নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • লিটমাইসোলজিক
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • কাঠমোল্লা
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • জহিরুল ইসলাম

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

নিজের জন্য নোট - ১ (ডায়েরি এবং প্রেম)


এই কথা কিংবা জীবনের সত্য গল্পগুলো অনেক আগেই নিজের জন্য লিখবার প্ল্যান ছিল। বিব্রত হওয়ার ভয়ে আর সময়ে অসময়ে মাথা থেকে সরে যাওয়ার কারণে অগ্রসর হই নাই। কয়দিন আগে আমার পুরোনো কিছু ডায়রি বের করে পড়ছিলাম। স্বাভাবিক সময়ে অনেককিছুই মাথায় থাকে না। পড়তে পড়তে ফ্ল্যাশব্যাকে যাচ্ছিলাম অনেক স্মৃতির। পড়তে পড়তে হাসছিলাম, উপরেও হয়ত তাকাচ্ছিলাম। তাকিয়ে ভাবছিলাম, তখন জানি আর কী কী হইছিল?! ক্লাস সিক্স সেভেন থেকে ডায়রিগুলো আবার নিজের আবিস্কৃত ভাষায় লেখা শুরু করি। কারণ, আমার ভাই আমার ডায়রি পড়ে ফেলত। আমার আম্মুও পড়ত। নিজস্ব অক্ষর, শতশত শব্দ আর ব্যাক্যরীতি ঠিক করি। এইসব করি যাতে কেউ অক্ষরগুলো বুঝতে পারলেও যেন ভিতরে কী লেখা তা ধরতে না পারে। যেমন, দিনের নামগুলো জার্মান ভাষার, সন্টাগ, মন্টাগ, ডিন্সটাগ, সোনাবেন্ত এভাবে লিখতাম। এক, দুই, তিন উচ্চারণ আরবীর। বাক্য লেখা শুরু করতাম আরবীর মত রাইট টূ লেফটে, কিন্তু পরবর্তী লাইন আবার লেফট টূ রাইটে। কলেজ পর্যন্ত এভাবেই লিখতাম। পৃথিবীর একটা লিখিত রুপ আমার একার।

নিজে বেশকিছুর ট্রেস পাচ্ছিলাম না। বছরখানেক আগে কিছু খুঁজে পাই। আম্মু হয়ত একসময় পেয়ে যত্ন করে আলাদা রেখে দিছিল। প্রথম ডায়রিটাকে আসলে ডায়েরি বলা যাবে না। বলতে হবে মাল্টি পারপাস খাতা। সাদা কাগজ কেটে স্টেপল করে উপরের পেজে রঙ করে, ছবি এঁকে লেখা ছিল, "আমার ডায়েরী"। প্রথমে শুরু রুপকথা দিয়ে, সেটা সম্ভবত ক্লাস ওয়ানের দিকে লেখা একটা রুপকথা, নাম "চল্লাশপুরের রাজপুত্র"। প্রথম ছড়া, "আমার কত শখ, বড় হয়ে আমি হব মস্ত বড় পাইলট।" আর সেকেন্ড আরেকটা, "ছোটটো (ছোট্ট না) পাখি, এ ঢাল থেকে ও ডালে লাফিয়ে বেড়াও তুমি, আমি তোমার নাম জানি, তোমার নাম টুনটুনি।" এর মাঝে মাঝে দিনলিপি টাইপ লেখা আছে। যেমন, নানুবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম, ওই ডায়েরি সহ। লেখা আছে, "আজকে মামী দশটাকা দিল, হাট আছে বিকালে।" কিংবা কী কী করে বেড়াচ্ছি তার বর্ণনা, যেমন, "আজকে সৈকত আর বাবুদের সাথে বিলে গিয়ে সিংরা (একধরণের ফল, শাপলার কিছু একটা হবে হয়ত) আর ব্যাট (এটাও এমন, ভাঙলে ভিতরে দানা দানা থাকত) খেলাম। বিকেলে খেত (ক্ষেত) থেকে আলু চুরি করে পুড়িয়ে খেয়েছি (খাওয়াটা মজার থাকত না, চুরিটা থ্রিলিং আর পোড়ানোর পর্যায়টা মজার ছিল)।"

এরপর থেকে নানা পর্যায়ের ফাঁকে ফাঁকে অনেক স্মৃতি। এখন মনে করতে চেষ্টা করতেছি ঠিক কবে প্রথম প্রেমানুভূতি জাগে। ডায়েরীতে আমার প্রেম পিরিতের ব্যাপারে শিশুকালের তেমন কোন লেখা নাই। যা লেখা সব ওই কোড ল্যাঙ্গুয়েজে, বয়স ভাবলে অনেক পরে, কৌশোরে। শুরুর দিকে, মানে একদম শিশুকালে মনে হয় বর্ণ বিদ্বেষী ছিলাম। ফর্সা, সুন্দর আপুদের বেশি ভালোলাগতো। নার্সারী-কেজির সময়ে আমাদের টিচার ছিল কী নামের এক আপা যেন, এখন ঠিক মনে পড়তেছে না। উনার বোন ছিল আমার চেয়ে অনেক বড়, নাইন টেন হবে হয়ত। ফর্সা, গোল গোল চোখ আর ইয়া লম্বা সিল্কি চুল ছিল। দেখতে আমার মুগ্ধ-শিশুচোখে ছিল অপ্সরী। আসরের আজানের পর বাইরে হাঁটতে নামতো। যেই রুটে নামত, আমি রোজ বিকেলে ওই রুটে একবার হইলেও ঢু মারতাম। আমি এখনও যখন ওই সময়ের কথা ভাবতেছি, ভাবতে ভাবতে হাসতেছি, তখন মনে হচ্ছে ওইটাও প্রেম ছিল, ফার্স্ট ইনফ্যাচুয়েশন। কখন কবে এলাকা ছেড়ে চলে গেছিলেন ঠিক মনে পড়ে না, স্মৃতি বিশ্বাসঘাতক।

সেকেন্ড মনে হয় নীতু। আমাদের দোতালায় থাকতো। ক্লাস ওয়ান টুর দিকে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। বেশিরকম কিউট আর সুন্দরী বাবু হওয়ার কারণে বেশিমাত্রায় পছন্দ ছিল। ছোট থাকতে ওদের বাসায় নিয়ে একসাথে খাওয়ানোর আর একবার বিজয় দিবসের যেমন খুশি তেমন সাজোতে আমাকে শাড়ি পরানোর আবছা স্মৃতি মনে আছে। ওরাও একদম পিচ্চি থাকতে চলে যায়। আমার অনেকদিন মনখারাপ ছিল। নীতু নাম এখন পর্যন্ত অকারণেই আমার ব্যাপক পছন্দ, হুমায়ুনী প্রভাবে না। এরপর হিন্দু একটা অল্প বড় আপু, তনুশ্রী নাম ছিল, ওর কথা মনে আছে। ভালোলাগার কারণ ওই একই, সুন্দরী ছিল ব্যাপক, ফর্সাও।

এরপর এত মনে নাই। কিন্তু রীতি ভাঙা ভালোলাগার শুরু যাকে দিয়ে তার নাম, "ন"। ক্লাস ফাইভ সিক্স পর্যন্ত আমাদের হাউজিং এ ছিল, আমাদের তিনতলায়। সমবয়সী কিন্তু এক ক্লাস জুনিয়র। আমার সবচেয়ে প্রিয় এবং গোপনে হিংসুক বন্ধু "ড"-র "ন"-র উপর গোপন ক্রাশ ছিল। "ন" একবার বিব্রত করতে আমার আম্মুকে এসে বলছিল, "আমি বড় হলে "ত" ভাইয়াকে বিয়ে করব (আমার নাম ত)।" এই নির্লজ্জ্ব বক্তব্যের পর আমি আনইজি থাকতাম। মেয়েদের তুলনায় লম্বা, আর পিওর শ্যামলা ছিল। আমার দূর্বলতার কারণ ছিল মনে হয় কনভিন্সিং ভয়েস আর বিশুদ্ধ উচ্চারণ। আমার হিংসুক প্রিয় বন্ধু ড, যে রেগুলার আমার হোমওয়ার্কের খাতা চুরি করে ছিড়ে ফেলত, সে একবার এক ঈদের আগের চাঁদরাতে বাসার সামনের দেয়ালে নানা জায়গায় লিখে রাখে "ত+ন"। আমি লজ্জায় ওই ঈদে বাসা থেকে বের হতে পারি নাই। ঈদের দিন ও আমাকে বাসায় ডাকতে আসে। আমি বলি, 'কি লিখে রাখছে দেখছিস?" ন উত্তর দিল, লিখে রেখেছে তো কী হয়েছে? এসবে পাত্তা দিও না।" কিংবা এমনকিছু। আমি তুই করে বলতাম, ন তুমি করে এবং ত ভাইয়া বলেই। তখন মনে হয় ক্লাস থ্রি-ফোর। জীবনে প্রথমবারের মত অজান্তেই বুঝি, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে মানসিক ম্যাচিউরিটিতে বেশ অনেকবছর এগিয়ে থাকে। ওর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতাম, একসাথে থাকতে, কথা বলতে ভাল লাগত। সেই অপরিণত বয়সেই অনেকবার মনে করেছি বলা যায়, তোকে আমার পছন্দ। ভাবতাম বলি, আমার তোকে পছন্দ কিন্তু চুমু খাওয়া যাবে না, চুমু খেলে বাচ্চা হয়। সন্তান কিভাবে হয় এটা প্রথম জানি সম্ভবত ক্লাস সেভেনের পর। কিন্তু অল্প কয়বছর পর চলে যায় কল্যাণপুর। আমি ক্লাস এইট কিংবা নাইন পর্যন্ত ডায়েরীতে মাঝে মাঝেই ওর কথা লিখতাম, সেগুলোও পড়ছিলাম কিছুদিন আগে। আমার শ্যামা মেয়েতে অবসেশন শুরু মনে হয় তখন থেকে। আফসোস, জীবনে এরপর আরও কতবার প্রেমে পড়লাম, প্রেমে পড়ে হাত-পা ভাঙলাম, আহত নিহত হইলাম, কিন্তু শ্যামা মেয়ের সাথে খাপে খাপ হইল না কখনো।

প্রাথমিক স্মৃতিচারণ মোটামুটি সংক্ষেপে শেষ করলাম। ক্লাস এইট নাইনের পরের কাহিনির অনেক অংশ লেখাও আছে, দীর্ঘ। কিন্তু কখনো এর পরের কাহিনিগুলো লেখা হবে নাকি এখনো নিশ্চিত না।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 8 ঘন্টা ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর