেই কি বদলানো যায়? ভুলে থাকা যায়? সবার দ্বারা সব কিছু হয় না। এই ধরো আমি, হাজার বার চেষ্টা করেও "বিশ্বাসঘাতকতা" শব্দটি ভুলতে পারছি না। যা আমাকে খুব যন্ত্রনা দিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ বুঝতে চায় না। যারা বুঝে তারা ঠাট্টা করে, তামাসা করে। আমি......!
- দিঘীর জলে থাকা পোকামাকড় বেশিদিন বাঁচে না। তাই ভেঙ্গে পড়ো না।। জীবনকে লাল শাপলা করে তুলো।
- কতদিন চলিবে!! হিসেবের খাতা আঁকি-ঝুঁকিতে প্রায় মধ্যভাগ শেষ।
- পৃথিবীর কষ্ট সহ্য হয় না, তাহলে মৃত্যুর পরের কষ্ট কি করে সইবে??

...................................চলবে।
| নিস্তব্দ নিশীতে আপোষহীন আমি |
ইকরামুল শামীম

বিভাগ: 

Comments

অর্ধমানব এর ছবি
 

♥♥♥♥♥♥

 
ইকরামুল শামীম এর ছবি
 

খুব শীঘ্রই

ইকরামুল শামীম

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইকরামুল শামীম
ইকরামুল শামীম এর ছবি
Offline
Last seen: 18 ঘন্টা 36 min ago
Joined: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 7, 2017 - 7:42অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর