নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৈকত সমুদ্র
  • জিসান রাহমান
  • নরসুন্দর মানুষ
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • আকিব মেহেদী

নতুন যাত্রী

  • আদি মানব
  • নগরবালক
  • মানিকুজ্জামান
  • একরামুল হক
  • আব্দুর রহমান ইমন
  • ইমরান হোসেন মনা
  • আবু উষা
  • জনৈক জুম্ম
  • ফরিদ আলম
  • নিহত নক্ষত্র

আপনি এখানে

রোহিঙ্গা আপদ: নোবেল প্রাইজ ফন্দি।


১৯৭১ সালে মানবিকতা এবং দেশ বিরোধিতা করার কারণে জামায়াত নেতাদের রাজাকার ঘোষিত করে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রোহিঙ্গারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে সাপোর্ট করেছিলো এই বলে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীরা নাকি হিন্দু মুসলমান। কাদের মোল্লা এবং সাকা রাজাকারসহ অন্যান্য রাজাকারদের ফাঁসি দিলেন, তাহলে এখন কেনো রোহিঙ্গাদের জায়গা দিয়েছেন? রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিকতা দেখিয়ে তিনি কি পরোক্ষভাবে রাজাকারদের সমর্থণ করে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার ফন্দি করছেন, নাকি বিশ্বের ধনী রাষ্ট্র থেকে ভিক্ষা নিয়ে নিজ থলে ভরাটের আশায় রোহিঙ্গাদের জায়গা দিচ্ছেন?

যেহেতু আরকানের রোহিঙ্গারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিজ দেশ মায়ানমারের বিরোধিতা করে জাপানকে সমর্থণসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিলো এবং ব্রিটিশদের ক্ষমতা অবসানের পর যখন দেশ বিভক্ত হয়েছে ঠিক তখনও নিজের মাতৃভূমির বিরোধিতা করে পূর্বপাকিস্তানে সাথে থাকতে চেয়েছিলো। [ অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান সৃষ্টির সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিন্নাহের সাথে একাধিক বৈঠক করে রাখাইনের রোহিঙ্গারা পাকিস্তানের সাথে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করে। কিন্তু পাকিস্তানের জিন্নাহ সাহেব তাতে অস্বীকৃতি জানায়। তাই বলে রোহিঙ্গা মুসলিমরা দমে যায়নি। তারা নিজেরাই রোহিঙ্গা মুসলিম পার্টি গঠন করে আরাকান স্বাধীন করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। এজন্য তারা বার্মার সরকারের কাছে ব্ল্যাকলিস্টেড হয়ে যায়। এবং তারা বার্মার অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর কাছে বেঈমানের তকমা পায়। ১৯৬২ সালে বার্মায় সামরিক সরকার ক্ষমতা এলে রোহিঙ্গাদের সহিংসতা দমন করার উদ্যোগ নেন। ১৯৭৮ আর ১৯৯২ সালে দুইবার তাদের উপর সামরিক অভিযান চালানো হলে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়] (সংগৃহীত)। অথচ আজ এই বেঈমান, ব্ল্যাক লিস্টেড এবং উগ্র জঙ্গী মায়ানমারের রাজাকারদের স্থান দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী Mother of Humanity খেতাব পেলেন। জামায়াতী মুসলমান আর বিএনপি মুসলমানদের বিবেকের চোখ সবসময় অন্ধই থাকে। ভেবে দেখুন, এরা কিন্তু খেলা থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রতিযোগিতা কিংবা রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কে পাকিস্তানকে উগ্রভাবে সমর্থন করে থাকে। তাদের কাছে জানতে ইচ্ছে করছে আজ কেনো উগ্রবাদ রোহিঙ্গাদের জন্য কাঁদছেন? জিন্নাহ সাহেব দুই পাকিস্তানের খাঁটি মুসলিম ছিলেন অথচ তিনি রোহিঙ্গাদের জায়গা দেননি, কেনো জানেন? এরা বেঈমান মুসলিম তাই তাদেরকে তিনি বয়কট করেছেন। অথচ জিয়া, খালেদা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঈমান রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন।

নোবেল প্রাইজ ফন্দি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ এই মুসলমানদের নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অং সাং সূচি ১৬বছর জেল খেঁটেছেন। আর আজ উগ্র-সুবিধাবাদী মুসলমানরা তাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্বক করছেন। কেনো করছেন আমার মাথায় ধরছে না। ১৯৯২ সালে যখন তিনি মুসলসানদের নিয়ে দল গঠন করে ক্ষমতায় যাওয়ার কারণে সেনাদের চক্রবাতে জেলে তখন কোনো মুসলমান কিন্তু উহ্ করেনি। তবে কেন আজ সুচিকে নিয়ে এতো কথা এবং দোষী বলে গালাগাল করা হচ্ছে? সুচিতো এখন সেনাবাহিনীর হাতের পুতুল, তাকে যেভাবে বলবে সে সেইভাবেই উপস্থাপন করবে, কারণ এই বেঈমান মুসলমানদের জন্য শান্তি রক্ষা করতে গিয়ে নিজ ক্ষমতা হারিয়ে ১৬বছর জেলে কাটিয়েছেন। আসলে আমরা চোখে যা দেখি তা নিয়ে কাকের মত কা কা করি কিন্তু খতিয়ে দেখি না কোলসের ভিতর জল আছে কি-না। কবে যে আমরা বিবেক কে মানুষ করবো! জামাতি মুসলমানদের কাছে জানতে চাই, কোরআনে বেঈমানের শাস্তি কি? যদি আপনার ঘরে চুরি হওয়ার কারনে চোরকে বেধড়ক পিটুনি দিতে পারেন তাহলে রোহিঙ্গাদেরও তাদের বেঈমানীর কারণে তাদের সরকার মারবে না'কি রাখবে তা তাদের একান্ত অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

খালেদা জিয়া কি মুসলমান নয়? তিনি কেনো তার ছেলেকে নিয়ে লন্ডনে বসে আছেন? তার মধ্যে কি মানবকিতা নেই? বাংলাদেশ এখন উভয় সংকটে ভুগছে, উত্তরে বন্যায় গ্রাস দক্ষিণে রোহিঙ্গা। তাহলে আজ বেগম চুপ কেনো? দেশ বাঁচাও স্লোগানে মায়ানমারসহ আর্ন্তজাতিক মহলে চাপ সৃষ্টি করছেন না কেনো? তিনি কি সত্যিই দেশ আর দেশের নাগরিকদের ভালোবাসেন নাকি ক্ষমতাকে? তিনি ক্ষমতাকেই ভালোবাসেন নচেৎ তিনি দল-বল নির্বিশেষে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতেন আর আওয়ামী মুসলমানদের বিরুদ্ধে তিনি এবং তার ছেলে ষড়যন্ত্র করে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিতেন না। দেশ রক্ষা করা কি একাই শেখ হাসিনার নাকি প্রতিটি মানুষের?

বাংলাদেশের আবেগময়ী উগ্র মুসলমানরা ত্রাণের নামে কক্সবাজারে রঙ্গ সফর করছে। আজ লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালি মুসলমানরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাবে ত্রাণ বিতরণে যাচ্ছেন শুধু ফেমাস হওয়ার জন্য। আচ্ছা একটা কথার উত্তর দেন, কক্সবাজারের হোটেল মালিকগুলো অমানুষ নাকি? মুসলমান মুসলমানদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছে অথচ হোটেলের খরচ দ্বিগুণ, তাহলে মানবিকতা কোথায়? আমি সেদিন দেখতে এবং রোহিঙ্গাদের মুখে গল্প শুনতে গিয়েছলাম, ত্রান দিতে নয়। ঐখানে যাওয়ার পর দেখলাম যতজন যেই ভাবে গিয়েছে, সেইভাবে ফটোশ্যুট করছে। কুতুপালং, বালুখালী আর নাইক্ষ্যংছড়ি এখন পর্যটক আর মডেলদের স্থীরচিত্র ধারণ করার অন্যতম প্যালেস। তারপর ফেইসবুকে ক্যাপশনে- আজ রোহিঙ্গাদের সাহায্য করেছি। অথচ আমাদের দেশে লক্ষ লক্ষ উদ্ভাস্তু আছে যাদের নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না বা নেই। কখনও কি আমাদের দেশে রেল স্টেশনের সামনে উলঙ্গভাবে বাস করা মানুষদের জন্য ভেবেছেন? বাংলাদেশের প্রতিটা শহরে পথশিশু রয়েছে তাদের জন্য কি করেছেন বা করছেন? যখন ট্র্যাফিক জ্যামে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকেন, তখন কোমলমতি শিশু আপনার গাড়ির গ্লাসের ওপাশ থেকে বলে, আম্মা/ভাইজান আমার থেকে ফুল কিনুন। তখন কতজন'ই বা কিনেন? পেট বাঁচানোর জন্য যখন সিটিং সার্ভিসে বেকার শিক্ষিত যুবক বিভিন্ন অফার দিয়ে কিছু পণ্য বিক্রি করতে চায় তখন কেনো আপনারা মুখ ফিরিয়ে নেন? এই কি আপনাদের মানবিকতা? মানুষ মানুষের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছেন সেইখানে আবার মানবিকতা! যেই দেশের মুসলমান ঈদগাহ কমিটি, মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘাতে জড়িত হয়, সেইখানের কিসের মানবিকতা দেখাচ্ছেন? আমরা কোন ধরণের মুসলমান?

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে শান্তি'তে নোবেল প্রাইজ প্রাপ্তির/দেওয়ার বিষয়টি একদম অযৌক্তিক , কারণ রোহিঙ্গাদের শুধু শেখ হাসিনা নয়, জিয়া এবং বেগম জিয়াও আশ্রয় দিয়েছেন। বলাতো যায় না, নোবেল কমিটি'তো ঠিক মত শান্তিতে নোবেল বিতরণ করতে পারে না। যেমন ডঃ ইউনুস অর্থনীতিবিদ অথচ শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু শান্তির জন্য যৌক্তিক নয় কারণ, ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যেখানে ফাঁসি দিচ্ছেন, যে দেশে জামায়াতী মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করছেন, যে দেশে সাধারণ নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণ করেছেন, যে দেশের মানুষ; পুলিশ দ্বারা নির্যাতিত হয়, যে দেশের মাস্টার্স পাশ ছেলে চাকুরীর জন্য বর্বর নেতাদের তেল মালিশ করতে হয়, বিসিএস ক্যাডাররা এমপি-মন্ত্রীর পূজা করতে হয়, যে দেশে অজস্র শিশু এখনও পথের দ্বারে, যে দেশে সত্য বললে সাগর-রুনি বা বিশ্বজিতের মত খুন হতে হয়, যে দেশে এক মুসলিম অন্য মুসলিমকে উগ্র চোখে দেখে, যে দেশে সত্য লেখার কারণে তসলিমা নাসরিনের মত লেখকদের বিতাড়িত হতে হয়, সেই দেশে আবার মানবিকতার কারণে প্রধানমন্ত্রী'র শান্তি'তে নোবেল পাওয়া কতখানি যৌক্তিক?

ইকরামুল শামীম
আইনজীবী, লেখক
এমএসএস( রাষ্ট্রবিজ্ঞান) , এলএলবি
ভিক্টিমলজি & রেস্টোরেটিভ জাস্টিস।

Comments

ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

পড়লাম রে ভাই

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইকরামুল শামীম
ইকরামুল শামীম এর ছবি
Offline
Last seen: 18 ঘন্টা 36 min ago
Joined: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 7, 2017 - 7:42অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর