নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

সংখ্যালঘু নির্যাতন: দুর্বৃত্তদের ‘দল’ আছে


শুক্রবার রামকৃষ্ণ মিশনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “মাইনোরিটিদের মন্দির ভাংচুর হয়, বাড়িঘর দখল হয়, তাদের জমি-জমা দখল হয়, এরা কারা? দলীয় পরিচয় ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু দুর্বৃত্তের কোনো দল নেই। এই দুর্বৃত্তদের আক্রমণের ভয়ে আপনারা আপনাদের মাতৃভূমি ত্যাগ করবেন না।”

ভয়ে পালাবেন না, পাল্টা আক্রমণ করবেন: হিন্দুদের কাদের

কাদের মহাশয়ের “দুর্বৃত্তের কোনো দল নেই”- এই কথা মেনে নিতে পারছি না আমরা। এদেশে গত কয়েক বছরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেখানে দুর্বৃত্তদের একটা বড় অংশই ক্ষমতাসীন দলের এবং দুর্বৃত্তপনা করার কারণে শাস্তি হয়েছে, এমন নজিরও দেখিনি আমরা। কারণ দুর্বৃত্তদের ‘দল’ আছে, তা কাদের মহাশয় যতোই অস্বীকার করুক না কেন! দল আছে বলেই পার পায় দুর্বৃত্তরা।

আসকের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ১৯২টি বাসস্থান, ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ১৯৭টি প্রতিমা, পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, ৫টি জমি ও বসতবাড়ি দখলের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৬৭ জন আহত ও ৭ জন নিহত হন। আসকের আরেকটি হিসেবে, গত ৫ বছরে বাংলাদেশে ২৮০৩টি হিন্দু বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অথচ পুলিশের হিসেবে, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ২৭৩টি। দলীয় নেতাকর্মীদের চাপে পুলিশ মামলা নেয়নি কিংবা বাদীরা মামলা করার সাহস পায়নি আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কায়- এমন ঘটনা অসংখ্য। কয়েকটা উদাহরণ গণমাধ্যম ঘেটে বলছি।

(১) ২০১৩ সালে পাবনার সাথিয়া উপজেলার বনগ্রাম বাজারে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে অর্ধশত হিন্দু বাড়ীঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেই হামলার সময় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিএনপি জামায়াত এবং সাধারণ মানুষের সংশ্লিষ্টতা ছিল- এমন তথ্যই উঠে এসেছে গণমাধ্যমগুলোতে। অথচ এই মামলার অনেক আসামী জামিনে মুক্ত। এমনকি মামলা থেকে নাম কাটানোর চাপও আছে বাদীর ওপর।দলের নেতারা তাদের নিজেদের ছেলেদের নানাভাবে মামলা থেকে রক্ষার চেষ্টায় তৎপর।

(২) দলীয় পরিচয় না থাকায় নিরীহ গরিব জেলে রসরাজ দাসের ক্ষেত্রে চিত্রটা কেমন, তা আবার মনে করিয়ে দেই। ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে গত বছরের অক্টোবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫টি মন্দির ও অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রশাসনের পাহারার মধ্যেও আরও তিন দফায় মন্দির ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মূল অপরাধীদের সাজা দেওয়ার বদলে নিরীহ রসরাজকেই জেলে থাকতে হয়েছে, ৫৭ ধারায় মামলা খেতে হয়েছে এবং আইনী ভোগান্তি তো আছেই।

(৩) ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদপুষ্ট এমপি সেলিম ওসমানের সামনে কান ধরে ওঠবস করতে হয়। এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বলছে, শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। অথচ এখনও নানাভাবে এই শিক্ষককে ভুগতে হচ্ছে, এমনকি তার জীবনের নিরাপত্তাও শঙ্কার মুখে। কারণ,শ্যামল কান্তির দলীয় পরিচয় নেই, সেলিম ওসমানের আছে।

(৪) ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি তারিখে ‘অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলন’-এর এক সংবাদ সম্মেলনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল দাবি করেন, ঠাকুরগাঁওয়ের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল ও হামলার বিষয়ে সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম ও তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম সরাসরি জড়িত। ফরিদপুরে এ ধরনের একটি ঘটনায় একজন মন্ত্রীর নামও এসেছে।

একই সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ বলেছেন, পিরোজপুরের সংসদে এ কে এম এ আউয়াল সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করছেন। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ক্ষত্রিয় পরিবারের ৫৫টি পরিবারের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন হচ্ছে। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।

(৫) কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে সরকার দলীয়দের সম্পৃক্ততার খবর। মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী কক্সবাজার জেলা দায়রা ও জজ আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মমতাজ আহমদ জানান, “মামলার অভিযুক্তরা চিহ্নিত অপরাধি এবং প্রভাবশালী পর্যায়ের। একই সঙ্গে আসামী রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীও। অভিযোগ উঠেছে এসব আসামীরা সাক্ষীকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।”

“হামলার ঘটনার আগে যারা মিছিল-মিটিং করেছে, লোকজন জড়ো করে উসকানি দিয়েছে, মিছিল সহকারে হামলা সংঘটিত করেছে, তারা এখন প্রকাশ্যে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের অনেকের নাম আসামি হিসেবে মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকলেও পরে প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগ থেকে বাদ পড়েছে।”


আর বেশি উদাহরণ না দেই। স্বাধীনতার পর জমি দখল, লুটপাট, সাম্প্রদায়িক মনোভাব ইত্যাদি নানা কারণে বাংলাদেশের মাটিতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের এই ধারা অব্যাহত রেখেছে ক্ষমতায় থাকা প্রত্যেকটি দলই। ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে প্রতি বছর। লুটপাট ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির লাগামহীন বিকাশের ধারাবাহিকতায় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা লাঘবে দারুণ ভূমিকা রেখে চলেছে নানা সময়ে ক্ষমতাসীন দলগুলো। নীরব দর্শক হিসেবে প্রশাসনও ব্যাপারটায় বেশ সহযোগী ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রতি বছর পূজার সময় এলে প্রতিমা ভাংচুরকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর এসব ঘটনায় দলীয় লোকজন যদি শিল্পী হয়ে থাকেন, তাহলে তার কিচ্ছুটি হবে না।
তবে নানা অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক 'রা' হিসেবে নেতারা বার বার ইনিয়ে-বিনিয়ে বলতে থাকেন- আমরা সংখ্যালঘুদের পাশে আছি। এই দেশ আপনাদেরও। সরকার আপনাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সদা তৎপর…ব্লা…ব্লা…ব্লা ব্লা…! হাস্যকর শোনায়!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফাহিমা কানিজ লাভা
ফাহিমা কানিজ লাভা এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 7 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 16, 2014 - 2:55অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর