নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • প্রত্যয় প্রকাশ
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ও তাদের বেঁচে থাকার অধিকার।


মানুষের সবচেয়ে বড় যে অধিকার, তা হলো বেঁচে থাকার অধিকার। অথচ এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা এতটাই বর্বর ও ঘৃণ্য জীবন যাপন করছি যা ভাবতেও অবাক লাগে। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের'ই নেই আজ বেঁচে থাকার অধিকার। এর অন্যতম একটি উদাহরণ হচ্ছে রোহিঙ্গা জাতি। রোহিঙ্গাদের মূল পরিচয় মানুষ না, তাদের আসল পরিচয় হচ্ছে তারা মুসলমান। মায়ানমার সরকার তাদেরকে সন্ত্রাসী ও মাদক পাচারকারী বলে অবহিত করে যেমন ধাওয়া করছে তার চেয়ে বড় কারন হিসেবে লক্ষ্য করা যায় রোহিঙ্গারা মুসলমান। আর এটাই যেন তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ। সরকারের বিরোধটা যেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয় বিরোধটা ধর্মের বিরুদ্ধে। ঠিক একই কায়দায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। সবগুলো আক্রমণ বা দাঙ্গার মূল ইস্যু হিসেবে ধরা যায় বিভিন্ন ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা। ধর্ম যেন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার টুকুও কেড়ে নিতে চাইছে।

রাখাইন বা আরাকান রাজ্যে আরবদের আগমন ঘটে অষ্টম শতাব্দীকালে। পরবর্তীতে তাঁদেরকে রোহিঙ্গা নামে অবহিত করা হয়। রোহিঙ্গারা সকল সময়'ই ধর্মীয় ধ্যান-ধারনার কারনে মায়ানমারে নির্যাতিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি সময়ের নির্যাতন এতটাই প্রকট রূপ ধারন করেছে যার কথা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অথচ বিশ্বের বড় বড় মানবতার সংস্থা গুলোর সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে তারা। কিন্তু শান্তির আশায় তারা যেখানে যাচ্ছে সেখানে কি আসলে শান্তি মিলছে? সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা আসছে বাংলাদেশে। তারা প্রাণের ভয়ে যে দেশেই যাচ্ছে সেখানেই নানান রকম হয়রানির শিকার হচ্ছে। কখনো মানুষের দ্বারা আবার কখনোবা প্রাকৃতিক কারণে।

মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগ'ই নারী ও শিশু। নারীরা এখানে এসে তাদের সম্ভ্রম হারাচ্ছে একদল হায়েনার কাছে। অনেকটা এক জনের ঘর পোড়া, আর অন্য জনের আলু পোড়ার ব্যবস্থা। অন্যদিকে শিশুদের অবস্থা আরো খারাপ। তাদের শারীরিক কাঠামো এখনো এতটা মজবুত হয়নি যে, যেকোন পরিবেশে তারা স্বাভাবিক ভাবে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে। সারাদিনের অনাহার আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের বেঁচে থাকাটা একেবারে দুর্বিষহ করে তুলছে। একটি শিশু জন্মগত ভাবে কিছু শিখে আসেনা। পরিবার, আশেপাশের পরিবেশ ও সমাজ থেকেই তারা শিক্ষা লাভ করে। তাহলে মায়ানমার সরকার কেন তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার চিন্তা বাদ দিয়ে সন্ত্রাসী বা মাদক পাচারকারী হবে এমন ধারনা পোষণ করছে? শিশুরা সন্ত্রাসের কি বুঝে আর শান্তির'ই বা কি বুঝে? উত্তরটা হয়ত একই, তারা সংখ্যালঘু, তারা মানুষ না, তারা মুুসলমান। তাই প্রাণের ভয়ে তাদেরকে ছুটতে হচ্ছে দিনরাত।

বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বন্যার চাপ কাটতে না কাটতেই রোহিঙ্গাদের প্রবেশ বাংলাদেশকে ফেলেছে নতুন চাপে। বন্যা দুুর্গতদের পুনর্বাসন যেখানে সঠিক ভাবে করা সম্ভব হচ্ছেনা সেখানে বহিরাগত এতগুলো লোকের পুনর্বাসন করা বাংলাদেশের মত একটি দেশের পক্ষে কিভাবে সম্ভব? প্রশ্নটি অনেকের মনেই দোলা দিয়েছে। কিন্তু যে বাঁচার তাগিদে এত দৌড় ঝাপ পাড়ছে তাকে তো আগে বাঁচানোই মানুষের কর্তব্য। হয়ত তারই চেষ্টা করছে বাংলাদেশের জনগণ (কিছু সংখ্যক কুলাঙ্গার বাদ দিয়ে)।

এবার আসা যাক একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে। মিডিয়ার সৌজন্যেই রোহিঙ্গাদের বিষয়টি এতটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চলমান বিশ্বে একটি অন্যতম আলোচ্য বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গা নির্যাতন। আজ নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য যে ত্রাণ সামগ্রী আসছে তার পেছনে মিডিয়া ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু একদল স্বার্থলোভী ভন্ড তাদের নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দাঙ্গা, দুর্ঘটনা ইত্যাদির নৃশংস অনেক ছবি রোহিঙ্গা নির্যাতনের সাথে জুড়ে দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। আর তার সাথে যুক্ত করছে ধর্মীয় ধ্যান-ধারনার বিভিন্ন নীতিবাক্য। সাধারণ জনগণ তা নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করছে।

শেষ কথা হলো, আর কতদিন সংখ্যালঘু হওয়ার কারনে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধর্মের লোকদের এভাবে নির্যাতিত হতে হবে? আর কতদিন মানুষ তার বাঁচার অধিকার হারিয়ে ফেলবে বিভিন্ন ধর্মীয় গোড়ামীর কাছে? মানুষ কবে পাবে সংখ্যালঘু হওয়ার পরও মানুষের মর্যাদা আর বেঁচে থাকার অধিকার?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মোঃ যীশুকৃষ্ণ
মোঃ যীশুকৃষ্ণ এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 23 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, এপ্রিল 29, 2017 - 10:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর