নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মিশু মিলন
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

আইন-আদালত ও বিচার ব্যবস্থার চলমান ডকুমেন্টারি অরিন্দম শীলের 'ধনঞ্জয়'



"আপনি বড় অফিসার। দেখবেন, যে কোনও অভিযোগের তদন্ত যেনো ঠিকঠাক হয়"।

২০০৪ সালের ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে কাকভোরে প্রত্যেকটি বাংলাভাষী পত্র-পত্রিকায় ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যয়ের ফাঁসি কার্যকরের খবরটি প্রধান শিরোনাম হিসেবে আসে। গোটা কলকাতা তখন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলো ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যয়ের ফাঁসিতে। তখনকার ইংরেজি পত্র-পত্রিকার সূত্র ধরে তা গোটা ভারতে সেই খবরটি ছড়িয়ে যায়। মানুষজন এই বিচারিক রায় কার্যকরকে ন্যায় বিচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে আবারও আদালত ও ভিকটিমের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন। সমস্ত ভারতের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ার বদৌলতে সেসময় এই ফাঁসিটি দেশের রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত, নানাবিদ ভু-রাজনৈতিক সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে এই ফাঁসি কার্যকরই তখনকার দিনগুলিতে লোকজনকে মাতিয়ে রেখেছিলো। মিডিয়ার কল্যাণে তা বহির্বিশ্বেও জানাজানি হয়। মোদ্দাকথা কলকাতার ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁসির আগে ও পরে তখনকার বাংলাভাষী পত্র-পত্রিকার ভূমিকা ছিলো উল্লেখযোগ্য। আদালত পর্যন্ত সেসময় মিডিয়ার ভূমিকায় বেশ বিব্রত ছিলেন!

১৯৯০ সালের ৫ মার্চ কলকাতার পদ্মপুকুর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় একটি লাশ। যার বয়স আঠারো। তিনি বিশ্ববিদ্যলয়েসবে পড়েন বা ভর্তি হয়েছেন। তাঁর শরীরে একুশটি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশ নথিতে জানা যায় যে, ফ্ল্যাটের যে স্থান থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয় তার আশপাশ রক্তাক্ত ছিলো। শরীরও রক্তাক্ত ছিলো। তাঁর নাম হেতাল পারেখ। পুলিশ নথি ও মামলার বিবরণীতে দেখা যায় যে, ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে এই হেতাল পারেখের বাসায় নাকি ঢুকতে দেখা গেছে। স্বাক্ষী হলেন এই এপার্টমেন্টের লিফটম্যান। এই ফাঁকে জানিয়ে রাখা ভালো যে, আসামী ও ফাঁসি দণ্ডপ্রাপ্ত ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় হলেন এই এপার্টমেন্টের নিরাপত্তাকর্মী। অর্থাৎ নিহত হেতাল পারেখদের এপার্টমেন্টের নিরাপত্তাকর্মী। পড়াশুনো সেই অর্থে খুব একটা নেই। সংসারে মা-বাবা ছাড়া আরও এক ভাই। আর স্ত্রী। এই হলো ধনঞ্জয়!

এইরকম হত্যাকাণ্ডের পর ঠিক গুণেগুণে দুই মাস পর ১২ মে, ১৯৯০ সালে বাঁকুড়ার কুলুডিহি গ্রাম থেকে আসামী ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে বাঁকুড়া পুলিশ। এরপর টানা চৌদ্দ বছর এ মামলা চলে। এই মামলা সেই সময় নানা কাহিনি জন্ম দিয়েছিলো। কলকাতা সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা তখন আলোচিত মামলার মধ্যে একটি ছিলো। বিচারিক কার্যক্রমের নানান চুলচেরা বিশ্লেশণের পর আদালত রায় দেন। রায় স্বভাবতই ধনঞ্জয়ের বিপক্ষে যায়। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আদালত এই মামলার ইতি টানেন। এরপর জল গড়িয়ে ছিলো অনেক দূর। নানান মানবাধিকার সংস্থা বিচারিক বিধি-ব্যবস্থার ব্যপারে প্রশ্ন না তুললেও ফাঁসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। চলে আদলতের ভেতর-বাহির নানান আলাপ-আলোচনা। চলে নানান চুলচেরা বিশ্লেষণ। তর্ক-বিতর্ক যখন চলছে তখন আদালত ও আইনজীবীদের মধ্যেও এই ধনঞ্জয়ের ফাঁসি নিয়ে নানান বিচারিক তর্ক, পাল্টা তর্ক উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে। এরমধ্যে ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় প্রাণ ভিক্ষে চেয়ে বসেন। সুপ্রিমকোর্ট, রাজ্যপাল হয়ে রাষ্ট্রপতি অবধি তা গড়ায়। ফাঁসি আপাতত পিছিয়ে যায়। এক সময় তা খারিজ হয়েও যায়। তাড়াহুড়ো করে ২০০৪ সালের স্বাধীনতার আগের রাতে, ভোরে আসামী ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

"ভালো লাগলে এনজয়, ধরা পড়লে ধনঞ্জয়"!

এই মামলাটি এতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর যে তা দীর্ঘ চৌদ্দটি বছর ধরে এর বিচারিক কার্যক্রম শেষে তা রায় হয়েছে। দণ্ড কার্যকরও হয়েছে। কিন্তু আছে অনেক, আছে অনেক ফাঁকফোকরও। সেই সব ফাঁকফোকর নিয়ে বিচারকদের মধ্যেও স্পষ্টত নানান বিভাজন ছিলো। ছিলো আইনজীবীদের মধ্যেও। এই মামলার পুলিশ নথি ও প্রসিকিউশনের বক্তব্যে দেখা যায় যে আসামি ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে হেতাল পারেখের ফ্ল্যাটের দিকে লিফটে করে যেতে দেখা যায়। অথচ লিফটম্যান বলেছেন তিনি তা দেখেন নি, বলেননি! তারপর ধরেন ভিক্টিমের শরীরের একুশটি গুরুতর আঘাত ছিলো। ধারণা করা হয় যে তাঁকে হত্যার আগে আগে ধর্ষণ করা হয়। পরে অবশ্য ফরেনসিক রিপোর্ট তা পরিষ্কার করতে পারে নি! ধর্ষণ নাকি স্বাভাবিক মিলন তাও অস্পষ্ট! পুলিশের বয়ান, রিপোর্ট, স্বাক্ষ্য, প্রসিকিউশনের বয়ান হয়ে মোটিভ, অ্যালিবাই, ফ্ল্যাটের আর্কিটেকচারাল ডিজাইন, প্রাথমিক এভিডেন্স, ফরেন্সিক রিপোর্ট, কিছুই বাদ যায়না। সব কেমন যেনো ঘোলাটে। অস্পষ্ট! হাজারও অসঙ্গতি নিয়ে এই মামলার রায় হয়েছে। যেখানে ধনঞ্জয়ের চুল থেকে বীর্য লালা এসব ভিক্টিমের শরীরে কোনো না কোনো ভাবে থাকবেই থাকবে। বায়োলজিক্যাল মেটারিয়ালের ডিএনএ প্রোফাইলিং করে তা জানা খুবই সহজ ও এখনও পর্যন্ত ধর্ষণ কিংবা ভয়াবহ নানান হত্যাকাণ্ডে এটাই বিজ্ঞান সম্মত উপায়। অথচ এই মামলায় তা হয় নি!

মামলা চলাকালীন কেনো এসব প্রশ্ন উঠেনি সেটাই বিস্ময়! সমস্ত সম্ভব-অসম্ভব, সবকিছুকে পায়ে ঠেলে আইন-আদালতের ভয়াবহ একটি অন্ধকার দিক এই মামলায় দেখা যায়। এইসব সম্ভাবনাময় দিকগুলোকে সরিয়ে আইনকে পুঁজি করে যখন অসহায় বাদি-বিবাদিদের ন্যায় বিচার ঝুলে পড়ে তখন আইন-আদালত ও বিচার সবই গ্রিক নিয়তিবাদে গিয়ে পতিত হয়। বিচার নয়, এ যেনো ঈশ্বরের ক্রূর হাসি মনে হয়! মানুষ সেই ঈশ্বরের জায়গায় বসে মানুষকে পুঁজি করে মানুষকে মারে, বাঁচায়ও!

ফাঁসির আগে নাকি ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বলেছিলো,"আমি নিরপরাধ। গরিব বলে আমার ফাঁসি হচ্ছে।" জানি এই কথা শুনে মনে হবে যে এ ওইরকম করে সবাই বলে। এ আর নতুন কী! হ্যাঁ, এইসব নানা প্রশ্নের উত্তর আমরা কলকাতার সিনেমা পরিচালক অরিন্দম শীলের অতি সাম্প্রতিক 'ধনঞ্জয়' সিনেমায় পাবো। সিনেমা পরিচালক হিসেবে অরিন্দম শীল নিজের জাত আগেও নানান সিনেমায় দেখিয়েছেন। এবার যেনো মনে হলো না, এই লোক সিনেমা করতেই এসেছেন! সত্যিই পুরো দুই ঘন্টা ত্রিশ মিনিট ধরে চলা এই সিনেমায় নানা সময় একটু-আধটু গতি কম হলেও বা মাঝেমধ্যে ঝুলে পড়লেও কাহিনি বলা ও আদালত পাড়া হয়ে অতীত-বর্তমান ধারাবাহিক করে দেখিয়েছেন। ঠাশ বুনটের না হলেও দেখতে বসলে উঠে দাঁড়ানো মুশকিল হবে। সত্যি এইরকম বায়োগ্রাফি বেইজড বাংলা সিনেমা হালে কমই আছে।

মিমি চক্রবর্তী মূলত কলকাতার মেইনস্ট্রিম সিনেমার পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। কিন্তু এই সিনেমায় যে অভিনয় করেছেন তা সত্যি তার প্রশংসা না করলেই নয়। নবাগত আইনজীবির ভূমিকায় মিমি অনবদ্য অভিনয় করেছেন। সিনিয়র হিসেবে কৌশিক সেন বরাবরের মতোই ভালো করেছেন। এঁর অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই। কৌশিক সেন তাঁর মতো অনবদ্য, সাবলীল ও সহজ। আর ভিক্টিম হেতাল পারেখের মায়ের ভূমিকায় সুদীপ্তা চক্রবর্তী অসাধারণ করেছেন। অবাঙালি হেতাল পারেখের মায়ের ভূমিকায় তিনি যেভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন তা সুদীপ্তা ছাড়া ঠিক অন্য কাউকে খুব একটা ভালো লাগতো না। শোকাক্রান্ত মায়ের যে রূপ, হাহাকার, যে শাসন, যে ট্যাবু তা সুদীপ্তা চক্রবর্তী যতক্ষণ পর্দায় ছিলেন হাঁ করে গিলতে হয়েছে! জয়তু অরিন্দম শীল!

বিভাগ: 

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

সিনেমাটির গল্প বলার ঢং অসাধারণ লেগেছে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মনির হোসাইন
মনির হোসাইন এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 6 দিন ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 20, 2013 - 10:17অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর